কথা সঞ্জীবনী | রামকৃষ্ণ দর্শন

যাই হোক, সেই রবিবারের পরের রবিবার অতিন্দ্র তাঁর বড়দা, বড়বৌদিকে নিয়ে আসছে আমাদের বাড়ি। তাঁদেরকেও বলে রাখলাম, বেলা বেলা আসবেন, দুপুরে এখানে খাওয়াদাওয়া করে যাবেন। গিন্নিকেও বলে দিলাম। গিন্নির তো বেজায় আনন্দ। কট্টর আধুনিক গোস্বামী, অর্থাৎ আমিষ নইবনইবচ। তবে আয়োজনের খামতি করেনি। এঁচোড়ের ঘণ্ট, শুক্তনি, টকডাল, আলুডাঁটা পোস্ত, বিভিন্নরকম ভাজার সাথে সাথে বেগুনি, সঙ্গে আমাকে দিয়ে মিষ্টি দই আনিয়েছে, আর নিজে আনারসের চাটনি করেছে। আস্তেই জলখাবারের জন্য তরমুচ কেটে, তার থেকে বীজ ছাড়িয়ে দিয়েছে। আর তার সাথে দুটো করে সিঙ্গারা, আর চারটে করে মিষ্টি।

রিমিকে শাড়ি পরে এমনিই সুন্দরী লাগে, সেদিন যেন একটু বেশিই সুন্দরী লাগছিল। বড়দা চুপচাপ, বেশি কথা বলেন না। শুধু বললেন, অতিন্দ্রের ব্যবসার দিকে খুব ঝোঁক। তাই সে পৈত্রিক বাড়িতেই থেকে গিয়ে সেখানে ব্যবসার শুরু করে। … কিন্তু বড়বৌদির প্রশ্নের যেন শেষ নেই। কথা নেই বার্তা নেই, রিমিকে প্রথম প্রশ্ন করলো – পার্লার যাও?

রিমি উত্তর দিল – শুধু চুল কাটতে।

বড়বৌদি – অয়েক্সিং বা অন্য কিছু?

রিমিরও সর্ট উত্তর – প্রয়োজন মনে করিনা।

ইন্সটলমেন্টে প্রশ্ন। তখনের মত থেমে গেল। খানিক পরে আবার প্রশ্ন এলো – কি পোশাক পরতে ভালোবাসো ঘরেবাইরে?

রিমি – দুজায়গাতেই শাড়ি পরতে ভালোবাসি। স্কুলে শাড়িই পরি, বাড়িতে মায়ের আপত্তির জন্য সালওয়ার পরি।

বৌদি – ওয়েস্টার্ন ড্রেস?

রিমি – পাহাড়ে বেড়াতে গেলে, জিন্স কুর্তি পরি; সমুদ্রে স্নান করতে গেলে, ট্র্যাক আর কুর্তি পরি; তাছাড়া ওয়েস্টার্ন ড্রেস পছন্দ হয়না।

বৌদি হাসির ছলে – কেন?

রিমি – নারীত্বের কোমল হৃদয়কে ঢেকে দিয়ে, সেগুলো নারীকে পুরুষের ভাবে স্থাপিত করে, নারীত্বকে কলুষিত করে দেয়।

বৌদি একটু চেপে গেল উত্তরটা শুনে। আসলে উনি নিজে জিন্সের উপরে কুর্তি চাপিয়ে এসেছিলেন। বোঝাই যাচ্ছে, দেওয়রের জন্য পাত্রী দেখতে যদি এই পোশাক হয়, তিবে অন্যসময়ে কি পোশাকে থাকেন।

আবার বেশ কিছুক্ষণ পরে, মিষ্টি খেতে খেতে বললেন – ফরসা, সুন্দরী, চেহারাও সুন্দর; বয়ফ্রেন্ড ছিল নিশ্চয়ই?

আমার গিন্নি আমার দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে গেল উত্তরে। কিন্তু রিমি নিজের থেকেই বলল – না, কনোকালেই ছিল না।

বৌদি – প্রপোজাল তো নিশ্চয়ই পেয়েছ?

রিমি একটু মুচকি হেসে উত্তর দিলো – কার মনে কি ছিল জানিনা, তবে আমার সামনে এসে সেই কথা বলার সাহস এখনো পর্যন্ত কেউ দেখায় নি।

বৌদি আবার চেপে গেলেন। … খাবার দাবার খেয়ে তৃপ্ত তো হন তাঁরা, তবে বোধহয় আশা করেছিলেন মাছ মাংস কিছু থাকবে। … তেমন না পেয়ে, খাওয়াদাওয়ার পর রিমির সাথে আলাদা করে কথা বলার সময়ে প্রশ্ন করলেন বৌদি – মাছমাংস কি খাওয়া একদমই হয়না!

রিমি – মা গোঁড়া গোস্বামী। তাই বাড়িতে আনতে দেন না। বাবা অভ্যাস করিয়েছেন। কনো বাদবিচার নেই খাবারে। তবে হ্যাঁ খাবারে, পানীয়তে নয়।

ভাগ্যিস এই প্রশ্নটা আমার গিন্নি সামনে উপস্থিত থাকতে করেননি উনি। যাই হোক, বৌদি বোধহয় সেই জায়গাতেই খোঁচা মারতে চলেছিল, কিন্তু সুবিধা করতে পারলেন না। … শেষে বললেন – অতি, মানে আমার দেওয়র, খুব খেতে পছন্দ করে? … তো তুমি রান্না করতে পারো?

রিমি – পারি, ঘরোয়া রান্না সবই পারি। ভাতডাল, রুটিলুচি, পরোটা, পায়েস, বিভিন্ন ধরনের ঘণ্ট, মাছের তরকারি, ডিমের বিভিন্ন পদ, এবং মাংস রান্নাও।

বড়বৌদির এত প্রশ্ন মনে হয় বড়দার ভাল লাগছিলনা। তাই উনি বললেন – একটু অকে অতির সাথেও কথা বলে নিতে দাও। … (অতিন্দ্রের দিকে তাকিয়ে) একটু একাকী কথা বলে নিতে চাইলে, কথা বলে নে। (আমার দিকে তাকিয়ে) আপনার আপত্তি নেই তো?

আমি বললাম – না না, এসো বাবা… রিমি ওকে নিয়ে একটু ছাদটা ঘুরে আয়।

এরপর কি কথা হয়, ওদের মধ্যে আমি শুনিনি সরাসরি। তবে পরে রিমির থেকে, আর অতিন্দ্রের থেকে যা শুনেছিলাম, সেই অনুসারে, অতিন্দ্র রিমিকে ওর ব্যবসার আড়ালে ছয় ছেলেমেয়েকে নিয়ে যেই সাম্রাজ্য, সেই সাম্রাজ্যের কথা বলে। আর এও বলে যে তাঁরা গুরুমাতা চাইছেন।

রিমি উত্তরে বলে, গুরু স্থানে বসার জন্য সে এখনো যোগ্য হয়েছেন কিনা, তা সে জানেনা। এখনো সে বহু কিছু শিখছে। তার ধ্যান হয়, কিন্তু এখনো সমাধি লাভ করেনি সে। তাই গুরুমাতার আসনের জন্য তাঁকে যোগ্য করে তোলা অতিন্দ্রেরই কর্মভার।

এইপ্রকার বেশ কিছু আলাপ হয় তাঁদের, আর সেই আলাপের সাথেই বিকেলের চায়ের সাথে সেদিনের পর্ব শেষ হয়। আমার গিন্নির অতিন্দ্রকে খুব ভালো লেগেছে। বৌদিকে তারও ভালো লাগেনি, তবে শেষে বললেন আমার গিন্নি – বৌদি তো আর সঙ্গে থাকছেনা। চিন্তার কিছু নেই। ছেলের পছন্দ হলে, আমি আর তুমি গিয়ে একবার ওর ঘরদোর দেখে এসে পাকাকথাটা সেরে ফেললেই হয় কি বলো?

আমি – সেই সময়ে আর ছেলের বড়দা, বৌদি থাকতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, অতিন্দ্রের একজন স্যার আছেন। গুরুমশাই বলে ডাকে তাঁকে। উনার বুদ্ধিতেই, আজ অতিন্দ্র ব্যবসা বাণিজ্য সমস্ত করতে পারছে আর কি। তিনি থাকবেন অবিভাবকের ভূমিকায়।

আমার গিন্নি – তাতে কি হয়েছে। … আর ওই বৌদি না থাকলেই ভালো। … আমাদের তরফ থেকে, সম্মতি ব্যাস।

আমি – বাহ! একবার রিমির মতের কথা জানতে চাইবে না!

গিন্নি – ও আবার এইসবের কি বুঝবে?

আমি – হুম, ঠিক আছে। দেখি অপেক্ষা করি, ছেলের বাড়ি থেকে কি কথা আসে দেখি।

আমি আর কথা বাড়ালাম না। পরে রিমিকে আলাদা করে জিজ্ঞেস করেছিলাম। রিমি আমাকে উত্তরে বলল – ভগবতী যাকে ঠিক করে দেবেন, আমি তাঁকেই বিয়ে করতে প্রস্তুত। কিন্তু একজন আধ্যাত্মিক ভাবে উন্নতমনা ব্যক্তির স্ত্রী হতে পারা, সে তো আমার জন্য অত্যন্ত ভাগ্যের ব্যাপার। মনে মনে প্রস্তুত হচ্ছি, দায়িত্বগ্রহণের জন্য।

দুইদিন পরে অতিন্দ্রকে ফোন করলাম। অতিন্দ্র জানালো, বড়দার রিমিকে খুব ভালো লেগেছে। বৌদির মতামতকে বড়দা তেমন গুরুত্ব দেন না। রিমির কথা বড়দা বাড়ি ফিরে, অতিন্দ্রের মাকে জানাতে, মায়েরও রিমিকে খুব পছন্দ হয়েছে। সব কিছুর শেষে, আমি প্রশ্ন করলাম – আর তোমার?

অতিন্দ্র হেসে বলল – আপনার কন্যাকে যেমন দেখলাম, খুব শীঘ্রই সে আমার প্রধান গর্ব হতে চলেছে। এমন একজন কন্যাকে আজকের দিনে দাঁড়িয়ে স্ত্রী করে লাভ করা, একমাত্র মা জগদ্ধাত্রীর কৃপার কারণেই সম্ভব।

সমস্ত সংলগ্ন ব্যক্তি সহমত পোষণ করলে, এবার অতিন্দ্র আর রমেনদাকে নিয়ে কথা বলে, পাকাদেখার দিন ঠিক করা হলো। আমি আর রিমির মা সেদিন গেছিলাম। … রিমির মায়ের তো বাড়িঘর দেখেই ছেলে পছন্দ হয়ে গেল। … বিয়ের দিন ঠিক হলো, ২৪শে শ্রাবণ।

খুব ধুমধাম করার পয়সা আমার নেই। তাই তেমন কিছু করতে পারিনি। আমার ছেলে যেহেতু ক্যাটারিং-এর কাজ করে, তাই খাবারের দিকটা ওই দেখে। অনেক কমে করে দিয়েছে ও। আর খাবার খেয়েও বেশ সুখ্যাত করেছে আমাদের দিকের নিমন্ত্রিতরা। বরপক্ষের লোকেরা আধপেটা কেউ যাননি, তবে সম্পূর্ণ নিরামিষ বলে, সুখ্যাত তাঁরা কেউই করেন নি।

চুঁচড়া থেকে চন্দননগর, এমন কিছু দূর নয়, পাশের শহরই। কিন্তু আমি জানি, রিমি যেই দায়িত্ব নিয়ে অতিন্দ্রের কাছে যাচ্ছে, এতে রিমি ক্রমশ আমাদের থেকে অনেক অনেক দূরে চলে যাবে। … হয়তো, আলেকালে আমাদের খবরটাই খালি নেবে। … মানে, যাকে বলে আগেকার দিনে বিয়ে, মানে বিয়ের পর, মেয়ে পর হয়ে যায়, তেমনই হতে চলেছে। এই কথা আমার গিন্নি জানতেন না, কিন্তু আমি জানিও আর রিমির সিরিয়াসনেশ দেখেও বেশ বুঝে গেছি।

কি করে বুঝলাম? একদিন ওর মা রান্নাঘরে ডাকলো বলে রিমি উঠে গেল। ফোনে কিছু করছিল, রান্নাঘরে যাবার সময়ে ফোনটা বিছনাতেই ফেলে রেখে চলে যায়। দেখলাম অতিন্দ্রের সাথে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলছে। রিমি লিখেছে, বেশ নার্ভাস লাগছে। … কর্মের ফলের চিন্তা করতে নেই, কিন্তু তাও খুব ভয় করছে, আমি সকল ছেলেমেয়ের মা হয়ে উঠতে পারবো তো!

আর কিছু মেসেজ পড়তে হয়নি। এই একটা মেসেজ দেখেই বুঝে গেছি, রিমি প্রচণ্ড ভাবে সিরিয়াস, নিজের নতুন দায়িত্বের জন্য। আর তাই আমি বেশ বুঝে গেছিলাম, এই বিয়ের পর, ক্রমশ রিমি আমাদের সম্পূর্ণ পর হয়ে যাবে। … যত বেশি সে নিজের দায়িত্বের চটিতে চরণ গলাবে, তত বেশি আমরা পর হয়ে যাবো।

তাই, বিয়ের পরের দিন, মেয়ের বিদায় দেবার সময়ে, হৃদয় পুরো খা খা করছিল। … রিমির চোখে জল নেই; নেই কিছু ছেড়ে যাবার বেদনার ছাপও। … আমার ছেলে, দিদিকে খুব ভালোবাসে। কাঁদেনি, তবে দিদিকে একবার প্রাণপণে আঁকড়ে ধরেছিল। রিমি মনে মনে কি ভাবছিল জানিনা। তবে আমার মনে হলো, ওর মন এই বলল যেন, এই ভাবে আমার ছয় ছেলেমেয়েও যেন আমাকে আঁকড়ে ধরে। … রিমির চোখের ভাষা তেমনই ছিল। আমিও তা দেখেছি, আর অতিন্দ্রও তা দেখেছে।

আর সত্যি তেমনই হলো। ওদের বিয়ে হয়ে গেছে, আজ প্রায় ১০ বচ্ছর হয়ে গেছে। রিমি আর বাপের বাড়ি আসেনা। … বাওলজিকালি ওদের কনো সন্তান হয়নি; তবে আজ আমার রিমি, ছয় সন্তানের একমাত্র জননী হয়ে উঠেছে। গুরুমা হতে চেয়েছিল রিমি, কিন্তু গুরুমা হতে পারে নি; এই ছয় সন্তানের সত্যি কারের মা হয়ে উঠেছে। … সাধনার তেজে, রিমির সৌন্দর্য কয়েকশ গুন বেড়ে গেছে। আর রিমির ছেলেমেয়েরা নিজেদের স্বপ্নের আশ্রম করার দিকেও সম্পূর্ণ ভাবে আগ্রাসী।

রিমি এখন প্রচুর গল্প লেখে। সেই গল্প নিয়ে ওর ছেলেমেয়েরা চিত্রনাট্য করে ইউটিউবে ছাড়ে। সেই থেকে এই ১০ বছরে এত ধন উপার্জন হয়েছে, আর এতো অনুগামী হয়ে গেছে, রিমির ছেলেমেয়েদের যে সেই পয়সাতেই আশ্রম দাঁড়িয়ে গেছে। … আজ আমার কন্যা একজন মা, একজন জননী, আর একজনের ঘরণী, যার কাছে তাঁর শ্রেষ্ঠ গর্বই তাঁর ঘরণী। …

আজ বুঝে গেছি, রমেনদার সাথে দক্ষিণেশ্বর থেকে বালি আসার পথে যেই দেখা হয়েছিল, সেটা আকস্মিক নয়, এক্সিডেন্টও নয়। আসলে এক্সিডেন্ট বলে কিছুই হয়না। আমাদের ভাবনার বা ধারনার অতিতে যা কিছু, তাই আমাদের কাছে এক্সিডেন্ট, কিন্তু সেই সমস্ত কিছুই ভগবতীর খাতায় পূর্বনির্ধারিত। আমার রিমি যে বহুজনের মা হয়ে বিরাজ করবে, তা যে ভগবতী আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন; আর সেই ভবিতব্যতে সাক্ষর করার জন্যই যে আমার আর রমেনদার দেখা।

আজ আমি পৃথিবীর সর্বোত্তম গর্বিত পিতা। না আমার সন্তান দেশের কনো মিনিস্টার নয়, কনো অলিম্পিক জেতেনি, কনো বিশ্বকাপ বা কনো শিরোপা জেতেনি। আমার মেয়ে আজ বহুজনের জননী। সংঘজননী সে; তাঁর মুখ থেকে একটি কথা খসলেই, কয়েক শত তাঁর সন্তান, সেই নির্দেশ মানতে উগ্রভাবে তৎপর। তাই আমার কন্যা আজ প্রচণ্ড সংযমী, যেন এমন কনো কথা না বারহয় তাঁর মুখ থেকে, যা তাঁর সন্তানদেরকে অযথা ব্যস্ত করে তুলবে। আমি আজ সত্যিই গর্বিত এক পিতা, কারণ আমার কন্যা আজ সাখ্যাত মা জগদ্ধাত্রীর যোগ্যসন্তান রূপে চিহ্নিত।

হ্যাঁ, আমার গিন্নি অত্যন্ত বিচলিত; সে যেই ভয় পেয়েছিল, তাই হলো। আমি তাঁকে কেবলই সান্ত্বনা দেবার জন্য বললাম – দুঃখ করে কি করবে বলো? যে যার নিয়তি নিয়ে জন্মেছে। … তুমি আমি কি আর ঈশ্বরের নির্দেশের উপরে যেতে পারি বলো? … বাপ-মা, স্বামী-স্ত্রী, সমস্ত তুচ্ছ হয়ে যায়, যখন জগদ্ধাত্রী আদেশ দেন। … যিনি সেই আদেশ লাভ করেন, তিনি অনেক ভাবে বলেও সেই আদেশের গরিমা বোঝাতে পারেন না। … সংসারী লোক অনেক কথা বলে; বলে বাবামায়ের থেকেও, স্বামীস্ত্রীর থেকেও, বড় হয়ে গেলেন ঈশ্বর! …

কিন্তু এর উত্তর কেউ দিতে পারেনা। … কারণ যে উত্তর দেবে, সে জানে, যাকে উত্তর দেবেন, তিনি বুঝবেন না। … না রাধারানীর বারসানার সখিরা বুঝেছিলেন, না মিরার স্বামী বুঝেছিলেন, আর না আমার রাধিকার এই জননী বুঝছেন। … জগজ্জননীর আদেশ যে একবার শোনে, তাঁর কাছে সমস্ত জগতই মিথ্যা হয়ে যায়, এই ঠুনকো সম্পর্ক তো সেই জগতেরই অংশ, তাই না! … যদি জগতই মিথ্যা হয়ে যায়, তবে কে মাতাপিতা, কেই বা স্বামীস্ত্রী, আর কেই বা সন্তানসন্ততি! … সব ভুয়ো হয়ে যায়! … তিনি যে আপনের থেকেও অনেক অনেক বেশি আপন; এতটাই আপন যে স্বামী, স্ত্রী, পিতা, মাতা সেই আপন ভাবের সিকিভাগও হতে পারে না। কেন হতে পারেনা জানো? কারণ, আমরা কেউ জগন্মাতার মত সম্পূর্ণ কামনাশূন্য হয়ে প্রেম দিতে পারিনা।

পৃষ্ঠা: 1 2 3 4 5 6 7 8 9