২৪। নরপ্রজ্ঞা অধ্যায়
বিজয়া বললেন, “আচ্ছা মা, কন্দমদের থেকে মনুষ্য আসার পর কি কন্দম প্রজাতি আর রইল, নাকি অবলুপ্ত হয়ে গেল?”
মীনাক্ষী পুনরায় প্রশ্ন করলো, “মানব কি ভাবে অগ্রসর হয়েছিল, কি ভাবে তারা শ্রেষ্ঠ যোনি, কি সামর্থ্য তাদের? তারা সমাজ কেমন ভাবে গঠন করে চেতনাকে পূর্ণতা প্রদান করেছিল? আর কন্দমরা কি ভাবে তাদেরকে বশীকরণ করে আজকের এই বিনাশের মুখে তাদেরকে নিয়ে এসেছে? সেই কথা আমাদের বলো মা। আমাদের সকলের জানা উচিত সেই কথা, যাতে পুনরায় আর কন্দমরা আমাদেরকে বশীকরণ করতে না পারে। বিস্তারে বলো মা, মানবের গঠন সম্বন্ধে, মানবের মানসিকতা সম্বন্ধে, মানবের বিস্তার সম্বন্ধে, আর কন্দমরা কি ভাবে মানবকে বশীকরণ করে নিলো সেই সম্বন্ধে।
বিস্তারে বলো মা, মানবের কর্তব্য কি, ধর্ম কি, সেই ব্যাপারে। কি আমাদের উদ্দেশ্য হবে? কি আমাদের লক্ষ্য আর উপলক্ষ হবে, সেই ব্যাপারে বিস্তারে বলো মা”।
মাতা সর্বাম্বা হেসে বললেন, “অবশ্যই বলবো মা সেই কথা, তবে তার সাথে সাথে তোরাও প্রস্তুত হয়ে যা, যাতে তোরা এবার মানবযোনিকে শ্রেষ্ঠত্বের পথে চালিত করতে পারিস। … কল্পনা ও মেধার মধ্যে ভেদ করতে শেখ এবার, বিচার আর চিন্তার মধ্যে বিভেদ করতে শেখ, বিবেক ও ইচ্ছার মধ্যে পার্থক্য করতে শেখ, নাহলে এবারেও কিছু কন্দম আত্মরক্ষা করে নিয়ে, আবার করে তোদেরকে বশীকরণ করে নিতে শুরু করবে।
এবার আর অন্ধবিশ্বাসের বিস্তার করিস না, যুক্তিদ্বারা বিচার করতে প্রস্তুত হয়ে যা। এবার আর জ্ঞানশূন্য রীতিকে ধারণ করিস না, এবার আর ভণ্ডামিকে ভক্তি বলিস না। প্রয়োজনে সকাম ভক্তিকেই ভণ্ডামি আখ্যা দিয়ে দে। প্রয়োজনে সকাম স্নেহকে দুরাচার আখ্যা দিয়ে দে। প্রয়োজনে আসক্তিকে আসুরিকতার নাম দিয়ে দে, কিন্তু এবার আর আসক্তি আর কামকে প্রেম নাম দিতে দিসনা। প্রয়োজনে আত্মসুখলাভের জন্য আসক্ত ভাবকে দানবীয় আচরণ নাম দিয়ে দে সমাজ থেকে তার নিরাময় করার জন্য, কিন্তু আর তাকে মমতা নাম ধারণ করতে দিসনা।
প্রয়োজনে ইচ্ছাপূর্তির বিশ্বাসকে অপরাধ বলে ঘোষণা করে দে, কিন্তু আর সকাম বিশ্বাসকে বিশ্বাস নাম ধারণ করতে দিস না। প্রয়োজনে ধনলাভের নেশাকে সমাজে দণ্ডনীয় অপরাধের তুলায় স্থাপন করে দে, কিন্তু আর ধনের নেশাকে বিস্তৃত হতে দিসনা। প্রয়োজনে যন্ত্রের নির্মাণকেই, প্রযুক্তির বিস্তারকেই মানবযোনির বিনাশের, আগামী প্রলয়ের একমাত্র কারণ রূপে ঘোষণা করে দে, কিন্তু আর প্রযুক্তির কাছে বশ্যতা স্বীকার করিস না।
তবে কি বলতো মা, মনুষ্য যোনির সঠিক, বেঠিক, আর দেহপ্রক্রিয়া জানতে হলে, অবশ্যই কন্দমদের সাথে মনুষ্যের সম্পর্কের কথা জানতে হয়, যা বিজিয়া প্রশ্ন করলো। তাই সেই ইতিহাসের কথা থেকেই শুরু করবো, আর তার থেকেই তোর সমস্ত প্রশ্নের উত্তর লাভ করে ফেলবি”।
২৪.১। প্রাগপ্রজ্ঞা পর্ব
মানুষের মধ্যে পুরুষের জন্ম হয় ভালুর থেকে, আর তাই পুরুষরা হয় পূর্ণলোমাবৃত, আর স্ত্রীদের জন্ম হয় গরিলার থেকে, আর তাই স্ত্রীরা হয় স্বল্পলোমাবৃত। ভালু ও গরিলা উভয়েই উভোভোজী, আর তাই মানুষ, কি পুরুষ, কি স্ত্রী, সকলেই হলেন উভোভোজী। আর গাত্রবর্ণ মানুষের হয় কয়লাবর্ণের, হরিদ্রা বর্ণের, তাম্রবর্ণা, ইস্পাতবর্ণা, স্বর্ণবর্ণা, কাষ্ঠবর্ণা এবং বাদামবর্ণা।
এঁদের মধ্যে কয়লাবর্ণের তারা হন, যাদের দেহে কয়লাভাব অধিক। এঁদের বিস্তার অধিক হয় আফ্রিকার অঞ্চলে, আর দ্রাবিড়দের মধ্যে। হরিদ্রাবর্ণা হয় তারা, যাদের দেহে তৈলপদার্থ অধিক হয়। এঁদের আধিক্য অস্ট্রেলীয় অঞ্চলে অধিক বিস্তৃতি লাভ করে, আর বিস্তার লাভ করে চীন অঞ্চলে। তাম্রবর্ণা হয় এই বঙ্গদেশে সর্বাধিক, এঁদের দেহে মৃত্তিকার পূর্ণতা অধিক থাকে। কাষ্ঠবর্ণা হয় ইউরোপীয় অঞ্চলে, যা একসময়ে সম্পূর্ণ ভাবে বৃক্ষে পরিপূর্ণ থাকতো। বাদামবর্ণা হয় রাশিয়া অঞ্চলে, যেখানে ধাতুর বিস্তার অতিরিক্ত ভাবে বেশি। আর ইস্পাতবর্ণা অর্থাৎ যেমনটা আমার গাত্রবর্ণ এবং স্বর্ণবর্ণা অর্থাৎ তোমাদের প্রভুর গাত্রবর্ণ, তা আমার দ্বারা পরিচালিত। চেতনার বিস্তারের রং এটি, তাই যার মধ্যে চেতনার বিস্তার হবে, এমন আমি নিশ্চয় করে নি, তাদের মধ্যে এই গাত্রবর্ণ প্রকাশ করি।
কন্দমদের নিবাস করা যেই অঞ্চলকে আমি নষ্ট করিনি, সেই অঞ্চল হলো আফ্রিকার অঞ্চল। এঁদের গাত্র বর্ণ ছিল রক্তিম ও পিতলবর্ণা। যেই কয়জন এঁদের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিল নিজেদের, তাদের মধ্যে পিতলবর্ণারা নিজেদের আফ্রিকার অঞ্চলে লুকিয়ে রেখেছিল, আর রক্তিমবর্ণারা নিজেদেরকে বর্তমানের আফগানিস্তান অঞ্চলে লুকিয়ে রেখেছিল।
লুকিয়ে লুকিয়ে প্রায় দশ হাজার বৎসর এঁরা জীবনযাপন করে, কিন্তু এঁদের স্ত্রীদের জনন শক্তি প্রায় নিঃশেষ হয়ে যাবার জন্য, এঁদের বিস্তার কিছুতেই হচ্ছিল না। তাই কন্দম পুনরায় ধরিত্রীকে রাজ করার মত অবস্থাতে কিছুতেই উন্নত হতে পারছিলনা, কারণ পৃথিবীতে যাদের বিস্তার হচ্ছিল সেই কালে, তারা হলেন মানুষ।
দশ হাজার বৎসর হয়ে যাবার পর যখন মানুষ ক্রমশ বাড়তে থাকে সংখ্যায়, তখন কন্দম নতুন করে আশা দেখে যে, যদি তাঁরা এই মানুষের স্ত্রীদের সাথে জননক্রিয়া সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়, তাহলে তারা নিজেদের বংশবিস্তার করতে সক্ষম হবে। মানব সমানেই চেতনাপথে চলতে থাকছিল, আর তাই সেই পথকে প্রসারিত করতে, মানুষের জন্মের প্রায় ৫ হাজার সন হয়ে যেতে, মৃষু মনুষ্য যোনিতে জন্মলাভ করে, বোধি লাভ করে, প্রথম বুদ্ধ হয়ে বৌদ্ধ ধর্মের বিস্তার করে।
মানুষ বরাবরই সত্যের সন্ধান করে চলেছিল, কিন্তু তারা দিশা পাচ্ছিল না। কি ভাবে তা জানবে, তাও বুঝতে পারছিলনা। তাই আমাতে লয়প্রাপ্ত মৃষু এঁদের মার্গদর্শক রূপে অবতরণ করে, এঁদেরকে মার্গ প্রদান করে। মার্গ লাভ করে, এঁরা একে একে উন্নত হওয়া শুরু করে, এবং যতটা মার্গ মৃষু দেখায়, তারপর থেকে মার্গ সন্ধান করা শুরু করে। কিছুটা সফল হলেও, এগিয়ে যেতে না পারলে, মৃষু পুনরায় ৫শত বর্ষ পরে দেহ ধারণ করে আবারও মার্গ দর্শন প্রদান করা এঁদেরকে।
এমন ভাবে প্রায় ৪বার ৫শত বৎসরের ভেদে মৃষু প্রকট হয়ে বুদ্ধদের মার্গদর্শন করতে থাকলে, মাত্র দুই হাজার বৎসরের মধ্যে অনেক মনুষ্য উন্নত হয়ে উঠে সপ্তলোকের সন্ধান লাভ করে, সপ্তলোকের পথে চলতে শুরু করে দেয়।
কিন্তু এই পথ চলার কালে বিড়ম্বনা দেখা দেয় এঁদের মধ্যে খাদ্যস্বভাব নিয়ে। রক্তক্ষরণ মানেই প্রাণনাশ, আর রক্তক্ষরণ না হলে তা প্রাণ নাশ নয়, এই একটি বিভাজন নির্মাণ হয়, যেখানে বৌদ্ধরা উদ্ভিদদেরকেও প্রাণী রূপে সনাক্ত করার ফলে, তারা এই প্রস্তাবকে স্বীকৃতি প্রদান করেনা।
এই বিভাজন তীব্র হয়ে উঠতে, মৃষু পুনরায় বুদ্ধদের মধ্যে দেহধারণ করে, প্রাণ ও প্রাণীর ব্যখ্যা প্রদান করে। সেই মার্গকে ধারণ করে বৌদ্ধরা আরো এগিয়ে চলে, কিন্তু সেই বিভাজন যারা রক্তক্ষরণের বিপক্ষে ছিলেন, তারা মার্গ থেকে অপসারিত হয়ে যায়, এবং তারা একটি ভিন্ন ধর্মের নির্মাণ করে, যাকে জনের জন্য ধর্ম বলে তার নাম রাখে জৈন।
এরপর এঁদেরকে পরবর্তী ২০ হাজার বছর ব্যাপী উন্নত করে তোলার জন্য মৃষু প্রতি ১ হাজার বছরে একবার বৌদ্ধদের মধ্যে, এবং প্রতি এক হাজার বছরে একবার করে জৈনদের মধ্যে দেহধারণ করে করে মার্গ দর্শন প্রদান করতে থাকলে, ক্রমশ এঁরা সমস্ত সপ্তলোককে উদ্ধার করার চেতনা লাভ করে নিজেদের মেধাকে চেতনার দ্বারা উন্মোচিত করা শুরু করে।
একদিকে যখন চীন ও জম্বুদেশে এই ক্রিয়া চলছিল, তখন অন্যদিকে কন্দমরা বৈপরিত্যধারন করে, নিজেদের বিস্তারের প্রচেষ্টা করে চলেছিল। এঁরা ক্রমশ আফ্রিকার মনুষ্যদের নিজেদের দাসে পরিণত করে, নিজেদের এঁদের রাজা রাণী রূপে আত্মপ্রকাশ করা শুরু করে। মনুষ্যকে অত্যাচার করে করে, মনুষ্যকে চেতনার পথে চলতে না দিয়ে, তাদেরকে কায়িক পরিশ্রমের দিকে চালনা করে, এবং কৃতদাস করে রেখে দেয় মনুষ্যকে।
কিন্তু এমন করলেও, সেখানের স্ত্রীপুরুষরা কিছুতেই এই কয়লাবর্ণের মানুষদের সাথে সঙ্গম করতে রাজি না হবার কারণে, মাত্র কিছু হাজার বৎসরের মধ্যেই সেই কন্দমরা প্রায় অবলুপ্তির পথে অগ্রসর হলে, কিছু কন্দম সেখান থেকে সরে আসে, আরব্যদেশের দিকে। সেখানের মনুষ্যরা পীতবর্ণের হবার কারণে, তাঁদের সাথে যৌনসঙ্গমে তারা রাজি হয়, এবং ক্রমে কন্দমরা নিজেদের বংশবিস্তারকে এই মনুষ্যদের মাধ্যমে ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
উজ্জ্বল ও তৈলাক্ত পীতবর্ণের মনুষ্য আসে জগতে, এই পিতলবর্ণের কন্দমদের ও হরিদ্রাবর্ণের আরব্যদের সঙ্গমের ফলে। কিন্তু এই মনুষ্যদের মধ্যে সম্পূর্ণ ভাবে সপ্তলোকের অবস্থান সম্ভব হয়না, কারণ কন্দমদের মধ্যে সপ্তলোকের বিস্তার হয়নি। আর তাই এরা স্বাভাবিক ভাবে চেতনার প্রতি আকৃষ্ট হলেন না, আর ক্রমে তাই বর্বর প্রজাতি হয়ে উঠতে শুরু করেন।
এঁদেরই মধ্যে একটি গোষ্ঠী আরো উত্তরে, বর্তমানে যাকে পালেস্তিন বলা হয়, সেখানে যাত্রা করে এবং সেখানে বসবাস করা শুরু করে, যেখানে পৌঁছে তাঁরা ১০ম বৌদ্ধের, অর্থাৎ বৌদ্ধদের মধ্যে ১০ম মৃষু অবতারের দলবলের সঙ্গলাভ করে চেতনার ভান করা শুরু করে। সেই চেতনার ভান লাভ করে, মৃষু এবার এদের মধ্যে একজন, নাম আব্রাম হয়ে সেখানের সমস্ত মানুষদের চেতনার পথে চালিত করতে তৎপর হলেন।
আব্রামের থেকে যেই ধর্মের বিস্তার হয় সেই অঞ্চলে তার নাম হয় ইসলাম অর্থাৎ শান্তি, কারণ তারা ধারণা করে যে শান্তিই সেই মানবিক সামর্থ্য, যা ধারণ করে মনুষ্য সত্যের সন্ধান লাভ করতে সক্ষম, কারণ এই শান্তি তাঁদের সমস্ত অহংবোধকে স্তব্ধ করে দিতে সক্ষম, এবং তাই চেতনার বিকাশ হওয়া সম্ভব, অর্থাৎ মধ্যা কথা এই যে চেতনার প্রকাশই সত্যের সন্ধান প্রদান করতে সক্ষম আর একমাত্র শান্তিই সেই চেতনার প্রকাশকে সক্ষম করে তোলে।
তাদের এই ধারণা একটিবার মৃষু সেখানে অবতরণ করতে আসেনি। একে একে প্রায় ১৫ বার এক হাজার বৎসরের অন্তরে সেখানে মৃষু জন্ম নিতে, তবেই তাঁদের মধ্যে এই বোধ বিস্তার লাভ করে, যার জন্ম আব্রাম রূপে মৃষুর অবতরণের কাল থেকে বিস্তৃত হয়েছিল।
এই ভাবে, মানব প্রায় যখন ২০ হাজার বৎসর এই ধরিত্রীতে কাটিয়ে দেয়, তার মধ্যে মৃষু বুদ্ধ ধর্মে ২০টি বুদ্ধ হয়ে, জৈন ধর্মে ১৮টি জৈন হয়ে, এবং ইসলাম ধর্মে ১৫টি নবী হয়ে অবতরণ করে করে, প্রায় ২০ হাজার বৌদ্ধকে, ১৫ হাজার জৈনকে, এবং ১৮ হাজার ইসলামকে ধর্মনিষ্ঠ করে তুলে, তাদেরকে সপ্তলোকের যাত্রাতে মুখরিত করে তোলে।
কিন্তু সেই একই সময়কালে, একদিকে যেখানে আরব্যদেশে কন্দমদের পীতলবর্ণের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে, হরিদ্রাবর্ণের আরব্যরা মনুষ্যযোনির মধ্যে কন্দমদের স্থান দিয়ে দিয়ে পীতবর্ণের বর্বর প্রজাতির জন্ম দিয়ে ভ্রান্তি করে, অন্যদিকে তেমন এঁদেরই এক গোষ্ঠী যেই পালিস্তিনে অবস্থান করে নবীদের মার্গদর্শনকে ধারণ করে চলছিল, তারা এক মহাভ্রান্তি করে ফেলে।
যেই রক্তবর্ণের কন্দমরা আফগান অঞ্চলে নিবাস করতো, তারা যখন নিজেদের বংশরক্ষা করতে ব্যকুল হয়ে উঠেছিল, কারণ তাদের স্ত্রীরা প্রায় সকলে মৃত হয়ে গেছিল, সেখানে এঁদের এই রক্তিম দেহের প্রতি কামাকৃষ্ট হয়ে পড়লো ইসলামের স্ত্রীরা আর তাই এঁদের ঔরসকে নিজেদের গর্ভে স্থান দিয়ে, আরো এক মনুষ্যজাতির নির্মাণ করলো, যারা আধারক্তিমবর্ণের।
এঁদের মধ্যেও সপ্তলোক সৃষ্ট হতে পারলো না, কিন্তু যা সৃষ্ট হলো, তা হলো ভয়ানক জটিলতা এবং অহংকার, বা এককথায় বলতে হলে, ভয়ঙ্কর আত্মবোধ। ধীরে ধীরে, এঁরা বিভাজন শুরু করা শুরু করে দিলো আব্রামকে নিয়ে, এবং দাবি করা শুরু করলো যে আব্রাম তাদের অধিনায়ক, বাকি হরিদ্রাবর্ণের মনুষ্যদের নয়। আর এমন বলে, ইসলাম ধর্মকে কলুষিত করা শুরু করলো, এবং নিজেদেরকে ইহুদি নামে আখ্যা দিতে থাকলো।
শুরু হলো ইসলাম ও ইহুদির মধ্যে সংগ্রাম। খণ্ডিত হয়ে গেল ইসলামরা। তাদের কেউ কেউ ইহুদিদের দাসত্ব মেনে নেওয়া শুরু করে দিলো, আর বাকিরা ইহুদিদের মনবিকতার শত্রুরূপে চিহ্নিত করে পারশ্য অঞ্চলে পলায়ন করা শুরু করলো। সেই কালে ১৬তম নবীরূপে মৃষুর আগমন ঘটে, এবং মৃষুর আগমনের ফলে, যারা কট্টর ভাবে আত্মবোধে মলিন হয়ে গিয়ে, আধা মনুষ্য এবং আধা পশুর মূর্তি ধারণ করা তার পূজা করা শুরু করলো, তাদের থেকে মুক্ত হওয়া শুরু করে, নিরাকারের আরাধনা শুরু করলো।
সংঘাত লাগলো, এই মূর্তিপূজন করা আধারক্তিম মনুষ্য আর সেই নিরাকার পূজারিদের মধ্যে। আর সেই সংঘাতের দুটি ফল হলো। একটি এই হলো যে, কিছু ইহুদি সাকারপূজা ত্যাগ করে সমস্ত পেলেস্তিন অধিকার করে নিয়ে ইসলামদের একঘরে করে দিলো, আর বাকি ইহুদিরা মূর্তিপূজা ত্যাগ না করে, পেলেস্তিন ত্যাগ করে আফগান রাজ্য ত্যাগ করে, সিন্ধুদেশে, অর্থাৎ যেখানে সিন্ধু নদী বইতো, সেই এলাকায় চলে এলো।
এঁরা নিজেদের আর ইহুদি বললো না, নিজেদের পরিচয় লুকাতে। বরং এঁরা নিজেদেরকে আর্য বলা শুরু করলো, অর্থাৎ মিথ্যা প্রচার করা শুরু করলো যে, তারা হলো আদিম জাতি যা হলো আর্য শব্দের অর্থ, আবার বলতে গেলে, এঁরা ধ্রুব সত্য বলল, কারণ মনুষ্যের রচনার আগে কন্দমরা বিরাজ করতো, আর এঁরা কন্দমদেরই বংশধর, তাই এঁরা আদিম জাতিই।
সিন্ধুদেশে স্থিত হয়েও এঁরা বিস্তার করতে পারলো না, কারণ সেখানে ২৫বার ২৫টি বুদ্ধের বেশে, ২০টি তীর্থঙ্কর বেশে জম্বুদেশকে চেতনার পূজারি করে রেখে দিয়েছিল। তাই এঁদেরকে মিথ্যার আশ্রয় নিতেই হয়, নিজেদের বিস্তার করার জন্য।
এঁরা কন্দমদের যুক্তিবিদ্যা, যাকে তারা কেবল ধারণ করে, তার পূজা করতো, তাকে লিখিত আকারে আনা শুরু করলো, কারণ তারা দেখে যে, বৌদ্ধদের লিখিত ত্রিপিটক, ইসলামদের লিখিত কোরানের সম্মুখে তাদেরকে যদি টিকে থাকতে হয়, তাহলে তাদেরকেও কিছু লিখিত প্রকাশ সম্মুখে রাখতে হবে। আর তেমন বিচার করে, এঁরা নিজেদের ভাবাদর্শকে বেদ আকারে স্থাপিত করলো, এবং সেই বেদের প্রকাশ রূপে বিবিধ পুরাণ যেমন ইন্দ্রপুরাণ, সূর্যপুরাণ, বরুণপুরাণ, বায়ুপুরাণ, অগ্নিপুরাণের রচনা করে, নিজেদেরকে আদি ও সনাতন রূপে প্রচার করে।
যদি সমস্ত যোনির বিচার করা হয়, তাহলে এঁদের প্রচার মিথ্যা নয় যে এঁরা সনাতনী, কারণ কন্দমরাই প্রথম ধর্মের রচনা করেছিল, আর সেই ধর্মের নামছিল পরমাত্ম ধর্ম, যা পরম আত্ম, অর্থাৎ আমিত্বের কথা বলে। কিন্তু হ্যাঁ মনুষ্য সমাজে তারা যদি নিজেদের সনাতনী বলে, তাহলে তা হলো মিথ্যাচার, কারণ মনুষ্যের মধ্যে প্রথম ধর্মের বিস্তার করেন মৃষু স্বয়ং, আর সেই ধর্মের নাম হলো বৌদ্ধ ধর্ম।
মনুধ্য হলো সেই যোনি যার মধ্যে পূর্ণ সপ্তলোকের বিস্তার করেছিলাম আমি। তাই মনুষ্যের রচিত ধর্মই যথার্থ, আর তা চেতনার বিকাশ ঘটিয়ে সপ্তলোকের যাত্রা করানোর জন্যই স্থাপিত। অন্যদিকে কন্দমদের রচিত ধর্ম যথাযথ নয়, কারণ কন্দমদের মধ্যে সপ্তলোকের বিস্তারই সম্পূর্ণ নয়। আর তাদের ধর্মে তাই সপ্তলোকের যাত্রার কথা থাকেনা, থাকে ষড়লোক যাত্রার কথা, অর্থাৎ আজ্ঞা পর্যন্ত যাত্রার কথা, আর সেই যাত্রা চেতনা করেনা, করে আত্ম, আর তাই তাদের ধর্ম সনাতন হলেও অসমাপ্ত।
কিন্তু এতশত বিচার না করেই, কেবলই আকর্ষণীয় গাত্রবর্ণ দেখে দেখে, এঁদের প্রতি আকর্ষিত হতে শুরু করে দ্রাবিড়রা, এবং সেই সুত্রে, আর্যরা মধ্য জম্বুদেশে অবস্থান করার সুযোগ পেয়ে যায়।
বৌদ্ধদের ও জৈনদের সঠিক পথে চালনা করার জন্য, মৃষু আরো বেশ কয়েকবার জন্মগ্রহণ করেন, আর তাই বুদ্ধের সংখ্যা হয়ে যায় ২৭, এবং তীর্থঙ্করের সংখ্যা হয়ত ২২। কিন্তু আর্যদের আগ্রাসনের ধারা ছিল কন্দমদের মত, আসুরিক তথা দানবিক। অর্থাৎ, এঁরা বিধান নির্মাণ করে করে, অন্ধবিশ্বাসী করে তোলে সকলকে। নিজেদেরকে ঈশ্বর বলা শুরু করে, এবং পাপপুণ্য, স্বর্গনরক, ইত্যাদি রূপ রম্যরচনা নির্মাণ করে করে, সকল মানুষকে ইহলোক ও পরলোকের ভয় দেখিয়ে দেখিয়ে, নিজেদের বিধানকে তাদের উপর সঁপে দেয়, এবং তাদেরকে বশীকরণ করা শুরু করে দেয়, রীতিরেওয়াজ, আচারঅনুষ্ঠান, ব্রততপস্যার নাম করে।
মানুষ জ্বরার কারণে চিন্তিত থাকে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকে। সেই সুযোগ নিয়ে, ব্রত ও রীতির নাম করে করে, এঁদেরকে মিথ্যা বোঝাতে থাকে যে, সেই সকল ব্রত, রীতি, রেওয়াজ, আচার অনুষ্ঠান পালন করলে তবেই সে ও তার পরিবার শান্তিতে থাকবে, আর সেই সমস্ত রীতিরেওয়াজকে মাধ্যম করে দক্ষিণারূপে, আর্যরা সমস্ত মানুষের থেকে সমস্ত কিছু লুণ্ঠন করা শুরু করে, এবং সেই ভাবে এঁদেরকে দাস বানিয়ে রাখে।
অন্যদিকে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চিন্তাগ্রস্ত মানুষের কাছে প্রকৃতিকে তাদের শত্রু প্রমাণ করে, আত্মকেই ঈশ্বররূপে স্থাপন করে, সমস্ত জম্বুদেশে আত্মের পূজার প্রচলন শুরু করে দেয়, এবং মনুষ্যদের মধ্যে সপ্তলোকের পথে যাত্রা করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও, তাদেরকে সেই যাত্রা থেকে বিচ্ছিন্ন করে তুলে, মনুষ্যজাতিকে একপ্রকার নিজের উদ্দেশ্যেলাভের থেকে অপসারিত করে দিয়ে, তাদের ধ্বংস সুনিশ্চিত করা শুরু করে।
অন্যদিকে, এই ক্রিয়া কেবলই যে জম্বুদেশে করে চলেছিল আর্যরা তেমন মোটেই নয়। এই ক্রিয়ার আরো এক ধারা তারা চালাচ্ছিল ইউরোপীয় অঞ্চলে, আর সেখানেও অর্ধ মানব অর্ধ পশুর মূর্তি নির্মাণ করে করে, আরাধনা করা শুরু করে, এবং ধীরে ধীরে সেখানের মনুষ্যদের নিজেদের সুন্দরদেহ আকৃতি দ্বারা আকর্ষিত করে করে, তাদের সাথে সঙ্গম করে করে, প্রায় সম্পূর্ণ ভাবেই সেখানে কন্দম প্রজাতিকে স্থাপিত করে দেয়।
অর্থাৎ যখন প্রাগঐতিহাসিক কাল সমাপ্ত হয়, তখন মনুষ্য প্রায় ২৫ হাজার বৎসর অতিক্রম করে ফেলেছে। বৌদ্ধ, জৈন ও ইসলাম মনুষ্যকে চেতনার পথে চালিত করা সত্ত্বেও, কেবলমাত্র ভৌতিক রূপের প্রতি আকর্ষণের কারণে, মনুষ্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে কন্দম ও কন্দমদের দ্বারা উৎপত্তি করা পীতবর্ণের এবং অর্ধরক্তিমবর্ণের মনুষ্যদের সাথে সঙ্গম করে করে আর্যশ্রেণীর জন্ম দেয়। আর সেই আর্যশ্রেণী প্রায় জম্বুদেশকে বেদের আধারে বশীকরণ করে নিয়ে, ব্রাহ্মণত্বের বাণে বিদ্ধ করে দেয়। তো তারাই আবার রোমান হয়ে উঠে, প্রায় সম্পূর্ণ ভাবেই মনুষ্যযোনিকে বিনষ্ট করে দিয়ে কন্দমপ্রজাতির পুনরজাগরন ঘটায় ইউরোপীয় অঞ্চলে।
এমনই সময়ে, মৃষু পুনরায় জন্ম নেয় বৌদ্ধদের মধ্যে, এবং জৈনদের মধ্যে তিনি গৌতম ও মহাবীর হয়ে। অতঃপরে আসেন জম্বুদেশে, আর এবার ৩২ কলারূপ ধারণ করে জন্ম নেয়। সে তন্ত্রের রচনা করে, বৈদিকদের আগ্রাসনকে প্রতিহত করে তো তাঁরই অংশরূপ উপনিষদ স্থাপন করে সেই আগ্রাসনকে বঙ্গীয় উপকুলে অর্থাৎ আদি জম্বুদেশে সম্পূর্ণ ভাবে স্তব্ধ করে দেয়। আর শেষে আসেন পালেস্তিনে পরস্পর দুইদুইবার, একবার ঈশা হয়ে, আর অন্যবার মহম্মদ হয়ে।
আর তেমন করে, বঙ্গীয় দেশকে তথা আরব্যদেশকে আর্যদের থেকে মুক্ত রাখার প্রয়াস করলেও, বঙ্গীয় দেশকে মুক্ত করতে পারলেন, কিন্তু বাকি ধরিত্রীকে কন্দমরা অর্থাৎ মনুষ্যদের মধ্যে যারা আর্য নামে প্রসিদ্ধ, তারা সম্পূর্ণ ভাবেই প্রায় কুক্ষিগত করে নেয়, যাদের মধ্যে ইউরোপীয় অঞ্চলের অধিকাংশই, কেবল জার্মানি ও ব্রিটেনের কিছু অংশ ব্যতি রেখে প্রায় সবটাই মনুষ্যবিহীন অঞ্চল হয়ে যায়, তো জম্বুদেশের উত্তরখণ্ড ও মধ্যখণ্ডের প্রায় ৮০ শতাংশ জনসমাজই মনুষ্যবিহীন হয়ে ওঠে, তো বাকি জম্বুতে যারা শুদ্ধমনুষ্য নন, তারা মাত্র ২০ শতাংশ হলেও, প্রায় ৫০ শতাংশ মনুষ্যই এই আর্য বা কন্দমদের বংশধর যারা, তাদের অধিকারে বশ হয়ে বিরাজ করে, আর এইখান থেকে মধ্যযুগিয় ইতিহাস শুরু হয় মনুষ্যজাতির মধ্যে”।
জয়া বললেন, “মা, আমাদের এই কালের বিবরণ প্রদান করো যা আমাদের এই মধ্যযুগিয় ইতিহাসের বিবরণ প্রদান করার পূর্বে, এই স্থিতকালের বিবরণ প্রদান করো, যেখানে সম্যক মানবজাতিকে স্থিত করার প্রয়াস করেছিলেন তোমার সন্তান, তোমার প্রেমী, আমাদের ব্রহ্মসনাতন অর্থাৎ মৃষু, যিনি সার্বিক ভাবে তুমি হয়েও, সে তোমার থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন কেবল মাত্র তোমার সন্তানদের তোমার কাছে ফিরে যাবার মার্গ ব্যক্ত করবেন বলে”।
মাতা হেসে বললেন, “বেশ, সেই স্থিত কাল মাত্র এক হাজার বছরের ছিল, আর তার মধ্যে মৃষু ৭ বার দেহ ধারণ করে। যেন সে মুক্ত নয়, সাধারণ মানুষের মতই বদ্ধ!”
মীনাক্ষী প্রশ্ন করলেন, “মা একটি জিজ্ঞাস্য আছে আমার। প্রভু বারবার বলতেন, তিনি যখনই দেহ ধরেন, তাঁকে প্রথম থেকেই সমস্ত যাত্রা করতে হয়। এমন কেন বলতেন তিনি, যখন তিনি এতবার আসেন!”
মাতা হেসে উত্তরে বললেন, “সে মুক্ত, সে সমাধিস্ত। তাই সে মনুষ্যের মত একটি জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে পরের জীবন ধারণ করেনা। সে শূন্য থেকে, মানে আমার কোল থেকে নেমে আসে তোদের জগতে, আর সেখানে এসে তোদের মার্গদর্শন প্রদান করে পুনরায় আমার কোলে ফিরে আসে। তাই প্রতিবারই সে জগতে আসে, তার কাছে সমস্ত কিছু নতুন হয়, কারণ সে তো শূন্য থেকে আসে, তাই তার কনো স্মৃতিই অবশিষ্ট থাকেনা, কারণ যার স্মৃতি তোরা জন্মজন্মান্তরে ধরে রাখিস, তা তো এক ভ্রান্ত কাল্পনিক জগত। আর যিনি শূন্যে স্থিত, তার কাছে ভ্রমের অস্তিত্ব কোথায়? (হেসে) নেই। তাই যখন সে দেহ ধারণ করে সে সত্য থেকে ভ্রমে যাত্রা করে। তাই সেই যাত্রাতেই তাকে সম্পূর্ণ ভ্রমকে আবার সম্পূর্ণ সত্যকে সম্পূর্ণ ভাবে উদ্ধার করতে হয়, তার কাছে কনো স্মৃতি থাকেনা”।
মীনাক্ষী পুনরায় প্রশ্ন করলেন, “আচ্ছা মা, প্রভু বারবার বলতেন, তিনি কিছু করবেন না, করতে আমাদেরকেই হবে, কারণ দায় আমাদের। কেন বলতেন এই কথা, যখন তিনি বারবার আসেন এখানে আমাদের মার্গদর্শন প্রদান করতে!”
মাতা সর্বাম্বা হাস্যমুখে বললেন, “পথ চলতে হয় যোনিকে, কারণ তারা বিহারে এসে নিজের বাসস্থান, নিজের মায়ের কোল সম্বন্ধে ভ্রমিত হয়ে গেছে। অবতার ভ্রমিত নন। তিনিও ভ্রম স্বীকার করেই দেহ ধরেন, কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত একদণ্ডও বসেন না যতক্ষণ না মায়ের কোলকে পুনরায় ফিরে পান। যখন যেই সামাজিক অবস্থাতে তিনি অবতরণ করেন, সেই সামাজিক অবস্থানের সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে স্বীকার করে, মৃষু প্রথম মায়ের কোলের সন্ধান মানে আমার কোল সন্ধান করে।
একবার সে মায়ের কোল লাভ করলে, তার ভ্রম দূর হয়ে যায়, কারণ সে স্পষ্ট অনুভব করে ফেলে যে, আমার কোল লাভই জীবনের উদ্দেশ্য, আমার কোল লাভ করার জন্যই সমস্ত জীবন ছুটে বেড়াচ্ছে এই ভ্রমজগতে। আর একবার তা উপলব্ধি হয়ে যাবার পর, সে যেই পথে স্বয়ং আমার কোলে উপস্থিত হয়েছে, সেই পথকে সর্বসাধারণের উপযোগী রূপে প্রকাশ করেন এবং মার্গদর্শন করেন।
তাই পুত্রী, অবতার মার্গভ্রষ্ট নন। আর তিনি নিজের মার্গলাভের জন্য অবতরণও করেন না। তিনি তোমাদের মার্গ প্রদান করার জন্যই অবতরণ করেন, এবং যাত্রা করেন। আর অবশেষে যখন তা লাভ করেন, তখন তিনি তোমাদের উপযোগী করে সেই মার্গকে প্রদান করেন, এই তাঁর অবতরণের পর ক্রিয়াধারা হয়। আর তাই তিনি তোমাদের অবিরাম ভাবে বলতেন যে, মার্গ তোমাদের তিনি বলে দেবেন, কিন্তু সেই মার্গ অনুসারে পথের নির্মাণ তোমাদেরই করতে হবে, কারণ এই যাত্রা তোমাদের, এই অভিযান তোমাদের, তাঁর নয়।
আর আজকে দেখো, তাঁর মার্গেই চলে তোমরা আজ এই মায়ের কোলে স্থিত, আর তাই যারা এই মায়ের কোলে স্থিত এখনো হয়নি, তাদের সকলকে যাতে স্থিত করতে পারো, সেই উদ্দেশ্যে তোমাদের জীবনের সত্য বিবৃত করছি”।
