জগদ্ধাত্রেয় কাণ্ড (কৃতান্ত দ্বিতীয় কাণ্ড)

যোজনা অনুসারে, কোজাগরী পূর্ণিমার ঠিক পরের দিন, করিন্দ্র করাভ, মিত্রারি, করন্ধ, মনকরি ও ভণ্ডকে সঙ্গে নিয়ে গমন করলেন চিত্তাজদের উদ্দেশ্যে। সেখানে তখন উৎসবের মহল। জম্বুদেশের সকলে এসে উপস্থিত হয়েছেন। সঙ্গে রয়েছে তাঁদের বিপুল নজরানা। কেউ এনেছেন এক সহস্র গতিশীল ঘটক, তো কেউ এনেছেন ১০ জোরা হস্তি; কেউ এনেছেন প্রচুর ক্ষেত ফসল, তো কেউ এনেছেন বিপুল মৎস্যভাণ্ডার আর ফলের ভাণ্ডার।

সকলে মিলে, সম্রাট ছন্দচিৎকে সুসজ্জিত করে তুলেছেন। এঁদেরই মধ্যে একজন ছিলেন করিমুণ্ড। সম্পূর্ণ চন্দননগর দুর্গকে সুসজ্জিত করা হয়েছে। অভেদ্য সেই দুর্গ। কতটা অভেদ্য, তার সম্বন্ধে সম্পূর্ণ ধারণা ছিল করিন্দ্রের। সেই কারণেই তো বাইরে থেকে আক্রমণের চিন্তা ত্যাগ করেন, আর তা করলেও, জলপথে করার চিন্তা রাখেনই না।

এমত অবস্থায়, করিন্দ্র কেবল তাঁর ভ্রাতা করাভ ও মিত্র ভণ্ডকে নিয়ে প্রবেশ করলেন সভার দ্বারদেশ দিয়ে। প্রবেশ করার কালে তাঁর পথকে কেউ অবরুদ্ধ করেন নি, দেখে বেশ বুঝতে পারলেন যে, তাঁদের আগমনে কনো প্রতিবন্ধকতা সম্রাট ছন্দ রাখেননি। অন্দরে প্রবেশ করে, সভার মধ্যস্থলে উপস্থিত হয়ে, করিন্দ্র সম্রাট ছন্দের উদ্দেশ্যে প্রণামি ভঙ্গিতে বললেন, “সম্রাট, সম্পূর্ণ জম্বুদেশ আপনার অধীনে, কিন্তু আমার অধীনে থাকা তিন রাজ্য আপনার সুশাসন থেকে বঞ্চিত কেন থাকবে, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে না পেয়ে, আপনার কাছে উপস্থিত হয়েছি”।

ছন্দ মৃদু হেসে বললেন, “অভিমত কি তোমার করিন্দ্র। স্পষ্ট করে বলো”।

করিন্দ্র পুনরায় বললেন, “অভিমত আমার এই যে, যেই তিন রাজ্যকে আমি আমার দখলে রেখেছি, তাঁদেরকেও আপনি গ্রহণ করে, তাদের মধ্যেও আপনি আপনার শাসন স্থাপিত করুন”।

ছন্দ হেসে বললেন, “ভ্রাতা করিন্দ্র, (রাজা বর্ধিষ্ণুকে দেখিয়ে) ইনাকে দেখ। বর্ধমান থেকে অর্থাৎ মল্লার দেশের নিম্নতল থেকে সুন্দরের বন পর্যন্ত ইনার রাজত্ব বিস্তারিত। তুমি তো জানবেই ইনার কথা! ইনার ভ্রাতা, অর্ধেন্দু তোমার কাছে গেছিলেন তো! … তা ইনি, নিজের রাজ্য স্বেচ্ছায় আমাদের কাছে এসে, কৃতান্তিক ধর্মের কাছে সমর্পণ করেছেন। তাই, সেই অনুযায়ী, তুমিও যদি নিঃশর্ত অর্পণ করতে চাও রাজ্য, আমাদের তাঁকে গ্রহণ করে, কৃতান্তিক ধর্মমতে তাকে শাসন করতে কনো দ্বন্ধ নেই”।

করিন্দ্র হেসে বললেন, “সম্রাট, আপনার থেকেই শেখা যে, বিনা পরিশ্রমে কিছু লাভ হলে, তা হেলায় চলে যায়। তাই কেন না ঈষৎ পরিশ্রম করে, আমার তিন রাজ্যকে আপনি অধিকার করে নিন!”

ছন্দ হাস্য প্রদান করে বললেন, “আগেও বলেছি ভ্রাতা, নিজের অভিমত নিঃসংকোচ হয়ে ব্যক্ত করো”।

করিন্দ্র ক্রুর হাস্য হেসে বললেন, “আমার এই মিত্র; সম্রাট এঁর নাম ভণ্ড, ধরাত্ম পুত্র সে, আর তাঁর দাবি যে শ্রেষ্ঠ ধনুর্ধর সে। আমার তাঁর কাছে দাবি ছিল এই যে, শ্রেষ্ঠ ধনুর্ধর সুরচিৎ, আমাদের সকলের ভ্রাতা। কিন্তু তাঁর দাবি যে, সুরকে সে অনায়স পরাস্ত করে দিতে পারে যুদ্ধে। … সম্রাট, কনো মৃত্যু খেলার কামনা করছিনা। তবে কি জানেন তো, নিজের পরিবারের কনো সদস্যের উপর অঙ্গুলি উঠলে, ঠিক হজম করতে পারিনা। … তাই সম্রাট, সুর আর ভণ্ডের একটি দ্বৈরথের যদি অনুমতি দেন! … আমি আমার রাজ্যকে বাজি রাখলাম ভণ্ডের সাথে। যদি আপনিও এই দ্বৈরথে সম্মত থাকেন, তবে সুরের পক্ষে থেকে আপনিও বাজি রাখুন”।

ছন্দ চোয়াল শক্ত করে বললেন, “বেশ, আমিও আমার তিন রাজ্য রাখলাম বাজিতে, সুন্দরবন, মল্লরাজ এবং নদিয়াদ। দ্বৈরথে আমার অনুমতি রইল। সুর, তুমি ভণ্ডের সাথে দ্বৈরথে যেতে প্রস্তুত?”

সুর চোয়াল শক্ত করে বললেন, “সম্রাটের আদেশ”।

এতবলে সুর ও ভণ্ড জগদ্ধাত্রী তটে যাত্রা করলেন, আর দুর্গ থেকে সকলে তাঁদের দ্বৈরথ দেখতে থাকলেন। প্রথম প্রহার ভণ্ড করলেন, এক ঝাঁক সর্পকে মন্ত্রবলে স্থাপিত করে, তা বাণের মাধ্যমে সুরের দিকে প্রেরণ করে। প্রত্যুত্তরে, সুর বাণই চালালেন না। কেবল ভূমিতে পদাঘাত করতে, অগ্নির সঞ্চার করে, সমস্ত সর্পকে অগ্নিদগ্ধ করে দিলেন।

করিন্দ্র থেকে আরম্ভ করে ভণ্ড সকলে চমকিত হলেন এমন কৃত্যে, কারণ তাঁরা বরাবর শিখে এসেছেন, সর্পের বাণের উত্তর গড়ুর বাণ, কিন্তু সুরের প্রহারের ধারাই অন্যপ্রকার। প্রকৃতিই যেন তাঁর সমস্ত কথার উত্তর, সমস্ত প্রশ্নের আধার।

ভৃগু এবার গরুড় বাণ নিক্ষেপ করলেন, এমন ধারণা করে যে হয়তো এই মোক্ষম অস্ত্রের উত্তর সুরের কাছে নেই। গরুড় বাণ দেখে, সুর যেন অতিশয় ক্ষিপ্ত হয়ে গেল। সুর এবার একটি বাণ নিক্ষেপ করলেন, যার মাধ্যমে কিছু ধানের গোছা প্রদান করলেন। সকলে দেখলেন আর বিস্মিত হলেন যে গরুড় সেই ধানের গোছা দেখা মাত্র, তাকে প্রণাম করে অবলুপ্ত হয়ে গেলেন।

এর কারণ কি, এর ভিত্তি কি, কেউ কিছুই বুঝতে পারলেন না। ভণ্ডও বুঝতে পারলেন না। আর না বুঝতে পেরে এবার, সে গরুড়ের মালিকের বাণ নিক্ষেপ করলেন, অর্থাৎ নারায়ণাস্ত্র। সেই অস্ত্র দেখে, মুচকি হেসে, সুর এবার এক মোক্ষম বাণ নিক্ষেপ করলেন, যার সাথে ভণ্ড কেন, কেউই পরিচিত নন। সেই অস্ত্রের নাম কালাগ্নি। কালরূপী অগ্নি সেই অস্ত্র, নারায়ণাস্ত্রকে খাদ্যের মত গিলে নিলো নিজের উদরে, আর তারপর সেই অস্ত্র সরাসরি ভণ্ডের পদতলের ভূমিকে উপরে ফেলে দিলে, কিছু যোজন দূরে গিয়ে ভণ্ড পতিত হলেন।

সেই দেখে বিস্মিত হলেন করিন্দ্রও আর ভণ্ড স্বয়ংও। নিজের চরণকে ভূমির উপর চাপ দিয়ে, পুনরায় নিজের পূর্বের অবস্থানে উপস্থিত হলেন ভণ্ড আর এবার মোক্ষম অস্ত্র, পাশুপাত অস্ত্র ধারণ করতে, ক্ষিপ্ত সুর এবার মহাকালী খড়গ নিক্ষেপ করলেন। আর সেই খড়গ পাশুপাতকে বিনষ্ট করেই কেবল ক্ষান্ত হয়না। সেই খড়গ ভণ্ডের ধনুশকে খণ্ড করে, ভণ্ডের ছাতির কবচকে তিন টুকরো করে দিলে, ভণ্ড ভূমিতে গগনের দিকে তাকিয়ে, শবের মত পড়ে রইল।

সেই দেখে, সুর তাঁর নিকটে উপস্থিত হয়ে বললেন, “তোমার কবচ যে ভগ্ন করবে, তার থেকে তোমার মৃত্যু ভয় থাকা উচিত, তাই না! তাই এবার নিজেকে অমর কল্পনা করা বন্ধ করে দাও, আর ফিরে যাও নিজের মিত্রের হাত ধরে”।

ছন্দ এবার করিন্দ্রের কাছে এসে বললেন, “অনুজ ভ্রাতা হও তুমি আমার। তাই ছোটো জ্ঞান করে ক্ষমা করে দিলাম। ফিরে যাও রাজ্যে, আর নিজের রাজ্যকে সঠিক ভাবে সঞ্চালন করো। যাও, ফিরে যাও। তোমার রাজ্য তোমারই থাকলো”।

মিত্র ভণ্ড ও করাভকে নিয়ে ফিরে এলেন করিন্দ্র। পথে বিস্মিত ভণ্ডকে সান্ত্বনা দিতে, করিন্দ্র বললেন, “ভালো যুদ্ধ করেছ তুমি ভণ্ড। কিন্তু সুরের শক্তি ভয়ঙ্কর, সেই কথা আগে মামাও তোমাকে বলেছেন, আর আজ তুমি সম্মুখ সমরে দাঁড়িয়ে মামার কথার সত্যতার প্রমাণও পেয়ে গেলে। অনেক অনেক অধিক শক্তিসঞ্চয় করতে হবে তোমায় ভণ্ড, তবেই তুমি সুরের সম্মুখে স্থিত হতে পারবে”।

ভণ্ড নিজের বিস্ময় থেকেই বললেন, “না মিত্র, বিশ্বাস করো আমার কথাতে। এমন অস্ত্র কারুকে ধারণ করতে আমি না শুনেছি কনোদিন, না আমি দেখেছি কারুকে!”

করিন্দ্র হেসে বললেন, “জানি আমি মিত্র, তাই তো আচম্বিত হয়েছিলাম তোমার সেই কথা শুনে যে তুমি অনায়সে সুরকে পরাস্ত করতে সক্ষম। … মিত্র, এই ত্রিভুবনে, এমন কেউ নেই যে তাঁর সম্মুখীন হতে সক্ষম। না তো কনো মানব, না তো কনো দানব আর না তো কনো দেব। স্বয়ং নিয়তি যার যুদ্ধকৌশল, স্বয়ং প্রকৃতি যার যুদ্ধের অস্ত্র, আর স্বয়ং চেতনা যার অন্তরের যোদ্ধা, তাকে পরাস্ত করে কার সামর্থ্য! … তাই মিত্র, তোমাকে তার সাখ্যাতকার করালাম, আর তোমাকে এই বললাম যে, সুরের সম্মুখীন হতে গেলে, তোমাকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে”।

ভণ্ড বললেন, “কিন্তু আর কি ভাবে পরিশ্রম করবো, আমার মধ্যে আর কনো তত্ত্ব কাজ করছেনা!”

করিন্দ্র হেসে বললেন, “তপস্যা করো মিত্র, নারায়ণাস্ত্র, পাশুপাত এবং ব্রহ্মাস্ত্র, এই তিনকে একত্রিত করে কনো এক অস্ত্র নির্মাণ করো। তবেই সুরের সম্মুখীন হতে পারবে তুমি। সাধারণ কনো অস্ত্র, বা এই তিন মোক্ষম অস্ত্রকে পৃথক পৃথক ভাবে নিক্ষেপ করেও তো দেখলে, সুরের উপর এঁদের কনো প্রভাব পরলোই না! … তাই একটিই উপায়, এঁদেরকে একত্রিত করো, আর যদি সম্ভব হয়, তবে যমের থেকে সুরের কালবাণ লাভ করো। মিত্র, জন্ম নিয়েছে মানে মৃত্যু অবধারিত। তাই তাঁর কালবাণ যদি সঞ্চয় করতে পারো, তবেই তাঁর অন্ত করতে সক্ষম হবে তুমি। ধনুর্বিদ্যা তোমারও যথাযথ, যা প্রয়োজন, তা হলো সঠিক অস্ত্র, যা তোমার কাছে এক্ষণে নেই”।

ভণ্ড বললেন, “বেশ, বুঝলাম। আমি সেই তপস্যাতেই রত হবো। ত্রিদেবাস্ত্র আর সুরকালাস্ত্র আমি ধারণ করবো। তার জন্য যত তপস্যা করতে হয়, হবে। কিন্তু এক্ষণে, তোমার তো মানসম্মান সমস্ত কিছু গেল মিত্র, আমার কারণে!”

করিন্দ্র হেসে বললেন, “যখন উদ্দেশ্য সম্মুখে জ্বলজ্বল করে হাতছানি দেয়, তখন মান সম্মানের কনো প্রয়োজন থাকেনা মিত্র। আমি আমার উদ্দেশ্য পুড়ন হতে দেখতে পাচ্ছি। চিন্তা করো না। কিছুক্ষণের মধ্যেই তোমার কাছে সমস্ত রহস্য উন্মোচিত হয়ে যাবে। … তখন বুঝতে পারবে যে, আমি জানতামই যে তুমি সুরের কাছে পরাজিত হবে, আর তা জেনেও তার কাছে তোমাকে নিয়ে গেছিলাম। আসলে আমার ষড়যন্ত্রের জালের একটি দিক ছিল তোমাকে যুদ্ধে রত করা সুরের সাথে। এই জালের অপর প্রান্ত অন্যদিকে নিজের ক্রিয়া করে চলেছিল। সময় এসে গেছে, এবার সেই রহস্য উন্মোচনের। তাই কৃয়ৎ ধৈর্য ধরো মিত্র। এই মান, যা আমি খোয়ালাম, সেটিই ছিল আমার প্রয়োগ করা সম্মোহন বাণ”।

এতবলে অট্টহাস্য হাসলে, করাভও করিন্দ্রের সাথে হাসলেন, কিন্তু ভণ্ড এর কনো মাথামুণ্ডু বুঝতে না পেরে, কেবলই রাজা করিন্দ্র ও রাজপুত্র করাভের সঙ্গ দিলেন, এবং তাঁরা সকলে কাতা রাজপ্রাসাদের অন্তরে প্রবেশ করলেন। বীর্যের কাছে সমস্ত কিছুর সংবাদ ইতিমধ্যেই এসে গেছে। তাই তিনি অপমানের জ্বালায়, সমস্ত রাজসভাকে বারংবার পায়চারি করছিলেন।

করিন্দ্র, করাভ ও ভণ্ড সভাতে প্রবেশ করলে, বীর্য তাঁদের উপর ঝাঁপিয়ে পরলেন, আর করিন্দ্র দেখলেন, সমস্ত রাজপুরের সমস্ত সভাসদ মাথা নত করে বসে রয়েছেন। সেই দেখে হাস্য প্রদান করে, করিন্দ্র বললেন, “অর্ধেন্দু, তুমি তো ভালো পত্র লিখতে পারো, তা একটি পত্র লেখো শীঘ্র আর তা সম্রাট ছন্দের কাছে প্রেরণ করো”।

বীর্য এবার আরো অধিক উদ্বিগ্ন হয়ে উঠে বললেন, “এসবের মানে কি ভাগ্নে! … আমি আগেই বলেছিলাম, সুরের সম্মুখে ভণ্ডের ধনুর্বিদ্যা অতি তুচ্ছ। আমি সুরকে শিক্ষাদান করেছি। আমি জানি তাঁর মেধা কি অসামান্য, তাঁর একাগ্রতা কি প্রকার অভেদ্য, আর তাঁর বলের রহস্য কি। তাকে দমন করা অসম্ভব। কিন্তু তুমি আমার একটি কথাও শুনলে না। … এবার চিন্তা করো, এই যে রাজ্য তুমি ধারণ করে রয়েছ, তা সমস্তই দানের ভূমি! … বুঝতে পারছো ভাগ্নে, সম্রাট ছন্দ তোমাকে দান করেছেন এই রাজ্যখণ্ড। তুমি এক দানের রাজ্যের রাজা। দয়ার পাত্র হয়ে রয়ে গেলে তুমি!”

করিন্দ্র হেসে উঠে বললেন, “মামা! মামা! মামা! … বড় চঞ্চল দেখাচ্ছে তোমাকে। … আচ্ছা, তুমি আমাকে একটা কথা বলো, এই সম্পূর্ণ জম্বুদেশ। ঠিক কতদিন এর উপর শাসন করতে পারলে, তুমি একে সম্পূর্ণ ভাবে ছায়াপুর করে দিতে পারবে!”

বীর্য বিদ্রূপের সাথে বললেন, “যা মনে আসছে বলে চলেছ ভাগ্নে! তোমার মতি ভ্রষ্ট হয়ে যায়নি তো!”

করিন্দ্র পুনরায় হাস্য প্রদান করে বললেন, “আহা, যা প্রশ্ন করছি তা বলোই না। … কাজে লাগবে আমার এই তথ্য। এই তথ্য আমাকে সহযোগ করবে, আমার পরবর্তী পরিকল্পনা স্থির করতে”।

করিন্দ্রকে সম্যক ভাবে নিজবচনে স্থির দেখে, ভরসা পেয়ে বীর্য বললেন, “ভাগ্নে, যেকোনো অভ্যাসকে চরিত্রে পরিণত করতে গেলে, অন্তত ১২ বৎসর লাগে। ১২ বৎসর সমানে কনো অভ্যাস করে গেলে, তা চরিত্রে স্থিত হয়ে যায়, আর একবার তা চরিত্রে স্থিত হয়ে গেলে, আর তাকে পরিবর্তিত করা যায়না। তাই ১২ বৎসর হলো সেই সময়কাল। যদি আমাকে কেউ জম্বুদেশকে এই ১২ বৎসর প্রদান করে দেয়, তাহলে আমি তাঁকে ছায়াপুরে পরিণত করে দেব, আর সেই ছায়াপুর অভেদ্য হবে”।

করিন্দ্র মাথা নেড়ে বললেন, “কিন্তু সেই অভ্যাস তো প্রথম দিন থেকে স্থাপিত হবেনা। শাসনতন্ত্র দ্বারা তাকে স্থাপিত করতেই একটি বৎসর লেগে যাবে। অর্থাৎ ১৩ বৎসর। …চলো মামা, এই জম্বুদেশ তোমার হাতে আমি ১৩ বৎসরের জন্য অর্পণ করলাম। করে দাও একে ছায়াপুর”।

এবার কেবল বীর্য নয়, বীর্যের সাথে অর্ধেন্দু, শঙ্কর, অম্বরিশ, ভৃগু, অর্ধেন্দু, এমনকি দেবী হুতা, মিতা ও স্ফীতাও তিরস্কারের সুরে বলে উঠলেন, “তোমার মতির ঠিক আছে তো করিন্দ্র! … যা মনে আসছে, তাই বলে যাচ্ছ!”

করিন্দ্র এবার তির্যক হেসে বললেন, “মিতাম্বর, অন্তঃপুরে গিয়ে দেখো তো, মনকরি এসে পৌঁছেছে কিনা!”

মিতাম্বর বেশ কিছুক্ষণ পরে সভাতে প্রবেশ করলেন, আর নিজের সঙ্গে মনকরিকে নিয়ে এলেন। মনকরিকে দেখে, করিন্দ্র প্রশ্ন করলেন, “যেই কর্ম সঁপেছিলাম, তা সম্পন্ন হয়েছে!”

মনকরি মাথা উঁচু করে বললেন, “হ্যাঁ ভ্রাতা, সূতানটিতে তাঁকে রাখা আছে বন্দী দশায়”।

করিন্দ্র পুনরায় মাথা নেড়ে হাস্য প্রদান করে বললেন, “বেশ বেশ। … এই যে অর্ধেন্দু, তোমাকে একটি পত্র লিখতে বললাম, তুমি তো লিখলে না!”

অর্ধেন্দু প্রশ্ন করলেন, “বলুন মহারাজ, কি লিখবো সম্রাট ছন্দকে এই পত্রে”।

করিন্দ্র হেসে বললেন, “লেখো, গত একটি দিবসব্যাপী, নিশ্চিত ভাবে আপনারা অত্যন্ত পীড়িত ও দ্বন্ধে পতিত। তাই এই পত্র আপনাদের লিখলাম। যার সন্ধান করে করে আপনারা দ্বন্ধে পতিত, তিনি আমাদের কাছে আছেন। যথাযথ মুক্তিপণ প্রদান করে, তাঁকে নিয়ে যান আমাদের থেকে”।

বীর্য চিন্তিত হয়ে বললেন, “কাকে নিয়ে এসেছ তুমি বন্দী করে? কার মুক্তিপণের কথা তুমি বলছো?”

করিন্দ্র হেসে বললেন, “মামা, তোমার কি মনে হলো, আমি জানি না সুরের সামনে ভণ্ড দাঁড়াতেও পারবেনা সঠিক করে! … জানি মামা, খুব ভালো করে জানি। এই করিন্দ্র নিজের শত্রুর শক্তির পরখ করবেনা, তা তো হতেই পারেনা। … প্রয়োজন ছিল, ভণ্ডকে সুরের শক্তির সাথে পরিচয় করানোর, যাতে ভবিষ্যতে সুর তাঁকে পরাস্ত করতে না পারে। … কিন্তু শুধুই কি ভণ্ডকে সুরের শক্তি প্রদর্শন করানোর জন্য আমি সেখানে গিয়ে নিজের মানসম্মান খুইয়ে এসেছি মামা!

না মামা, আমরা সেখানে অনেকে গেছিলাম, কিন্তু রাজসভাতে কেবলই আমি, ভণ্ড আর করাভ গেছিলাম। অন্যদিকে মনকরি দেবী চিত্তাকে বন্দী করে নিয়ে এসেছে। আর এবার তাঁর মুক্তিপনের জন্য, হয় ভাগ্যলক্ষ্মী, দেবী সর্বশ্রীকে আমার কাছে অর্পণ করতে হবে, আমার সম্ভোগের উদ্দেশ্যে, আর নয়তো সম্পূর্ণ জম্বুদেশের সাম্রাজ্য ত্যাগ করতে হবে ১৩ বৎসরের জন্য”।

বীর্যের নেত্র এবার জ্বলজ্বলে হয়ে উঠলে, তিনি বললেন, “কিন্তু পুত্র মাত্র ১৩ বছরের জন্য কেন? কেন অনন্ত কালের জন্য নয়?”

করিন্দ্র হেসে বললেন, “মামা, সিংহকে দমন করার উপায় জানেন তো! … সহজ, অতি সহজ। তাকে নির্বাসনে প্রেরণ করে দাও। সে এমনিই নষ্ট হয়ে যাবে। অন্তর থেকে তাঁর সিংহ হবার ভানটাই চলে যাবে। তখন তো সামান্য এক হায়নার দলই তাকে ছিঁড়ে খেয়ে নিতে পারে। … এই চিত্তাপুত্ররা হলো সিংহ, আর তাই তাদেরকে নির্বাসনে প্রেরণ করতে হবে। … যেখানে প্রজা নেই, সেখানে সিংহরূপ চিত্তাপুত্ররা নিজেদের সিংহসুলভ মানসিকতাই হারিয়ে ফেলবে। … আর একবার সেই মনোবল হারিয়ে ফেললে, তাঁদেরকে ছিঁড়ে খেয়ে নেবো আমরা”।

হুতা সম্মুখে এসে বললেন, “ভুল করছো করিন্দ্র। রাজার আসনে বসার জন্য সিংহ লালায়িত থাকে সবসময়ে, কিন্তু চিত্তাপুত্ররা তেমন নয়। তাঁরা সিংহ নয়, ব্যঘ্র। আর ব্যঘ্র একাকীত্বই পছন্দ করে। এই একাকীত্বের কালে সে নিজের শক্তিসঞ্চয় করে, আর যখন সুযোগ আসে, তখন নিজের শিকারের উপর সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর এই ভাবে ব্যঘ্র হস্তি পর্যন্ত শিকার করে নেয়, অন্য বন্যপশুদের তো বাদই দিয়ে দাও”।

করিন্দ্র উত্তরে বললেন, “তাহলে উপায় কি মাতা!”

হুতা চিন্তারত হলে, মিতা সম্মুখে এসে বললেন, “ব্যঘ্র নিজের ব্যঘ্রস্বভাব নিয়ে সর্বক্ষণ অহংকারী। তাই ব্যঘ্রকে যদি বাধ্য করা যেতে পারে যে, সে তার ব্যঘ্র স্বভাব ত্যাগ করুক, তাহলে তাঁর দন্ত নখ, সমস্তই কেবল দেখার বস্তু হয়েই থেকে যায়, না তো তাতে কনো প্রকার ধার থাকে, আর না সেই ধার ব্যবহার করার মত মানসিক অবস্থায় থাকে সে। তাই পুত্র, ব্যঘ্রদের বনবাসে না প্রেরণ করে, অজ্ঞাতবাসে প্রেরণ করো। … হ্যাঁ, চিত্তাপুত্রদের সমস্ত জম্বুদেশ চেনেন। তাই প্রথমেই তাঁদেরকে অজ্ঞাতবাসে প্রেরণ করা এক ব্যঘ্র নিয়ে পেশাদার ক্রীড়া প্রদর্শনকারীর জন্যও অনৈতিক। তাই প্রথম একটি বৎসর তাঁদেরকে বনবাসে গিয়ে আত্মগোপন করার সুযোগ দাও, তারপর অজ্ঞাতবাসের নির্দেশ দাও”।

স্ফীতা সম্মুখে এসে বললেন, “এই অজ্ঞাতবাসেও স্থিত হয়ে তাঁরা যোজনা করতে পারে পরবর্তী আক্রমণের। তাই সেই অজ্ঞাতবাসেও শর্ত প্রদান করো পুত্র। … এমন বলো যে, যদি তাঁদেরকে অজ্ঞাতবাসের কালে তুমি সনাক্ত করে নিতে পারো, তাহলে তাঁদেরকে পুনরায় ১২ বৎসরের অজ্ঞানবাসে যেতে হবে। … আর পুত্র, এরই সাথে সাথে সমস্ত জম্বুদেশের রাজাদের কাছেও এক পুরস্কারের শর্ত দিয়ে দাও পরবর্তী কালে যে, যিনিই চিত্তাপুত্রদেরকে অজ্ঞাতবাসের কালে সনাক্ত করে নিতে পারবেন, তাঁকে তুমি স্বয়ং ৩ বৎসরের জন্য জম্বুদেশের সম্রাটের আসন প্রদান করে, তুমি তাঁর মন্ত্রী হয়ে অবস্থান করবে”।

করিন্দ্র হেসে বললেন, “অতি উত্তম প্রস্তাব। … কি হলো অর্ধেন্দু, তোমার পত্র লিখন সমাপ্ত হলো!”

অর্ধেন্দু পত্র সহ সম্মুখে উপস্থিত হলে, মনকরির হাতে সেই পত্র প্রদান করে, করিন্দ্র বললেন, “যাও দূত হয়ে যাত্রা করো চন্দনের নগরে, আর সেখানে সম্রাট ছন্দের হাতে এই পত্র প্রদান করে শীঘ্র প্রত্যাবর্তন করো”।

যখন মনকরি চন্দননগর দুর্গের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলেন, তখন লক্ষ্য করলেন, চারিদিকে সকলে ছোটাছুটি করছেন ব্যস্ততার সাথে। তা দেখে নিজের অন্তরেই হাসলেন, কারণ এই ছোটাছুটির কারণ তিনি জানেন। এবার সম্রাট ছন্দের দর্শন কামনা করে, সভার মধ্যে মস্তকে হাত দিয়ে উপবেশনকারী সম্রাট ছন্দের সম্মুখে উপস্থিত হয়ে, পত্রপাঠ করলে, চিত্তাল ভয়ানক রূপ ধারণ করে, মনকরিকে দমন করতে এলে, মনকরি তটস্থ হয়ে এক বিক্রাল হাস্য হেসে বললেন, “ভয়ানক ভয় পেয়ে গেছি ভ্রাতা তাল। কিন্তু এইক্ষণে তো ভয় আপনাদের পাওয়া উচিত, কারণ আপনাদের প্রিয় মাতা আমাদের বন্দিনী। আর আমরা তাঁর সাথে যা খুশী করতে পারি। তাঁর মৃত্যু থেকে চরিত্র হনন, যা কিছু করতে পারি আমরা”।

তাল শান্ত হলে, অভয় লাভ করে মনকরি বললেন, “মাতা সমান বলে, তাঁর চরিত্রকে অক্ষুণ্ণ রেখেছি এখনো পর্যন্ত। বা বলতে পারেন, আপনাদের তিন চিত্তাপুত্র জীবিত, তাঁদের ভয়েই তাঁর চরিত্র অক্ষুণ্ণ রেখেছি। নাহলে, তাঁর রূপযৌবন এখনো যা আছে, তা আমাদের সকল ২০ ভ্রাতাকে তৃপ্ত করে দেবার মত”।

এই কথনে উগ্রচণ্ডাল হয়ে উঠে তাল হুংকার দিয়ে বলে উঠলেন, “একদিন রণক্ষেত্রে, তোদের সকল ভ্রাতাকে আমি একাই হত্যা করবো। আর করিন্দ্রের দেহ থেকে আমি তাঁকে জীবিত রেখে, তাঁর সেই নেত্র উব্রে নেবো, যেই নেত্র দ্বারা সে আমাদের মাতার দিকে কুনজর দিয়েছে”।

মনকরি হেসে বললেন, “সে না করবে ভ্রাতা, কিন্তু তার আগে মুক্ত তো করো তোমাদের মাতাকে। এমন না হয় যে, তোমরা এখানে বসে বসে শপথ গ্রহণ করতে থাকলে, আর সেদিকে আমাদের ভ্রাতাদের ঔরসে, তোমাদের মাতা পুনরায় গর্ভবতী হয়ে উঠলেন”।

সুর এবার হুংকার সহ বলে উঠলেন, “মনকরি, ভ্রাতা চিত্তাল তোদের নির্বংশ করবেই, আর তাঁকে সেই কর্ম করা থেকে যে বা যারা পথ আটকাবে, আমি তাঁদের সকলকে জটিল থেকে জটিল মৃত্যু প্রদান করবো। তাঁদের নষ্ট চরিত্রের প্রতিফল পেয়েই তাঁরা দেহরক্ষা করবে, এই আমার প্রতিজ্ঞা। … ভ্রাতা ছন্দ, এবার আমাদের গমন করা উচিত”।

দেবী পদ্মিনী ও দেবী নলিনী সম্মুখে এসে বললেন, “নাথ, আমাদেরকেও সঙ্গে নিয়ে চলুন। সেখানে ঘৃতকুমারীরা থাকবে, যারা যেকোনো প্রকার ছল করতে সক্ষম। তাই তাঁদের ছলের ও মায়ার উত্তর দেবার জন্য, আমাদেরকে সেখানে যাবার অনুমতি প্রদান করুন। শ্রী, তুমিও আমাদের সাথে চলো। তোমার উপস্থিতি সেখানে কাম্য। আমরা নিশ্চিত, করিন্দ্র মাতা চিত্তার বিনিময়ে তোমার দিকে অঙ্গুলি তুলবে। তারও প্রয়োজন তোমার শক্তির ধারণা রাখা। চলো”।

গমনের কালে, করিমুণ্ডও বললেন, “গর্ভজাত সন্তান আমি দেবী চিত্তার নই। কিন্তু আমিও তাঁর সন্তানব্যতীত কখনোই কিছু নই। কৃপা করে এই অন্ধ বৃদ্ধকে বাদ রেখে দিও না। … আমাকেও নিয়ে চলো তোমাদের সাথে”।

এত বললে, তিন রথে রথী হলেন তিন চিত্তাপুত্র, আর তাঁদের সারথি হলেন তাঁদের তিন পত্নী, একটি রথে সুধামা সারথি হয়ে অন্ধ করিমুণ্ডকে সঙ্গে নিয়ে শীঘ্রতার সাথে নির্গত হলে, মনকরি তাঁদের সকলকে সূতানটি, যেখানে দেবী চিত্তাকে বন্দী করে রেখেছিলেন, আর যেখানে কাতারাজ্যের সমস্ত সভাসদ তথা দেবী হুতা, মিতা ও স্ফীতা উপস্থিত ছিলেন, সেখানে নিয়ে গেলেন।

দেবী চিত্তার দুই হস্ত দুই দিশাতে শিকলে আবদ্ধ দেখে, ছন্দ বলে উঠলেন করিন্দ্রের প্রতি, “আমদের মাতাকে মুক্ত করো। তাঁর বয়স হয়েছে। এই অবস্থায় তিনি অধিকক্ষণ থাকলে পীড়া লাভ করবেন। … তুমি মুক্ত করো ভ্রাতা, আমি সম্রাট ছন্দ কথা দিচ্ছি, তুমি যা মুক্তিপণ চাইবে, আমি তাই দেব। এটিকে এই ছন্দের বচন বলে জেনো, আর এটিকে এই জম্বুদেশের সম্রাটের বচন করেও জেনো। যদি আমি আমার বচনের মান না রাখি, তাহলে এই জম্বুদেশ কভু আমাকে নিজের সম্রাট বলে মানবে না, এই বচনও আমি তোমায় দিলাম। এবার তো আমাদের মাতাকে মুক্ত করো করিন্দ্র”।

করিন্দ্র অট্টহাস্য হেসে বললেন, “কি সৌভাগ্য! কি সৌভাগ্য! জম্বুদেশের সম্রাট মাথা নত করে রয়েছে করিন্দ্রের কাছে। … বেশ তোমাকে বরদান দিলাম আমি ভক্ত ছন্দ। তবে তোমাদের কৃতান্তিকের ঈশ্বর তো আমি নই যে নিঃশর্ত প্রেম দেব। আমি হলাম বৈদিক ধর্মের ভগবান। তাই যতক্ষণ না আমাকে ভোগ চরাবে, ততক্ষণ তো বরদান প্রদান করবো না। … তা বলো ভক্ত, আমার উদ্দেশ্যে ভোগ চড়াবে?”

ছন্দ হাতজোড় করে বললেন, “চড়াব, যা বলবে তাই প্রদান করবো। আমাদের মাতাকে মুক্ত করে দাও”।

চিত্তাল ও সুর এবার একই সুরে বলে উঠলেন, “ভ্রাতা, আমাদের একবার আদেশ তো দিয়ে দেখো। এই স্থানেই করিন্দ্র সহ তার সমস্ত ভ্রাতা আর সমস্ত সভাসদকে হত্যা করে, তাদের শবদেহের দহন করে দেব”।

করিন্দ্র এবার উত্তেজিত হয়ে গিয়ে, নিজের থেকে অনুজ চিত্তালের কপোলে একটি করাঘাত করলে, চিত্তাল ভয়ানক মূর্তি ধারণ করে একটি মুষ্ট্যাঘাত করলেন করিন্দ্রের মস্তকে, আর করিন্দ্র ভূমিতে তিনতিননবার পতিত হয়ে, তাঁর মুখের বিভিন্ন স্থান থেকে রক্তক্ষরণ হতে থাকলে, মনকরি চিৎকার করে উঠলেন দেবী চিত্তার কণ্ঠে খড়গ স্থাপন করে, “ভ্রাতা আদেশ দাও, এই মুহূর্তে ইনার মস্তককে দেহ থেকে পৃথক করে দিচ্ছি”।

ছন্দ তৎপর হয়ে করজোড়ে বললেন, “শান্ত হও তাল, এখন উগ্র হবার সময় নয়, আমাদের মাতা এখন এঁদের কব্জায়। যা খুশী করতে পারে এঁরা মাতার সাথে”। পুনরায় করজোড়ে করিন্দ্রের সম্মুখে নতজানু হয়ে ক্রন্দন করতে করতে বললেন ছন্দ, “ভ্রাতা আমাদের মাতাকে মুক্ত করো। আমি বচন ইতিমধ্যেই দিয়েছি, তুমি যা চাইবে, তাই দেব। … আদেশ করো কি চাই তোমার”।

করিন্দ্র নিজের মুখের রক্ত মুছতে মুছতে বললেন, “এতটাও নিষ্ঠুর নই আমি যে তোমাকে আদেশ দেব। হাজার হোক, জ্যেষ্ঠভ্রাতা তুমি আমার। … আমি তোমাকে দুটি উপায় দিলাম। তুমি যেকোনো একটি বেছে নাও, আমি তোমাদের মাতাকে মুক্ত করে দিচ্ছি, এখনই”।

জোরহস্তে ছন্দ বললেন, “বলো ভ্রাতা, কি দুই উপায়?”

করিন্দ্র একটি বিকৃত হাস্য প্রদান করে বললেন, “এই পরমা সুন্দরী দেবী সর্বশ্রীকে আমার কাছে সঁপে দাও”।

এই কথা শ্রবণ করা মাত্রই, সুর এতটাই প্রবল বেগে ভূমিতে পদক্ষেপ করলেন যে, দেবী হুতা, মিতা ও স্ফীতা যেখানে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই স্থানের মৃত্তিকা ভূমির তলে প্রবেশ করে যায়, আর তিন দেবী প্রাণের ভয়ে আর্তনাদ করে ওঠেন। সুর তীব্র স্বরে বলে উঠলেন, “করিন্দ্র, এই স্থান করে রাখলাম, তোমার সমস্ত সঙ্গীসাথি তথা ভ্রাতা মাতা সকলের শবদেহকে এখানে পতিত করে, তাঁদের মাস চিল শকুনদের আহার করাবো”।

দ্বিতীয়বার একই স্থানে পদাঘাত করলে, একটি শীর্ণ খালরেখা নির্মিত হয় সেই ভূগর্ভস্থ স্থান থেকে যা ভাগীরথী পর্যন্ত প্রবাহিত হয়। আর এবার সুর বললেন, “এই স্থান তোমাদের বিষরক্তে বিষাক্ত হয়ে উঠবে, তাই ভাগীরথীর সাথে এই স্থানকে সংযুক্ত করে দিলাম, যাতে এই কাতা রাজ্য পুনরায় পবিত্র হয়ে ওঠে। … চিরকাল এই স্থানকে এই আলের জন্য স্মরণ রাখবে সকলে, আর তাই এই স্থানের নামকরণও হবে এই আলের পুর অর্থাৎ আলিপুর রূপে”।

সুরের এই দাপট দেখে ভয়ার্ত হয়েছিলেন সকলে, এমনকি ভণ্ডও। এমন শক্তিধর কারুকে সে এর আগে কখনো দেখেনি। করিন্দ্র নিজের স্খলিত চরিত্রের উপর দৃঢ়বিশ্বাসী। সে শান্ত ভাবে নিজের ভ্রাতাদের বললেন, “মাতাদের এই গর্ভথেকে উদ্ধার করো ভ্রাতারা। কি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছো?” … এবার ছন্দের দিকে তাকিয়ে বললেন করিন্দ্র, “বোঝাও তোমার ভ্রাতাদের ছন্দ। বোঝাও এঁদেরকে যে তাঁদের মাতার প্রাণ ইজ্জত সমস্ত আমার হাতে। … আর সুর, তুমি এতো উত্তেজিত হচ্ছ কেন? আমি তো বলেইছিলাম আমি একাধিক শর্ত দেব, যাদের মধ্যে থেকে তোমরা নিজেদের পছন্দের শর্ত বেছে নিতে পারবে। তাহলে এই উত্তেজনার কারণ কি?”

সুর কিছু বলতে যাবেন, এমন সময়ে ছন্দ পুনরায় করজোড়ে বললেন, “দেবী শ্রী আমার ভ্রাতার পত্নী, আর তাই আমার অধিকার ছেত্রের মধ্যে অবস্থান করেনা ভ্রাতা করিন্দ্র। … তাই আমি তা তোমাকে প্রদান করতে পারিনা। এমন কিছু কামনা করো, যা আমার অধিকার ছেত্রের মধ্যে অবস্থান করে”।

করিন্দ্র মুখবিকৃত করে বললেন, “হুম, বুদ্ধিমান তুমি … সঠিকই শুনেছি তোমার ব্যাপারে রাজনৈতিক বুদ্ধিতে তুমি অত্যন্ত পারদর্শী। ঠিক আছে, তাহিলে আমি তোমাকে এমন কিছু শর্ত প্রদান করছি, দেবী চিত্তার মুক্তিপণ রূপে, যা তোমার অধিকারে স্থিত। অর্থাৎ তুমি স্বতঃই তা পালন করতে পারবে। বেশ তবে মনোনিয়োগ করে শ্রবণ করো সেই শর্ত।

একটি বৎসর তোমরা সকলে অর্থাৎ স্বপত্নিক তোমরা তিন ভ্রাতা ও তোমাদের জননী বনবাস যাপন করে, পরের ১২ বৎসর তোমরা অজ্ঞাতবাসে স্থাপিত থাকবে। আর সেই কালে আমি হবো জম্বুদেহসের সম্রাট। আর এই ১২ বৎসরের অজ্ঞাতবাসের কালে আমি যদি কনো ভাবে তোমাদের সনাক্ত করে নিতে পারি, তাহলে পুনরায় তোমাদের এক বৎসরের বনবাস আর ১২ বৎসরের অজ্ঞাতবাসে প্রেরণ করবো। … কি এই শর্ত তোমার অধীনে স্থিত, তাই না!”

তাল উৎকণ্ঠার সাথে চিৎকার করে উঠলেন, “আসল উদ্দেশ্য তো তোর এইটিই ছিল করিন্দ্র। বলে তা পারতিস না হরণ করতে, তাই এইপ্রকার নিকৃষ্ট ছল করলি!”

ছন্দ তালকে থামিয়ে বললেন, “বেশ তাই হবে ভ্রাতা। এবার আমাদের মাতাকে মুক্ত করে দাও। আর হ্যাঁ, এই সময়কালে মহাশয় করিমুণ্ডের যত্ন রাখবে তুমি, এটি নিশ্চয় করো”।

করিন্দ্র বক্রওষ্ঠে হেসে বললেন, “যেমনই হোক, উনি আমাদের পিতা ছন্দ। … আমি তোমাকে প্রতিশ্রুতি প্রদান করছি, যদি তোমরা অজ্ঞাতবাস জ্ঞাপন করে প্রত্যাবর্তন করো, তখন আমি সসম্মানে তোমাকে তোমার সাম্রাজ্য ফিরিয়ে দেব”।

ছন্দ আর কথা বাড়ালেন না। কেবল বললেন, “আমাদেরকে রাজ্যে প্রত্যাবর্তনের আদেশ দিন সম্রাট। সেখানে আমরা প্রত্যাবর্তন করে, রাজপোশাক ত্যাগ করে, সমগ্র পরিবার মিলে বনবাসে নির্গত হবো একটি দিবসের মধ্যেই”।

করিন্দ্র হেসে বললেন, “আরে আমি নির্দয় নই ভ্রাতা। যাও, সময় করে নিয়ে, শুভক্ষণ দেখে বেড়িয়ে পর নিজেদের নবজীবনের উদ্দেশ্যে”।

দেবী চিত্তাকে সঙ্গে নিয়ে, চিত্তাপুত্ররা প্রত্যাবর্তন করলেন চন্দননগরে। পথে একটি কথাও বললেন না চিত্তাপুত্ররা, আর না কথা বললেন তাঁদের পত্নীরা। সকলের মুণ্ড নিম্নগামী। রাজপোশাক ত্যাগ করে, সকলের থেকে অনুমতি গ্রহণ করতে গেলে, মহারাজ নিষ্ঠাবান বললেন, “আমাদের সকলের রাজ্য তোমাদের সকলকে অজ্ঞাতবাসে লুক্কায়িত রাখবে। তাই নিশ্চিন্তে থেকো, আর আমাদের যেকোনো কারুর রাজ্যে অবস্থান করো নির্দ্বিধায়”।

কুর্নিশ সম্মুখে এসে বললেন, “সম্রাট ছন্দ, আপনি আমাদের সম্রাট ছিলেন, আর সম্রাট থাকবেন। বচনের মান রাখতে আপনি বনবাসে ও অজ্ঞাতবাসে যাত্রা করছেন, কারণ আপনি কৃতান্তিক ধর্মের সত্যনিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততা স্থাপন করাতে দৃঢ়নিবিষ্ট। তাই আপনাকে এই বনবাসে যাত্রার কালে বাঁধা দেবনা। তবে স্মরণ রাখবেন, আমরা সকলে এই ১৩ বৎসর আপনাদের পথ চেয়ে বসে থাকব। করিন্দ্র বৈদিক ধর্মের ধ্বজা ধারণ করে থাকে, আর সকলেই জানি আমরা যে এই ধর্মের স্বভাবই হলো পরস্ত্রী, পররাজ্য, এবং পরসম্মান হনন করা, এবং এঁদের কনো রুচি বা অভিরুচি থাকেনা বচনের মান রাখার, কারণ এঁরা সার্বিক ভাবে দুরাচারী।

লুণ্ঠন, মিথ্যাচারণ, অজ্ঞানতাকে জ্ঞান রূপে প্রতিষ্ঠা করা, আর আত্মকে ঈশ্বর রূপে গণ্য করা, এই এঁদের রুচি ও অভিরুচি। তাই তাঁদের শাসনকালে, প্রজা যে দ্বন্ধে পতিত হবে, আর হতাশ হয়ে আপনাদের সকলের প্রত্যাবর্তনের রাহা দেখবে, সেটিই স্বাভাবিক। তাই হে সম্রাট, নিজেদেরকে উদাসীনতার গ্রাস হতে দেবেন না। আমরা সকলে অপেক্ষা করবো আপনাদের পুনরাবির্ভাবের উদ্দেশ্যে”।

বর্ধিষ্ণু সম্মুখে এসে বললেন, “আপনারাও জানেন, আমরাও জানি, এই বৈদিকরা পুনরায় ছায়াপুর স্থাপনের প্রয়াস করতেই এই সমস্ত ছল করলো। আপনারা মাতা সর্বাম্বা অন্ত প্রাণ, তাই আপনাদের তিনি অবশ্যই মার্গদর্শন প্রদান করবেন। কিন্তু আপনারাও জানেন যে, যখন আপনারা প্রত্যাবর্তন করবেন, তখন এই জম্বুদেশের রাজনীতি ভিন্ন হয়ে যাবে। হতে পারে, আমাদের সকলের রাজ্যকে ভেঙে দেওয়া হবে, আর তাদের অধিকাংশ ক্ষেত্রকে প্রদান করা হবে অযোগ্য বৈদিকদের। তেমনটা করাই বৈদিকদের ধারা, আর আত্মের পূজা যারা করেন, তাদের থেকে এর থেকে ভিন্ন আশাই বা কি করতে পারেন।

হে সম্রাট, আমাদের সামর্থ্য নেই যে, আপনাদের তিন ভ্রাতা ছাড়া জম্বুদেশের রক্ষা করতে সক্ষম হবো। তাই নিশ্চিত আমি যে, আপনাদের অভাবে এই জম্বুদেশের অবস্থা দিন প্রতিদিন ক্ষীণ হতেই থাকবে। স্থানে স্থানে আত্মের পূজা শুরু হয়ে যাবে, হয়তো স্থানে স্থানে বৈদিকরা তাঁদের ত্রিগুণের মন্দিরও স্থাপন করে দেবে। হতে পারে, এঁদের মেধার নাশ করার জন্য, শাকাহারি করে দেবে এঁদেরকে দেশে আইন এনে। আবার এমনও হতে পারে যে, অবিদ্যাকেই এঁরা বিদ্যারূপে স্থাপিত করে দিয়ে, এঁদের নির্মিত গ্রহনক্ষত্রাদির দ্বারা সাধারণ প্রজাকে ভয় দেখিয়ে, তাদেরকে নিজেদের মন্ত্রবলে বশ করে নেবে।

এমনও হতে পারে যে, এঁরা তন্ত্রসাধনাকেই অশুদ্ধ করে দেবে, আবার এমনও হতে পারে যে, মোহিনীর মত হাজারো পেশা নির্মাণ করে, সমস্ত প্রজাকে ধনসর্বস্ব, আত্মসর্বস্ব করে তুলবে, এবং প্রকৃতির আরাধনা থেকে তাঁদের দূরে সরিয়ে নিয়ে যাবে। … সম্রাট, আমরা আপ্রাণ প্রয়াস করবো যাতে এই সমস্তকিছুর অন্তরেও সত্যস্রোতকে জাগ্রত করে রাখা যায়, যাতে প্রকৃতির প্রতি, কালনিয়ন্ত্রক নিয়তির প্রতি ও চেতনার প্রতি সর্বজনের বিশ্বাসকে জীবিত রাখতে, কিন্তু তাও কতটা তা করতে পারবো, সেই সম্বন্ধে আমরা নিশ্চিত নই।

তাই সম্রাট, এই সমস্ত প্রজাদের রক্ষার্থে, আপনাদের প্রত্যাবর্তন করতেই হবে। … আপনারা যদি প্রত্যাবর্তন না করেন, তাহলে এঁরা সমস্ত প্রজাকে চিরকালের জন্য বৈদিক মন্ত্রে বশীকরণ করে, এঁদেরকে আত্মের পূজারি করে রেখে দেবে। আর যদি তেমন হয়, তবে মাতা সর্বাম্বার আগমনই বৃথা হয়ে যাবে। তিনি তো আবির্ভূতা হয়েইছিলেন, এই আত্মসর্বস্ব ভাব থেকে সমস্ত মানুষকে মুক্ত হবার আবাহন করার জন্য। তিনি তো আবির্ভূতা হয়েই ছিলেন, সমস্ত মানুষযোনিকে অবলুপ্তির থেকে বাঁচানোর অন্তিম প্রয়াস করার জন্য।

হে সম্রাট, বেশ ভালো করেই জানেন আপনি যে, এই বৈদিকরা আত্মের দূত। খুব ভালো করেই জানেন আপনারা যে এঁরা অর্থাৎ আর্যরা আফগান দেশের অত্যাচারী জাতি ছিলেন, আর আব্রাম তাঁদেরকে নির্বাসনে প্রেরণ করলে এঁরা এদিকে এসে সিন্ধু উপত্যকায় নিবাস শুরু করেন। … আপনি তো জানেনই যে, এঁরা হলেন আত্মের প্রেরণ করা সেনা, যাদের একটিই উদ্দেশ্যে এই মনুষ্যযোনিকে অবলুপ্তির দ্বারে প্রেরণ করা।

হে মহাজ্ঞানী সুর, তুমি তো জানো ভাই, এঁদের উদ্দেশ্য কি! … তুমি তো ভালো করেই জানো যে, মনুষ্যযোনিকে প্রকৃতির প্রভাবের কারণে প্রকাশিত করতে হয়ে আত্ম কি পরিমাণই না বিভ্রান্ত হয়েছে! … এই যোনি চেতনার চরমে উন্নীত হতে সক্ষম আর তা হয়ে, ব্রহ্মে অর্থাৎ পরাশূন্যে উন্নীত হতে সক্ষম, নিয়তি ও প্রকৃতির হাত ধরে। তোমার থেকে অধিক ভালো ভাবে কে জানে হে মহানুভব সুর যে, এই যোনিকে আত্মপূজা করিয়ে করিয়ে, যখন নিশ্চিহ্ন হবার দ্বারে আনায়ন করে ফেলে এই বৈদিকরা, তখনই মাতা আবির্ভূতা হন।

তিনি এই যোনিকে রক্ষা করার জন্যই কৃতান্তিক ধর্মের রচনা করেন, এবং এক নূতন আশ্রয় প্রদান করেন যেখানে মনুষ্য যোনি পদার্পণ করে আত্মবিমুখ হয়ে এই যোনিকে অবলুপ্তির পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে পারে। আর হে চিত্তাপুত্ররা, আপনারাই এই কৃতান্তিক স্থাপনের ও মানবযোনিকে অবলুপ্তি থেকে সুরক্ষিত করার অন্তিম আশা। মাতা সর্বাম্বার কাছেও আপনারা অন্তিম আশা, আর সম্পূর্ণ মানবযোনির কাছেও আপনারা অন্তিম আশা।

এই বৈদিকরা, যাদের কর্ণধার করিন্দ্র, তারা যেনতেনপ্রকারে বৈদিকমতে আত্ম পূজা স্থাপিত করবে, ত্রিগুণকে ত্রিদেব সাজিয়ে তারা আগেও আরাধনা করেছে আর আবারও করবে। প্রকৃতিকে এই আত্মের দাসীরূপে স্থাপিত করে, তাঁদেরকে আজ্ঞাবাহক ত্রিদেবের ঘরণী করে পূর্বেও দেখিয়েছে, আবারও দেখাবে। আর এবার যদি তাঁদের এই প্রয়াসে তাঁরা সফল হয়, তাহলে এই যোনিকে প্রকৃতির প্রকোপ থেকেআর কেউ রক্ষা করতে পারবেননা। তাই হে চিত্তাপুত্ররা, আপনারা অবশ্যই প্রত্যাবর্তন করবেন। আমরা সকলে আপনাদের জন্য অপেক্ষা করবো।

যদি আপনারা প্রত্যাবর্তন করার পর করিন্দ্র আপনাদেরকে জম্বুদেশের সাম্রাজ্য অর্পণ না করে, তাহলে আমরা সকলে প্রত্যুত থাকবো মহারণে অবতীর্ণ হবার জন্য। আপনারাও জানেন হে চিত্তাপুত্ররা, আপনাদের ছাড়া করিন্দ্রবাহিনীর সম্মুখীন হবার সামর্থ্য আমাদের নেই। কিন্তু আপনারা থাকলে, আমরা তাঁদের সম্মুখীন হতে সম্পূর্ণ ভাবে প্রস্তুত। তাই সেই উদ্দেশ্যে আমরা আর কিছু করি বা না করি, নিজেদের সেনাকে সুরক্ষিত রাখবো, যেকোনো উপায়ে, যাতে আপনাদের যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়াতে কনো বাঁধা না থাকে। তবে প্রত্যাবর্তন আপনাদের করতেই হবে”।

অবশেষে করিমুণ্ডের থেকে আশীর্বাদ চাইতে গেলে, করিমুণ্ড বললেন, “দেবী চিত্তা ও পত্নীদের সুরক্ষিত রাখবে। আর সর্বদা গোপনে যোগাযোগ রাখবে। বিশ্বস্ত গুপ্তচরকে আমি তোমাদের নিকটে সর্বদাই রাখবো। কনো প্রয়োজন পরলে, আমাকে একটি বার্তা প্রদান করবে, আর আমার প্রয়োজন পরলে, আমিও অনুরূপ ভাবে তেমনই করবো”।

পৃষ্ঠা: 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28