১৬। মল্লারযুদ্ধ অধ্যায়
অন্যদিকে সুর একাকী সেনা নিধন করতে থাকলেন। সুরের ক্ষিপ্রতা সত্যই অবর্ণনীয়। মুহূর্তের মধ্যে সে বাণ সন্ধান করছে, আর তা নিক্ষেপ করছে, আর এই সমস্ত কিছু এতটাই গতিশীল ভাবে সে করতে থাকলো যে, তাঁর দিকে স্থির দৃষ্টি নিবদ্ধ করেও, কেউ উপলব্ধি করতে পারলো না যে কখন সুর বাণের সন্ধান করছে আর কখন তা নিক্ষেপ করছে।
আর তার এই অদ্ভুত সামর্থ্যের জেরে জেরবার হতে থাকলো সমস্ত সেনা। ক্রমে সুরের সাথে তালে তাল মেলালো তাল, আর এই দুই মহাযোদ্ধার বাণের জ্বালায়, সহস্র সহস্র সেনার নিধন হতে থাকলো। অন্যদিকে, করিন্দ্রদের রথী মহারথীদের সাথে যুদ্ধে রত হলেন মানস তথা সমস্ত চিত্তামিত্ররা।
১৬.১। মহারণ পর্ব
সুরের বাণের কারণে যুদ্ধের প্রথম দিনেই ২ লক্ষ সেনার বিনাশ হল, এবং তারই সাথে চিত্তাদের মহারথীদের কারণে, করিন্দ্রের বাহিনী যুদ্ধের প্রথম দিনে কনো প্রকার সুবিধা করতে না পারলে, তাঁদের শিবির মুছরে পরে, সেই যুদ্ধরাত্রে।
সেই দেখে শঙ্কর ও অম্বরিশ সম্মুখে এসে করিন্দ্রকে বললেন, “মহারাজ, তিন সঙ্গীসেনা ও তাঁদের প্রধানকে কাল সমরে প্রেরণ করুন, নাহলে চিত্তদের ৩ লক্ষ সেনাকে সম্মুখে অগ্রসর করে, আগামীকাল আমাদের অবশিষ্ট এক লক্ষ সেনাকে তুচ্ছতার সাথে বিনাশ করে দেবে চিত্তরা। … শত হলেও, নিজের সেনা নিজের হয়। তাই নিজেদের সেনাকে পিছিয়ে নিয়ে এসে, সম্মুখে বৈষ্ণই, ও বৈদিক সেনাদের প্রেরণ করুন। সংখ্যায় তারা ১২ লক্ষ, আর তাই তাদের মধ্যে সুরকে প্রেরণ করে দিন”।
অর্ধেন্দু ও কচিন্দ্র বললেন, “হ্যাঁ মহারাজ, সুর ও তাল কিছুতেই ছন্দকে একা ছেড়ে যুদ্ধে এগিয়ে আসছে না। আর তাই আমরাও কিছুতেই ছন্দের কাছে যেতে পাচ্ছি না। এই ১৩ লক্ষ সেনা, আর তাদের সাথে এঁদের তিন মাথা, শ্রীবাস্তব, আল্লু ও বল্লাল সম্মুখে গেলে, সুর নয়তো তাল, যেকোনো একজন ছন্দকে ছেড়ে যেতে বাধ্য হবে, আর তখন আমরা ছন্দের উপর আক্রমণ করতে পারবো”।
এঁদের কথা অনুসারেই, পরবর্তীদিনের যুদ্ধ যোজনা স্থির করা হলে, সুরকে করিন্দ্রদের যোজনা মতই এগিয়ে যেতে হলো ১২ লক্ষ সেনার মধ্যে। আর তাই সেখানে শুরু হলো সুরের মহাবিক্রম। অন্যদিকে, সুর নিজের অবস্থান থেকে অপসারিত হলে, মিত্রারি, চাক্ষুষ, করিসিজ, মিতেশ ও মিতান, নিজেদের সঙ্গে চাক্ষুষ, করিঘ্রাণ এবং করিসনা নিয়ে ছন্দকে আক্রমণ করে।
সুর এই ১২ লক্ষ সেনাকে একত্রে দেখে, একটি মোক্ষম বাণ নিক্ষেপ করলেন গগনের দিকে, আর সেই বাণের কারণে অসংখ্য অগ্নিপুঞ্জ গগন থেকে সেই সেনার উপর বর্ষিত হতে শুরু করলো। সেই অগ্নির বীভৎসতা যাতে ভয়ানক হয়ে উঠতে পারে, তার কারণে আরো একটি বাণ নিক্ষেপ করলো সুর, তবে তা ছিল এবার ভূমির দিকে। ভূমি থেকে সেই বাণের প্রভাবে একটি তরল পদার্থ নিঃসৃত হলে, সেই তরল ও অগ্নিপুঞ্জ সমূহ একত্রিত হয়ে, এক ভয়ানক অগ্নি বলয়ের সঞ্চার করলো।
এরপর সুর আরো একটি বাণ নিক্ষেপ করে সেই অগ্নিবলয়কে বাতাস প্রদান করতে, সেই আগুন এক বীভৎসরূপ ধারণ করে, একত্রে প্রায় ৪ লক্ষ সেনার প্রাণ নিয়ে নিলো। সুরের এই বীভৎসতা দেখে, বল্লাল স্তম্ভিত হয়ে গেলে, আল্লু হয়ে উঠলেন উত্তেজিত। বল্লাল ও শ্রীবাস্তবকে সেনা সামলাতে বলে, ৪ লক্ষ সেনা নিয়ে সে যুদ্ধ করতে এগিয়ে যায় সুরের সাথে।
একাধারে ৪ লক্ষ সেনা তথা আল্লু সুরকে আক্রমণ করা শুরু করলে, সুর সরাসরি একটি বাণ নিক্ষেপ করলেন আল্লুর সেনার সম্মুখে, আর ভূমিকে সেখানে চিড়ে দিলে, সহস্র সহস্র সেনা ভূমির সেই গহ্বরে পতিত হয়ে গিয়ে কেউ প্রাণ হারালেন তো কেউ নিজেদের দেহকে বিকৃত হওয়া থেকে রোধ করতে পারলেন না। আল্লু সেই আক্রমণের ভাব দেখে, সরাসরি একটি গরুড় বাণ নিক্ষেপ করলেন সুরের উদ্দেশ্যে। সুর সেই দেখে, একটি বাণ নিক্ষেপ করলেন, যা গরুড়ের সম্মুখে একগুচ্ছ ধান রেখে দেয়।
তাই দেখে গরুড় বাণ নিজেকে সংযত করে নিলে, ক্ষিপ্ত আল্লু এবার একটি পরমাণুদ্বারা পরিচালিত মহাবাণ নিক্ষেপ করেন, যা একবার ভূমিতে পতিত হলে এই সম্যক রণক্ষেত্রই বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে। সেই দেখে সুর এবার ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে, একটির স্থানে দুটি বাণ নিক্ষেপ করলেন পরস্পর। এঁদের একটি বাণ সেই পারমানবিক অস্ত্রকে শূন্যের দিকে উত্তোলন করে দেয়, তো দ্বিতীয় বাণ সরাসরি আল্লুর ধনুককে দ্বিখণ্ডিত করে দেয়।
এরপর অসম্ভব বেগ ও গতির সাথে প্রায় এক শত বাণ নিক্ষেপ করলেন সুর, সেই পরমাণবিক অস্ত্রের উদ্দেশ্যে, যতক্ষণ না তা ধরিত্রীর সীমারেখা ত্যাগ করে মহাকাশে গমন না করে নিজের সমস্ত বস্তুগুণ হারিয়ে ফেলে, ততক্ষণ।
আল্লু নিজের ধনুক হারিয়ে, দ্বিতীয় অস্ত্রের সন্ধান করার বিরামে, চার দিক দিয়ে এক লক্ষ এক লক্ষ করে চারলক্ষ সেনাকে আক্রমণ করার নির্দেশ দিলে সুরকে। পরিস্থিতির জটিলতা বুঝে সুর তাই দুই দিশাতে দুটি বাণ নিক্ষেপ করলে, সেই দুটি বাণ নিজের থেকে লখ্যাধিক বাণ নির্মাণ করে, দুই দিশা থেকে একটি বাণ দ্বিতীয় বাণকে আঘাত করলে, বিষম বজ্রপাতের সঞ্চার করে। একটি নয়, লক্ষাধিক বজ্রপাত হতে থাকে, লক্ষাধিক বাণের মুখোমুখি ধাক্কার ফলে।
প্রথমত সেই বাজসমূহের ফলে প্রচুর প্রচুর সেনার ক্ষয় হয়, আর তা ছাড়াও বাকি সেনাদের মধ্যে সেই বজ্রসমূহ থেকে পলায়নের ব্যকুলতা জন্ম নিয়ে নিলে, তাঁরা পলায়ন করতে গেলে, এক সেনা দ্বিতীয়সেনাকে পদপিষ্ট করেও হত্যা করতে থাকে। সুর এতেই থেমে থাকলো না। একটি আক্রমণ করে সুর থেমে থাকেনা। সেই আক্রমণকে শত্রু সামলে নেবার পূর্বেই, তাঁর কাছে দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং অনন্ত আক্রমণ উপস্থিত হয়ে যায়, এটিই সুরের ক্ষিপ্রতা, গতি আর বেগ, আর ভয়াবহ হবার পরিচয়।
সুর একটি একটি করে শক্তিশালী বাণ নিক্ষেপ করে করে, একটি একটি বজ্রকে অপসারিত করে আল্লুর রথের দিকে প্রেরণ করলে, সেই বজ্রদের জন্য আল্লু যেই অস্ত্রই তুলতে গেল, তা বৈদ্যুতিক হয়ে ওঠে, আর শেষে আল্লুর রথকে বিদ্যুৎপিষ্ট করলে, আল্লু নিজের রথ থেকে ভূমিতে অপসারিত হয়ে যায়। সুর তাতেও থেমে থাকেনা। নিরস্ত্র আল্লু যখন অস্ত্রের সন্ধান করার অবকাশ নেয়, সেইকালে একটি সরাসরি বাণকে কেবলই গতিবেগ প্রদান করে ভয়ঙ্কর করে তুললে, সেই বাণ আল্লুর কবচ ভেদ করে তাঁকে কবচ মুক্ত করে দেয়, আর একই সমান আরো একটি বাণ নিক্ষেপ করলে, তা আল্লুর হৃদপিণ্ডকে ভেদ করে দিয়ে, আল্লুর প্রাণ নিয়ে নেয়।
সেনা যখন দেখলো যে তাঁদের অধিরাজ ভূপতিত হয়েছে, তখন অবশিষ্ট আল্লু সেনা আর কনোদিকে না তাকিয়ে রণক্ষেত্র ত্যাগ করে পলায়ন করতে থাকলেন, এবং নিজদের ভূমি অর্থাৎ দক্ষিণে প্রত্যাবর্তন করা শুরু করলেন। এমন কীর্তি দেখে, মহারাজ বল্লভ ভীত হয়ে উঠলে, শ্রীবাস্তব বললেন, “এই যুদ্ধের ফলে নিশ্চিত ভাবে সুর ক্লান্ত। তাই এটিই সঠিক সময় সুরকে আক্রমণের।
এমন স্থির করে নিজের ৪ লক্ষ সেনাকে সুরকে আক্রমণ করার জন্য প্রেরণ করলে, ক্লান্ত সুর একটি মহাবান নিক্ষেপ করলেন ভূমিতে, যার কারণে সুর ও সেই ৪ লক্ষ্য সেনার মধ্যে একটি ভূমি থেকে পর্বত নির্মিত হয়ে যায়। আশ্চর্যকর এই কীর্তি দেখে, তটস্থ হয়ে উঠলেন শ্রীবাস্তব। কিন্তু তিনিও আগ্রাসী, তাই তিনিও দমলেন না। তিনি সেনাকে আদেশ দিলেন এই পর্বত লঙ্ঘন করে অজস্র বাণে জর্জরিত করে দাও সুরকে।
কিন্তু সুরের যুদ্ধকৌশল সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত শ্রীবাস্তব। যেই মুহূর্তে সমস্ত সেনা পর্বতে আরোহণ করলেন, সুর আরো একটি মোক্ষমবাণ দ্বারা সেই পর্বতের মধ্যবর্তী স্থানে নিক্ষেপ করে, সমস্ত ৪ লক্ষ সেনা সহ, সেই পর্বতকে ধুলায় পরিবর্তিত করে দিলে, পরস্পর তিনটি বাণ নিক্ষেপ করলেন সুর, যাদের মধ্যে দুটি বাণ দুই দিক থেকে পর্বতচূর্ণ হবার সমস্ত ধুলাকে একত্রিত করলো, আর তৃতীয় বাণ সেই একত্রিত ধুলাকে প্রবল গতিদ্বারা ধাক্কা দিয়ে শ্রীবাস্তবের রথের দিকে প্রেরণ করে দেয়।
সেই ঘনীভূত প্রকাণ্ড ধুলাঝড় থেকে প্রাণে বাঁচতে প্রকাণ্ড গতি ধারণ করে পশ্চাৎ দেশে নিজের রথকে দৌড় করায় শ্রীবাস্তব, কিন্তু সুরের বাণের গতি অনেকটাই অধিক ছিল, তাই সেই ধুলাঝড় একসময়ে শ্রীবাস্তবের রথে আঘাত করে, শ্রীবাস্তবকে রথ থেকে উব্রে সম্মুখে ফেলে দেয়। ঝড়ের মধ্যে আবদ্ধ ধুলা এই ধাক্কাতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে, সেই বিচ্ছিন্ন ধুলা শ্রীবাস্তবের ভূপতিত দেহকে সম্পূর্ণ ভাবে ঢেকে দেয়।
সেই দেখে, আচম্বিত হয়ে ওঠা বল্লাল নিজের সেনাকে আদেশ দিলেন সেই সমস্ত ধুলা সরিয়ে শ্রীবাস্তবকে উদ্ধার করতে। তাই দেখে, রণে ভঙ্গ দিয়ে, সুর নিজের অবস্থানে ফিরে যাওয়া শুরু করলো। কিন্তু সম্যক যুদ্ধে সুরের সাথে পেরে উঠবেনা, সেই ব্যাপারে সুনিশ্চিত হয়ে বল্লভ পশ্চাৎ থেকে সুরকে একটি বাণ নিক্ষেপ করলে, বাণের শব্দ সুরের কর্ণে অনেক পূর্বেই প্রবেশ করে যায়। আর তাই সে সতর্ক হয়ে গিয়ে, সরাসরি একটি বজ্র নিক্ষেপ করে দেন সেই বাণকে নিষ্ক্রিয় করতে।
কিন্তু তাতে ফল হলো বিপরীত। সেই বজ্রকে বল্লালের বাণ দিশাভ্রষ্ট করে দিতে সক্ষম হলে, সেই বজ্র ভূপতিত হলো, কিন্তু যখন তা ভূপতিত হলো, তা এমন স্থানেই হলো যেখানে শ্রীবাস্তবের মূর্ছাযাওয়া দেহ অবস্থান করছিল। আর তাই সেই বজ্রের কারণে শ্রীবাস্তবের মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়ে যায়।
সত্য অর্থে, বল্লালের বাণের উত্তর দিতে দেরি হবার জন্যই সুরের বজ্রের জোর কম ছিল, আর তাই বল্লালের বাণ সেই বজ্রকে দিশাভ্রষ্ট করতে সক্ষম হয়, আর সেই বজ্রের কারণে শ্রীবাস্তবের মৃত্যু হয়। কিন্তু সুরের প্রতাপ দেখে বিস্মিত বল্লাল নিজে নিজেই ভেবে নিলেন যে তাঁর বাণকে অকর্মণ্য করে দিয়েছে সুরের বজ্র, আর তা শ্রীবাস্তবের প্রাণ নিয়ে নিয়েছে। কিন্তু সুর জানেন ঠিক ঠিক ভাবে কি হয়েছে। তাই সে তাঁর সারথি তামরসের উদ্দেশ্যে বলল, “ব্রহ্মময়ীর কি অদ্ভুত লীলা মহারাজ তামরস। আমার বাণ বিফল হলো, তাও তা শ্রীবাস্তবের প্রাণ নিয়ে নিলো। … অদ্ভুত তাঁর লীলা!”
অন্যদিকে, রাজা মানস সেনার নেতৃত্ব করে সংঘাতে যুক্ত হয়েছিলেন করিন্দ্রের অবশিষ্ট ১ লক্ষ সেনার সাথে। আর সেই একই সেনাকে রাজা বর্ধিষ্ণু আরো এক লক্ষ সেনা দ্বারা পিছন থেকে আক্রমণ করলে, প্রতিটি করিন্দ্র সেনাকে চিত্তাদের দুই সেনা মিলে হত্যা করা শুরু করে। সেই সংঘাতকে বাঁধা দিতে উপস্থিত শঙ্কর ও অম্বরিস, কিন্তু মানসের প্রতাপের সামনে তারা বড়ই অসহায়। সঙ্গে রয়েছে বর্ধিষ্ণুর সহায়তা।
ধনুক ত্যাগ করে, ভূমিতে নেমে আসা শঙ্করকে সামনা করতে হয় মানসের মুশলের, আর অম্বরিশকে সামনা করতে হয় বর্ধিষ্ণুর তরবারিকে। মানসের মুশলের সামর্থ্যই আলাদা। অতি গতি নেই তাঁর, কারণ সে বৃদ্ধ হয়েছে, না আছে অতিবল। কিন্তু সঠিক স্থান নির্বাচন তাঁর প্রতি আঘাতে থাকে, আর সেই আঘাতে জেরবার হতে শুরু করে শঙ্কর। শঙ্করের বয়স অল্প, তাই উদ্যম অধিক। কিন্তু মানসের মোক্ষম আঘাতের কাছে সে বারংবার জেরবার হতে থাকছিল।
কিন্তু এরই মধ্যে বর্ধিষ্ণুর আঘাতে ছিটকে পরা অম্বরিশ, দূর থেকেই নিজের তরবারিকে নিক্ষেপ করে বর্ধিষ্ণুর উদ্দেশ্যে। তার উত্তরে বর্ধিষ্ণুও নিজের তরবারি নিক্ষেপ করলে, সতর্ক অম্বরিশ নিজের দেহকে নিম্নগামী করে নিয়ে সেই অশি থেকে প্রাণ রক্ষা করে, ঠিক সেই ভাবে যেই ভাবে রাজা বর্ধিষ্ণুও তাঁর তরবারের থেকে প্রাণ রক্ষা করেন নিজের। কিন্তু অম্বরিশ সেই তরবারির আঘাত থেকে বাঁচলে, সেই তরবারি সরাসরি শঙ্করের পৃষ্ঠদেশকে আক্রান্ত করে, তাঁর হৃদয়কে ভেদ করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চয় করে দেয়।
ভ্রাতার প্রাণ হানি হয়েছে, তাই অসহায় ও ক্ষিপ্র হয়ে ওঠা অম্বরিশ নিজের ভ্রাতার পশ্চাৎদেশ থেকে তরবারি অপসারণ করে তাই দিয়ে আঘাত করার প্রয়াস করলে, মানস সেই তরবারির যেই দিক তাঁর দিকে মুখিয়ে ছিল, সেই দিকে একটি মোক্ষম মুশলপ্রহার করলে, সেই তরবারি শঙ্করের দেহকে হৃদয়ের পর থেকে সম্পূর্ণ ভাবে চিড়ে দেয়। কিন্তু সেই তরবারির বাঁট তখন অম্বরিশ ধারণ করে থাকার কারণে, সেও তরবারির সাথে সাথে ভূপতিত হয়।
ভূপতিত অম্বরিশ যুবক হবার দরুন অনেকটাই চটপটে। তাই সে মানস কিছু বুঝে ওঠার আগেই, সেই তরবারি নিয়ে, মানসের উদরে সেই তরবারি প্রবেশ করিয়ে দিলে, বৃদ্ধ মানস সেই আঘাত সামলে রাখতে না পেরে পশ্চাতে অপসারিত হওয়া শুরু করলেন। অন্যদিকে বর্ধিষ্ণু অম্বরিশের এই বর্বরোচিত কর্ম দেখে, উত্তেজিত হয়ে উঠে, একটি লম্ফ দিয়ে নিজের তরবারিকে অম্বরিশের বক্ষে এমন ভাবে গাঁথলেন যে, অম্বরিশের সম্পূর্ণ দেহ ভূমিতে আটকে যায়, কারণ সেই তরবারি মোক্ষম ভাবে ভূমিতে গেঁথে যায়।
বর্ধিষ্ণু মহামান্য মানসের দিকে এগিয়ে যান, তাঁর অত্যন্ত ক্লিষ্ট দেহকে ধারণ করে শিবিরে নিয়ে যাবার জন্য। কিন্তু তখনও করিন্দ্রের সেনার মধ্যে প্রায় ১০ সহস্র সেনা জীবিত ছিল, যারা রাজা বর্ধিষ্ণুর গলা ছেদ করতে উদ্যত হয়। কিন্তু সেই কালেই সুর সেই পথ দিয়ে প্রত্যাবর্তন করছিলেন, তাই মহারাজ বর্ধিষ্ণুকে তথা ক্লিষ্ট মানসকে নিজের রথে উন্নীত করে, তামরসের উদ্দেশ্যে বললেন, “যাও ইনাদেরকে শিবিরে নিয়ে যাও, আমার নিয়ে চিন্তা করো না। আমি ভূমিতেই ঠিক আছি।
রথমুক্ত সুরকে দেখে সেনা তাঁকে আক্রমণ করতে গেলে, সুর ভূমিতে একটি মোক্ষম আঘাত করলে, সম্পূর্ণ রণভূমি কম্পিত হয়ে গেল এবং সকলেই নিজের স্থান থেকে পতিত হয়ে গেলেন। তার উপরান্তে, সুর নিজের সেনাদের উদ্দেশ্যে বললেন, “এই দশ সহস্র সেনার নিধন করো সকলে মিলে, আমাকে ভ্রাতার সুরক্ষার্থে তাঁর কাছে যেতে হবে”।
এতবলে সুর সেখান থেকে চলে গেলে, চিত্তাদের দুই লক্ষ সেনা মিলে সেই ১০ হাজার সেনার নিধন নিশ্চয় করে, করিন্দ্রকে সেনামুক্ত করে দিলো। অন্যদিকে যেহেতু সুর নেই, সেহেতু কিছুতেই তাল নিজের রথ থেকে অবতরণ করেননি। বরং তাল, সহিষ্ণু, কুর্নিশ তথা সামন্ত মিলে রথে থেকেই যুদ্ধ করছিলেন করিসিজদের সাথে।
ধনুক হাতে তাল ততটা শক্তিশালী নয়। তাই সুরকে রথমুক্ত হয়ে আসতে দেখে, আচম্বিত তাল বললেন, “কি হয়েছে অনুজ, তোমাকে রথমুক্ত করে এমন সামর্থ্য কার আছে!”
সুর মাথা নাড়িয়ে বললেন, “আমাকে কেউ রথমুক্ত করেননি ভ্রাতা। আমার রথে করে রাজা বর্ধিষ্ণু মহামান্য মানসের প্রাণমুক্ত হতে ব্যস্ত দেহকে ধারণ করে শিবিরে প্রত্যাবর্তন করেছে। আমাকে তোমার রথে আরোহণ করতে দাও, আর আমি, রাজা সামন্ত ও রাজা সহিষ্ণু সমস্ত সেনা নিয়ে রাজা বল্লালের স্বার্থে যুদ্ধ কেতে যাচ্ছি ভ্রাতাকে মধ্যে রেখে। ততক্ষণে তুমি ও কুর্নিশ, এই করিপুত্রদের বিনাশ নিশ্চয় করো”।
সুরের কথামত ভূমিতে উত্তীর্ণ হলে, বলশালী কুর্নিশ এবং মহাবলী তালের সম্মুখে করিন্দ্র ভ্রাতাদের অত্যন্ত দুর্বল লাগে। যেখানে কুর্নিশ একজন একজন করে করিন্দ্রভ্রাতাদের প্রেরণ করা মুশলদের অপসারিত করছিল নিজের বাহুবলে, সেখানে তাল সকলের রথে পদাঘাত করে, করিসিজ, করিঞ্জল, মিত্রারি, মিতেশ, মিতান, করিঘ্রাণ তথা করিস্নার রথ ভেঙে দিয়ে, তাঁদেরকে ভূমিতে নেমে যুদ্ধ করতে বাধ্য করলেন।
আর পরের মুহূর্তে, একটি করে তালের মুষ্ট্যাঘাতেই সকল করিন্দ্র ভ্রাতা দেহত্যাগ করা শুরু করলে, করিন্দ্র সেই দিবসের যুদ্ধে নিজের ৭টি ভ্রাতার প্রাণ হারান। … নিরস্ত্র বীর্য, ভণ্ড ও ভৃগুসেন এসে সেই শবদেহ দের শিবিরে নিয়ে যেতে প্রস্তুত হলে, তাল তাদেরকেও আক্রমণ করতে উদ্যত হয়, কিন্তু কুর্নিশ তাঁকে বাঁধা দিয়ে বলেন, “ইনারা যুদ্ধ করতে আসেননি। এঁরা শবদেহকে উদ্ধার করতে এসেছে। তাই এঁদেরকে আক্রমণ করা সঠিক হবেনা”।
এত বলে প্রতিহত করলে, কুর্নিশ ও তাল শিবিরে প্রস্থান করতে সচেষ্ট হন, যেখানে মহামান্য মানস নিজের মৃত্যুর সাথে যুদ্ধ করছিলেন। অন্যদিকে দ্বিতীয়দিনের যুদ্ধে সর্বদিকে ক্ষয়প্রাপ্ত হলে, করিন্দ্র সেদিনের যুদ্ধবিরাম নেবার প্রয়াস করে শিবিরে প্রত্যাবর্তন করলেন নিজের বাকি ১২টি জীবিত ভ্রাতা, তথা অর্ধেন্দুকে সঙ্গে নিয়ে। রাজা বল্লালকেও সেই সংবাদ প্রেরণ করতে গেছিলেন এক কচিন্দ্র, কিন্তু পথে দেখলেন, বল্লাল নিজের ৪ লক্ষ সেনা নিয়ে পলায়ন করছেন। এবং তাঁকে ধাওয়া করছে চিত্তাদের ৩ লক্ষ সেনা, আর তাদের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর ভ্রাতা সহিষ্ণু, সামন্ত তথা তাঁর পংসেনা, আর মহারাজ ছন্দের সাথে রয়েছেন মহাছন্দের সুর।
রাজা বল্লালকে তাই সুরক্ষিত করার প্রয়াস করে কচিন্দ্র চিত্তাদের ৩ লক্ষ সেনার নিধন উদ্দেশ্যে বেশ কিছু বাণ নিক্ষেপ করলে, রাজা সহিষ্ণু সরাসরি তাঁর ভ্রাতা কচিন্দ্রের সাথে যুদ্ধে রত হয়ে যান। আর অন্যদিকে পংসেনার ও চিত্তাসেনার সাথে মিলে রাজা সামন্ত বল্লালের সমস্ত সেনার নাশ করা শুরু করলেন। সেই দেখে রাজা বল্লাল অধিক গতি ধারণ করে পলায়নের প্রয়াস করলে, সুর একটি বাণে রাজা বল্লালের রথকে গুড়িয়ে দিলেন।
রাজা বল্লাল তাও নিজের প্রাণ নিয়ে পলায়নের প্রয়াস করে গেলেন, আর তাই নিজের রথচ্যুত হয়ে, পাদুকা হারিয়ে, নগ্ন চরণেই মল্লার রাজ্যের উত্তপ্ত বালুর উপর দিয়ে দৌড়াতে থাকলে, সুর একটি সহজ বাণকে অত্যন্ত গতি ও বেগ প্রদান করে নিক্ষেপ করলে, রাজা বল্লালের কবচ ভেদ করে, সেই বাণ বল্লালকে ভূপতিত করে দেয়।
বল্লালের প্রাণে বাঁচার আশা তখনও ষোলোআনা, আর তাই তিনি পুনরায় উঠে দাঁড়িয়ে, কবচ শূন্য ভাবেই দৌড়াতে থাকলে, আরো একটি সহজ বাণকে গতি প্রদান করে সুর নিক্ষেপ করলে, তা বল্লালের দেহকে চুরমার করে কয়েক দশক খণ্ডে বিচ্ছিন্ন করে, বল্লালের নাশ করে দেয়।
অন্যদিকে কচিন্দ্র ভয়ানক যুদ্ধ করা শুরু করলেন রাজা সহিষ্ণুর সাথে, তো রাজা সামন্ত, পং সেনা তথা চিত্তাদের সেনার সাথে বল্লালের সেনার ভয়ানক যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হতে থাকে। সেই দেখে, রাজা সহিষ্ণুর সহায়তা করতে উদ্যত সুর, পরস্পর পাঁচটি বাণ নিক্ষেপ করে কচিন্দ্রের সারথি, রথ, ধনুক, তথা মাথার মুকুট পতিত করে পঞ্চমবাণ কচিন্দ্রের উরুতে বিদ্ধ হয়ে, কচিন্দ্রকে পতিত করলে, সহিষ্ণুর একটি বাণ কচিন্দ্রের মুণ্ডকে দেহ থেকে আলাদা করে দেয়।
অন্যদিকে মহারাজ ছন্দ পরস্পর বাণ দ্বারা সমস্ত বল্লালসেনাকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে থাকলে, তাঁরা যখন যখন পলায়নের প্রয়াস করে, তখন তখন পংসেনা ও চিত্তাসেনারা সেই সেনাদের নিধন করতে থাকলে, অবশেষে প্রায় ৩ হাজার সেনা মাত্র প্রাণ নিয়ে রণক্ষেত্র ত্যাগ করে প্রস্থান করতে সক্ষম হলে, সুরছন্দ দেখলেন, রণক্ষেত্র খালি হয়েছে, কারণ করিন্দ্র ইতিমধ্যেই যুদ্ধবিরাম নিয়ে নিয়েছে।
সেই দেখে, তাঁরাও যুদ্ধ বিরাম গ্রহণ করে শিবিরে আক্রান্ত বৃদ্ধ মানসের কাছে গেলেন। মানসের অন্তিমকালে সকলে মিলে সেবা করলে, মানস একটিই কথা বলে দেহত্যাগ করলেন, “ফিরে আসবো, আস্তেই হবে আমাকে ফিরে। তবে এবারের প্রত্যাবর্তনে আমি মাতার সাথে মিলিত হবই”।
সকলে মিলে মানসের চিতাদহন করে প্রত্যাবর্তন করলে, দেবী পদ্মিনী ও দেবী নলিনী সকলকে আহার করাতে থাকলেন। অন্যদিকে দ্বিতীয়দিনের যুদ্ধের মধ্যেই সমস্ত সেনার ক্ষয় করে দেওয়ার জন্য, ৭ ভ্রাতার নাশ হবার জন্য, আর শঙ্কর, অম্বরিশ তথা কচিন্দ্রের মৃত্যুর কারণে বিমর্ষ করিন্দ্র। সুরের বলের সাথে তাঁর পরিচিত ছিলনা তেমন নয়, কিন্তু রণক্ষেত্রে উত্তীর্ণ হলে যে সুর কতটা ভয়ানক, তার ধারণা তাঁরও ছিলনা।
করাভের কাছে বিলাপ করে করিন্দ্র বলতে থাকলেন, “সুরের এমন সামর্থ্য জানলে, আমরা কখনোই এই যুদ্ধ করতে যেতাম না। প্রায় সম্পূর্ণ বৈদিককুল নিজেদের সমস্ত সেনা হারিয়ে ফেলেছে আমাদের কারণে। এবার তো চিত্তাপুত্ররা শুধু জম্বুদেশ নয়, সমূহ আর্যবর্তকেই অধিকার করে নেবে! বৈদিক ধর্মেরই অবসান হয়ে যাবে, আমাদের এই যুদ্ধের কারণে!”
সেই শুনে অর্ধেন্দু বলে উঠলেন, “চলো মিত্ররা, এই রাত্রের আধারে চিত্তাদের শিবিরে প্রস্থান করে, তাঁদের নাশ করে আসি”।
করিন্দ্র সেই কথাতে রাজি না হলে, শৃঙ্খলারা এবং ঘৃতকুমারীরা বললেন, “সঠিক বলেছেন অর্ধেন্দু। আমরা আমাদের মায়ার বলে সকলকে নিদ্রায় রত করে দিচ্ছি। আপনারা সহজেই গিয়ে সকলের প্রাণ নিয়ে আসতে পারবেন”।
এমন অভয়বাণী লাভ করলে, শৃঙ্খলারা এবং ঘৃতকুমারীরা নিদ্রার মায়া করলেন চিত্তাশিবিরের উদ্দেশ্যে। আর পদ্মিনী তথা নলিনী দেখলেন, সকলে কেমন যেন অকস্মাৎ মূর্ছা যাবার মত নিদ্রায় রত হতে থাকলেন। সেই দেখে তাঁরা বেশ বুঝতে পারলেন যে কনো একটি মায়া হয়েছে। নিদ্রার মায়া। তাই তাঁরা উভয়েই তৎপর হয়ে উঠলেন। দেবী পদ্মিনী মায়ার রচনা করে সেই নিদ্রামায়াকে নাশ করলেন, আর সকল চিত্তাশিবিরে এক উর্জ্জার বর্ষা করলেন, তো মায়ার আঘাতে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া সকল চিত্তাশিবিরকে দেবী নলিনী গরম দুগ্ধ পান করিয়ে, উজ্জিবত করালেন।
সকলে উজ্জীবিত হলে, দেবী পদ্মিনী ও নলিনী একত্রে বললেন, “শুনুন আপনারা, আপনাদের উপর নিদ্রাবাণ নিক্ষেপ করা হয়েছিল, এর অর্থ এই রাত্রিতে, অতর্কিতে নিদ্রারত শিবিরকে হত্যা করতে আসছিলেন কেউ। আপনারা সতর্ক হয়ে যান”।
এমন কথা শুনে, সুর নিজের ধনুর্বাণ ধারণ করে, তাল, কুর্নিশ ও সামন্ত নিজেদের মুশল ধারণ করে, রাজা বর্ধিষ্ণু, তামরস ও সহিষ্ণু নিজেদের অশি নির্গত করলে, ছন্দ বললেন, “আপনারা বেশ কিছু কুশকে চাদরের নিচে শায়িত রেখে দিন। হতে পারে যে, তাঁরা আমাদের ঘুমন্ত শিবিরকে হত্যা করতে চাইছিলেন। তাই এমন করলে তারা মনে করবে যে, তারা তাদের যোজনাতে সফল, আর আমরা তাঁদের এই অপরাধের দণ্ড প্রদান করতে পারবো।
যেমন ছন্দ বললেন, তেমন অনুসারে সকলে করলে, সকলে দেখলেন যেমন ছন্দ বলেছিলেন, সেইপ্রকারেই হত্যা করে কুশরূপী চিত্তাদের। সেই দেখে, ক্ষিপ্ত সামন্ত ও কুর্নিশ একে একে সমস্ত করিন্দ্র ভ্রাতাদেরকে টেনে নিয়ে চলে গেলে, তাল তাঁদের মুণ্ডকে মুদ্রিত করে, নিঃশব্দে হত্যা করে দিলেন। ভ্রাতাদের না দেখতে পেয়ে, অস্থির হয়ে উঠে করিন্দ্র ভ্রাতাদের নাম ধরে ধরে চিৎকার করলে, সুর মশাল জাগ্রত করে দিলে, করিন্দ্র দেখলেন, তাল, সামন্ত তথা কুর্নিশ তাঁর সমস্ত ভ্রাতাদের শব দেহ নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।
ভ্রাতাদের এমন অবস্থায় শব হয়ে থাকতে দেখে, করিন্দ্র কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে তালের সাথে মল্লে আবদ্ধ হলেন। সেই সময়ে সুর দেখলেন, বীর্যের কথন অনুসারে, ভণ্ড ও ভৃগু মিলে করিন্দ্র ভ্রাতাদের শবদেহহগুলিকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। কিছুটা হতবাক হলেন এমন দৃশ্য দেখে, বিশেষ করে ভণ্ডকে আক্রমণ না করতে দেখে, এবং শবদেহ অপসারিত করাতে তাঁকে ব্যস্ত দেখে। তাই সুর এবার নিজে এগিয়ে গিয়ে, ভণ্ডকে পদাঘাত করতে গেলে, সম্মুখে চলে এলেন বীর্য ও অর্ধেন্দু।
অর্ধেন্দুকে রাজা বর্ধিষ্ণু ও সহিষ্ণু একত্রে আক্রমণ করলে, পরাক্রমের সাথে অর্ধেন্দু তরবারি যুদ্ধ করলেও, অবশেষে সহিষ্ণু একটি অশির আঘাত হানতে সক্ষম হলেন অর্ধেন্দুর কটি দেশে। অর্ধেন্দু ঘায়েল হলে, একের পর এক আঘাত করে করে অর্ধেন্দুর বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে ঘায়েল করে, অবশেষে বর্ধিষ্ণু নিজের ভ্রাতার বক্ষে নিজের অশি ক্ষেপণ করে তাঁকে হত্যা করেন। সেই দৃশ্য দেখে রাজা ভৃগুসেন আক্রমণে মূর্তি ধারণ করলে, অশিযুদ্ধে তাঁকে রত করলেন ছন্দ, কিন্তু মধ্যে থেকে তামরস যিনি সারথি হয়ে থাকার জন্য যুদ্ধ করতে পারছিলেন না, আর রাজা ভৃগুসেনের থেকে পূর্বে নিপীড়িত, তিনি পশ্চাৎ থেকে এসে, নগ্নহস্তে ভৃগুর গণ্ডদেশ আকর্ষণ করে ভূমিতে পাছার মারলেন।
ভৃগুসেন উত্তেজিত হয়ে উঠে আঘাত করতে গেলে, তামরসের পরবর্তী পদাঘাতে ভৃগু পুনরায় ভূমিতে পতিত হলেন। এমন করে ভৃগুসেন ১৫ বার উন্নত হতে সচেষ্ট হলেন আর ১৫বার তামরস তাঁকে পদাঘাত করে ভূপতিত করতে থাকলে, শেষে আর উঠে দাঁড়াবার সামর্থ্য হারালেন ভৃগুসেন। তখন তাঁর পৃষ্ঠের উপির উঠে বসে, তামরস পরস্পর মুষ্ট্যাঘাত করে করে, ভৃগুর মস্তককে রক্তে স্নান করিয়ে, অবশেষে তাঁর প্রায়-শব দেহের গণ্ডদেশ ধারণ করে ভৃগুর হত্যা করলেন তামরস এবং মুখে প্রলাপ করতে থাকলেন, “নৃপতি হয়ে, সমস্ত মানুষকে নিপীড়ন করে ফেরা! … আজ তোকে সেই নিপীড়নের প্রতিদান ফিরিয়ে দিলাম”।
ভৃগুসেনের দেহ অনেক ক্ষণ নিথর হয়ে গেছিল, কিন্তু আবেগধারণ করে তামরস তাঁর কণ্ঠদেশকে আকর্ষণ করেই থাকলে, শেষে রাজা ছন্দ তাঁকে নিরস্ত করলেন, এবং শান্ত করলেন। অন্যদিকে বীর্য ও সুর মহাযুদ্ধে রত হয়েছিলেন। গুরু হলেও, সুর বলতে থাকলেন, “গুরু আপনি, তাই সমস্ত যোজনা আপনার মস্তিষ্কপ্রসূত জেনেও ক্ষমা করতে গেছি। কিন্তু তা বলে ঘুমন্ত মানুষকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র? তা আর ক্ষমা করা যায়না”।
এমন বলতে থাকলেন আর বীর্য আক্রমণ করতে পারার পূর্বেই, সুর তাঁকে মুষ্ট্যাঘাত করে করে ঘায়েল করতে থাকলেন। প্রকাণ্ড বলের সাথে আঘাত সহন করতে পারলেন না অধিকক্ষণ বীর্য। যখন বীর্য আর আঘাত করার সাহসও দেখাতে পারলেন না, তখন সুর বীর্যের বক্ষের উপর চরণ স্থাপন করে, দ্বিতীয় চরণ দ্বারা মুণ্ডে আঘাত করলে, মুণ্ড দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অপসারিত হলো।
অন্যদিকে করিন্দ্রের অবস্থাও অত্যন্ত করুন, তালের থেকে আঘাত খেতে খেতে। কিন্তু করিন্দ্রের মৃত্যু হলো এক অদ্ভুত ভাবে। তালের থেকে আঘাত খেতে খেতে সমস্ত শরীর থেকে লহুপাত হতে থাকলো করিন্দ্রের। সেই দেখে, এখার যখন করিন্দ্রের দেহ ভূপতিত হতে থাকলো, তখন তার নিচে একটি অশি রেখে ভণ্ডের হাতে মৃত্যু হলো করিন্দ্রের। ভণ্ড এবার সেই দেহকেও সঙ্গে নিয়ে চলে গেলেন নিঃশব্দে, শুধু করিন্দ্র যখন দেহত্যাগ করবে, তখন ভণ্ড একটি কনো কথা করিন্দ্রের কানের কাছে এসে বলেছিলেন। তাতে করিন্দ্র একটু হাস্য প্রদান করে দেহত্যাগ করেন।
যেই যুদ্ধ কাল প্রভাতে সমাপ্ত হবার ছিল, তা সেইদিন রাত্রেই সমাপ্ত হয়ে যেতে, চিত্তাদের শিবিরে আনন্দের হিল্লোল উঠলে, সুর সেই সমস্ত কিছুতে অংশগ্রহণই করলেন না। সেই দেখে দেবী পদ্মিনী ও দেবী নলিনী সুরের কাছে এগিয়ে যেতে, সুর তাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “বৌদি, এমন কিছু হচ্ছে, যা আমাদের চোখে পরছে না”।
দেবী পদ্মিনী হেসে বললেন, “আর তো কেউ অবশিষ্টই নেই কিছু করার জন্য। তাই আর চিন্তা কেন ভায়া!”
সুর মাথা নাড়িয়ে বললেন, “না বৌদি, একবার বিচার করে দেখো। ভণ্ড কনো যুদ্ধ করলো না, উপরন্তু সে যেন ব্যস্ত থাকলো সমানে করিন্দ্র ভ্রাতাদের দেহ অপসারিত করতে। একবার খেয়াল করে দেখো, গুরুদেব বীর্য, অর্ধেন্দু আর রাজা ভৃগুর দেহ এখানেই পরে থাকলো, কেউ নিয়ে গেল না! কিন্তু করিন্দ্রদের দেহ উঠিয়ে নিয়ে যাওয়াতে যেন একটা বিশেষ তৎপরতা কাজ করছিল। ভ্রাতা তাল করিন্দ্রের সর্বাঙ্গকে মুষ্ট্যাঘাত করে করে বিনষ্ট করে দিচ্ছিল। যেন মনে হলো, ভণ্ড ব্যকুল ছিল যাতে করিন্দ্রের দেহ আর বিক্ষিপ্ত না হয়। যেন আর বিক্ষিপ্ততা থেকে করিন্দ্রের শরীরকে উদ্ধার করার জন্য, সে অশি রেখে করিন্দ্রের প্রাণই নিয়ে নিলো। … একটা কিছু হচ্ছে বৌদি, মনে হচ্ছে যেন, করিন্দ্রদের ভ্রাতাদের দেহকে সুরক্ষিত করে রাখা যেন একটি বিশেষ রণকৌশল। আর ভণ্ডকে আমার সাথে যুদ্ধ করতে না দেওয়াও যেন সেই কৌশলেরই একটি অঙ্গ”।
দেবী পদ্মিনী চিন্তিত হয়ে বললেন, “আচ্ছা এমন নয়তো যে, ভণ্ড মাতা চিত্তাকে এবং তাত করিমুণ্ডকে আক্রমণ করার ফন্দি করছেনা তো?”
সুর সেই বিষয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে বললেন, “সেইদিকে তাকিয়ে কিছু করতে পারবেনা কেউ। মাতা ও তাতকে সুরক্ষিত করে রাখা আছে। তাঁদের কেউ অহিত করতে পারবেনা। কিন্তু… আচ্ছা, মৃতদেহকে অক্ষত রেখে কি জাদুবলে কিছু করা সম্ভব?”
দেবী পদ্মিনী উত্তরে বললেন, “তুমি বলতে চাইছ, অতিভৌতিক ক্রীড়ার কথা, অর্থাৎ কালোজাদুর কথা! … সম্ভব, অসম্ভব তো নয়। বিশেষ করে, যখন শৃঙ্খলা আর ঘৃতকুমারীরা অক্ষত আছেন। তবে যা হবে, কাল প্রভাতের আগে কিচ্ছু হবেনা। তাই নিশ্চিন্তে এখন নিদ্রা যাও অনুজ। সারাদিন যুদ্ধে বহু উর্জ্জাক্ষয় হয়েছে। বিশ্রাম নিয়ে, নিজের উর্জ্জাকে পুনরায় একত্রিত করো”।
সুর সেই কথা শুনে নিদ্রালাভের প্রয়াস করলেন। বেশ কিছুক্ষণ করিন্দ্রদের বিষয়ে চিন্তাও করলেন, কিন্তু অত্যন্ত পরিশ্রান্ত দেহ ক্রমশ নিদ্রার কোলে এলিয়ে গেল। অন্যদিকে হুতা, মিতা, স্ফীতার নির্দেশে ভণ্ড গেলেন দেবী চিত্তা ও করিমুণ্ডকে উঠিয়ে নিয়ে আসতে, আর সঙ্গে দেবী শৃঙ্খলা একটি তাবিজ প্রদান করে, ভণ্ডের গলে সেই তাবিজ পরিয়ে দিয়ে বললেন, “যদি নিজের রূপ বদল করতে হয়, কেবলই নেত্র বন্ধ করে, সেই রূপ ধারণের চিন্তা করবে, যা তুমি ধারণ করতে চাও। … ব্যাস, তাতেই হয়ে যাবে”।
ভণ্ড রাজপুরের দিকে অগ্রসর হলেন, আর দেখলেন দেবী চিত্তা ও করিমুণ্ড পৃথক পৃথকভাবে হন্যতন্য করে পায়চারি করছেন। হয়তো পুত্রদের কুশলসংবাদ শ্রবণের অপেক্ষা করছে। এমন বিচার করে, সুরের দেহ ধারণ করে, ভণ্ড উপস্থিত হলেন দেবী চিত্তাদের সম্মুখে, আর উত্তেজিত হয়ে বললেন, “মাতা, তাত! … আপনাদেরকে আর অপেক্ষা করতে হবেনা এখানে। সম্পূর্ণ করিন্দ্রকুল বিনষ্ট হয়ে গেছে আমাদের প্রতাপের সম্মুখে। আপনারা আসুন, দেখে যান আমাদের শিবিরে সকলে কেমন নিশ্চিন্তে নিদ্রা গেছেন”।
দেবী চিত্তা হাস্য প্রকাশ করে বললেন, “পুত্র, তুমিই তো আমাদেরকে এই সুরক্ষিত কবচের মধ্যে স্থাপিত করে গেছিলে। তা এই কবচকে ভেদ না করলে, আমরা কি করে বাইরে মুক্ত হতে পারবো!”
সেই কথা শুনে, ভণ্ড ঈষৎ হাস্য হেসে, রাজপুরেরমধ্যে প্রবেশ করতে গেলে, তিনি প্রবেশ করতে পারলেন না। দেবী চিত্তা সেই দেখে চিন্তিত হয়ে উঠে বললেন, “কে তুমি! … তুমি তো সুর নও। সুর তো নিজে এই কবচের নির্মাণ করেছে। সে তো স্পষ্ট জানে যে, সে নিজেও এই কবচকে ভেদ করতে পারবেনা। … তুমি কে? নিজের বাস্তবিক রূপ প্রকাশ করো”।
ভণ্ড এবার নিজের রূপ ধারণ করে, ধনুশ ও একের পর এক বিভিন্ন প্রকার বাণ ধারণ করে করে, সেই কবচকে ভেদ করার প্রয়াস করতে থাকলো, প্রভাত পর্যন্ত সমস্ত প্রয়াস করতে থাকলো। ভোরের আলোক ফুটে গেলে, ভণ্ড নিজের অন্তরে অন্তরে হিসাব করলেন, নিশ্চয়ই শৃঙ্খলাদেবীরা এতক্ষণে সেই বিশাল তনুর নির্মাণ করে ফেলেছেন। … এই বিচার করে, পুনরায় একের পর এক বাণ নিক্ষেপ করতে থাকলেন, কিন্তু কনো বাণে কনো কাজ দিলো না।
সুরের স্থাপিত কবচকে কিছুতেই ভেদ করতে না পেরে, অন্তে খল বুদ্ধি প্রয়োগ করে বললেন, “দেবী, আপনাদেরকে মুক্ত করতেই আমি এসেছিলাম। আমায় আপনি বিশ্বাস করবেন না বলেই সুরের দেহ ধারণ করে এসেছি। … আসলে সুররা কেউ আর জীবিত নেই। আমরা সকলকে হত্যা করেছি। তাঁদের দেহকে দহন করার পূর্বে, ভাবলাম, তাঁদের মাতাকে অন্তিমবার তাঁদের দেহ দেখাবো একটিবার। কিন্তু না, আপনারা তো তাঁদের দেহ দেখতেও চান না! … অদ্ভুত জননী আপনি!”
দেবী চিত্তা এবার হাস্যবশে বললেন, “পুত্র ভণ্ড, যদি এই তোমার কথন হতো, তাহলে এই প্রভাত পর্যন্ত নিরন্তর বাণ নিক্ষেপ করে করে এই কবচকে ভেদ করার প্রয়াস করতেনা । … তবে যাই হোক, স্পষ্ট করেই বলে দিচ্ছি তোমাকে, এই কবচ ভেদ করার সামর্থ্য কারুর নেই, এক সুর ছাড়া। সুরও স্বয়ংও এই কবচের মধ্যে প্রবেশ করতে পারবেনা, এই কবচকে বিনষ্ট না করা পর্যন্ত। তাই সমস্ত প্রয়াস ব্যর্থ তোমার”।
ভণ্ড এবার কিছু বলতে যাবেন, একটি অট্টহাস্য শ্রবণ করলেন। প্রবল সেই অট্টহাস্য, যেন সমস্ত ভুবন কেঁপে উঠলো সেই হাস্য শ্রবণ করে। তাই এবার ভণ্ড নিজের কথন পালটে নিয়ে, ঈষৎ হেসে বললেন, “তাহলে তো আর কিছু করারই প্রয়োজন নেই। চিরকালের মত এই কবচের মধ্যেই বিরাজ করুন। ওই যে অট্টহাস্য শুনলেন! এটি হলো আপনার পুত্রদের চিরবিদায় দেবার সঙ্কেত। আর সুর ফিরবেও না, আর আপনাদের এই কবচেরও ভেদ করবে না সে। … অর্থাৎ! … এখানেই চিরকাল অবস্থান করুন”।
এত বলার পরেও যখন ভণ্ড দেখলেন যে দেবী চিত্তা বিচলিত হয়ে গেছেন, কিন্তু তাঁর এই কবচ থেকে নির্গত হবার কনো অভিপ্রায়ই নেই, তখন বুঝলেন, দেবী চিত্তা সঠিকই বলছেন। তাই সেই বিচার করে, এবার তিনি নিজের শিবিরে প্রত্যাবর্তন করে গিয়ে, দেবী হুতাদের সমস্ত কথার বিবরণ করলেন। দেবী হুতা ও স্ফীতা আনন্দের সাথে হেসে উঠে বললেন, “আর কিসের চিন্তা। … চিত্তা আর করিমুণ্ড ওই কবচেই থেকে থেকে হেদিয়ে হেদিয়ে মৃত্যুলাভ করবে। … কারণ চিত্তাপুত্রদের হত্যা করার জন্য মত্তকরি তো জন্ম নিয়েই নিয়েছে”।
ভণ্ড সেই শিবিরকক্ষ থেকে মুক্ত হয়ে গিয়ে দেবী শৃঙ্খলাদের সন্ধান করতে, তিনি যার সম্মুখে এসে বসলেন, তিনি একটি বিশাল দানব। উচ্চতায় তিনি ১০টি মানুষের সমান। এঁর সম্মুখে তালও মাত্র পাঁচভাগের একভাগ। তাই দেখে আনন্দিত হয়ে উঠে ভণ্ড সম্মুখে গিয়ে বললেন, “মিত্র! মিত্র মত্তকরি! … এই আকারের দেহ নিয়ে তুমি তালকে নিজের করতলে কি ভাবে স্থাপিত করবে? সেও যে নিতান্ত মানুষের ন্যায় দেখতে নয়!”
এই কথনে হাস্য প্রদান করে মত্তকরি নিজের তনুকে আরো ১০ গুণ বৃদ্ধি প্রদান করলে, পুনরায় গগনচেরা হাস্য প্রদান করে এবার বললেন, “এবার আসবে তো তাল আমার করতলে?”
ভণ্ড আনন্দের সাথে উচ্চাকাঙ্ক্ষায় চিৎকার করে বললেন, “বেশ হবে, বেশ হবে। … মিত্র, আমাকে ক্ষমা করো, আমি তোমার দেহ যাতে আর বিক্ষিপ্ত না হয় তালের মুষ্ট্যাঘাতের কারণে, তাই তোমার ভূপতিত হবার স্থানে অশি রেখে দিয়েছিলাম, যার কারণে তোমার মৃত্যু হয়েছিল”।
দেবী শৃঙ্খলারা হেসে বললেন, “উনার এখন সেই সমস্ত কথা স্মরণে নেই। … স্মরণে আসবে, যখন দেবী ঘৃতকুমারীরা তাঁদেরকে পুনরায় ২০টি ভ্রাতার দেহে বিভক্ত করে দেবেন”।
ভণ্ড সেই কথাতে তৃপ্ত হলে, সেই দৈত্যাকায় মত্তকরি বললেন, “কই ভণ্ড আমাদেরকে ওই চিত্তাপুত্রদের কাছে নিয়ে চলো। আমি যে তাঁদেরকে ভক্ষণ করবো বলে, ব্যকুল। ক্ষুধার্ত আমি, কিন্তু মাতারা (দেবী শৃঙ্খলাদের দেখিয়ে) বলেছেন, তাঁদেরকে করতলে একটি সরলরেখায় স্থাপিত করে আহার করলে, তবেই আমার উদরপূর্তি হবে। তাই কই, নিয়ে চলো তাঁদের কাছে!”
অন্যদিকে চিত্তাদের শিবিরে, সুরের নিদ্রাভঙ্গ হয়েছে, আর সে নিদ্রাত্যাগ করে অধিক বিচলিত। সে ভ্রাতা তালের নিকটে এসে বলল, “ভ্রাতা, আমার মন অত্যন্ত কু গাইছে। মনে হচ্ছে যেন এমন কিছু হতে চলেছে আজকে, যার উপর আমাদের কনো নিয়ন্ত্রণই থাকবেনা”।
তাল তাঁকে শান্ত করে বললেন, “আহা চিন্তা ত্যাগ করো, আর চলো আমরা রণক্ষেত্রে যাত্রা করে সর্বদিক সন্ধান করে, ভণ্ডকে ঠিক খুঁজে বার করে, তার হত্যা করবো। একমাত্র সে’ই অবশিষ্ট আছে সমস্ত করিসেনার মধ্যে। আজ তার হত্যা হবে, আর তোমার হাতে তার হত্যা হবে”।
