বিতর্কিত উষ্মা | রহস্য উন্মোচন

মিসেস ভুঁইয়া হেসে বললেন – ও নিশ্চয়ই নিজের কার্ড আপনাকে দেয়নি। … কার্ড দিলে অবশ্যই আপনি জানতেন, ও এখন আর খালি মিস সেরেনা ফ্লেমিং নেই। এখন ও ডক্টর সেরেনা ফ্লেমিং হয়ে গেছে, ভূতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ডক্টর সেরেনা ফ্লেমিং।

বাবা হেসে বললেন – নিজের মুখে ছাত্রীর প্রশংসা করতে পারার সৌভাগ্যই আলাদা না ম্যাডাম!

মিসেস ভুঁইয়া – হ্যাঁ, তা তো বটেই। ছাত্রছাত্রী একজন শিক্ষিকার সবসময়েই গর্ব হয়।

বাবা – তা আপনি উনার বাবা, ডক্টর স্যামুয়েলকেও চিনতেন নাকি?

মিসেস ভুঁইয়া – হ্যাঁ চিনি, খুব ভালো করেই চিনি। … আমি প্রথম জীবনে একজন বেসরকারি রাশিয়ান সংস্থার হয়ে ভূতত্ত্ববিদের কাজ করছিলাম। বহুদেশে গিয়ে কাজ করেছি। প্রকৃতিই আমার এড্রেস থাকতো। বাড়ি ফিরতামই না। বাড়ি, মানে বদ্ধ ঘরে থাকতেই পারতাম না, কেমন যেন একটা খাঁচায় বন্দি হয়ে গেছি, বন্দি হয়ে গেছি ভাব আসতো। … সেই সব কাজ করতে গিয়েই, একবার ডক্টর স্যামুয়েলের সাথে আমার আলাপ।

বাবা – যদি আপত্তি না থাকে, একটু বিস্তারে বলবেন প্লিজ।

মিসেস ভুঁইয়া হাসিমুখে বললেন – জাভার একটি দ্বীপ থেকে আমরা মানুষ আর গবাদি পশু ইভাকুয়েট করছিলাম। আমার গবেষণা বলেছিল, সেখানে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আগ্নেয়গিরির উদ্গিরন হবে, সেই কারণে। আর সেই সময়ে স্যামুয়েল ওর সমস্ত ছাত্রছাত্রী নিয়ে সেই দ্বীপে এসে উঠছিল। তাই তাদেরকে নিয়েও আমরা অন্য একটা দ্বীপে চলে যাই। সেখানেই প্রথম আলাপ।

তারপর, একের পর এক, বিভিন্ন জায়গায় ওর সাথে দেখা হতো। … (একটু হেসে) খানিকটা ও ম্যানিপুলেট করেই সেই সেই জায়গায় এসে উপস্থিত হতো, যেখানে আমাদের কোম্পানিও ঘাঁটি পাততো। তাই আলাপ আরো একটু গভীর হতে থাকে।

বাবা – আপনার এখনের রূপ দেখেই বোঝা যায় যে সেই সময়ে আপনি বেশ আকর্ষণীয় রকমের সুন্দরী ছিলেন। সেই কারণেই কি!

মিসেস ভুঁইয়া একটু মুচকি হেসে বললেন – ভগবান সুন্দরীদের একটু যদি বুদ্ধিও দিতেন কৃপা করে, তাহলে আমরা নিজেদের বাঁচাতেও শিখে যাই, জানেন তো। … কিন্তু সৌন্দর্য আর বুদ্ধির যেন কনো মিলই হয়না; হলে কি আর ভগবান তা মেলাতেন না!

বাবা – এমন কেন বলছেন আপনি! … আপনি কি নির্বুদ্ধিতার কাজ কিছু করেছেন নাকি!

মিসেস ভুঁইয়া – একবার করলেও না বুঝতাম; আমি আসলে ন্যাড়া নইতো, তাই বেলতলায় একবার না, দুইদুইবার গেছি।

বাবা – ডক্টর ফ্লেমিংই কি আপনাকে অস্ট্রেলিয়ার কলেজে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন!

মিসেস ভুঁইয়া – হ্যাঁ। আসলে আমার কাজই ছিল প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে আগে থেকে ধারনা করা। কিন্তু প্রকৃতি তিনি। সন্তান কি আর মাকে সম্পূর্ণ ভাবে কখনো চিনতে পারে! … কিন্তু বিদেশিরা বড্ড বেশি মেকানিকাল। আমার একটা ভুল প্রেডিকশন; আর সরাসরি আমার চাকরি খেয়ে নিলো ওরা। … যখন এই ঘটনাটা ঘটে, তখন স্যামুয়েল সেই দ্বীপেই ছিল। জাপানের একটা দ্বীপ, যেখানে দাঁড়িয়ে আমি সুনামির পূর্বাভাস করেছিলাম। … সুনামি হয়েওছিল, কিন্তু আমি যেইদিন প্রেডিক্ট করেছিলাম, তার তিনদিন পরে।… আসলে প্রকৃতির হয়তো এমনই ইচ্ছা ছিল, তাই আমার সাথে এমনই করলেন তিনি। …

বাবা – আর সেই সময়ে চাকরিহারা ডক্টর সাবিত্রী ভুঁইয়া, যার প্রতি উনার প্রেমপীরিতও কম ছিলনা, তাঁকে নিজেরই কলেজে একটা চাকরি দিয়ে, একটু বেশি দেখাসাখ্যাতের ব্যবস্থা করলেন, এই তো!

মিসেস ভুঁইয়া – হ্যাঁ একদমই ঠিক, তবে আমি তখন ভুঁইয়া ছিলাম না; আমি ছিলাম চক্রবর্তী।

বাবা – হ্যাঁ, হ্যাঁ, মাই মিস্টেক। … তারপর কি হলো?

মিসেস ভুঁইয়া – ক্রমশ আমি স্টুডেন্টদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠলাম। আর তাই আমাকেই সমস্ত এক্সপিডিশনের কাজে, মানে যেখানে গিয়ে সমস্ত জিওলজির স্টুডেন্টরা ওদের এসাইন্মেন্ট করবে, সেই এক্সপিডিশনগুলোতে নিয়ে যেতে থাকলাম; মানে যেই কাজটা আগে স্যামুয়েল করতো, সেই কাজটা। সেখানেই ডক্টর ভুঁইয়ার সাথে আমার আলাপ। একজন মানুষ যিনি জিএসআইতে কাজ করতেন, আর যিনি পাগলের মত কিছু যেন খুঁজে চলতেন। রূপের জন্য কিনা জানিনা; তবে আমার ধারনা ছিল, প্রকৃতির সাথে আমার আশ্চর্যরকমের সম্পর্কের কারণেই এই স্যামুয়েল আর ডক্টর ভুঁইয়া আমাকে পছন্দ করেন। তবে বিজয়, ইউ আর মোর কারেক্ট; তবে সেটা আমি তখন বুঝিনি। …

বাবা – মানে? আপনি কি কনো অন্যায়ের স্বীকার হয়েছিলেন না কি?

মিসেস ভুঁইয়া – হ্যাঁ হয়েছিলাম, তবে অন্যায়টা আমিই আমার সাথে করেছিলাম। … আমার ছাত্রী, সেরেনা একটা কথা বলে জানো বিজয়। আমি প্রকৃতিকে চিনতে পারি, তবে মানুষ আমি একদম চিনিনা। … একদমই ঠিক বলে ও। … স্যামুয়েল আমার রূপযৌবনকে ভালোবাসলো, আর ডক্টর ভুঁইয়া আমার প্রকৃতিজ্ঞানকে নিজের আশ্চর্যরকম আবিষ্কারের অস্ত্র করে নেবার জন্য ব্যবহার করলেন। … আর আমি মূর্খের মত দুজনের কাছে … (একটা দীর্ঘ নিশ্বাস)

বাবা – হুম, ডক্টর ভুঁইয়া একবার আমাকে আনঅফিসিয়ালি বলেছিলেন যে, উনার সমস্ত আবিষ্কারের পিছনে একজন আছেন, যার কথা কেউ জানেনা। … আপনিই কি সেই ব্যক্তি!

মিসেস ভুঁইয়া – হতে পারি আমিই সেই; আমাকে তো উনি এমন কথা কনোদিন বলেন নি। … আর দ্বিতীয় কথা এই যে, উনি আমাকে যখন বিয়ে করলেন, তখন আমাকে সর্তই এই দিয়েছিলেন যে আমি আর চাকরি করতে পারবো না। … এক অদ্ভুত জীবনের চক্রে আমি ফেঁসেগেছিলাম জানো বিজয়। … বাইরে বাইরে কাজ করি, আমার বাবার কিছুতেই তা পছন্দ ছিল না । … তাই আমার বাড়িতে ঢোকাই বন্ধ করে দিলেন, আর পরিবারের সকলকে নির্দেশ দিলেন যে আমার সাথে যে কেউ সম্পর্ক রাখবে, উনি তাঁকে সম্পত্তি থেকে বহিষ্কৃত করবেন। আমার বাবা, বিখ্যাত ডক্টর সুরঞ্জন চক্রবর্তীর সম্পত্তি প্রায় ৫০ থেকে ৭০ কোটি টাকা তো হবেই। কেউ সেই সম্পত্তির লোভ ছাড়তে পারলেন না, তাই আমার সাথে সকলে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন, আমার মাও।

একটা দীর্ঘ নিশ্বাস নিয়ে আবার বললেন – এমন অবস্থাতে, আমি না… একটা পরিবারের খুব কামনা করছিলাম। মাঝে মাঝে নিজেকে বড্ড একা লাগতো। হয়তো বিদেশিনী হলে লাগতো না; কিন্তু আমাদের দেশের মেয়েরা; শুধু মেয়েরাই কেন বলবো, সব মানুষই একা থাকাকে একটা সময়ের পর যন্ত্রণাই মনে করে; আমিও তাদের মধ্যে একজন অন্যতম। … তাই আমি চাকরি সমস্ত ছেড়ে দিই। …

বাবা – ভারতে চলে আসেন?

মিসেস ভুঁইয়া – না ভারতে আমরা এসেছি, এই কিছু বছর হলো। … তখন জিএসআই-এরই অস্ট্রেলিয়ান রিজে একটা বিশাল গবেষণা চলছিল। তাই উনি ওখানেই থাকতেন। … আর আমার কোলে বাবু এসে গেছিল। তাই বাবুকে নিয়েই, আর কিছু ছাত্রী আমার সাথে তখনও যোগাযোগ রাখতো, তাদেরকে নিয়েই সময় কাটাতে থাকি। … বাবু বড় হয়ে যেতে, আমি কলেজের সাথে একরকম একতা চুক্তি করেই, লুকিয়ে লুকিয়ে টিচারি করতাম। চুক্তি এই ছিল যে, আমাকে বাইরে এক্সপিডিশনে পাঠানো যাবেনা।

বাবা – তাহলে আবার যাচ্ছেন কবে প্রকৃতির কোলে?

মিসেস ভুঁইয়া – এই বয়সে আমি তো আর নিজের জন্য চাকরি পাবো না। … সেরেনা বলেছে, ও আমাকে ওর এসিস্ট্যান্ট করে নেবে। ন্যাট জিওতে ও তো লাভা এক্সপিডিশনে চাকরি পেয়েছে; সেখানে একজন নিজস্ব এসিস্ট্যান্ট নেওয়া এলাউড। ও বলেছে আমাকে নেবে। … যদি নেয়, … আমি … আমি … কি বলবো বিজয়, আমি আবার প্রকৃতির কোলে যেতে পারবো। … আমার দম বন্ধ হয়ে আসে, এই বদ্ধ খাঁচায় থাকতে থাকতে। …

ভদ্রমহিলার চোখে জল দেখে, আমি ভাবলাম, একজন প্রকৃতিকে এতোটা ভালোবাসতে পারেন?

বাবা একটু হেসে বললেন – কিন্তু আমার প্রশ্নের আপনি উত্তর দিলেন না! ডক্টর ভুঁইয়া কি, আপনার কথার ভিত্তিতেই সমস্ত আবিষ্কার করতেন বা আবিষ্কারের নাম কিনতেন, এমন কিছু?

মিসেস ভুঁইয়া – না, কিছু না করে নাম কেনার মতন ফাঁকিবাজ ব্যক্তিত্ব উনি কখনোই ছিলেন না। … হ্যাঁ, আমার থেকেই থিওরি নিতেন। তারপর উনি সেই থিওরি অনুসারে অভিযান করতেন, আর সেই অভিযানের থেকে আপনারা যাকে আবিষ্কার বলেন, সেই সব। … তাই এমন বলবেন না যে, উনি কিচ্ছু না করে নাম কিনতেন। … পরিশ্রম উনি সর্বদা করতেন।

বাবা – তাহলে তো আজকে আপনাকে যখন পেয়েছি, তখন আপনার থেকে আমি এই প্রকৃতির একটা আপনার চোখে দেখা মানচিত্র দেখতে চাই ডক্টর সাবিত্রী ভুঁইয়া। অবশ্যই আপনি যদি আমাকে শোনাতে চান তবেই। মানে আমি জোর করবো না আপনাকে।

মিসেস ভুঁইয়া – হ্যাঁ বলবো, আর যা বলবো, তা তুমি বলেই বলবো। … তোমার এক্সপিডিশনগুলো আমি পড়েছি, আর তার থেকে এটুকু জেনেছি যে তুমি যেমন এই দেশকে ভালোবাসো, তেমন এই প্রকৃতিকে। … আমি তোমাকে বলবো, আর তা বলবো কারণ তুমি প্রকৃতিকে ভালোবাসো বলেই।

বাবা – বেশ মিসেস ভুঁইয়া, কিন্তু সেই গভীর কথায় যাবার আগে, দুটো চারটে প্রশ্ন আছে, মানে আপনার ছাত্রী যেই কেসটা আমাকে দিয়েছেন, সেই কেসের ব্যাপারে। যদি কোয়াপরেট করেন তবে কি …

মিসেস ভুঁইয়া – হ্যাঁ, করুন না। … বলুন।

বাবা – আচ্ছা, আপনি কি জানতেন, ডক্টর স্যামুয়েল ইদানীং কলকাতাতেই থাকছিলেন?

মিসেস ভুঁইয়া – হ্যাঁ সেরেনার হোটেলেই তো উনি উঠেছিলেন।

বাবা – আপনার সাথে উনি যোগাযোগ করার চেষ্টা করেননি কনো?

মিসেস ভুঁইয়া – না, আমার বিয়ের পর থেকে ও আমার সাথে আর একবারও কথাবার্তা বলেনি, না সামনাসামনি না ফোনে, আর না কনো অন্য মিডিয়ামের মাধ্যমে।

বাবা – আপনি কি উনার মৃত্যুর আগেই জানতেন, উনি এখানে এসেছেন?

মিসেস ভুঁইয়া – উনি এখানে আসার আগে থেকেই জানতাম, সেরেনা আমাকে বলেছিল। … ও নিত্য আমার সাথে যোগাযোগ করে।

বাবা – ডক্টর ভুঁইয়ার সাথে উনার যোগাযোগ ছিল!

মিসেস ভুঁইয়া – না এমনিতে তো ছিল না। তবে ইদানীংকালে, মানে উনি যখন থেকে জাকার্তার এক্সপিডিসিশন করে ফিরেছেন, তারপরে উনাকে আমি দুইতিনবার স্যামুয়েলের সাথে ফেসবুকে কথা বলতে দেখেছি। কি কথা, কি বিষয়ে কথা, সেটা বলতে পারবো না।

বাবা – শেষ প্রশ্ন, আপনার ছেলে যে বাইরে চলে গেল, ওখানে সেটেল হতে, এতে আপনাদের কারুর আপত্তি ছিলনা? …

মিসেস ভুঁইয়া – ওর বাবার আপত্তি ছিল। আর সেই কারণে বাবা টাকাও দিচ্ছিল না, যেই পরিমাণ টাকা ওর দরকার ছিল। … আমার কাছে যা সেভিংস ছিল, তাতে ওর প্রয়োজনের ২০ শতাংশও হচ্ছিল না; তাই নেয় নি। …

বাবা – শেষে তো বাবা বেঁচে থাকতেই, চলে গেল। তখন ডক্টর ভুঁইয়া বাঁধা দেন নি!

মিসেস ভুঁইয়া – ও তো নিজে থেকেই টাকা যোগার করেছিল। তাই বাবার আর কথা বলার জোর থাকলো কোথায়?

বাবা – সে তো প্রচুর টাকা!

মিসেস ভুঁইয়া – ২ই লক্ষ্য আমেরিকান ডলার।

বাবা – মানে প্রায় দেড় কোটি টাকা… এতো টাকা কি করে…

মিসেস ভুঁইয়া – তা বলতে পারবো না।

বাবা – আচ্ছা বেশ, ওসব কথা রাখুন, এবার আসল কথায় আসুন। আমি আপনার মুখ থেকে, আপনার নির্মিত একটা পৃথিবীর মানচিত্র শুনতে চাই।

মিসেস ভুঁইয়া – একটা কথা বলো বিজয়। এমন অদ্ভুত আবদার করলে কেন? মানে পৃথিবীর মানচিত্র!

বাবা – আসলে ডক্টর ভুঁইয়া প্রায়শই একটা এমন মানচিত্র আঁকার চেষ্টা করতেন, কিন্তু তাঁর মানচিত্রটি অসম্পূর্ণই থাকতো, আর সেটা শুনে আমার প্রায়শই একটা অসংলগ্নতা নজরে আসতো। … আর যখন আপনার কথা শুনে এমন মনে হলো যে, আপনার থিওরিকে বেস করেই উনি সমস্ত গবেষণা করেছিলেন, তাই মনে হলো হয়তো সেই মানচিত্রটি উনি আপনার কথার ভিত্তিতে আঁকতেন, কিন্তু আঁকতে পারতেন না। … আসলে বুঝতেই পারছেন, তদন্ত করতে করতে, একটা বাজে জিনিস যেটা হয়ে গেছে আমার মধ্যে, সেটা হলো সন্দেহজনক মন। যেখানে সন্দেহ করার কিচ্ছু নেই, সেখানেও সন্দেহ করে ফেলি।

মিসেস ভুঁইয়া হেসে বললেন – না না, একদমই ভুল জায়গায় সন্দেহ করোনি তুমি। না, আমি একজ্যাক্টলি জানিনা যে উনি কি ধরণের মানচিত্র তোমাদের সামনে আঁকতেন, তবে হ্যাঁ, এই মানচিত্র আমার মনে সদাসর্বদাই থাকতো। … আসলে ব্যাপারটা এই যে, তোমাদের ডক্টর ভুঁইয়া একজন ভূতত্ত্ববিদ অবশ্যই ছিলেন, কিন্তু তিনি প্রকৃতিপ্রেমী ছিলেন না। … আর তা আমি বুঝেছিলাম যখন উনি প্রকৃতির বিভিন্ন রূপকে আনন্দের সাথে স্বীকার করতেন না, সেটা দেখে। … আমি পুরপুরি ঠিক কিনা জানিনা, তবে হ্যাঁ, উনি একটা কিছুর সন্ধান করতেন। আর সেই সন্ধান উনি প্রকৃতিতেই করতেন। আর সেই সন্ধানকে সক্রিয় রাখার জন্যই, উনি ভূতত্ত্ববিদ হয়ে ওঠেন। … কিন্তু আমার ব্যাপারটা অন্যরকম। প্রকৃতি আমার কাছে আমার নিজের মা। … এই সম্পূর্ণ পৃথিবী আমার কাছে আমার মায়ের দেহ। … বলে বোঝাতে হয়তো পারবো না, আমি ভূতত্ত্ববিদ প্রকৃতির টানে, অন্য কিছুর টানে নয়; এমনকি কেরিয়ারের টানেও নই।

সামান্য হেসে মিসেস ভুঁইয়া বলতে শুরু করলেন – আমার চোখে এই সম্পূর্ণ পৃথিবীটা একটি নারী, আর সেই নারী আমার মা; এই দেহের মা; আগের সমস্ত দেহের মা; আর পরবর্তী যা যা দেহ নেব, তারও মা। একটু ভালো করে যদি পৃথিবীতা দেখো বিজয়, তাহলেই উনার গঠনটা বুঝতে পারবে। আকৃতিটা অনেকটা কেমন বলোতো! বাস্তুদেবতা দেখেছো?

বাবা – হ্যাঁ, হাঁটু গেঁড়ে শুয়ে থাকে।

মিসেস ভুঁইয়া – কিন্তু উনি দেব, আর ইনি দেবী; মা বলা হয় ইনাকে। … সঙ্গমের অবস্থা স্মরণ করো বিজয়; নারীর মুখ ঊর্ধ্বে, আর পুরুষের মুখ নিম্নে। বাস্তুদেবতার মুখ নিম্নে, আর ধরিত্রী মাতার মুখ ঊর্ধ্বে। এবার দেখো, উনার মুখ কোথায়? উনার কপাল আর কপালের আজ্ঞাঅবস্থা, অর্থাৎ যেখানে সমস্ত সময় এসে থেমে যায়, বা যেখান থেকে সময়ের চক্রবাত শুরু হয়, সেটি কোথায়? সেটিকে আমরা বলি গ্রিনউইচ মেরিডিয়ান, অর্থাৎ লন্ডন। তাঁর দুই দিক দিয়ে কেশ; বাঁ দিকের কেশ কাঁধের উপর দিয়ে গেছে, রাশিয়া; আর ডান দিকের কেশ পিঠের পিছন দিয়ে গেছে; যতটুকু কাঁধের পাশ থেকে দেখা যাচ্ছে, সেটা এন্টার্কটিকা।

কপালের নিচেই কি? চোখ, তাই তো? স্পেন, জার্মানি। একটু ভেবে দেখো বিজয়, ইউরোপের সমস্ত কালচার এই দুই দেশের থেকেই আসে। আর তাতে সহযোগ দেয় ধরিত্রীর নাসিকা, ফ্রান্স, যা সারা জগতে নিজেদের সুগন্ধি পারফিউমের জন্য প্রখ্যাত।এবার গাল বা কপোল দেখো। একদিকে ছোটছোট দেশ, যাদেরকাছেই একমাত্র ইউরোপে যেটুকু খনিজ আছে, তা পাওয়া যায়, অর্থাৎ অস্ট্রিয়া, হাঙ্গারি, রোমানিয়া, এই দেশগুলো। আর অন্যদিকে রয়েছে টলটলে গাল, ভুমদ্রসাগর।

কথা বলেন আর আহার করেন ইতালি দিয়ে, তাই সেখানের আহারের বাহার এতো। আর কণ্ঠস্বর কি দিয়ে? গ্রিক অপেরা দিয়ে। কণ্ঠের নিচে কি? 

বাবা – গণ্ডদেশ বা গলা, যা একটি নারীর রূপের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ হয়।

মিসেস ভুঁইয়া – ভেরি গুড, আর পৃথিবীর সব থেকে সুন্দরী নারী কোথায় পাওয়া যায়!

বাবা – তুরস্ক, অর্থাৎ গলা।

মিসেস ভুঁইয়া – এবার আসি ডান কাঁধে। ওটা তো চুলে ঢাকা নেই, তাই দেখা যাবার কথা। কে সেটা?  আফ্রিকা। যেমন কেশের থেকে মুক্ত যেই কাঁধের অঞ্চল থাকে, তাতে হার, মালা সব দেখা যায়, তেমনই দেখো বিজয়, আফ্রিকাতে ধনরত্ন ভর্তি। ঠিক তার নিচে দুটি ফুসফুস; পৃথিবীর দুটি প্রাণকেন্দ্র; একটি জেরুজালেম মানে পেলিস্টিন; দ্বিতীয়টি মক্কা মানে আরব। ঠিক তার নিচ থেকে দেখো, কঠিন পাঁজর, হিমালয় আর কারাকোরাম পর্বতমালা। আর সেই পাঁজরের মধ্যে সুরক্ষিত রয়েছে, তাঁর হৃদয়, ভারত। যেমন হৃদয়ে সমস্ত শরীরের রক্ত এসে নিজেকে পরিষ্কার করে চলে যায়, তেমনই দেখো ভারতে সমস্ত দেশের, সমস্ত সভ্যতার, সমস্ত সপ্রদায়ের মানুষ আসে, নিজেদের পরিষ্কার করতে। আর যেমন আমাদের হৃদয়ে সমস্ত দেহের সমস্ত কিছুর অনুভব থাকে, তেমনই প্রায় সমস্ত প্রমিনেন্ট ভৌগলিক গঠন সব ভারতে আছে, সব রকমের পাহাড়, মরু, মালভূমি, নদ, নদী, দ্বীপ, বদ্বীপ, সাগর, উপসাগর, মহাসাগর, সমস্ত কিছু এখানে উপস্থিত।

আরো অন্তর্দৃষ্টি দাও বিজয়। দেখো যেমন হৃদয়ে সমস্ত ধাতু থাকে, তেমন ভারতের ভূমিতেও আছে; আর দেখো, যেমন হৃদয়ে কনো প্রকার তেল থাকেনা, তেমনই ভারতের আশেপাশে তেল রয়েছে, কিন্তু মুল ভূমিতে নেই। তেল সব থেকে বেশি কোথায় থাকে? পেট আর নাভিতে, আর কিছু জমা হয়, ফুসফুসে; দেখো আমেরিকাতে তেল আছে, যা ওরা তোলে না বলে ওদের দেশের মানুষের এতো ওবেসিটি মানে মোটাপার সমস্যা; আর দেখ ফুসফুসে রয়েছে, তাই আরব, ইরাক, ইরান, সুদানে তেল।

স্তনদেশ তাঁর ভূমিনিচে, কিছু ভারতে, কিছু ইন্দোনেশিয়ার। তাই সেখানের ভূমি এতো উর্বর, আর এতো খনিজ। হিমালয় শেষ মানে, রিবকেজ বা পাঁজরের সমাপ্তি; পাশদিয়ে চিনরূপী কেশ মানে চুল তো রয়েইছে। আর সেটা শেষ হচ্ছে কোথায় গিয়ে? চায়না সাগরে গিয়ে। এবার হৃদয় শেষ হলে, কি থাকে? গলব্লাডার, প্যাঙ্ক্রিয়া থাকে; আর অন্যদিকে থাকে লিভার। ঠিক ভারতের নিচে রয়েছে প্যেসিফিক রিং অফ ফায়ার, অর্থাৎ আগ্নেয়গিরির মালা, যেখান থেকে সমস্ত হরমোন, এনজাইম সর্বক্ষণ নিঃসৃত হয়ে চলেছে। আর ঠিক তার কোনাকুনি রয়েছে ইন্দোনেশিয়া জাভা সুমাত্রা, যেখানে রয়েছে লিভার, তাই সেখান থেকেও বিভিন্ন এনজাইম নিঃসৃত হয়ে চলেছে।

আর তার নিচে দেখো কি রয়েছে? রয়েছে নাভিদেশ; মানে যেখানে কিডনি আর ইন্টেস্টাইন থাকে, অর্থাৎ মলমুত্র জমতে থাকে; আর সঙ্গে থাকে ইউটেরাস, অর্থাৎ যৌনতার স্থান। খেয়াল করে দেখো বিজয়। তোমার তো বিস্তর পড়াশুনা! আমেরিকাকে কি বলা হতো?

বাবা – হোর, অর্থাৎ বেশ্যাদের দেশ।… আজও ওদের জিডিপির একটা বড় অংশ পর্নোগ্রাফি থেকে আসে। আর স্ট্যাচু অফ লিবার্টি তো রয়েছেই, হোরেদের মুক্তির দেবী।

মিসেস ভুঁইয়া হেসে বললেন – এই কারণেই তো তোমাদের মত মানুষদের সাথে কথা বলে এতো সুখ। … তোমরা তালের সাথে তাল মিলিয়ে সঙ্গত করো। … ধরিত্রী মাতার অবস্থান যে কোনাকুনি, সেটা তো বুঝতেই পারছো। এবার বলো, এই সমস্ত কিছুর নিচে কি থাকবে?

বাবা – যোনি।

মিসেস ভুঁইয়া –  একদম ঠিক। এবার বলতে পারো, ধরিত্রীমাতার যোনিকে আমরা কি নামে চিনি!

বাবা – বারমুডা ট্রায়েঙ্গেল কি!

মিসেস ভুঁইয়া – এক্সিলেন্ট।

বাবা – এরপর … আঃ … পা মুরে বসলেন তিনি; তাই পায়ের দাবনা আর ডিমে হলো ব্রাজিল আর্জেন্টিনা, তাই ওদের পায়ে ফুটবলের জাদু থাকে। আর… একদম নিচে পায়ের গোড়ালি, যা সম্পূর্ণ ভাবে রুক্ষ হয়, কারণ সারা শরীরের সব থেকে কঠিন জায়গা সেটি। আর সেটি হলো অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ড! … অদ্ভুত দিদি! … অদ্ভুত। … সত্যি বলছি, আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি। কিন্তু ক্ষমা করবেন দিদি; আপনাকে না ঠিক ভূতত্ত্ববিদ মানতে পারছিনা। মন বলছে, আপনি একজন সাধিকা। প্রকৃতির সাধনায় উন্মত্ত এক সাধিকা আপনি। নিজের মায়ের প্রেমে দিশাহারা এক মাতৃভক্ত সন্তান আপনি। … ঠিক আছে আজ তাহলে উঠি দিদি।

বাবা কথাটা বলে, একটু ভ্রু কুঁচকে তাকালেন একদিকে। তারপর সেই দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন – এই শিশিগুলোতে কিছু কিছু পোকামাকড় রয়েছে। এগুলো কি?

মিসেস ভুঁইয়া – এগুলো আমার কালেক্ট করা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিষধর কিছু পোকা। … অদ্ভুত এদের বিষ জানো বিজয়। মানে এদের বিষে যদি কারুর মৃত্যু হয়, তবে না, এটাও বলা যাবেনা যে বিষের জন্য মৃত্যু হয়েছে।

বাবা – বাহ, অসাধারণ। … আচ্ছা দিদি, এতে কি এমন কনো কীট আছে, যার বিষের কারণে, আমাদের শরীরের সমস্ত কোষ বিভাজিত হয়ে যায়, আর সেই ভাবে মৃত্যু হয়!

মিসেস ভুঁইয়া একটি শিশির দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বললেন – এই তো সেই মাকড়শা। জাকার্তার একটি জঙ্গলের মাকড়শা এটি। … জানো বিজয়, এই দ্বীপে ডক্টর ভুঁইয়া আগে কনোদিন যাননি। আমার থেকে সেই দ্বীপের কথা শোনার পর উনার যেই মূর্তি হলো, উনাকে এতটা উৎসাহিত আমি জীবনে দেখিনি। কিন্তু ওই দ্বীপ থেকে ফেরার পরপরই, উনার মূর্তি ভয়াবহ হয়ে উঠলো। উনি একদম যেন ডিপ্রেশনে চলে গেলেন। … আর সেই ডিপ্রেশন শেষ হলো উনার মৃত্যুতে।

বাবা – আচ্ছা কনো ভাবে উনার এই মৃত্যুর কারণ এই মাকড়শার বিষ নয়তো?

মিসেস ভুঁইয়া – না না, ইম্পজিবিল। এই বিষের ফলে দেহের শিরাতে এমনই ঘা হতে শুরু করে যে, তা শরীরকে সম্পূর্ণ ভাবে ফুলিয়ে জঘন্য দেখতে করে দেয়। … আর তা ছাড়া, জাকার্তার ওই দ্বীপে একটা পদ্মফুল হয়, কমলারঙের পদ্ম। সেই পদ্মের নালের রস সামান্য পান করলেই এই বিষ নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। আমি উনাকে এই একটি পদ্ম আনতে বলেছিলাম ফেরার সময়ে। উনি আগেভাগেই সেই পদ্ম তুলে নিয়েছিলেন। শেষের জন্য রাখলে হয়তো ভুলেই যেতেন, কারণ যেই লেভেলের ডিপ্রেশনে তিনি আটকে গেছিলেন। … বুঝতেই পারছো, এমন ডিপ্রেশন যে মৃত্যু উনাকে ঘিরে নিলো।

বাবা – তা সেই পদ্ম উনি এনেছিলেন?

মিসেস ভুঁইয়া – হ্যাঁ, আমি উনাকে সেই নালের রস খাইয়ে দিয়েছিলাম। যদি সেই মাকড়সার রস উনার গায়ে লেগেও থাকে, তবে তা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছিল।

বাবা – আচ্ছা, স্যামুয়েলও কি সেই জঙ্গলে গেছিল?

মিসেস ভুঁইয়া – হ্যাঁ, … ডক্টর ভুঁইয়া সেখান থেকে ফিরে আসার পরে পরেই গেছিল। আমি সেরেনাকেও বলে দিয়েছিলাম এই পদ্মের কথা। আশা করি, সেও নিশ্চয়ই তার বাবাকে সেই কথা বলেছিল। কিন্তু পরে তো শুনলাম, সেই মাকড়শার রসেই ওর মৃত্যু হয়।

বাবা – হুম, আচ্ছা এক মাস মত সময় লাগে না, … মানে এই বিষের জন্য একটা মানুষের মৃত্যু হতে একমাস লাগে না!

মিসেস ভুঁইয়া – হ্যাঁ যদি একটা মাকড়সার কামড় লাগে তবে। … যদি একাধিক মাকড়শা, মানে এই ধরো ১০টা মত মাকড়শার রস একবারে লাগে, তবে ২ দিনের মধ্যে সেই মানুষের মৃত্যু হয়ে যায়। … তবে সেই সম্ভাবনা কম।

বাবা – কেন?

মিসেস ভুঁইয়া – কারণ এই মাকড়সাগুলি একা একা থাকে; ওরা সংঘবদ্ধ হয়ে থাকা পছন্দ করেনা। … আর প্রচণ্ড স্বার্থপর ওরা। মানে ওদেরকে কেউ যদি আক্রমণও করে, ওরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে পাল্টা আক্রমণ করেনা। ওটা ওদের স্বভাব বিরুদ্ধ।

বাবা – হুম বুঝলাম, আপনার কাছে তো একটিই এমন মাকড়শা আছে। তাই না!

মিসেস ভুঁইয়া – হ্যাঁ, আমি ওদের আয়ু দেখতে চাই আসলে। শুনেছি, জাকার্তার দ্বীপপুঞ্জের সামান্য কীটও মানুষের চেয়েও বেশি বাঁচে। সেটা দেখার জন্যই একটাকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলাম। …

বাবা – এখন ওর এই শিশিতে যা বিষ রয়েছে, সেটা কি পুরোপুরি ভাবে কেউ পান করে, তবুও একমাস সময় লাগবে কারুর মরতে!

মিসেস ভুঁইয়া – না, একদমই নয়। প্রতিদিন তিন ড্রপ করে বিষ দেয় ও। একটি বিষের ড্রপ ৭দিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। তারপর নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় আপনাআপনিই। … এখন যেই বিষ রয়েছে ওর শিশিতে, তা প্রায় ৭দিন পুরনো। মানে উনার মৃত্যুর আগের দিন বোধহয়, আমি পরিষ্কার করেছিলাম। আমি প্রায়ই বিষ খালি করে দিই। … আর যাতে সেই বিষে অন্য জীবের ক্ষতি না হয়, সেই উদ্দেশ্যে একটা ব্লিচিং, বেকিং সোডা আর চুন দিয়ে পেস্ট তৈরি করে, তাতে এলোভেরার জেল দিয়ে পাতলা করে, বিষের উপর প্রয়োগ করি। তাতে বিষ সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়না ঠিকই, তবে সেটা আর তখন বিষ থাকেনা, মানে সেই বিষের ফলে একটি পিঁপড়েও আঘাতপ্রাপ্ত হয়না। …

বাবা – এই যে ১০ দিনের বিষ, এটা যদি কারুকে দেওয়া হয়, কেমন এফেক্ট হবে?

মিসেস ভুঁইয়া – আজ রাতে দিলে, কাল সকালের মধ্যে মারা যাবেন উনি।

বাবা – হুম, কি নাম এই বিষের?

মিসেস ভুঁইয়া – সেল ডিভিশন হয়, তাই নাম দিয়েছি সেলডিভ।

বাবা – নামটা কি আপনিই দিয়েছেন?

মিসেস ভুঁইয়া – না, নামটা স্যামুয়েল দিয়েছিল। মানে আমিই যখন এই মাকড়শাটা কালেক্ট করেছিলাম, তখনও স্যামুয়েলের সাথে আমার সাখ্যাত হয়নি। … তার প্রায় এক বছর পর আমার স্যামুয়েলের সাথে আলাপ হয়। এই যত নাম দেখছো সমস্ত পোকার, সমস্ত নাম, স্যামুয়েলই দিয়েছিল, ওদের গুনাগুণ অনুসারে।

বাবা – ঠিক আছে, আজকে আসি তাহলে। … প্রয়োজনে কেবল নয়, অপ্রয়োজনেও মাঝে মাঝে চলে আসবো আপনার কাছে। আপনি শুনেছি অসাধারণ মোঘলাই রান্না পারেন!

মিসেস ভুঁইয়া হেসে উঠে – নিশ্চয়ই সেরেনা বলেছে। … ওই আর কি। … তবে হ্যাঁ, খেতে বেশ ভালো হয়; আমার একটা বাংলাদেশী জুনিয়ারের দিদির থেকে এই সব রান্না শিখেছি। … একদিন সস্ত্রীক আসুন, সঙ্গে আপনার বিদিপ্তাদিকেও আনুন না; সবাই মিলে মোঘলাই খাবো; সেরেনাকেও ডেকে নেব। মেয়েটা মোঘলাই খেতে একটু বেশিই ভালোবাসে।

আমরা সেদিন চলে এলাম সেখান থেকে। আর এসে পর্যন্ত বাবাকে দেখলাম ফেসবুক পেজ নিয়ে বসে রয়েছেন। … নিজের ফেসবুকও এতক্ষণ করেননি, যতখানি ওই ডক্টর ফ্লেমিংএর ফেসবুক ঘাঁটলেন। একটু যে কিছু প্রশ্ন করবো, সেই উপায়ও নেই। মুখই তোলেন না ফোনের থেকে। সর্বক্ষণ চার্জে বসিয়ে ফেসবুক দেখে যাচ্ছেন।

পৃষ্ঠা: 1 2 3 4