ধর্মপ্রজ্ঞা – সত্য মার্গ

মৃষু বলতে থাকলেন, “পুত্রী, উভোভোজীদেরকে মা প্রথমে কেন আনেননি, তা জানো নিশ্চয়। উভোভোজীরা বিচারশীল হয়, মূলত খাদ্যস্বভাবের কারণেই। আর তাই তাঁদের মধ্যে বিবেক ও বৈরাগ্য জাগরণ হওয়াও যথাযথ ভাবে সম্ভব। আর তাই এই যোনিসকল যদি প্রথমেই জগতে আসতো, তাহলে পরমাত্ম যোনি বিকাশকেই আর সহমতি দিতো না। আর আত্মের সহমতি ছাড়া কাল্পনিক জগতের বিস্তার সম্ভবই নয়। আর যদি কাল্পনিক জগতের বিস্তার না হয়, তাহলে যে মেধাদের পুনরায় জাগরণ সম্ভবই নয়”।

“তাই মা প্রথমে তৃণভোজী আর মাংসাশী জীবদের এনে, সংকটের চিন্তা সামনে রাখলেন, আর সেই সংকট থেকেই মুক্ত হবার মার্গ রূপে উভোভোজীদের দেখালেন। আর তাই পরমাত্মের তরফ থেকে উভোভোজীদের আগমনে কনো প্রকার বাঁধা প্রদান করা হয়না। কিন্তু যেহেতু মেধা সকল এই তৃণভোজী ও মাংসাশীদের দেহে নিবাস করে, এঁদের সংকটকে অনুভব করে উভোভোজী হয়েছিল, তাই সেই সমস্ত সংকট এই উভোভোজী যোনিদের কাছে স্পষ্ট ছিল। আর তাই উভোভোজী যোনিরা যখন থেকে ভল্লুক, গরিলা থেকে উন্নত হয়ে কন্দম হওয়া শুরু করলো, তখন থেকেই শুরু হয়ে যায় সেই সংকট সমূহ থেকে মুক্ত হবার ক্রিয়াকলাপ”।

“সংকট মূলত দুই। প্রথম হলো খাদ্য লাভের অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি, আর দ্বিতীয় হলো শিকার হয়ে যাবার আশঙ্কা থেকে মুক্তি। তাই প্রথম ক্রিয়াই হয় খাদ্যসুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। বহুবার ব্যর্থ হবার পরে, অন্তে কন্দমরা ক্ষেত নির্মাণ করে, তাতে ধান ফলানো শুরু করে, সবজী উৎপন্ন করা শুরু করে। আর তেমন হতে থাকলে বাগান করে ফল উৎপন্ন করাও শুরু করে, আর বহু প্রয়াসের পরে তারা খাদ্য রূপে গ্রহণ করা যথোচিত এমন পশু, মৎস্য ও পাখিকেও সংরক্ষণ করা শুরু করে”।

“কিন্তু এই কাজ সম্পন্ন করার পর পরেই, এই কন্দমদের উদ্দেশ্যে পরমাত্মের ভ্রু কুঞ্চিত হয়ে যায়, কারণ খাদ্য সুরক্ষা করে ফেলার পরে পরেই কন্দমরা বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করে করে প্রকৃতির সমস্ত ক্রিয়াকলাপ দেখে নিয়ে, বিচার করা শুরু করে দেয়। আর তাই কন্দম যোনিকে অবলুপ্ত করার পরিকল্পনা শুরু করে দেয় পরমাত্ম”।

“তাই মা, এই কন্দমদের থেকেই আরো এক যোনির নির্মাণ কর্ম শুরু করে দেন, যারা হলেন মানব। এই যোনির সাথেও তেমন না হয় যা কন্দমদের সাথে হয়েছিল, সেই বিচার থেকে মা এঁদেরকে প্রথমেই আহারের সুরক্ষা করতে না দিয়ে, এঁদেরকে প্রথম অগ্নির নির্মাণ আর ব্যবহার করতে সেখান। এই অগ্নির ব্যবহার শেখানোর অন্তরালে ছিলো মায়ের কলা প্রকাশের ভাবনা, অর্থাৎ বিচারের নতুন ধারার আবিষ্কার করে, বিচারের ধারা ও পক্রিয়াকে এক নবকবচ প্রদানের প্রয়াস করলেন মা”।

“তবে পরমাত্ম যাতে সেই গোপন পরিকল্পনা জেনে না যায়, তার জন্য অগ্নির ব্যবহার রূপে তিনি পরমাত্মকে দেখালেন যে সেই অগ্নি দ্বারা মানুষ শিকারকে পরিপাক করে আহার করেন। মানুষ এবার কন্দমদের মতই ক্ষেত নির্মাণ করা শুরু করে, মৎস্য চাষ ও পশুপালন শুরু করে। এবং এবার শুধু মানুষ পশুপালন আহারের জন্যই নয়, বরং তাদের বাহন করে, দ্রুততার সাথে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের দিকে অগ্রসর হন”।

“মানুষ কন্দমদের মত আলাদা ভাবে বিচার করতে বসলেন না, কিন্তু অগ্নিদ্বারা পরিপাক করার নাম করে, অন্য যোনির জীবকে বাহন করে রাখার নাম করে, এবং সুস্বাদু আহার নির্মাণের নাম করে, বিচার করার পথে সমানেই নিজেদের চালিত করে রাখলেন। আর তাই পরমাত্ম টেরও পেলেন না, কখন মানুষ কন্দমদের অতিক্রম করে বিচারশীল হয়ে উঠলেন। ঠিক এই কাল থেকেই, যেই কালে মানবের অস্তিত্বে আসার পর এক লক্ষ বর্ষ অতিক্রম করা হয়ে গেছিল, তখন থেকে মানুষ এবার গুহা ত্যাগ করে গৃহ নির্মাণ করা শুরু করলো”।

“পরমাত্ম মানুষের এহেন আচরণে কিছুটা চমকিতই হয়েছিল। ঠিক বুঝতেও পারেনি, মানুষ ঠিক কি করছে, বা যা করছে তা কেন করছে। বুঝতে পারলো সে, যখন মানুষ গৃহ নির্মাণ করার শেষে, একত্রিত হয়ে গ্রাম স্থাপন করা শুরু করে দিলো। ব্রহ্মাণ্ডের মধ্যে ব্রহ্মাণ্ড রচনা। পরমাত্ম দেখলো, চমকিতও হলো, কিন্তু যেহেতু মানুষ প্রত্যক্ষ ভাবে বিচারের আসর বসাতো না কন্দমদের মত, তাই মানুষকে বিচারশীল যোনিরূপে মানতে পারলো না। ক্রমশ মানুষ অগ্নির ব্যবহার পরিপাকের থেকে অপসারিত করে, মৃত্তিকাকে তপ্ত করে কঠিন করে, তাই দ্বারা গৃহ ও প্রাচীর নির্মাণ করা শুরু করলো, যাতে তার অনাকাঙ্ক্ষিত পশুরা তাদের গ্রামে প্রবেশই না করতে পারে”।

“পুনরায় চমকিত হলো পরমাত্ম এই নবযোনিকে নিয়ে, কিন্তু তাও মানবকে বিচারশীল যোনি রূপে মেনে নিতে পারলো না, কারণ পৃথক ভাবে এঁরা ব্রহ্মাণ্ডের সত্য ও ব্রহ্মাণ্ডের অতীতে বিরাজমান সত্যকে বিচার করেনা। এর পরবর্তীতে মানুষ এবার ভেষজ ভাবে নতুন নতুন ওষধি নির্মাণ শুরু করে, যা তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার ব্যাথা বেদনা ও জ্বরা থেকে সুরক্ষা দেওয়া শুরু করে। আর শেষে, শিকার করা পশুর যেই অঙ্গসমূহকে পরিত্যাগ করে সমস্ত জীব, সেই সমস্ত অঙ্গ আর তার তেল ও মেদকে ব্যবহার করে মানুষ বস্ত্র নির্মাণ শুরু করে, নিজের ত্বকের মল ইত্যাদিকে পরিষ্কার করা শুরু করে, তথা নিজের ত্বককে সুরক্ষিত রাখাও শুরু করে দেয়”।

“পরমাত্ম তখনও মানুষকে হালকা ভাবেই নিচ্ছিল। কিন্তু যখন মানুষ সেই সমস্ত চিন্তা, যা তার মেধাকে এতো এতো যোনিতে তাড়া করে বেড়িয়েছে, অর্থাৎ আহার লাভের চিন্তা, সুরক্ষিত থাকার চিন্তা, রোগভোগের চিন্তা, সমস্ত কিছু থেকে মুক্ত হয়ে গেল, অমনি তারা শুরু করে দিলো সঙ্গীতের উপস্থাপনা। সেই প্রক্রিয়ায় যতক্ষণ বিভিন্ন বৃক্ষ ও পশু চর্ম থেকে বাদ্যযন্ত্র নির্মাণ পর্যন্ত সীমিত ছিল, ততক্ষণ পরমাত্ম দুশ্চিন্তার মধ্যে স্থাপিত হয়নি”।

“তবে, যেই মুহূর্ত থেকে মানুষ ভাষা নির্মাণ করে, সেই ভাষাতে সঙ্গীতের কথা রচনা করে, সেই কথাকে সুর ও বাদ্যযন্ত্র সহকারে আকর্ষণীয় করে, সকলের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে, বিচার ও বিচারলব্ধ জ্ঞানের বিস্তার করা শুরু করে দেয়, তখন পরমাত্মের ভ্রু কুঞ্চিত হয়ে যায়। কন্দমদের মত এঁদেরকেও বিভিন্ন উপায়ে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার উপায় শুরু করে দেয়। কিন্তু মানুষ জাতি অত্যন্ত উন্নত মেধার অধিকারী হয়ে গেছিলেন ততক্ষণে”।

“পশু আক্রমণ থেকে বাঁচতে তাঁরা বিভিন্ন অস্ত্র নির্মাণ তো করেই ছিলেন, সঙ্গে সঙ্গে ভূমি খনন করে শক্তিশালী ধাতুর উত্তোলন করে, সেই ধাতুকে অগ্নি দ্বারা তপ্ত করে, তাই দিয়ে আসবাব, অস্ত্র, ও গৃহের খাঁচা নির্মাণ করার কারণে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল মানুষ। উল্কার দ্বারা আক্রমণ করলে, মানুষ আকাশ ও গ্রহ বিচারে পারদর্শী হয়ে ওঠার কারণে, তারা প্রায় সমস্ত তেমন পরমাত্মের আক্রমণের পূর্বেই নিজেদের স্থান পরিবর্তন করে নিয়ে, নিজেদের সুরক্ষিত করে নেয়”।

“তাই পরমাত্ম এবার পূর্ণ ভাবে বিচলিত হয়ে যায় মানুষকে নিয়ে। কি ভাবে এঁদেরকে অবলুপ্তির পথে চালিত করা যায়! কল্পনা সম্মুখে এসে বললেন, ‘আপনি প্রথম থেকেই এঁদের অবলুপ্ত করার কথা ভাবছেন কেন পরমাত্ম? বিচার করে দেখুন, এঁদেরকে বশ করতে পারলে, আপনাকে ভগবান হওয়া থেকে কেউ আটকাতে পারবেনা। যেই যোনিকে ইতিমধ্যেই সমস্ত অন্য যোনি শ্রেষ্ঠ যোনি মানা শুরু করে দিয়েছে, সেই যোনিই যদি আপনার আরাধনা করে, তাহলে আপনাকে আর ভগবান হওয়া থেকে কে আটকাবে?’ সেই কথাতে পরমাত্ম প্রভাবিত হলেন”।

“প্রভাবিত হয়ে পরমাত্ম চিন্তা প্রকট করে বললেন, ‘কিন্তু তা করবো কি উপায়ে?’ চিন্তা উত্তরে বললেন, ‘এঁরা সৃষ্টির সত্য জানতে চাইছে, তো এক কাজ করুন না, এঁদেরকে আপনার পছন্দ মতন, আপনাকে ঈশ্বর মানা হবে, এমন সৃষ্টির সত্য এঁদের মধ্যে প্রদান করুন’। … পরমাত্ম সেই প্রস্তাবে পুনরায় চিন্তিত হয়ে বললেন, ‘কিন্তু, তা করতে গেলে, আমার আবেগে অবগাহন করা কিছু মানুষ লাগবে। তা না হলে যে, বিচার করে একসময়ে সমস্ত আমার প্রদান করা তত্ত্বকেই অস্বীকার করে দেবে এঁরা!’ … অন্যদিকে মা, ব্রহ্মমল ও পরমাত্মের এমন বিচার দেখে, পরমাত্ম কিছু করার আগেই, নিজের মোক্ষম চাল চেলে দিলেন”।

“তিনি বোধি ও ইসা অর্থাৎ শান্তির চেতনা প্রদান করলেন কিছু গুপ্ত অঞ্চলে বিরাজ করা মানুষদেরকে। সাগরের উপকুলের থেকে ভিতরে, গহন জঙ্গলে সেই অনামা জাতির বসবাস। তাই বাকি মানুষেরা জানতেও পারলো না, কখন সেই প্রজাতির কাছে সৃষ্টির সত্য এসে উপস্থিত হয়েছে। জানতে পারলো তখন যখন তা বনাঞ্চল পেরিয়ে হিমালয়ের মধ্যস্থলে বিরাজ করা তিব্বতিদের কাছে এসে উপস্থিত হলো, আর তিব্বতিদের হাত ধরে তা মধ্য ধরণীর মরু অঞ্চলে ইসা গোষ্ঠীর কাছে উপস্থিত হলো”।

“নিজের ভাবনাকে সার্থক করার পূর্বেই, নিজের বিরোধী সৃষ্টিতত্ত্ব জ্ঞান আহরণকারীদের দেখে, বিচলিত হয়ে গেলেন পরমাত্ম। আর ব্যকুল ভাবে এই দুই স্থানের মধ্যস্থান, অর্থাৎ যেখানে হিমালয় সমাপ্ত হয়, অথচ মরু অঞ্চল শুরু হয়না, সেই স্থানের সুদর্শন দেখতে মানুষদেরকে আবেগের পাশে আবদ্ধ করা শুরু করলেন। আবদ্ধ হলেন তাঁরা আবেগে, আর তাই পরমাত্মকে আধা মানুষ ও আধা পশুর রূপ প্রদান করে, সকলের সমস্ত সম্পত্তি লুণ্ঠন শুরু করে, নিজেদের বালোচি নামে প্রচারিত করে”।

“কিন্তু এই বিক্ষিপ্ত মানুষদের অত্যাচারের কথা ইসাদের কাছে আসতেই, তারা এঁদেরকে আক্রমণ করে, বিভিন্ন খণ্ডে বিভাজিত করে, বিতাড়িত করলেন। পরমাত্ম ব্রহ্মমলদের সাথে সুক্ত হয়ে যন্ত্র, মন্ত্র ও তন্ত্র সহয়াতায় এঁদেরকে যান্ত্রিক বলে উত্থিত করে, বিভিন্ন নদীতটে সেই ভগ্ন বালোচিদের গোষ্ঠীকে স্থাপিত রেখে, যন্ত্র, মন্ত্র ও তন্ত্রের সভ্যতা নির্মাণ করালেন। মিসিসিপি নদীর তটে স্থিত করে এঁদের একটি সভ্যতা গড়লেন, তো ইউফ্রেটিস নদীর তটে স্থিত করে আরো একটি, তো সিন্ধু নদীর তীরে স্থিত করে আরো একটি”।

“কিন্তু এতো কিছু করেও, এঁরা সৃষ্টির সেই তত্ত্ব স্থাপন করতে পারছিলেন না, যা স্থাপন করলে পরমাত্মকে সকলের কাছে ভগবান করে স্থাপিত করা সম্ভব হবে। তাই ব্রহ্মমলদের সহায়তায়, বোধিদের প্রভাবে যেই আদিবাসীরা প্রভাবিত হয়ে সৃষ্টিতত্ত্বের অনুশীলন করছিলেন, তাদের নিকটবর্তী স্থানে স্থিত সিন্ধু অধিবাসীদের প্রেরিত করলেন বোধিদের রচনাকে জানার জন্য”।

“কিন্তু এতে হিতে বিপরীত হওয়া শুরু হয়ে যায়। বোধিদের থেকে লব্ধ জ্ঞান এঁদেরকে সেই দিকেই উদ্বুদ্ধ করা শুরু করলে, এবার কল্পনার হাত ধরে, পরমাত্ম এঁদের সম্মুখে এসে বললেন, ‘যদি তোমরা এঁদের কথাতেই প্রাধান্য দাও, তাহলে তো এঁরা শাসক আর তোমরা প্রজা হয়ে যাবে?’ সেই কথার বিচার করে, এঁরা নূতন গ্রন্থের নির্মাণ করলেন, যেখানে পরমাত্মই হলেন ঈশ্বর। আর সেই গ্রন্থকেই প্রাধান্য প্রদানের উদ্দেশ্যে বললেন, সেই গ্রন্থের কথাকে এতকাল তারা নিজেদের মুখে মুখে বলতেন, এবার সেই কথাকে লিপিবদ্ধ করলেন”।

“শুরু হলো পরমাত্মের আগ্রাসন। কল্পনা, ইচ্ছা ও চিন্তার প্রভাবে, কন্দমদের মত মানুষকে আর অবলুপ্ত করার পথে না গিয়ে, এঁদের পূর্বলব্ধ সুরক্ষার চিন্তাকেই উস্কানি দেওয়া হলো। এঁরা নিজেদেরকে আহার লাভের দুশ্চিন্তা, আক্রমণের দুশ্চিন্তা, এমনকি দীর্ঘায়ু না হবার দুশ্চিন্তা থেকেও সুরক্ষিত করে নিয়েছিলেন। কিন্তু এবার পরমাত্ম এঁদের নিজেদের  মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্ধ শুরু করালেন”।

“মানুষই মানুষের সুরক্ষিত থাকা আহার ছিনিয়ে নেওয়া শুরু করলো। মানুষই মানুষের সুরক্ষিত আবাসনের, সুরক্ষিত গ্রামের নাশ করা শুরু করলো। আর এমন করতেই, বিভিন্ন জাতির মানুষ নিজেদেরকে অন্য জাতির মানুষের থেকে উন্নততর ভাবে আহারের সুরক্ষা করার উপায়ের সন্ধান করতে থাকলো, উন্নততর ভাবে অট্টালিকা ও শহর নির্মাণের উপায় করতে থাকলো, উন্নত যানবাহন নির্মাণের চিন্তা করতে থাকলো আর উন্নত আক্রমণের অস্ত্র নির্মাণের চিন্তা করতে থাকলো”।

“আর যেই মুহূর্তে মানুষ তা করা শুরু করলো, পরমাত্ম এঁদের সম্মুখে যন্ত্র, মন্ত্র ও তন্ত্রকে সাজিয়ে রেখে দিলেন। কল্পনার প্ররোচনা অনুসারে, পরমাত্ম এবার সেই মানুষদের কাছে গিয়ে বললেন, ‘এই যন্ত্র, মন্ত্র ও তন্ত্রকে তথা এঁদের দ্বারা নির্মিত অস্ত্র, অট্টালিকা, যানবাহন, তথা সমস্ত কিছুকে ব্যবহার করে, তারা অন্য জাতির উপর রাজত্ব করে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়ে যেতে সক্ষম। তবে তার জন্য প্রয়োজন মুদ্রার, যার সমাহার অধিক রাখার অর্থই হবে তোমরা বাকি জাতিদেরকে পদতলে স্থাপিত রাখতে সক্ষম হয়েছ’। পরমাত্মের সেই প্ররোচনা অনুসারে, এবার পরমাত্মের দ্বারা আবেগে নিহত মানুষরা মুদ্রার নির্মাণ করলেন”।

“আর মুদ্রা নির্মাণ করার সাথে সাথে, সমস্ত মানবযোনির মধ্যে যন্ত্র, মন্ত্র ও তন্ত্র এক নূতন ধারায় ছড়িয়ে পড়লো, কারণ এই যন্ত্র, মন্ত্র ও তন্ত্রের প্রয়োগই অধিক মুদ্রা আনতে পারে, এমন ব্যবস্থার স্থাপনা করা হলো। যেই আহারের সুরক্ষার চিন্তা আর তাদের করার প্রয়োজনই ছিলো না, তা পুনরায় প্রয়োজনীয় হয়ে পড়লো, কারণ মুদ্রার আগমনের কারণে, একটি মানুষ নিজেকে সুরক্ষিত করে নিতে পারলেও, তাঁর সন্তানকে সুরক্ষিত করতে পারছিলো না, যতক্ষণ না সন্তানের কাছে মুদ্রার ভাণ্ডার উপস্থিত থাকে”।

“তাই মানুষ ক্রমে, আহারের চিন্তা করার থেকেও অধিক চিন্তা করতে থাকলেন মুদ্রা উপার্জনের। ক্রমে সেই মুদ্রার এমনই কদর হয়ে গেলো যে, এই মুদ্রা অধিক ভাবে লাভ করার জন্য বণিক কুলের নির্মাণ হলো, আর এই বণিক কুলকে অস্ত্র দ্বারা সুরক্ষিত করার কৌশল দেখিয়ে ক্ষত্রিয়কুলের নির্মাণ হয়ে গেলো। আর এঁদের সকলের মাথায় উঠে বসলেন পরমাত্মের প্রিয় মানুষরা, অর্থাৎ ব্রাহ্মণ্যকুল। ক্রমে এই তিন কুল, সমস্ত মুদ্রাকে নিজেদের করতলগত করে, বাকি মানুষদের দাসে পরিণত করা শুরু করলো”।

“আহার নির্মাণ করবে বাকি মানুষরা, অট্টালিকা নির্মাণ করবেন বাকি মানুষরা; পথ, যন্ত্র, যান, সেতু, সমস্ত কিছুর নির্মাণ করবে বাকি মানুষরা; এমনকি যুদ্ধও করবে বাকি মানুষরা। আর এঁরা তিন প্রজাতি অর্থাৎ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় ও বণিক এঁদের থেকে সমস্ত উৎপাদন ও পরিসেবা আধিপত্যের সাথে গ্রহণ করে, এঁদেরকে দাস করে রেখে দেবে। … পুত্রী দীর্ঘ কাল এই শোষণ চলে। অধিকাংশ সময়তেই মা ব্যস্ত থাকতেন প্রকৃত সৃষ্টি সত্য উদ্ধার করার দিকে প্রেরণা প্রদানেই। তবে যখন মা দেখলেন যে, মানুষ এই মুদ্রা আর মুদ্রার সাথে জড়িত সমস্ত আবেগের মধ্যে সম্পূর্ণ ভাবে জরিয়ে গেছে, তখন তিনি ইসাদের মধ্যে নিজের এক অঙ্গকে প্রেরণ করে, হালাল ও হারামের গণিত দ্বারা সমস্ত পরমাত্মের বিস্তার করা জালকে মুহূর্তের মধ্যে ছিন্নভিন্ন করে দিলেন”।

“আর সেই আঘাত পরমাত্মকে বহুকাল পঙ্গু করতেই থাকে। দীর্ঘকাল এমন চলার পর, পরমাত্মের পছন্দের কিছু মানুষ কল্পনার সহায়তায় অগ্নির ব্যবহারে যান, যন্ত্র ও অস্ত্র চালনার উপায় শিখে যায়, আর তখন থেকে আবার করে মুদ্রার প্রতি আসক্তি বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর ঠিক এমন অবস্থায় চিন্তা পরমাত্মকে বললেন, ‘দেবী কিছু নতুন চাল চালেন, তার আগেই আপনি একটি মোক্ষম চাল চেলে দিন। অধিক দিন এই শূদ্রদের এমন ভাবে দাস করে রাখা যাবেনা। অধিকদিন এদেরকে দাস করে রাখলে, এঁরা যন্ত্র, মন্ত্র ও তন্ত্রের প্রতি বিতৃষ্ণ হয়ে উঠবে, আর একবার তা হয়ে গেলে, আমাদের এতকালের পরিশ্রম পূর্ণ ভাবে ব্যর্থ হয়ে যাবে’। … পরমাত্ম, সেই কথার বিচার করে এক নূতন চাল চাললেন”।

“মানবের মধ্যে একটি বিল্পবের রচনা করলেন তিনি, যাতে বাকি মানবদের মনে হয় যে তাঁদের হিতের জন্যই সমস্ত কিছু হচ্ছে। আর সেই বিপ্লবে এই বলা হলো যে, মুদ্রাকে কিছু হাতে আবদ্ধ রাখা বন্ধ করে সমস্ত হাতে ছড়িয়ে দিতে হবে। … মা এই ষড়যন্ত্রের চিন্তা করেন নি। তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে, বাকি মানুষ নিপীড়ন সহ্য করছে, তাই মুদ্রা অর্থাৎ যন্ত্র, মন্ত্র ও তন্ত্রের থেকে বিরত থাকবে। কিন্তু সেই বিষ, যা এতকাল কিছু মানুষের কাছেই স্থিত থাকার কারণে, মা নিশ্চিন্তে ছিলেন, তাকে এবার সকলের হাতে পৌঁছে দেবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে, মা উচাটন হয়ে উঠলেন”।

“শূদ্রদের এবার ছেলে ভোলানো হলো। বণিকরা সামান্য কিছু মুদ্রা বৈদ্যদের, যন্ত্রকারিগরদের এক শ্রেণীকে দিয়ে, আর কিছু ক্ষত্রিয়ের প্রত্যক্ষ দাস বা কর্মচারীদের প্রদান করে, শূদ্রদের মধ্যেই বৈষম্যের রচনা করলেন, আর এমন করতেই শূদ্রদের মধ্যে মুদ্রার আবশ্যকতার ভান উদ্দীপ্ত হতে শুরু করে দেয়। মানুষকে এবার অন্তিম একটি উত্থানের সুযোগ দেবেন বলে, মা মৃষুকে অর্থাৎ আমাকে সপ্তকলার অন্তিম কলার উন্মোচনের উপায় করছিলেন। ঠিক সেই সময়েই ঘটে গেল মানুষের অস্তিত্বের ইতিবাচক এক মুহূর্ত”।

“পরমাত্ম মৃষুর অর্থাৎ আমাকে মা মানুষের উত্থানের জন্য জন্ম দেবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এমন ব্রহ্মমলদের থেকে সুচনা লাভ করে, সরাসরি মানুষের হাতে রমনাস্ত্র তুলে দিলেন। মানুষ তখনও সার্বিক ভাবে প্রকৃতিবিরোধী হয়নি। কিন্তু মা চোয়াল শক্ত করে নিলেন সেই মুহূর্তেই যখন রমনাস্ত্রের প্রথম আঘাত প্রকৃতির বুক থেকে হাজার হাজার মেধার জীবনযাত্রাকে বিপন্ন করে দিয়ে স্বয়ং ধরিত্রীকেই আঘাত করে দিলো”।

“আর তাই, আমার সপ্তম কলা বিস্তারের উদ্দেশ্যে জন্ম দেওয়া তো স্থিরই থাকলো, কিন্তু আমার জন্মের জাগতিক উদ্দেশ্য পরিণত হয়ে গেল। যে কালে আমার জন্ম হতো মানুষের সত্যের পথে উত্থানের উদ্দেশ্যে, সেকালে আমার জন্ম নির্ধারিত হলো মানুষের পরবর্তী যোনির উত্থানের উদ্দেশ্যে। অর্থাৎ, মানুষ যে রমনাস্ত্র লাভ করে ক্রমশ অধিক অধিক ভাবে যন্ত্র, মন্ত্র ও তন্ত্র নির্ভর হয়ে উঠে প্রকৃতির বিরোধী হয়ে উঠবে, তা সম্বন্ধে নিশ্চিত হয়ে, মা রমনাস্ত্রের থেকে অতিতীব্র রাসয়নিক বিক্রিয়ায় রত ধাতুর মল থেকে একটি নরবিনাশী জীবাণুর নির্মাণ করে তাকে তুষারের আড়ালে মানুষের অগম্য স্থানে লুকিয়ে রাখলেন”।

“মায়ের অনুমান সার্বিক ভাবে সঠিক প্রমাণিত হলো পরবর্তী দশকগুলিতে। মানুষ অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সাথে যন্ত্র, মন্ত্র ও তন্ত্রের পূজা আরাধনা করা শুরু করে, মুদ্রার কাছে দাসত্ব স্বীকার করে, প্রকৃতির বিরোধী হয়ে উঠলেন, এবং রমনাস্ত্রকে কেন্দ্র করেই প্রকৃতির বিনাশলীলা করানোর জন্য উঁচিয়ে থাকলেন। পরমাত্মের হাত ধরে, ব্রাহ্মণরা দ্বিতীয়বার উত্থিত হলেন, আর এবারের রম্য রচনায় দেব বা অসুর রাখলেন না, রাখলেন অতিজাগতিক কাল্পনিক যোনির রচনা”।

“মিথ্যাচারের পর মিথ্যাচার করতে থাকলেন মানুষ। যেই মনুষ্য ধরিত্রীর বাইরে কদম রাখতেও অযোগ্য, তারা মিথ্যা প্রচার করা শুরু করে দিলো যে তারা সমস্ত সৌরমণ্ডলে ভ্রমণ করে ফিরছে। যেই ব্যাধির অস্তিত্বও নেই, সেই ব্যাধির নামকরণ করে, সেই কাল্পনিক ব্যাধির ওষধি নির্মাণ করে ফেলেছেন এমন দেখিয়ে, সমস্ত মানুষকে সেই ওষধি প্রদান করে করে নিজেদের দাস করে রেখে, যন্ত্র মন্ত্র ও তন্ত্রের বিস্তার এবং প্রকৃতির বিনাশে সকল মানুষকে রুচিশীল করে তুলতে থাকলো পরমাত্ম”।

“ক্রমশই পরমাত্মের আগ্রাসন চরমে উত্থিত হতে শুরু করলে, মানুষ কলাবিদ্যাকেও মুদ্রার আচ্ছাদনে বশীভূত করা শুরু করে দেয়, আর সাথে সাথে মাতা শ্রীকে ধানের ও পবিত্রতার দেবী থেকে মুদ্রার দেবী রূপে প্রচার করে করে, এমন করে দেন যে, মাতা শ্বেতাকে বিদ্যার স্থানে অবিদ্যার দেবী রূপে স্থাপন করে, অবিদ্যার আরাধনা শুরু করলেন; আর মাতা শ্রীকে লক্ষ্মীর স্থানে অলক্ষ্মীর দেবী রূপে স্থাপন করে, অলক্ষ্মীর আরাধনা শুরু করলেন”।

“কিন্তু এতো কিছুর পরেও পরমাত্ম যেই সাহস দেখাতে পারলেন না, তা হলো সেই বনাঞ্চল, যেখান থেকে মা চেতনার বিস্তারের বীজ স্থাপন করে তাকে তিব্বত ও মধ্য ধরিত্রীর মরুস্থানে ইসা রূপে বিস্তৃত করেছিলেন, সেই বনাঞ্চল থেকে মাকে ঈশ্বরত্ব থেকে মুক্ত করে, মা ও মেয়ে রূপে আরাধনাকে বন্ধ করা। সেই বনাঞ্চল যে মায়ের অতিপ্রিয় স্থান! সেই বনাঞ্চলই যে নির্বাণ অর্থাৎ মানবের পরবর্তী যোনির উত্থানের পীঠস্থান! সেই বনাঞ্চলই যে মৃষুর দ্বিতীয়, তৃতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম কলার বিস্তারের স্থান!”

“জন্ম নিলো মৃষু। যোনির আচ্ছাদনে স্বয়ং মা বা পরমাত্ম দেহ ধারণ করলেও, তাঁরা তাঁদের অস্তিত্বের সত্যতা স্মরণ রাখতে পারেন না, কল্পনার এই ব্রহ্মাণ্ডছায়া ও ব্রহ্মমলের প্রভাবের কারণে। তা মৃষু কিভাবে সেই সত্য স্মরণ রাখতো? জন্মের কালে তো মৃষু সপ্তকলা বিকশিতও ছিলো না! … কিন্তু মাতৃ আরাধনার বীজ মৃষুকে সপ্তকলার উন্মোচন করার দিকে প্রেরিত করতে থাকলো, আর যখন তা সম্পন্ন হয়ে গেল, তখন পরমাত্ম নিজের পরম শত্রুকে এই প্রথম পূর্ণ কলাবিস্তৃত রূপে প্রত্যক্ষ করলো”।

“আদি কৃতান্ত কথা তুমি জানো পুত্রী। সেখানে তুমি ইতিমধ্যেই জেনেছ যে, পরমাত্ম মৃষুর অপরিণত কলাবিস্তার রূপের কাছেও বারংবার পরাস্ত হয়েছে। তাই মৃষুর পূর্ণরূপ পরমাত্মকে ভয়ার্ত করা শুরু করে দেয়। কলা ও পবিত্রতাকে উদ্ধার করে, মৃষু তাঁর মায়ের পূর্ণরূপকে ধারণ করে, নিজের মাকে সর্বাম্বা অর্থাৎ তোমার রূপে প্রকাশ্যে আনতে সক্ষম হয়। আর তখন থেকেই শুরু হয়ে যায় মানবের বিনাশ, আর নির্বাণের উত্থানের কথা”।

দেবী ধরিত্রী বললেন মীনাক্ষীকে, “পুত্রী, মানব প্রকাণ্ড ভাবে সত্যের দিকে অগসর হয়েও ব্যর্থ হয় সত্যের যাত্রাতে অবিচল থাকতে। এর কারণ কি? এর কারণ হলো মানুষ সত্যকে পূর্ণ ভাবে কখনো জেনে উঠতে পারেনি, আর তা পারেনি বলেই যন্ত্র, মন্ত্র ও তন্ত্রকে কাল্পনিক এই ব্রহ্মাণ্ডে স্থিত থাকার অস্ত্র করে রাখতে না পেরে, তাদেরকেই জীবন ও জীবিকা করে নেয়। আর তেমন করার ফলেই মানুষ ধর্মচ্যুত হয় অর্থাৎ সত্যের ধারণা করতে ব্যর্থ হয়”।

“পুত্রী, নির্বাণ একটি পূর্ণ ভাবে মানুষের থেকে পৃথক যোনি নয়। বরং মানুষ যোনির নির্বাচিত কিছু পুরুষদের সাথে যক্ষিণীদের সঙ্গমের ফলে জন্মলাভ করা একটি নবযোনি। আর তাই, এই যোনির স্মরণে মানুষের সমস্ত কীর্তি রয়েছে। অগ্নির নির্মাণ, অগ্নিকে যন্ত্র রূপে ব্যবহার করার উপায়, সমস্ত কিছু। আর যাতে সমস্ত কিছু নির্বাণ যোনির স্মরণে থাকে, সেই উদ্দেশ্যেই মা প্রথমে নির্বাণ যোনির জন্ম দেন, অতঃপরে মানবের বিনাশ সম্ভব করেন”।

“অর্থাৎ পুত্রী, মা চাননি যে নির্বাণ যোনি মানুষের মতই আবার প্রথম থেকে যাত্রা শুরু করুন। কিন্তু তিনি এটি অবশ্যই চান যে, যেই ধর্মপথ থেকে মানুষ স্খলিত হয়েছিল, সেই ধর্মপথ থেকে নির্বাণরা স্খলিত না হন। আর তাই যাতে যন্ত্র, মন্ত্র, তন্ত্র, প্রকৃতি এবং সত্য সম্বন্ধে স্পষ্ট ধারণা থাকে, এবং কাকে কতটা সঙ্গে রাখলে সত্য ধারণ করা সম্ভব হয়, তা ব্যক্ত করতেই, মা মৃষুকে দিয়ে ধর্মপ্রজ্ঞার তৃতীয় অধ্যায়, অর্থাৎ ধর্মপালনের রচনা কান”।

“আর তাই পুত্রী, ধর্মপালনের প্রথম অধ্যায়তেই তুমি দেখতে পাবে, কিছু বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আর বলা হয়েছে যে তা সমস্ত অবস্থাতেই অপরিবর্তনীয়। আর তারপর থেকে, বয়সানুক্রমে ধর্মপালনের সমস্ত ধারা ব্যক্ত করা হয়েছে, যা ধর্মপ্রজ্ঞার মূলধারার উপরই ভিত্তি স্থাপন করে রচিত। এবার পুত্রী, আমি তোমাকে সেই ধর্মপালনের সমস্ত ধারার বিবরণ প্রদান করবো। মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করো। সঙ্গে সঙ্গে, মৃষু প্রতিটি ধারার স্থাপনার কারণ ও যুক্তিও প্রদান করেছেন। তাই সেই যুক্তির কথাও তোমাকে বলবো, যাতে করে ধর্মপ্রজ্ঞার অন্তরে কি প্রকাণ্ড বিজ্ঞান স্থিত, তা উপলব্ধি করতে পারো তুমি”।

পৃষ্ঠা: 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13