সর্বাম্বা কাণ্ড (কৃতান্ত প্রথম কাণ্ড)

পূর্ণ ৯৬ কলা অবতার ব্রহ্মসনাতন তাঁর একমাত্র যোনিজপুত্রী, দিব্যশ্রীকে জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি আর সীমিত দিবস দেহে অবস্থান করছেন। সেই কথন শুনে দিব্যশ্রী বেশ কিছুদিন অত্যন্ত ব্যকুল ছিলেন। কিন্তু অন্তে নিজের ব্যকুলতা দূর করে এসে ব্রহ্মসনাতনের উদ্দেশ্যে বললেন, “পিতা, ঈশ্বরকটি অবতার হন বা জীবকটি, আপনিই বলেন, জন্ম সকলের সামান্য ভাবেই হয়, আর জন্মের কালে সকলেই নিজের সত্য অস্তিত্ব সম্বন্ধে অজ্ঞান থাকেন।

জীবকটি বা ঈশ্বরকটি যতই সেই দেহে বড় হয়ে উঠে নিজের ব্রহ্মাণ্ডের রচনাকে পরিপক্ক করতে থাকেন, ততই তিনি আত্মের বশ্যতা স্বীকার করে নিতে থাকেন। জীবকটি সেই বশ্যতার থেকে সহস্র দেহধারণ করেও মুক্ত হতে পারেনা, আর ঈশ্বরকটি সেই বশ্যতার থেকে মুক্ত হয়ে, সত্যের সাখ্যাতকার করে, নিজেকে মুক্ত করে, নিজেকে ঈশ্বরকটি জানে নেন, এবং তা জগতের উদ্দেশ্যে ব্যক্ত করে যান। আর যা তিনি ব্যক্ত করে যান, তাই জগতের কাছে হয়ে ওঠে মার্গ।

পিতা, আপনি আমাকে যা কিছু বলেছেন, তার মধ্যা কথা এই ছিল যে, এক ব্রহ্মময়ীই কর্তা, আর সমস্ত কেউ যা নিজেকে কর্তা জ্ঞান করেন, তা অকর্তা। আর আপনার সেই কথাকে ভিত্তি করে, আমি অন্তরে অন্তরে একটি নূতন ধর্মের সঞ্চার করে ফেলেছি, যা হলো কৃতান্তকে ধারণ করা, অর্থাৎ কর্তার অন্তকে ধারণ করা কৃতান্তিক ধর্ম। কিন্তু পিতা, আমি এই কৃতান্তিক ধর্মের জন্য একটি আপনার কথিত মূল ধর্মগ্রন্থ স্থাপিত করতে চাই।

না পিতা, আমি নিজে সেই ধর্মগ্রন্থের স্থাপনা করতে অনিচ্ছুক, কারণ আমি নিজেকে অকর্তাই জ্ঞান করতে সচেষ্ট। আর যেখানে স্বয়ং আপনি বিদ্যমান, সেখানে আমি এই কর্তা সাজার ধৃষ্টতা দেখাতেও প্রস্তুত নই। তাই পিতা, কৃপা করে আমাকে সেই ধর্মগ্রন্থ উপহার দিন, আর কৃতান্তিক ধর্মের মূলধর্মগ্রন্থ, কৃতান্ত উপহার করুন”।

ব্রহ্মসনাতন হেসে বললেন, “বেশ পুত্রী, তাই হবে, যেমন তুমি বললে। আমি তোমাকে কৃতান্ত ধর্মগ্রন্থের বিবরণ প্রদান করছি আজ এই মুহূর্ত থেকে, যাকে তুমি লিপিবদ্ধ করে রেখে, কৃতান্তিক ধর্মের বিস্তার করতে পারো, সেই গ্রন্থকে শিখণ্ডী রেখে। তবে কি জানো পুত্রী, এই যে বলিনা তোমাকে যে, এক তিনিই কর্তা, আর কেউ কর্তা হননা, তার জলজ্যান্ত প্রমাণ এই কৃতান্ত। কেন?

কারণ যখন আমি তোমাকে এই ধর্মগ্রন্থের কথন শ্রবণ করাবো, তখনই তুমি অনুভব করবে যে, কৃতান্তিক নামে যে একটি ধর্ম স্থাপিত হবে, তা পূর্বসিদ্ধান্ত, আর সেই ধর্মের যে মূলগ্রন্থের নাম কৃতান্ত হবে, তাই পূর্বনির্ধারিত। (পুনরায় হেসে) পুত্রী, আমি তোমাকে যেই কথা শ্রবণ করাবো, তার তিনটি চরণ থাকবে, যাকে তুমি তিনটি কাণ্ড নামে ব্যখ্যা দিতে পারো।

প্রথম কাণ্ডের নাম সর্বাম্বা কাণ্ড, দ্বিতীয় কাণ্ডের নাম জগদ্ধাত্রেয় কাণ্ড, আর তৃতীয় কাণ্ডের নাম সর্বশ্রী কাণ্ড। এই তিন কাণ্ড কেন? প্রথম কাণ্ডে, এই ব্রহ্মসনাতন কি উপায়ে জগন্মাতার সাখ্যাত লাভ করলো, তার বিবরণ থাকবে, তবে সেখানে দেখবে, এই ব্রহ্মসনাতনের মানস ব্যতীত সকলে ব্রহ্মময়ীর মধ্যে নিজেকে সমর্পিত করে দিতে পারলেও, মানসের জন্য যাত্রা অবশিষ্ট থাকে।

দ্বিতীয়কাণ্ডে তুমি দেখবে যে, মানসের সম্মুখে এবার মাতা স্বয়ং কেমন করে মার্গ স্থাপনা করছেন। আর তৃতীয় কাণ্ডে মানস স্বয়ং যাত্রা করে, ব্রহ্মময়ীতে নিজেকে লীন করে নিজের অবতারযাত্রার সমাপন করছেন। পুত্রী, এই তিন কাণ্ড মিলেই কৃতান্ত, কারণ সম্পূর্ণ কর্তাভাবের নাশ, আর প্রকৃত কর্তার জ্ঞান, এবং সেই কর্তাকে ধারণ করার মার্গদর্শন এই তিন কাণ্ড মিলিয়েই লাভ করবে।

তাই পুত্রী, বীজমন্ত্র, যা আমি মাতার থেকেই লাভ করেছি, তাকে ৯ বার, শ্রেষ্ঠ সম্ভব নিশ্বাস স্বল্প গ্রহণ করে উচ্চারণ করে, নিজের মনকে শান্ত করে উপস্থাপন করো, আমি তোমাকে কৃতান্ত কথার বিবরণ দেওয়া শুরু করছি, সর্বাম্বা কাণ্ড থেকে”।

পৃষ্ঠা: 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22