সর্বশ্রী কাণ্ড (কৃতান্ত তৃতীয় কাণ্ড)

মীনাক্ষীর কণ্ঠস্বর আর পূর্বের মত শোনালো না। পূর্বে তাঁর কণ্ঠস্বরে মিষ্টতা আর গাম্ভীর্য দুইই ছিল। তবে এখনের কণ্ঠস্বরে কেবলই গাম্ভীর্য।

তাই সকল তন্ত্রসন্তান একত্রে স্থির হয়ে দেখার প্রয়াস করলেন, কিন্তু কিচ্ছু দেখতে পেলেন না কয়েকটি বিন্দুব্যতীত। তাই শ্রুতি বললেন, “কত দূরে রয়েছে দিদি, এখান থেকে?”

মীনাক্ষী বললেন, “প্রায় ৫ হাজার গজ দূরে। আমাদের এখনই যেতি হবে। সেখানে পৌছাতে আমাদের প্রায় দুই ঘণ্টা লেগে যাবে। ওরা তারমধ্যে দেবীদের সাথে কি না কি করবে, … না না, দ্রুততা কর, শীঘ্র যেতি হবে আমাদের”।

আর কেউ কনো কথা বলল না। প্রায় দেড় ঘণ্টা পথ চলার পর, সকলে দেখতে পেলেন অস্পষ্ট ভাবে দেবী জয়া ও বিজয়াকে। মীনাক্ষী বললেন, প্রায় ২০টি যুবক দুই দেবীকে হাতপা বেঁধে গাছের গুড়িতে আটকে রেখে, তাঁর আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। দ্রুততার সাথে পথ অতিক্রম করে নিকটে গেলে, এবার সকলে দেখলেন, ঠিক তাই তাই হচ্ছে সেখানে, যেমন যেমন মীনাক্ষী তাঁদেরকে বলেছিলেন। কি অদ্ভুত দৃষ্টিশক্তি এই মীনাক্ষীর! তা ভেবেই সকলে হতবাক হয়ে গেলেন, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে দেবী জয়া ও বিজয়াকে কি ভাবে উদ্ধার করবেন, সেই নিয়ে সকলে সন্দিহান হয়ে পরলেন।

দেবী জয়ার বস্ত্রের বেশ খানিকটা আঁচল ছেঁড়া, আর তার থেকে তাঁর স্তনদেশ উকি মারছে। অন্যদিকে বিজয়ার মাথার দিকে আঘাত। তার থেকে সামান্য রক্তপাত হয়েছে, যার দুটি বিন্দু তার প্রসারিত স্কন্ধে পরেছে।

সকলে দেখলেন, একটি যুবক এলেন সেখানে। আর সে ক্রুর হাস্য প্রকাশ করতে করতে বললেন, “দেবী জয়া আর বিজয়া! চিত্তাপুত্রদের দুই কন্যা! … (আবার হাস্য হেসে) অনেক দিন অপেক্ষায় ছিলাম, কবে তোমরা গুহা থেকে নির্গত হবে আর কবে তোমাদেরকে অপহরণ করে নিয়ে এসে, তোমাদের রমণ করে করে, আমার বংশকে তোমাদের গর্ভে বিস্তার করবো!”

পুনরায় ক্রুর ভাবে অট্টহাস্য প্রদান করে, “ভেবে দেখো, পংরাজ্যের সুন্দরীর গর্ভে করিন্দ্র ও ভণ্ডের বীর্য থেকে জন্ম আমার। মহাক্রুর আর মহাকৌশলী আমি। তারই সাথে চিত্তাপুত্রদের বল যুক্ত হলে, কি হবে! এমন বলশালী হবে, যাকে তোমাদের ভ্রাতারা, জয়বিজয় মিলেও প্রতিরোধ করতে পারবেনা। ভেবে পাচ্ছ!”

পুনরায় ক্রুর হাস্য হেসে, সে আবার বলল, “করিম আমার নাম। বৈদিক উপাচার করে, আমি এমনিই অজেয়। চিন্তা করো না জয়া বিজয়া। আমার অনেক পুত্র আছে। দিকে দিকে আমার অনেক অনেক স্ত্রী আছে, যারা আমার পুত্রদের জন্ম দিয়েছে। তবে তোমাদের পুত্ররা হবে সম্রাট। হ্যাঁ, কনিষ্ঠ হলেও তারা হবে সম্রাট। কারণ তাঁরা তো অশেষ বলশালী হবে। … (ক্রুর হাস্য হেসে, নিজের হস্ত জয়ার থুতনির কাছে নিয়ে গিয়ে) তবে তোমরা যদি স্বেচ্ছায় আমার কাছে থাকো, তবে তোমাদেরকেও রাজমাতা করে দেব!”

এমন বলে, জয়ার স্তনদেশে নিজের হস্ত স্থাপন করতে গেলে, সকলে ভয়ঙ্কর কম্পনে কম্পিত হয়ে গেলেন, করিমের অনুচররাও, করিম নিজেও, তন্ত্রসন্তানরাও, আর স্বয়ং জয়া বিজয়া ও তাঁদের হস্ত যেই খুঁটিতে বাঁধা ছিল তাও।

সকলে অনুসন্ধানের দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দেখলেন, কে এই কৃত্য করলো। করিমরা উপলব্ধি করতে না পারলেও, তন্ত্রসন্তানরা উপলব্ধি করতে পারেন যে, এই কীর্তি মীনাক্ষীর। সে এতই জোরে ভূমিতে আঘাত করেছে যে, তার পরিণাম স্বরূপ এই কম্পন। এমন কীর্তি তাঁরা দেখেছেন মহারথী সুরের মধ্যে। আর আজকেও তাই দেখছেন। তবে এই কীর্তি জয়াবিজয়া দেবী সর্বশ্রীর মধ্যেই প্রথম দেখেন। তাই হতবাক হয়ে ভাবেন, “শ্রীমার শক্তি, মীনাক্ষীর মধ্যে! কি করে!”

করিম উত্তেজিত হয়ে পতিত অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে এবার তন্ত্রসন্তানদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আরে এই মূর্খ গুলো, এই ৫ তন্ত্রস্ত্রীদের আনিসনি কেন? এঁরাও মহাশক্তিশালী। এঁদের গর্ভেও আমার সন্তানরা বড় হলে, ভাব তো কতই না শক্তি হবে আমাদের!”

এমন কথা শুনে, করিমের ২০টি মত অনুচর তন্ত্রস্ত্রীদের দিকে এগিয়ে এলে, মীনাক্ষী এবার ক্রুদ্ধ হয়ে উঠে হুংকার ছাড়লেন একটি, আর সেই হুংকারে সকল অনুচররা এক প্রকার উড়ন্ত পক্ষীর মত এদিকে সেদিকে উড়ে যেতে, একটি অনুচর মীনাক্ষীর নিকটে ভূপতিত হতে থাকলে, মীনাক্ষী সেই অনুচরের গণ্ডদেশকে একটি হস্তে ধারণ করে, এবং দুই চরণকে অন্য হস্তে ধারণ করে, এমনই জোরে নিজের জানুতে আঘাত করলেন যে, সেই অনুচরের দেহ দুই খণ্ডে বিভক্ত হয়ে, ভূমিতে পতিত হয়ে গেল।

এমন প্রকাণ্ড শক্তির কথা শুনেছে তন্ত্রসন্তানরা। মাতা শ্রী এমন কীর্তি করেছিলেন যখন জয়াবিজয়াকে ভণ্ডের থেকে উদ্ধার করেছিলেন, আর সকলে শুনেছেন মাতা গুহ্যাকে করতে, যখন তিনি আত্মসেনার সাথে যুদ্ধে রত হয়েছিলেন। তাই সকলে একটু তটস্থ হয়ে উঠলে, করিম উত্তেজনা ও ভীতি সহ বলে উঠলেন, “এই স্ত্রী কে! একে আমি চিনিনা। … এই স্ত্রী, তুমি যাও। … এই যাও … এখানে কি চাই! … তোমার সাথে আমার কনো শত্রুতা নেই। … তুমি যাও!”

মীনাক্ষীর কণ্ঠস্বর সম্পূর্ণ ভাবে পালটে গেছে। তাঁর কণ্ঠস্বর এখন ভয়াবহ। তাঁর দৃষ্টি স্থির, নেত্র রক্তচক্ষু। অঙ্গ থেকে এক দিব্য চন্দনের সুবাস নির্গত হচ্ছে। অঙ্গের বর্ণ বাদামের রঙের থেকে লালাভ হয়ে উঠেছে। সামান্য কথা বললেও যেন মনে হতে লাগলো ভারী বর্ষণের বাদল গর্জন করছে। মীনাক্ষী উত্তরে বললেন, “যে যে, যখন যখন, অকারণ কনো জীবকে নিকৃষ্ট দৃষ্টিতে, ব্যবহার করার দৃষ্টিতে, সম্ভোগ করার দৃষ্টিতে দেখে, সে স্বতঃই আমার শত্রু হয়ে যায়। … তাই আমি তোর না হলেও, তুই আমার শত্রু। … পালিয়ে যা, প্রাণ ভিক্ষা দেব। এখানে থাকলে, মুণ্ডু ছিঁড়ে নেব শরীর থেকে”।

করিম ভয়ার্ত হয়েই বলে উঠলো, “বসে বসে আমার মুখ কি দেখছিস, হতভাগার দল! … এতদিন ধরে খাইয়ে দাইয়ে এমন হাতীর মত শরীর করিয়েছি আমার মুখ দেখার জন্য! … হত্যা কর এই কন্যাকে। কে জানিনা, কিন্তু ভয়ঙ্কর সে। হত্যা কর”।

এমন বললে সকলে ভূমি থেকে উঠে রেরে করে মীনাক্ষীর দিকে ধেয়ে আসলে, মীনাক্ষী পুনরায় একটি হুংকার ছাড়লে, পুনরায় সকলে যেন শূন্যে ছিটকে গেল, আর পুনরায় একজন করিম অনুরাগী ছিটকে মীনাক্ষীর কাছে পতিত হতে গেলে, মীনাক্ষী তার মুখে একটি ভয়ানক মুষ্ট্যাঘাত করলে, সেই অনুগামীর মুণ্ড গর্দান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে, পৃষ্ঠের কাছে প্রাণহীনার ন্যায় নেত্র করে ভূমিতে পতিত হয়ে গেল।

এই দৃশ্য দেখে সকল অনুগামী এবার প্রাণ নিয়ে পলায়নের প্রয়াস করলে, বেশ কিছুবার করিম চিৎকার করে তাঁদেরকে ধমক দেবার প্রয়াস করলো, কিন্তু কেউ যেন করিমের কণ্ঠস্বর শুনতেই পেল না, সকলে পলায়ন করলো। মীনাক্ষী এবার উগ্র চণ্ডীর ন্যায় মহাবিক্রমে সম্মুখে এগিয়ে গিয়ে জয়া ও বিজয়ার বন্ধন খুলতে গেলে, করিম দ্রুতগামী হয়ে এগিয়ে এসে মীনাক্ষীর কটি দেশকে পিছন থেকে বেষ্টন করে আক্রমণ করতে গেলে, মীনাক্ষী নিজের তনুকে নিম্নমুখী করে নিয়ে, নিজের চরণ দ্বারা করিমের জানুকে এমনই জোরে আঘাত করলেন, যে করিম নিজের দেহের ভার সামলাতে না পেরে ভূমিতে পরে যায়।

জানুর আঘাতে ছটফট করতে থাকা করিমের কাছে গিয়ে, এবার মীনাক্ষী সরাসরি করিমের বক্ষে চরণ রেখে ক্রুদ্ধস্বরে বললেন, “পলায়ন করলিনা যখন, মুণ্ডছেদের পীড়া সহ্য করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যা মূর্খ”।

এই বলে, করিমের কেশকে মুষ্টিবদ্ধ করে, দক্ষিণ চরণকে শূন্যে উন্নীত করে, আরো একবার তা করিমের বক্ষে স্থাপন করলে, মীনাক্ষীর পায়ের চাপে, করিমের দেহ ভূমির দিকে যেতে থাকে, আর মীনাক্ষীর মুষ্টির কারণে তাঁর মুণ্ড ঊর্ধ্বে উঠতে থাকে। আর এই দুই বিপরীতগামী দেহের পরিবর্তনের কারণে, উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করতে থাকলো করিম। বেদনাভরা সেই চিৎকারকে সঙ্গত দিতে আকাশে চিলশকুনের চিৎকার যুক্ত হয়ে যায়। কিন্তু মীনাক্ষীর বলপ্রয়োগ স্তব্ধ হয়না।

সে ততক্ষণ বলপ্রয়োগ করতে থাকলো যতক্ষণ না, করিমের চিৎকার স্তব্ধ হলো, আর যখন তা স্তব্ধ হলো, তখন করিমের দেহ ভূলুণ্ঠিত, আর তার মস্তিষ্ক মীনাক্ষীর হাতে দেহছিন্ন রূপে, রক্ত প্রবাহ করতে থাকে অবিরাম।

অপার স্নেহ আর স্নেহলাভের প্রতি সমস্ত জীবের আকর্ষণ দেখে সকলেই অনুমান করেছিলেন যে তাঁরা যার সন্ধানে এসেছিলেন, তিনি মীনাক্ষীই। তবে এই প্রবল বল দেখে, আর তা অনুমান নেই। এবার তো তা স্থির বিশ্বাসে পরিণত হয়ে গেছে। তবে মীনাক্ষীর ক্রোধ শান্ত হয়েছে। জয়ার বন্ধন খুলতে তন্ত্রকন্যারা গেলে, মীনাক্ষী বিজয়ার দেহবন্ধন খুলে দেয়। বিজয়া চিৎকার করার জন্য, পাথর দিয়ে তাঁর মস্তকে আঘাত করে, মাথার অস্থিকে আঘাত করেছে করিমের অনুগামীরা।

তাই বন্ধন খুলতেই বিজয়ার দেহ মীনাক্ষীর স্কন্ধে পতিত হয়ে যায়। মীনাক্ষী তাঁকে প্রথমে বক্ষে ধারণ করে, অতঃপরে ক্রোড়ে ধারণ করে, ভূমিতে শয়ন করালেন। অতঃপরে তন্ত্রপুত্রদের উদ্দেশ্যে বললেন, “কিছু পাতা নিয়ে এসো, যাতে ইনার মস্তকের আঘাতের চিকিৎসা করা যায়। শীঘ্রতা করো।

শেকড় পাতা, সমস্ত কিছু বেটে, তার রস মাথায় দিয়ে, সন্ধ্যা পর্যন্ত সেবা করলে, বিজয়ার জ্ঞান ফেরে, আর সে মীনাক্ষীকে প্রবল ভাবে জরিয়ে ধরে। সামান্য ঘুমিয়ে নেয়। রাত্রি হতে সকলে এবার মীনাক্ষীকে বেষ্টন করে বসলে, মীনাক্ষী বললেন, “আমাকে তোমাদের সাথে নিয়ে চলো না। তোমরা সকলে তো ব্রহ্মময়ী মায়ের সন্তান। মাতা সর্বশ্রী যে সাখ্যাত ব্রহ্মময়ী। আমাকে নিয়ে চলো তোমাদের সাথে”।

জয়া বললেন, “আমাদের সাথে শুধু কেন? আমরা তো তোমাকে আমাদের মাতার কাছেই নিয়ে যাবো”।

মীনাক্ষী হেসে বললেন, “মায়ের যদি তাই নির্দেশ হয়, তবে তাই নিয়ে চলো”।

বিজয়া ক্রোড়ে মাথা রেখেই বললেন, “তার আগে তুমি কিছু বলো আমাদেরকে”।

মীনাক্ষী হেসে বললেন, “আমি কি বলবো দেবী বিজয়া! … আমার বলার সামর্থ্য কোথায়! আমার জানাই বা কি আছে! কিছুই জানিনা, কিছুই বুঝিনা, আর কিছুই তাই বলতে সক্ষম নয়। কেবল মায়ের কথাতে নিজের ওষ্ঠদিতে পারি আমি, আর কিছুই পারিনা”।

জয়া বললেন, “সে তো সকলের মুখ, তাঁরই মুখ। সকল মুখ দিয়ে তিনিই কথা বলেন। তাই তুমিও যা বলবে, তাও তো তাঁরই কথা হবে। তাই না!”

মীনাক্ষী হেসে বললেন, “তা ঠিক, তা ঠিক। কিন্তু তাঁর কথা তিনি বলেন কোথায় দিদি! … আমাদের কথাই আমাদেরকে শোনান তিনি, কিন্তু তাঁর কথা তো আমরা শুনিই না, শুনতে চাইই না বললেও ভুল বলা হবেনা”।

বিজয়া আসতে আসতে নিজের শরীরকে এবার মীনাক্ষীর কোল থেকে দুলে একটি বৃক্ষতে ঠেস দিয়ে স্থাপন করে মীনাক্ষীর দিকে তাকিয়ে বললেন, “একটু বিস্তারে বলো না, তুমি যা বোঝাতে চাইলে। মনে হলো যেন গভীর কিছু কথা বললে, কিন্তু আমি অনুভব করতে পারলাম না তোমার কথাকে”।

সকলেই একই ভাবে বললেন, “হ্যা, আমরাও যেন অনুভব করতে পারলাম না। … একটু বিস্তারে বলো না মীনাক্ষী!”

মীনাক্ষী সামান্য হাস্য প্রকাশ করে, বেখেয়ালে চলে গিয়ে বললেন, “তাঁর কর্মকাণ্ড বড়ই অদ্ভুত। হ্যাঁ তিনি সকলের মুখের সকল উচ্চারিত কথন, কারণ তিনি তো স্বয়ং শব্দ। তিনি প্রবাহিত না হলে, আমার বা কারুর মুখে একটি শব্দও উচ্চারিত হতে পারেনা। তবে মজার কথা এই যে, তিনি একটি কথাও বলেন না, অর্থাৎ এই সমূহ শব্দের মধ্যে একটি শব্দও তাঁর নিজের নয়।

কেমন দেখবে! এই দেখো, আমি তাঁতে ডুবতে চাই, অথচ আমি তাঁতে ডোবার জন্য প্রস্তুত নই। এই আমার অবস্থা ধরে নাও। তা তিনি কি করেন? তিনি আমার সম্মুখে কালদ্বারা এমন এক পরিস্থিতির সম্মুখীন করবেন, যার ফলে আমার সম্মুখে তিনটি পথ খুলে যাবে। হয় আমি তাতে সাঁতার কাটবো, নয় আমি তাঁতে ডোবার জন্য, সেই সাঁতারের অভিনয় করে মধ্য সাগরে গিয়ে ডুবে যাবো, আর নয় আমি নিজের সাথে যারা আমাকে সাঁতার কাটানোর প্রয়াস করছে, তাদেরকে নিয়ে ডুবে যাবো।

অর্থাৎ বুঝতে পারলে কিছু! তিনি কিন্তু আমার উপর কনো প্রকার জোর খাটালেন না। বরং তিনি আমার সামনে তিনটি পথ খুলে দিলেন। কিসের মাধ্যমে? সম্মুখে কারুকে এনে, তাঁদের শব্দের মাধ্যমে। এই যেমন ধরো, তোমরা কৃতান্তিক। তোমাদেরকে তিনি আমার সম্মুখে এনেছেন, আর আমার কাছে এই তিনই মার্গ খুলে দিয়েছেন।

এমনও হতে পারে যে, আমি তোমাদের সাথে মিশে গিয়ে, তোমাদের মত কৃতান্তে সাঁতার কাটি। এমনও হতে পারে যে, তোমাদের সাথে আমি কৃতান্তে সাঁতার কেটে ব্রহ্মময়ী মাতা সর্বশ্রীর সম্মুখে গিয়ে, তোমাদেরকে ফেলে রেখে স্বার্থপরের মত স্বয়ং ডুবে যাই। আবার এমনও হতে পারে যে, নিজেও ডুবি আর তোমাদেরকেও ডোবার কথা বলে, তোমাদেরকেও ডোবার প্রেরণা প্রদান করি।

এবার বিচার করে দেখো, তিনি কি আমাকে কনো একটি মার্গে চলতে বাধ্য করলেন? তিনি কি তাঁর ইচ্ছা ব্যক্ত করলেন? … না, তিনি করলেন না। বরং আমাদের সম্মুখে তিনটি পথ খুলে দিলেন, আর বললেন, যেই মার্গে চলার ইচ্ছা হয়, সেই মার্গে চলো।

যদি আত্ম বা অহংকে ধারণ করে রাখতে ইচ্ছা হয়, তবে সাঁতার কাটো। যদি আত্ম বা অহংকে ডুবিয়ে দেবার ইচ্ছা হয়, আর তা করার জন্য এই আত্মদের সাথে মিশে যেতে হয়, তাও করতে পারো। আবার যদি মনে হয় যে সাঁতার কিছুতেই কাটবো না, অর্থাৎ আত্মকে কিছুতেই ভাসমান থাকতে দেবো না, ডুবিয়ে দেব তাকে, আর যারা তাকে নিয়ে ভাসমান থাকছে, তাদেরকেও ডুবে যাবার প্রেরণা দেব, তাও করতে পারো।

অর্থাৎ, তিনি নিজের কথা কখনো বলেনই না। সকল সময়ে আমাদেরকে আমাদের আত্ম কি বলছে, তার সাথে পরিচয় করাতে থাকেন, প্রকৃতির মাধ্যমে স্থান নির্বাচন করিয়ে, বা নিয়তির মাধ্যমে সময়ের সংগঠন স্থাপন করে। এবার আরো গভীর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দেখলে, কি দেখবে জানো? দেখবে যে, এই যে তিনি তিনটি মার্গ স্থাপন করে রাখলেন তোমার আমার সম্মুখে, তা তিনি করছেন আমাদেরই কর্মের সমর্থনে। কেমন দেখবে, দেখো তাহলে।

তুমি একটি কর্ম করেছ। কি কর্ম? তুমি নিজের মধ্যে এই ধারণা রেখে দিয়েছ যে, তুমি তোমার পুত্রকে একটি বিশেষ পেশায় প্রেরণ করবে। তাই তুমি তোমার পুত্রকে সেই পেশায় যাবার প্রেরণামূলক শব্দ বলতে সক্ষম হলে। তবে শব্দ তো স্বয়ং ব্রহ্মময়ী। তাহলে তোমার পুত্রের কাছে তো সেই পেশায় যাবার প্রেরণা মূলক শব্দ, স্বয়ং ব্রহ্মময়ীর কথন। তাহলে কি তিনি চান যে সেই পুত্র সেই পেশাতে যান! … আজ্ঞে না। এখানে রয়েছে, সেই পুত্রের পূর্বজন্মের কথা বা পূর্ব কর্মের কথা।

পূর্ব জন্মে বা পূর্ব কর্মে, সে হয় এই পেশার প্রতি আকৃষ্ট ছিল, নয় এই পেশার প্রতি হীন ভাব রাখতো। কিন্তু সেই পুত্রের এই হীন ভাব বা আকর্ষণ দুইই স্মরণ নেই। আর তাই তাঁর পিতার মাধ্যমে ব্রহ্মময়ী পুত্রকে সেই স্মৃতির আলোকে আলোকিত করে, তাঁকে সেই পেশায় প্রেরণ করলেন, আর সেই পেশায় যুক্ত হবার সাথে সাথে, পুত্র সেই পেশার গুনাগুণ যাচাই করে নেবার উপায় লাভ করে ফেলে।

কি হলো তাহলে এই সমস্ত কীর্তির মাধ্যমে? ব্রহ্মময়ী নিজে কিছু বললেন? না। তিনি কি নিজের কথা কিছু বললেন? না, তিনি নিজের কথা কিছুই বললেন না। পুত্রকে নিজের কর্মের, নিজের ভাবনা, নিজের ধারণার দিকেই তিনি প্রেরণ করে দিলেন। সত্য বলতে, তিনি এমনই করেন সর্বক্ষণ। আমাদের স্মৃতি আমাদের কাছে ফিরিয়ে ফিরিয়ে দেন, যাতে আমাদের ধারণা যা কিছু ছিল, সেই বিষয়ে আমরা স্বচ্ছতা লাভ করি।

হ্যাঁ, তিনি এটিই চান যে, আমরা আমাদের সমস্ত ভাবনা, সমস্ত ধারণা, সমস্ত কিছুর প্রতি স্বচ্ছ হই। যদি আমরা রীতিরেওয়াজকে গুরুত্ব প্রদান করি, তাহলে তিনি কালের সাহায্যে আমাদেরকে এমন পরিস্থিতিতে স্থাপন করে দেন, যেখানে দাঁড়িয়ে সেই রীতিরেওয়াজ আমাদেরকেই বিনষ্ট করে দেয়, আর আমরা অনুভব করে নিতে পারি যে, রীতিরেওয়াজ আদপে গুরুত্বপূর্ণ না আদপে তা নয়।

যদি আমরা কারুকে দাস, বা অনুগামী করে রাখার প্রয়াস করি, তাহলে আমাদেরকেও তিনি কারুর দাস করে রেখে দিয়ে দেখিয়ে দেন, দাস করে রাখার ভাবনা কতটা হীনভাব। যখন যখন, যেই যেই ভাবে আমরা কারুর স্বতন্ত্রতা ছিনিয়ে নেবার প্রয়াস করি, যখন যখন, যেই যেই ভাবে আমরা কারুর উপর কিছু নিয়ম কানুন ইত্যাদি চাপিয়ে দেবার প্রয়াস করি, সেই সেই সমস্ত কিছুকে তিনি আমাদের সম্মুখেই উপস্থিত করিয়ে দিয়ে আমাদের স্বতন্ত্রতা হনন করিয়ে, আমাদের উপর কিছু চাপিয়ে দিয়ে, সেই পরাধীন থাকার, সেই ভার বহন করার ভাবকে অনুভব করান।

আমরা সকলেই আত্মের দাস, আর তাই সকলেই আত্মের স্বভাব অনুসারেই পরাধীনতার বোধ ধারণ করে অবস্থান করি। তাঁর স্বভাব অনুসারে আমরা কারুর উপর কিছু বোঝা চাপিয়ে দেবার প্রয়াস করি। রীতিরেওয়াজ, আচার অনুষ্ঠান, নিয়ম কানুন দ্বারা সকলকে পরাধীন করে রাখার স্বভাব আত্মের, আর যেহেতু আমরাও আত্মের দাস, তাই আমরাও সেই একই কৃত্য করতে থাকি। আর আমাদের জননী, আমাদের ব্রহ্মময়ী কারুর না কারুর মুখ দিয়ে বিভিন্ন কথা বলে বলে, আমাদেরকে কখনো কারুর দাস করাচ্ছেন, কারুর উপর বোঝা চাপাচ্ছেন, বা কারুর দ্বারা আমাদেরকে পরাধীন করাচ্ছেন, আমাদের উপর কারুর বোঝা চাপাচ্ছেন।

আর যার মুখ দিয়ে পরাধীনতার বুলি আওরাচ্ছেন তিনি, যার মুখের শব্দ দ্বারা বোঝা চাপাচ্ছেন, বা নিয়ম কানুন, আচার অনুষ্ঠান, রীতি রেওয়াজ চাপাচ্ছেন, তাকে দিয়েই এই কথা বলাচ্ছেন কেন? কারণ সেই  ব্যক্তির অন্তরে আত্ম জাগ্রত ও চেতনা ঘুমন্ত, আর তাই আত্মের প্ররোচনায় তিনি দাস নির্মাণে রুচিশীল। আর যাকে সেই বাণী শ্রবণ করাচ্ছেন, তাকে কেন শ্রবণ করাচ্ছেন? কারণ তিনিও নিজের আত্মকে গরিমামণ্ডিত করার অভিলাষে ছটফট করছেন।

আবার একই কথন তিনি তাকেও শ্রবণ করাচ্ছেন, যিনি চেতনার আলোকে আলোকিত হবার জন্য ছটফট করছেন। আর যখনই তা করাচ্ছেন, তখন সেই ব্যক্তি যার মনোভাবের কারণে তাঁকে দিয়ে এই সমস্ত পরাধীনতার বুলি বলাচ্ছেন, তাকে আঘাত প্রদান করছেন সেই চেতনার আলোকে আলোকিত হবার জন্য উৎসাহী ব্যক্তি দ্বারা। আর এই ভাবে সেই পরাধীনতা প্রদায়ী প্রিয় ব্যক্তিকে সতর্ক করে দিচ্ছেন, তিনি যা করতে চলেছেন, সেই বিষয়ে।

অর্থাৎ বিচার করে দেখলে দেখবে যে, তিনি একটি কথাও নিজের কথা বলছেন না। উপরন্তু, আমাদের যেমন মানসিকতা, তেমন অনুসারে আমাদেরকে দিয়ে কথা বলাচ্ছেন, আর আমার সেই কথা শ্রবণের মানসিকতা যার, তাকে দিয়ে সেই কথা শ্রবণ করাচ্ছেন। এর মানে এই যে, এটি ধ্রুব সত্য যে, সমস্ত কথা তাঁরই কথা, কিন্তু এটিও সত্য যে একটি কথাও তাঁর কথা নয়, কারণ সমস্ত কথাই, আমাদের আত্ম ও চেতনার ভারসম্যের কথা।

যার অন্তরে আত্মের আধিপত্য অধিক, তাঁর মুখ দিয়ে আত্মের মহিমা কীর্তন চলছে পরাধীন করার প্রশিক্ষণ চলছে, আর যার অন্তরে চেতনার আধিপত্য অধিক, তাঁর মুখ দিয়ে স্বাধীন হবার প্রশিক্ষণ চলছে। আর অন্যদিকে যারা যারা এই আত্ম আর চেতনার মধ্যে কারুকে বেছে নিতে পারেন নি এখনো, তাঁদেরকে এই দুই প্রকার শব্দের সাহায্যে, কনো একটি পক্ষ নেবার প্রেরণাও প্রদান করা হচ্ছে।

কিন্তু একটি ক্ষেত্রেও, আমাদের জননী নিজের কথা বলেন না। সেটা কি খেয়াল করলে? তাঁর কথা আমরা কখন শুনবো তাহলে? তাঁর কথা শোনার জন্যই যে তাঁর এই সন্তানরা লালায়িত। কিন্তু তিনি তো কথাই বলেন না? অবিরাম কথা বলছেন, কারুর না কারুর মুখ দিয়ে, কিন্তু তাদের একটিও তাঁর কথা নয়। তাঁর কথা কখন শুনবো তাহলে?”

জয়া বললেন, “কিন্তু তাঁর কথা আমরা শুনবো কি করে? যদি তিনি নিজের কথা না বলেন?”

মীনাক্ষী হেসে বললেন, “নিজের মুখ দিয়ে নিঃসৃত কথা শ্রবণ করেই তাঁর কথা শুনতে পাওয়া যায় জয়া। তবে একটিই শর্ত, নিজের কথা বলো না। আমার ধারণা, আমার বিশ্বাস , আমার মনে হয়, আমার মনে হচ্ছে, আমার এমন লাগছে যে, আমার স্থির বিশ্বাস – এই সমস্ত কথার উচ্চারণ বন্ধ করে দিতে হয়। এই সমস্ত ভাবনাও ত্যাগ করতে হয়।

যতক্ষণ ‘আমি, আমার’ প্রাধান্য পেতে থাকে, ততক্ষণ আমিত্ব থাকে, আর যতক্ষণ আমিত্ব থাকে, ততক্ষণ আত্ম প্রখর হয়ে থাকে, আর যতক্ষণ আত্ম প্রখর হয়ে থাকে, ততক্ষণ চেতনা সুপ্ত হয়েই থাকে। ভালো করে অনুভব করার যা, তা হলো চেতনা হলেন স্বয়ং ব্রহ্মময়ী। নিয়তি বেশে তিনি নিজেই নির্ঘণ্ট নির্মাণ করেন, প্রকৃতি বেশে তিনি নিজেই স্থানমাহাত্ম নির্মাণ করেন, আর চেতনাবেশে তিনি নিজেই সেই সমস্ত কথা শ্রবণ করেন।

আর তিনি হলেন মা। মা সন্তানের উপর একটিই সময়ে জোর খাটান, আর তা হলো তার পরিচর্যার সময়ে, অর্থাৎ তাঁকে আহার করানোর সময়ে, তাঁকে নিদ্রা দেবার সময়ে, আর তাঁকে স্নানাদি কর্ম করে শুদ্ধ করার সময়ে। অন্য কনো ক্ষেত্রে, মা কখনো জোর খাটান না, জোর খাটানোর পূর্ণ অধিকার থাকলেও খাটান না।  পিতা জোর খাটান, কোন পেশায় যেতে হবে সেই নিয়ে, কোন বিদ্যালয়ে যেতে হবে সেই নিয়ে, কোন চাকুরী করতে হবে সেই নিয়ে, কাকে বিবাহ করতে হবে সেই নিয়ে। মাতাও করতে পারেন, তাঁরও অধিকার ছেত্রের মধ্যেই তা পরে, কিন্তু এক আদর্শ মাতা কখনো তা করেন না।

আর জগন্মাতার থেকে আদর্শ মাতা আর কেউ দ্বিতীয় হয়না, কারণ প্রকৃত অর্থে তিনিই মা, বাকি সকলেই মায়ের ভূমিকায় স্থাপিত হয়ে, মাতৃত্বের অভ্যাসে রত। আর তাই চেতনা কখনো জোর খাটাবে না যে তাঁর কথা শুনতে হবে, বা মানতে হবে। যদি সন্তান আত্মের কথা শুনতেই অধিক রুচি রাখে, তাহলে মা তাঁর সন্তানকে সেই পথ থেকে কখনোই অপসারিত করবেন না, এটিই মায়ের ধর্ম, আর তিনি তাঁর ধর্ম শ্রেষ্ঠ ভাবে জানেন।

অর্থাৎ, কনো কারণে যদি তোমরা বা আমি, বা যে কেউ আত্মের দাসত্ব করার রুচি রাখি, আর আমিত্ব স্থাপন করি, অর্থাৎ নিজের কর্তা ভাবকে জাগ্রত রেখে, আমি করবো, আমি করে দেব, আমি মানি, আমি মানিনা, আমি মনে করি, আমি মনে করিনা, এই সমূহের মধ্যে অবস্থান করা শুরু করি, চেতনা একটি কথাও বলবেনা, আর যদি চেতনা না বলে, তাহলে আমরাও মায়ের কথা শুনতেই পাইনা, কারণ তিনি তাঁর নিজের কথা তো চেতনার মধ্যে দিয়েই বলেন।

আত্মের মাধ্যমে তিনি তো কেবলই আমাদের কর্ম অনুসারে কর্মফলের সম্মুখীন করেন, আমাদের ধারণা অনুসারে, আমাদের মনোভাব অনুসারে, আমাদের সম্মুখে আত্মের কথন রাখেন, নিজের কথা তো তিনি কখনো বলেনই না। যদি কখনো আমরা আত্মের, আমিত্বের, কর্তা ভাবের সংসর্গ ত্যাগ করে, সেই কথা বলতে শুরু করি, যেখানে কনো ভাবে ‘আমার’ বা ‘আমি’ নেই, কেবলই বিশ্বসংসার আছে, কেবলই নিরপেক্ষতা আছে, তখনই আমরা তাঁর শব্দ উচ্চারণ করি, কারণ তা হয় চেতনার কথা, আত্মের কথা নয়।

তোমরা তো কৃতান্তিক, তাই না জয়া, বিজয়া, তন্ত্রসন্তানরা? তোমরাই বলো, তোমাদেরকে মাতা সর্বশ্রী কখনো এটি বলতে শিখিয়েছেন যে, আমার ধর্মের অনুসারে অমুক, আমার ধর্মের অনুসারে তমুক! না তো! কখনো শেখান নি। তিনি শিখিয়েছেন সত্য ব্যক্ত করার কথা। ধরণীর সত্য বলতে শিখিয়েছেন, সৃষ্টির সত্য বলতে শিখিয়েছেন। নিত্য-অনিত্যের সত্য বলতে শিখিয়েছেন। আলো- অন্ধকারের সত্য বলতে শিখিয়েছেন। যদি সেই সত্য বলার ক্ষেত্রে, কৃতান্তিক ধর্মকে সংস্করণও করতে হয়, তাও সঠিক, কিন্তু সত্য যা নয়, নিরপেক্ষ যা নয়, তা বলা থেকে বিরত থাকতে শিখিয়েছেন। তাই না!”

বিজয়া মাথা নেড়ে বললেন, “সঠিক কথা। তিনি শিখিয়েছেন আমাদেরকে যে, সত্যের অনুসন্ধান করো, আর সত্যের উচ্চারণ করো। তা হতে পারে অপ্রিয়, কিন্তু তাও তা-ই বলো। হতে পারে তা তোমার নিজের অস্তিত্বকেও জিজ্ঞাসাচিহ্নে চিহ্নিত করে দেয়, কিন্তু তাও সত্যই অনুসন্ধান করো, আর সত্যই ধারণ করো। আমার কি লাগছে, আমার কি মনে হচ্ছে, আমার কি ইচ্ছা হচ্ছে, আমার কি ধারণা জন্মাচ্ছে, এগুলির কনো দাম নেই। এক ও একমাত্র সত্যই মূল্যবান, বাকি না তো ধর্ম, না তো বর্ণ, না তো সম্প্রদায়, না তো পূজা, না তো রীতি রেওয়াজ, না নিয়ম কানুন, না কনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ, না কনো কিছু মূল্যবান।

আচ্ছা দিদি, তুমি আমাদের সাথে তো যাবেনা, তাই না! … তোমার তো নিজের পরিবার আছে! তুমি তো নিজের পরিবারের কাছে ফিরে যাবে, তাই না! … তোমার ছোটোবৌদি তোমাকে মায়ের ন্যায় স্নেহ করেন, তাই না!”

পৃষ্ঠা: 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28