কৃতান্তিকা

ব্রহ্মসনাতন বললেন, “ওই যে বললে তুমি, এক মিরা গড়বে শত মিরা, শত মিরা গড়বে সহস্র মিরা, সেটাই করবে”।

দিব্যশ্রী বললেন, “কিন্তু মা, একজন ১০জন অনাথ শিশুকে উঠিয়ে নিয়ে এলেন। না সকলে ৬ বৎসরের মধ্যে বয়স। কিন্তু বুঝবে কি করে, কাকে নেশার সন্ধান দেবে আর কাকে দেবেনা!”

ব্রহ্মসনাতন বললেন, “পুত্রী, গুরু হয়ে যদি গুরুর নির্মাণ না করা যেতে পারে, তবে কর্ম অসম্পন্নই থাকে, ঠিক যেমন বিবাহ উপরান্তে সন্তান লাভ না হলে, বিবাহ অসম্পন্নই থাকে, তেমন। অর্থাৎ, যেই ভাবধারা ধারণ করে একজন গুরু হয়েছেন, তাঁকে সেই ভাবধারাই স্থাপন করা অন্তত একজন শিষ্য গঠন করতেই হয়, তবেই গুরুর পদে তাঁর স্থাপিত হওয়া সম্পন্ন হয়।

আমার এই কথার অর্থ একটু জটিল হবে অনুভব করা। তাই সচেতন হয়ে কথাটিকে হৃদয় দ্বারা শ্রবণ করো। একজন কৃতান্তিক সাধককে অনুভব করো। আচ্ছা তাঁর জন্য কি এটি আবশ্যক যে, তিনি গুরু হয়ে আরো কৃতান্তিকের গঠন করবেন? অবশ্যই না। পণ্ডিত হলেই যেমন শিক্ষাদান করা যায়না, তেমনই সাধক হলেই গুরু হওয়া যায়না।

গুরু হতে গেলে, আমার নির্দেশ আবশ্যক। সেই নির্দেশ সেই সাধকের কাছে সাধারণত তাঁর গুরুর মাধ্যম দিয়েই তাঁর কাছে পৌছয়। আর যদি সেই সাধক স্বয়ং আমার অবতার হন, তবে স্বয়ং আমি নিজের শূন্যকায় নিয়তিরূপ দ্বারা প্রদান করি বা অন্য এক অবতার দ্বারা প্রদান করি। তবেই তিনি গুরু হতে পারেন, অন্যথা নন। কেন এমন ব্যাপার?

ঠিক যেমন পুত্রী, বিচার করার ক্ষমতা বা গুণ থাকলেই বিচারক হওয়া যায়না, বিচারক হতে গেলে সরকারের মদত লাগে, সরকারের ফরমাইশ লাগে, এও ঠিক তেমন। যার কাছে সরকারি ফরমাইশ আছে বিচার করার, তাঁর বিচারে যিনি দোষী সাব্যসত হবেন, তিনি হবেন রাজকারাগারে বন্দি, আর যিনি দোষী প্রমাণিত হবেন না, তিনি হবেন বেকসুর খালাস।

কিন্তু এবার বলো, একজন ব্যক্তি, যিনি বা তাঁর আশেপাশের মানুষ মনে করেন যে তিনি খুব সুন্দর বিচার করতে পারেন, তাঁর বিচারে যিনি দোষী, তিনি কি রাজকারাগারে বন্দি হবেন? তিনি কি বেকসুর খালাস হবেন? … না, হবেন না। ঠিক তেমনই সব সাধক গুরু হননা, গুরু হতে গেলে, আমার আদেশ আবশ্যক।

এবার তুমি বলবে, এই কল্পনার জগতে, আমি আদেশ দিয়েছি, এটা তো কল্পনা করে নিলেই হয়। প্রথম কথা এই যে আমি তাঁকে হয় অবতার বেশে, নয় সম্পূর্ণ আমার শূন্যরূপ বা সত্যরূপের দর্শন প্রদান করে, তবেই আদেশ দিই। আর দ্বিতীয় কথা এই যে, সেই গুরুর কাছে শিষ্যও আমিই প্রেরণ করি।

অর্থাৎ যেমন সরকারি বিচারকের কাছে বিচারের আর্জি সরকারই স্থাপন করে দেয়, সেই বিচারককে এদিক সেদিক ঘুরে ঘুরে, এরওর তার কাছে চেয়েচিন্তে বিচারের মামলা খুঁজতে হয়না, তেমনই যাকে আমি গুরু হবার আদেশ দিই, তাঁর কাছে শিষ্যও আমিই প্রদান করি, অর্থাৎ সেই ব্যক্তি, যিনি গুরু হয়েছেন আমার নির্দেশে, তাঁর কাছে শিক্ষার্থী আমিই প্রদান করি, আর তিনি আকস্মিকই উদিত হন, তাঁর সম্মুখে।

এক তিনিই গুরু হতে পারেন। আর একবার তিনি গুরু হয়ে গেলে, তাঁর গুরুপদের কর্মভারের উত্তরদায়িত্বের মধ্যেই পড়ে যে, তিনি নিজের গুরুপদ নিজের সেই শিষ্যকে প্রদান করে যাবেন, যিনি তাঁরই আদর্শকে ধারণ করে শিক্ষা প্রদান করতে সক্ষম। এবং এই উত্তরদায়িত্ব সেই শিষ্য, যিনি পরবর্তী গুরু হলেন, তাঁর ক্ষেত্রেও বর্তায়।

অর্থাৎ পুত্রী, আমি যখন একজনকে গুরু হবার নির্দেশ প্রদান করছি, এর অর্থ এই যে, আমি একটি গুরুর টোল সামিল করছি, যেখানে শতক শতক বছর ব্যাপী, একের পর এক গুরু, আর দশকের পর দশক শিষ্য জমায়েত হয়ে সাধন করে মোক্ষলাভ করবে, এবং সমাজে মোক্ষলাভের বার্তা স্থাপন করবে।

তাই যেমন তোমাকে আমি আদেশ দিলাম গুরু হবার, তেমন তোমাকে তোমার শিষ্য লাভ করার উপায়ও বলে দিলাম। আর কেবল তোমাকেই নয়, তোমার শিষ্যদেরও শিষ্যলাভের উপায় বলে দিলাম। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, একজন আমার আদেশপ্রাপ্ত গুরু কেবল একটি সম্প্রদায়ের নির্মাণ করবে, আর সেই সম্প্রদায়কে সমাজে শক্তিশালী করবে।

পুত্রী, আমি তোমাকে সমাজসংস্করকের কর্মভার দিই নি, আমি তোমাকে একটিবারের জন্যও বলিনি যে সমাজের অন্ধকার দূর করো। আমি তোমায় বলেছি যে, অনাথ শিশুদেরকে অপার প্রেম প্রদান করে, তাঁদের অন্তরে অনুভব শক্তি প্রদান করে, তাঁদেরকে কৃতান্তিক গড়ে তোলো। সমাজ সংস্কারের উপায় তো স্বয়ং আমিই নির্মাণ করে গেলাম, সেই ভার তোমাদের কি করে দিই? সেই ভার ওঠানোর সামর্থ্য তোমাদেরকে যে আমি প্রদানই করিনি, তা তোমরা করবে কি করে?

যখন তুমি ১০ট অনাথকে কৃতান্তিক গড়বে, সেই ১০ কৃতান্তিক আরো ১০টি করে কৃতান্তিক গড়বে, আবার তাঁরা এক শত কৃতান্তিক, আরো দশটি করে অনাথকে কৃতান্তিক গড়বে, আর এই ভাবে যখন সমস্ত যাত্রা চলতে থাকবে, পিড়ির পর পিড়ি বেয়ে, তখন সমাজ একজন তোমাকে কৃতান্তিক করে না পেয়ে, পেয়ে যাবে শত শত, সহস্র সহস্র কৃতান্তিক, আর তখন সমাজ সংস্কার এমনিই হয়ে যাবে।

তাই গুরুর কর্ম কখনোই সমাজ সংস্করণ করা নয়, সমাজে বসে যাকে তাকে, যে কামনার নেশায় চূড়, তার কাছেও সত্যের বিবরণ প্রদানের জন্য নয়। গুরুর কর্ম হলো প্রথম নির্বাচন করা, যা তোমাদের ক্ষেত্রে বলে দিয়েছি আমি অনাথ শিশুকে নির্বাচন করার জন্য। দ্বিতীয় কর্ম হলো, তাঁদের সকলকে এমন ভাবেই কৃতান্তিক গড়ে তোলা, যেন তিনি আরো অনেক অনাথকে কৃতান্তিক গড়ে তুলতে পারেন, সেই দিকে নিজেকে নিবদ্ধ রাখা।

তাই পুত্রী, নিজের নির্বাচন পদ্ধতি, কর্ষণ ও ধারণের উপর সমস্ত ধ্যানজ্ঞান স্থাপন করো, এবং প্রচার বিমুখ হও। প্রচার করলে, কি হয় জানো? কল্পনার প্রেরণায় কামনা করে করে, সেই কামনাপুড়নে ব্যর্থ হয়ে হয়ে, শোকেতাপে জর্জরিত মানুষ তুমি রূপী গাছের গাছতলায় ছায়া পেতে চলে আসবেন।

না তাতে কনো অসুবিধা নেই, কিন্তু তুমি তেমন গাছ নও যার তলায় সমস্ত জগত চলে আসবে। তোমার সামর্থ্য সীমিত। আর তাই তাঁরা তোমার গাছতলাকে দখল করে নেবেন, যারা কৃতান্তিক হতে সক্ষম নন। তাই নিজের উদ্দেশ্যে দৃঢ় হও। উদ্দেশ্যে দৃঢ় থাকার জন্য, কল্পনাতে বদ্ধ, কামনায় জর্জরিত মানুষ তোমাকে স্বার্থপর বললেও, সেইদিকে মননিবেশ করো না। বরং নিজের কর্মে নিষ্ঠাবান হও।

পুত্রী, অনাথদের কৃতান্তিক করার পর যা আমি তোমাকে বলেছি, তা সম্পূর্ণ সমাজের কাছে সত্যকে মেলে ধরার জন্যই বলেছি। আমার কথাতে বিশ্বাস স্থাপন করো। যখন এই কৃতান্তিকরা সহস্র সংখ্যা হয়ে, যথার্থ কল্পনাজয়ী, বুদ্ধিজয়ী, কামনাজয়ী মহাতেজস্বী মহাপ্রেমী হয়ে উঠবেন, তখনই সমাজ বাধ্য হবে, সত্যকে জানার জন্য, তার আগে নয়।

তাই পুত্রী, এই যে হিন্দোল স্থাপিত করা হলো সত্যলাভের, আমার এই অবতারের মাধ্যমে, তাকে এখানেই সমাপ্ত হতে দিও না। আর তা যাতে সমাপ্ত না হয়ে যায়, সেই কারণেই তোমাকে আমি বারবার বলছি, প্রচার করো না, ততক্ষণ করো না, যতক্ষণ না এই কৃতান্তিক নামক বৃক্ষ এমন বড় হয়ে যায় যাতে সমস্ত মানবসমাজকেই নিজের মধ্যে ধারণ করে নিতে পারে।

প্রথমে এর আকার বৃদ্ধি করো, আর সেই আকার বৃদ্ধি করার কালে, তুমি বা তোমার শিষ্যরা কিছুতেই সাধারণ শোকতাপ জর্জরিত মানুষদেরকে ভিড়তে দিও না, কারণ তোমরা তখন যদি সেই কর্মে মন দাও, তবে জানবে, এই সমাজ সংস্করণও সেখানেই সমাপ্ত হয়ে যাবে। তাই যাতে সমাজসংস্করণ সঠিক ভাবে হয়, তার জন্য অপেক্ষা করো, ধৈর্য ধরো, আর এই অপেক্ষার কালে, নিজের মত সত্যকে দর্শন করা, এই সমাজসংস্করণের বিজ্ঞানকে অনুভব করা, শত সহস্র কৃতান্তিকের নির্মাণ করো।

জানবে যে এই প্রতিটি কৃতান্তিক একটি একটি করে সেই বিশাল বনস্পতির ডাল, যার নাম মাতা সর্বাম্বা। আর যখন ডালপালা বেরিয়ে বেরিয়ে মাতা সর্বাম্বা এতটাই বড় হয়ে যাবেন যে সম্যক মানব সমাজ তাঁর মধ্যে স্থিত হয়ে যাবে, তখন আর প্রচারের প্রয়োজনই পরবে না। তখন যেমন করে আজ কল্পনা আর পঞ্চভূতের দাসত্ব করার কৌশল শেখানোই শিক্ষাব্যবস্থার উদ্দেশ্যে হয়ে রয়েছে, তেমন সেই সময়ে কৃতান্তিক হয়ে ওঠাই সম্যক জগতের শিক্ষাব্যবস্থার উদ্দেশ্য হয়ে উঠবে।

আর পুত্রী, যেদিন তা সম্পন্ন হবে, জানবে যে, সত্যযুগের জগতবিস্তার সেদিন থেকে শুরু হলো। তাই পুত্রী, প্রচার করে, নিজেদের জনপ্রিয় করে তোলা যেন কখনোই কনো কৃতান্তিকের উদ্দেশ্য বা কর্মপদ্ধতি না হয়। কৃতান্তিকের উদ্দেশ্য যেন সর্বসময়ে একাধিক কৃতান্তিক গঠন হয়, অর্থাৎ একাধিক ব্যক্তিকে আমার সত্যতাকে দর্শন করার, জানার এবং ধারণ করার অবস্থায় উন্নীত করে, আমাকে প্রত্যক্ষ করিয়ে নিজের কর্তাভাবের নাশ ঘটানোই এক কৃতান্তিকের উদ্দেশ্য হয় যেন।

পুত্রী, গুরু তাঁর শিষ্যকে প্রায়শই শিক্ষিত তো করে দেন, দীক্ষিতও করে দেন, উর্বর ও সত্যকামীও করে দেন। কিন্তু গুরুর কর্ম তখনও সমাপ্ত হয়না। গুরুর কর্ম তখন সমাপ্ত হয় যখন তাঁর শিষ্যকে তিনি কি ভাবে শিক্ষা প্রদান করতে হয়, এবং শিক্ষা প্রদান করার ক্ষেত্রে কি কি উদ্দেশ্য স্থাপন করতে হয়, তা শেখানো। তাই তোমার এই সম্পূর্ণ আয়োজনের মধ্যে, এটিকে অবশ্যই জোর দেবে।

অবশ্যই দেখবে যাতে তোমার প্রতিটি শিষ্য কৃতানিতক হয়ে ওঠে, এবং সকলে আমাকে দর্শন করে, আমার প্রেম লাভ করে। কিন্তু পাশাপাশি এও দেখবে যাতে, সে যাতে নিজেদের মতই কৃতান্তিক রচনা করাকেই নিজের এই সমস্ত সাধনার লক্ষ্যরূপে স্থাপন করে। … হ্যাঁ পুত্রী, অনাথদের এবার সৌভাগ্য প্রদানের হিল্লোল তলো। এমন হিল্লোল তুলে দাও, যেখানে দাঁড়িয়ে, সমাজ মানতে শুরু করবে, তাঁরা অনাথ হলেই যেন সর্বাধিক ভাগ্যবান হতো।

তবে শেষবারের মত বলছি, প্রচারে মন দেবে না। অবতারের কর্মপ্রচার কেবলই দুই কি তিন পিড়ি পর্যন্তই ব্যপ্ত হয়, তারপর অবতারকে সমাজ ভগবানের আসনে বসিয়ে, পুনরায় অন্ধবিশ্বাসের সাধনা করতে শুরু করে দেয়, আর তাঁকে ঘিরেই, নতুন করে কামনার সংসার স্থাপন করতে শুরু করে দেয়। তাই প্রচার করবেই না।

কেবলই অনাথদের কৃতান্তিক গড়ে তলো। অজস্র কৃতান্তিক গড়ে তলো, যারা সকলেই হবে কল্পনাজয়ী, পঞ্চভূতজয়ী, প্রেমী, প্রেম ও অনুভব সর্বস্ব। এটিই হবে তোমাদের সকলের লক্ষ্য, সকলের একমাত্র উদ্দেশ্য। আর যখন এই উদ্দেশ্য পুড়ন হয়ে যাবে, সত্যযুগ এমনিই স্থাপিত হয়ে যাবে সম্পূর্ণ সমাজে, আর তাকে কনো কল্পনা, কনো ইচ্ছা, চিন্তা আটকাতে পারবেনা, না আর্যদের ন্যায় শঠতা তাকে আটকাতে পারবে, আর না কল্পযন্ত্র বিজ্ঞানের মত মদাচ্ছন্নতা তাকে আটকাতে পারবে, আর না বাণিজ্য সর্বস্ব মানসিকতা তাকে রোধ করতে পারবে।

তাই উদ্দেশ্য, যা তোমাদের জন্য আমি স্থির করে রাখলাম, তাকে ধারণ করো, স্বয়ং কৃতান্তিক হয়ে যাও, আর শত শত কৃতান্তিক গঠন করতে থাকো। অনুগামী নয়, কৃতান্তিক প্রয়োজন আমার। সন্তান প্রয়োজন আমার, আমার কনো প্রশংসকের প্রয়োজন নেই। এক মা, তাঁর সন্তানকে ক্রোড়ে ফিরে পেতে চায়, সে কত ভালো মা, ওসবে মায়ের কি কাজ!

আমার ক্রোড় ভরিয়ে দাও পুত্রী, আমার ক্রোড় ভরাতে থাকো পুত্রী, এই মায়ের আর কিছুই কাম্য নয়, কেবল এটিই তাঁর কামনা, যে তাঁর ক্রোড় ভর্তি থাকুক সর্বদা। তাঁর কনো পূজার থালির প্রয়োজন নেই, কনো মালা চন্দন, শাড়ী আভুশনের কনো প্রয়োজন নেই, কনো ধুপধুনাদি, পূজা অর্চনা, এইসবের তাঁর কনো প্রয়োজন নেই। তিনি জানেন তিনি ঈশ্বরী, তাঁকে সেই কথা স্মরণ করিয়ে দেবার কনো প্রয়োজন নেই।

এক মায়ের কাছে তাঁর শ্রেষ্ঠ গহনা, তাঁর শ্রেষ্ঠ আভুশন, তাঁর শ্রেষ্ঠ পূজা, তাঁর শ্রেষ্ঠ আরাধনা, তাঁর শ্রেষ্ঠ উপহার হলো তাঁর ক্রোড়ের সন্তান। আজ জগজ্জননী তোমার কাছে আবদার করছে যে, পুত্রী আমার মাতৃত্বকে সম্পন্ন করে দাও। আমার গহনা চাইনা, আমার পূজা চাইনা, ধুপধুনা, চন্দন, গন্ধ, পুষ্প, কিচ্ছু চাইনা।

ধরিত্রীর বুকে যা কিছু ফুল, ফল ওঠে, সেই সমস্ত আমারই, তাই আমার কাছে যা পূর্ব থেকেই আছে, তা পুনরায় প্রদান করার কনো প্রয়োজন নেই। যা কিছু মন্দিরে এসে আমাকে দাও তোমরা, সেই সব তোমরা আমাকে দেবার আগে থেকেই আমার। তা আমারই সম্পত্তি আমাকে দিয়ে উপহার দিচ্ছি বলার অর্থ কি? এই বাতুলতা, এই বাচালতা, আর এই উপরচালাকির অর্থ কি? আমার ক্রোড় শূন্য, আমাকে আমার সন্তান ফিরিয়ে দাও। তাঁদের কর্তার নাশ করে, আমার ক্রোড়ে তাঁদেরকে ফিরিয়ে দাও। এটিই আমার চাওয়া, যদি এতই পূজা করো আমাকে, এর অর্থ নিশ্চয়ই আমাকে তোমরা খুব ভালোবাসো। তা যদি সত্যিই ভালোবাসো, তবে এই মা তোমাদের কাছে ভিক্ষুক হয়ে হাত পেতে নিজের সন্তানদের ভিক্ষা চাইছে। …

আমার সন্তানদের যেই কর্তাভাবে মজিয়ে রেখে আমার থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছ, ঠিক সেই ভাবে তাদের কর্তাভাবের নাশ করে, আমার ক্রোড়ে ফিরিয়ে দাও। যদি দাও, তবেই জানবো মনুষ্যজাতি ভালোবাসো আমাকে, নাহলে জানবো, সমস্তটাই তোমাদের অভিনয় ছিল।

পৃষ্ঠা: 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38 39 40 41 42 43