মহাগুহ্য কথা (গুপ্ত ইতিহাস)
দেবী দিব্যশ্রী বললেন, “এই কথা তো মা, বেদব্যাসের জীবনী। … তাঁর আত্মকথা। আর সেই আত্মকথাকে আমরা মহাভারত নামে চিনি।
এখানে প্রথম রাজা বা আত্মের প্রথমাবস্থা হলেন পাণ্ডু, আর অন্ধরাজা হলেন ধৃতরাষ্ট্র। পাণ্ডুর প্রকৃতি হলেন কুন্তি ও মাদ্রী, এবং ধৃতরাষ্ট্রের প্রকৃতি হলেন গান্ধারী, যিনি ধরিত্রী বেশে পরে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধেও নিজের অংশগ্রহণ করে, দুর্যোধনকে লৌহশরীর প্রদান করেন।
সত্ত্বা হলেন ভীষ্ম, আর উদর হলেন দ্রোণাচার্য, যার সন্তান হলেন উর্জ্জা অর্থাৎ অশ্বত্থামা। আর প্রাণ হলেন কৃপাচার্য। উর্জ্জা পদানত হয়ে পলাতক হলেও জীবিত থাকেন, যেমন সাধকের মধ্যে থাকেন, না থেকেও। আর প্রাণ সিদ্ধপুরুষের মধ্যেও কুলগুরু হয়ে থাকেন, আর তাই কৃপাচার্যও জীবিত থাকেন। উদর সর্বদাই হৃদয়কে নিজের অধিকারে রাখতে চান, আর তাই চেয়েছিলেন, আর সেই হৃদয় হলেন দ্রুপদ।
অসৎসন্তানরা হলেন কৌরবভ্রাতারা, এবং অন্ধরাজার কুটিল বুদ্ধি হলেন শকুনি। মহাত্মাকাঙ্ক্ষা হলেন কর্ণ, আর বুদ্ধি হলেন জয়দ্রথ। হৃদয়ের অপমানের পর যজ্ঞ থেকে আসেন যমরাজ অর্থাৎ ধৃষ্টদম্ন্যু, আর হৃদয়ের পূর্বসন্তান লিঙ্গবৈষম্যহীন ভাব অর্থাৎ শিখণ্ডী। আর চেতনার নয়রূপ হলেন পাণ্ডবদের সমস্ত স্ত্রীরা, যারা সকলে মিলে নবদুর্গা।
অন্যদিকে ভেদভাব হলেন মায়াবী, আসুরিক জরাসন্ধ, আর বাচালতা হলেন শিশুপাল। আর আপনি প্রশ্ন করলেন না, এই সমস্ত কিছু ভেদ কি? এই সমস্ত কিছুর ভেদ হলো, চেতনার বিকাশ।
বিস্তারে বলতে গেলে, এঁর ভেদ এই যে শিশুকালে আমাদের আত্ম যদি প্রকৃতিপ্রেমী হয়, তবে তাঁর মধ্যে সৎগুণের উদয় হয়, আর সৎগুণরা একসময়ে চেতনাকে লাভ করেন। কিন্তু এরই মধ্যে আমাদের আত্ম আত্মকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে, এবং আত্মকেন্দ্রিক হয়ে থাকার কারণে তিনি অন্ধ হন। আর যেহেতু আত্মই আমাদের রাজা, তাই অন্ধরাজার শাসনেই আমরা অবস্থান করি।
অন্ধরাজার অন্ধত্বের কারণে অসৎগুণদের জন্ম হয়, এবং উপদ্রব বারে। ক্রমে অসৎগুণরা অন্ধরাজার আশকারা পেয়ে পেয়ে, মহাত্মাকাঙ্ক্ষার সাথে সখ্যতা করে, এবং উর্জ্জাকেও সঙ্গে নিয়ে নেয়। শেষে তাঁরা সমস্ত সত্ত্বাকে, উদরকে, উর্জ্জাকে, বুদ্ধিকে, প্রাণকে তথা মহাত্মাকাঙ্খাকে নিজের সাথে রেখে, সৎগুণদের এমনকি স্বয়ং জগন্মাতা চেতনা, যিনি হৃদয়ে প্রকাশিত হন, তাঁরও অসম্মান করেন।
আর সেই অসম্মানের থেকে জন্ম নেয় সাধকের মহারণ, অর্থাৎ সাধক নিজের অন্তরে যেই কুরুক্ষেত্রের জন্ম দেয়, যেখানে চেতনার প্রেরণায় বিবেক রূপ অর্থাৎ কৃষ্ণরূপ ধনুশ সৎগুণদের অর্থাৎ পাণ্ডবদের বাণ রূপ প্রদান করে, অসৎগুণের বিনাশ করে। সত্ত্বাকে অর্থাৎ ভীষ্মকে অকৃতকার্য করে দেয়, উদরের অহমিকার ছেদন করে, বুদ্ধির ও আকাঙ্ক্ষার অহংকার ছেদন করে, তাই মস্তক ছেদ করে। উর্জ্জাকে দমিত করে, এবং প্রাণকে সুরক্ষা প্রদান করে। কামনাকে ভয়ানক মৃত্যু প্রদান করে অর্থাৎ দুঃশাসনকে ও তাঁর ভ্রাতাদের ভয়ানক মৃত্যু প্রদান করে, এবং অবশেষে মদমত্ততাকে অকৃতকার্য করে, হত্যা করে।
কিন্তু মা, আমার এই সমস্ত কিছুর মধ্যে একটি প্রশ্ন আছে। যদি প্রথম জীবনে কারুর মধ্যে চেতনার প্রতি আনুগত্য না থাকে? অর্থাৎ যদি চেতনার উদয় না হয় কারুর মধ্যে? এই উদয় আপনার মধ্যে হয়েছিল, আপনি বলেছিলেন। বেদব্যাসের মধ্যে হয়েছিল, শঙ্করাচার্যের মধ্যে, চৈতন্যদেবের মধ্যে, রামকৃষ্ণদেবের মধ্যে হয়েছিল। কিন্তু মা, এঁরা সকলেই তো ঈশ্বরকটি! …
জীবকটির মধ্যে তো এই চেতনার উদ্বেগ হয়ই না। তাহলে কি তাঁদের পক্ষে সাধনা সম্ভব নয়? অর্থাৎ আমার প্রশ্ন এই যে, যদি চেতনার উদয় না হয়, তাহলে তো এই অন্ধরাজার অধীনেই চিরকাল থাকতে হবে! আর তাহলে তো সাধনা কনো কালেই সম্ভব হবেনা। … তাহলে জীবকটির কি কনো উপায় নেই?”
ব্রহ্মসনাতন হেসে বললেন, “তোমার থেকে ঠিক এই ভাবধারাই আশা করছিলাম পুত্রী। … সেই ঈশ্বরকটি, ঈশ্বরকটি কি করে হয়, যে কেবলই আত্মকেন্দ্রিক, যে কেবল নিজের উদ্ধারেরই চিন্তা করেন। স্বয়ং গৌতম বুদ্ধকে দেখো, আঁটটি জীবের বেদনা দেখে ব্যাথিত হন তিনি, নিজের বেদনা দেখে নয়। আর সেই বেদনার কারণ ও নিরাময়ের উপায় সন্ধান করতে তিনি রাজপ্রাসাদের সুখ ত্যাগ করে বনবাসী হন। … সমস্ত পরাচেতনার সন্তানের প্রতি যদি প্রেমই না থাকে, তবে তিনি অবতার কি করে হলেন! …
তবে পুত্রী, এই ক্ষেত্রেও আমাকে নিজের থেকে কিছু বলতে হবেনা। কারণ এঁর উত্তর স্বয়ং মহামুনি মার্কণ্ডই প্রদান করে গেছেন”।
দিব্যশ্রী ব্যকুল কণ্ঠে বললেন, “কি ভাবে মা? … কোন কথার মাধ্যমে?”
ব্রহ্মসনাতন হেসে বললেন, “সতীর কথা তো তুমি জানোই পুত্রী। … সতী যখন নিজের আদিশক্তি স্বরূপে প্রত্যাবর্তন করার পূর্বেই, আত্মদাহ করেন, তখন তো সেই পরিস্থিতিই তৈরি হয়, যেই পরিস্থিতির কথা তুমি বললে। … অর্থাৎ, দক্ষ অর্থাৎ আত্মকেন্দ্রিক, আত্মসর্বস্ব অহম উপস্থিত থাকে, আর তাঁকে প্রতিরোধ করার মত চেতনাও থাকেনা। … কি তাই না?”
দিব্যশ্রী বললেন, “শিব তখন উদ্যম হয়ে ওঠে, নিজের জটার থেকে বীরভদ্র, মহাভৈরবের জন্ম দেয়, আর বীরভদ্র দক্ষের মুণ্ডচ্ছেদ করে, আত্মকেন্দ্রিক ভাবের, অহমের নাশ করে। … কিন্তু সাধকের জীবনের কোন কথাকে বলে এই কথা?”
ব্রহ্মসনাতন হেসে বলেন, “যখন চেতনা উপস্থিত থাকেনা সাধকের মধ্যে, কনো পাণ্ডুর অস্তিত্ব থাকেনা, কেবলই ধৃতরাষ্ট্র উপস্থিত থাকে, কেবলই দক্ষ উপস্থিত থাক, তখন আত্মেরই মহারুদ্র স্বরূপ এই আত্মকেন্দ্রিক ভাবের নাশ করে। পুত্রী, এই আত্মকেন্দ্রিক ভাব আমাদের আত্মের হয়, যে অন্য কনো কিছুকে দেখতে চায়না, নিজেকে ছাড়া।
অন্য কনো কিছুর প্রতি যদি তাঁর নজরও যায়, তাহলে এই কারণে যায় যে, সেই অন্য কিছু তাঁর আত্মকে কনো না কনো ভাবে উদ্ভাসিত করে, প্রকাশিত করে, বা প্রতিষ্ঠা প্রদান করে। পুত্রী, কম বেশি সমস্ত সাধারণ মানুষই আত্মকেন্দ্রিক হন। কেউ কেবলই নিজের সুখ চিন্তা করেন, আর সেই সুখ তখনই সম্ভব, যখন নিজের পতি, পত্নী, বা সন্তান, বা পিতামাতা সুখী থাকবেন, এমন বিচার করে, কেবলই সেই কয়জনের সুখের জন্য জীবনযাপন করেন, যেই কয়জন সুখী হলে, তিনি স্বয়ং সুখী হবেন।
আবার কারুর এই সুখচিন্তা আরো একটু অধিক বিস্তৃত হয়, যেখানে নিজের অধীনস্থ এবং তিনি নিজে যার অধীনস্থ কর্মচারী তাঁর সুখের চিন্তাও করেন। আরো একটু বিস্তৃত হলে, এই আত্মকেন্দ্রিকতা নিজের সাথে সংযুক্ত ব্যক্তিদের, অর্থাৎ বন্ধুবান্ধব, জ্ঞাতিগুষ্ঠি, এঁদেরও সুখচিন্তা করেন। আবার আরো একটু এই আত্মকেন্দ্রিকতার ব্যাসার্ধ বিস্তারিত হলে, এঁর মধ্যে নিজের সাথে সংলগ্ন জাতি, প্রবাসী, সম্প্রদায়ের ব্যক্তিগন, ইত্যাদিও প্রবেশ করে।
কিন্তু মানবসমাজের জন্য সর্বাধিক ভয়ঙ্কর তিনি হন, যার ব্যাসার্ধ কেবলই স্বয়ং হয়। সেই স্বয়ং-এর মধ্যে স্বামী, স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি, মাতাপিতা, ভ্রাতাভগিনী, বন্ধু জ্ঞাতি, অধীনস্থ বা উচ্চপদস্থ, গুরু বা আচার্য, অনুগামী ও অধোগামী, কেউ থাকেন না, অর্থাৎ যিনি কেবল স্বয়ং-এর সুখ চিন্তা করেন, আর সেই সুখপ্রাপ্তির জন্য তিনি যেকোনো কারুকে নিয়ে বানিজ্যিকরনও করতে পারেন। ইনি আবার ভয়ানক হয়ে ওঠেন, যখন এই আত্মসুখী ভাবকে তিনি লুকিয়ে রাখার জন্য, অন্য সকলের চিন্তা করছেন, এমন নাট্য করা শুরু করেন।
পুত্রী, এই চরমস্তরের আত্মসুখী ব্যক্তিকে শয়তান বলা হয়, আর যিনি এমন আত্মসুখী হয়েও, নাট্য করেন যে তিনি আত্মসুখী নন, তাঁকে আমরা বলি শ্রেষ্ঠ শয়তান, বা অসুররাজ। … দক্ষ ঠিক এমনই ছিলেন, আর ধৃতরাষ্ট্রও। … কিন্তু ধরিতরাষ্ট্রের সম্মুখে স্বয়ং নবদুর্গা ছিলেন, এবং ছিলেন তাঁর ধনুশ অর্থাৎ বিবেক বা কৃষ্ণ, আর সেই ধনুশের পঞ্চবাণ অর্থাৎ পঞ্চপাণ্ডব। কিন্তু দক্ষের সম্মুখে কেবলই চেতনা ছিলেন, যিনিও নিজের স্বরূপকে লাভ করার পূর্বেই আত্মদাহ করেন।
মার্কণ্ড মহামুনি এখানেই জীবকটিদের উদ্দেশ্যে বলতে নারাজ ছিলেন যে, চেতনা জাগ্রত না হলে সাধনা হবেনা। … বা সত্য বলতে, ঠিক এই স্থান থেকেই তিনি তন্ত্রমতের রচনা করেন, যা এই দক্ষদের মুণ্ডচ্ছেদ করে, তাঁকে সাধক গোড়ে তোলে। আর এই তন্ত্রের আচার সমূহ এই উদ্দেশ্যেই ধাবিত যে, আত্মের তমগুণকে উত্তেজিত করা হবে, সেই উত্তেজিত তমগুণের মধ্যে চেতনার সমস্ত তত্ত্ব, অর্থাৎ পার্বতীর দশমহাবিদ্যাকে স্থাপন করা হবে, এবং তাঁর ফলে তমগুণের অন্তর থেকে বীরভদ্র অর্থাৎ উগ্র ভৈরবের জন্ম হবে।
পুত্রী, মার্কণ্ড নিজের কথার সামপ্তি করেন নি, কেবল সতীর কথা বলে। মূলত, তাঁর কথার তো শুরুই হয় সেখান থেকে। পরবর্তীতে পরাচেতনা পার্বতী বেশে আসেন, এবং বিরক্ত শিবকে পদতলে পিষ্ট করে, তাঁর অহমিকার নাশ করে, তাঁর মধ্যে বৈরাগ্যের সঞ্চার করে, তাঁকে বিবেক ও বিচারের পিতা করে তোলেন। আর যেই পদ্ধতি অনুসারে মাতা পার্বতী নিজের অন্তরে এই মহাকাল্যকে উদ্ভাসিত করেন, তা হলো দশমহাবিদ্যা।
এঁতে প্রথমেই তমগুনি আত্মকে আত্মসাৎ করেন তিনি ধূমাবতী বেশে, আর তাঁকে নিজের অন্তরে তাঁর সত্য প্রকাশিত করে করে দেখান যে তিনিই কমলাবেশে সমস্ত সম্পদ ও শ্রীর প্রতিষ্ঠাত্রী, তিনিই বাক ও বাকসংযমী বশীকরণ ধারার প্রতিষ্ঠাত্রী বগলা। দেখান যে তিনিই বিদ্যা প্রদত্তা ভেদভাবের নাশক মাতঙ্গী, এবং তিনিই ত্যাগ ও স্নেহের জননী ছিন্নমস্তা। আরো দেখান যে তিনিই হলেন মৃত্যুর দেবী ভৈরবী, আবার জীবনের দেবী পঞ্চভূতের জননী ত্রিপুরাসুন্দরী ললিতা। আরো দেখান যে তিনিই সমস্ত ষোড়শপুরের জননী ভুবনেশ্বরী, এবং তিনিই স্বয়ং আত্মেরও জননী তারা, আর অন্তে তিনি দেখান যে তিনিই একমাত্র সত্য, স্বয়ং নিরাকার নিঃশব্দ মহাশূন্য মহাকালী।
এই সমস্ত তত্ত্বই আত্মকে বিরক্তি থেকে মুক্ত করে, তাঁকে শব রূপে শায়িত করে কালীর সম্মুখে এবং তিনি কালীকে অর্থাৎ পরাচেতনাকে ধারণ করে, সদাশিব হয়ে ওঠেন, এবং বৈরাগী হয়ে, বিচার ও বিবেকের জন্ম দিয়ে সাধক হয়ে ওঠেন। এই ধারার অনুসরণ করেই তন্ত্রের রচনা পুত্রী, যেখানে সাধক নিজের অন্তরকে পরাচেতনা, আদি পরাশক্তি মহাকালীর দশমহাবিদ্যার কাছে সমর্পণ করেন, এবং বাহ্যে সমস্ত ভেদভাব ত্যাগ করে, সমস্ত সুখচিন্তা ত্যাগ করে, নরাধমের ন্যায় জীবনযাপন করেন।
এবং এমন করে, তিনি নিজের অন্তরে সমস্ত চেতনাতত্ত্বকে তমগুণের মধ্যে প্রকাশিত করে জাগ্রত করেন ভৈরবকে, আর সেই ভৈরবই বিনাশ করেন আত্মকেন্দ্রিক অহমের। আর একবার তা হয়ে গেলে, তিনি পূর্ণ ভাবে সাধক হয়ে যান, কারণ তাঁর অন্তরেও বিচার ও বিবেকের জন্ম হয়, এবং সমস্ত তারকাসুরের নাশ করে, তিনি হয়ে ওঠেন সিদ্ধ, তন্ত্রসিদ্ধ সাধক।
অর্থাৎ পুত্রী, যার অন্তরে চেতনার জাগরণ হয়নি, তাঁর জন্য উপায় রূপে দেখিয়ে গেছেন মার্কণ্ড এই ভৈরবের জাগরণী মন্ত্র অর্থাৎ তন্ত্র“।
দিব্যশ্রী ব্যকুল হয়ে বললেন, “তাহলে কি তন্ত্র ছাড়া কনো উপায় নেই সাধারণ মানুষের। সেই গৃহত্যাগ করে, বনবাসে গিয়ে, নরাধমের জীবনযাপন করে, তবেই তাঁর পক্ষে সাধন সম্ভব! … আর কনো ভাবে কি সাধনা হয়না মা! … ভক্তিমত, বা অন্যকিছু? … আচ্ছা মা, কৃতান্তও তো এই ভৈরবের কথা বলেছেন, অখণ্ডের অন্তরে এই ভৈরব জাগ্রত হতে, তবেই কল্পনা, চিন্তা ও ইচ্ছার নাশ হয়। তবে কি কৃতান্তিক হতেও বনাঞ্চলে যেতে হবে? … আপনি তো যাননি বনাঞ্চলে! … কৃপা করে আমার দ্বন্ধের মীমাংসা প্রদান করুন মা। … ভক্তিমতের বিস্তার কি? আর কৃতান্তও কি ধারার কথা বলে, আমাকে তা বলুন। … আসলে আমি সাধারণ মানুষের সাধনার জন্য সহজ পথ খুঁজছি। আমাকে সাহায্য করুন মা”।
