ধর্মপ্রজ্ঞা – সত্য মার্গ

মাতা হেসে বললেন, “পুত্রী, এই ধারণা, এই উপলব্ধিকে আমার ভ্রূণ অর্থাৎ মেধাদের মধ্যে অঙ্কিত করে দেবার জন্যই আমি কারণ বেশে নিয়তি হয়ে, সূক্ষ্ম বেশে কালনিয়ন্তা কালী হয়ে এবং স্থূল বেশে প্রকৃতি হয়ে বিরাজমান থাকি। তাই আমি তোমাকে এবার যা বলবো, তা হলো এক নিদ্রারত মেধা, কি ভাবে প্রকৃতির থেকে শিক্ষা লাভ করে জাগ্রত মেধা হয়ে উঠতে পারে, কি ভাবে কালীর থেকে শিক্ষা লাভ করে আত্মের বাস্তবিকতা জেনে নিতে সক্ষম”।

“পুত্রী, একবার এই সত্যকে জেনে নিলে, এক মেধা পূর্ণ ভাবে জাগ্রত হয়ে যায়। আর তখন সে সজ্জ হয়ে ওঠে, ধর্ম পালনের জন্য এবং মেধা থেকে চেতনায় যাত্রা করার জন্য। তাই আমি তোমাকে নিদর্শন সহ এবার প্রকৃতির থেকে, কালের থেকে, আর এই দুই যেখানে এসে সংযুক্ত থাকে, সেই জীবনের থেকে কি ভাবে শিক্ষা লাভ করে মেধা জাগ্রত হতে সক্ষম, সেই কথাই বলবো”।

“পুত্রী, এই শিক্ষালাভও বেশ কিছু চরণে বিভক্ত। তবে এই সমস্ত চরণের কথা, আমি তোমাকে বলবো না। আমি তোমাকে এঁর প্রথম চরণই বলবো, অর্থাৎ কি ভাবে অধর্মকে ধারণ করে থাকা হয়, আর কি ভাবে অধর্মকে ত্যাগ করে ধর্মকে ধারণ করতে হয়, সেই কথা। পুত্রী, এই কথা বলার কালে, আমি তোমাকে তাঁর পরিচয়ও প্রদান করবো, যে তোমাকে আর তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ আমাকে বাকি চরণ ও ধর্মপালনের কথা বলবে। পুত্রী, তোমার কর্ম হবে, তাঁকে এই বিন্দুতে এনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া যেখানে স্থিত হয়ে সে বাকি চরণের কথা আমার গ্রহণ করা অবতারকে বলবে, এবং আমাকে সমস্ত সত্যের স্মরণ করাবে। সেই কাল থেকে সে-ই বাকি চরণের কথা বলবে, যাকে প্রশ্ন করবো আমি স্বয়ং। যখন সে আমাকে এই সমস্ত কিছুর উত্তর প্রদান করবে, তখনই তুমি বাকি চরণের কথা ও ধর্মপালনের কথা জানতে পারবে”।

মাতা দেবী ধরিত্রীর উদ্দেশ্যে বলতে থাকলেন, “তোমাকে আগেই বলেছি পুত্রী, একাধিক মেধাদের সমন্বিত প্রকাশ দর্শক মেধার কাছে প্রকৃতি বেশে প্রকাশিত হবে। অর্থাৎ সেই সমন্বিত প্রকাশে, বেশ কিছু বৃক্ষ ও তরুরাজিও থাকতে পারে, আবার তাদের সাথে কিছু অন্য যোনির প্রাণীও যুক্ত হতে পারে, আবার তার সাথে কিছু সমগোত্রীয় যোনির প্রাণীও যুক্ত থাকতে পারে”।

“এই প্রতিটি যোনির প্রাণীই যুদ্ধে রত। কার সাথে যুদ্ধে রত, তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, কিন্তু সে যে যুদ্ধে রত, তা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। কেন সে এমন যুদ্ধে রত? তাকে তার দেহ গঠনকে সুরক্ষিত রাখতে হবে, তবেই তার পক্ষে প্রগতি করা সম্ভব, এই কারণে সে যুদ্ধে রত। এই দেহগঠনকে সুরক্ষিত রাখার সাথে সাথে, তাকে নিজের প্রতি বাকি মেধাদের দৃষ্টিকে মার্জিত ও সম্ভ্রমে পরিপূর্ণ রাখার জন্য সে যুদ্ধে রত। আর সেই সকলের দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রিত রাখার কালে, সে যাতে পূর্ণ ভাবে পরাধীন না হয়ে যায়, সেই কারণেও সে যুদ্ধে রত”।

“প্রশ্ন এবার এই যে, কার সাথে সে যুদ্ধে রত? সে যুদ্ধে রত সকল বাকি প্রাণীর ইচ্ছা, চিন্তা ও কল্পনার সাথে। প্রতিটি প্রাণীই আত্মকে ধারণ করে অবস্থান করার কারণে, ব্রহ্মমলদের গ্রহণ করেই রয়েছে। আর তাই প্রতিটি প্রাণীই নিজের নিজের ইচ্ছার কাছে, চিন্তার কাছে ও কল্পনার কাছে বশীকরণের শিকার। এমন অবস্থায়, এক অন্য প্রাণী যদি তাঁদের কল্পনা, ইচ্ছা ও চিন্তাকে নিজের অধিকারে স্থাপিত করতে না পারে, তাহলে যে তার পক্ষে শিকার করে আহার লাভ করে দেহগঠনকে টিকিয়ে রাখাও অসম্ভব, আর তার পক্ষে অন্য প্রাণীদের দৃষ্টিতে নিজেকে সম্মানীয় প্রমাণ করে, নিজের জীবন প্রগতিকে অক্ষুণ্ণ রাখাও অসম্ভব কৃত্য”।

“আত্মের প্রভাবে এসে প্রতিটি প্রাণী এমনই মনে করবে, আর তাই সকলেই যুদ্ধে রত থাকবে। কার সাথে যুদ্ধ? নিজের ব্যতীত সকলের ইচ্ছা, চিন্তা ও কল্পনার সাথে যুদ্ধ। কেন? কারণ প্রতিটি প্রাণী এই ভাববে যে, যদি সে অন্য প্রাণীকে এই বোঝাতে অক্ষম হয় যে, তার নিজের ইচ্ছা পুড়ন হলে, তবেই সেই প্রাণীর ইচ্ছা পুড়ন হবে, তাহলে তার নিজের ইচ্ছাপুড়ন করা অত্যন্ত অধিক ভাবে দুর্দম হয়ে উঠবে”।

“সেই প্রাণী এমন মনে করবে যে, যদি অন্য বহু প্রাণীর চিন্তা তাঁকে ঘিরে অবস্থান করে, তবেই তার নিজের ইচ্ছার সাথে সকলে নিজের নিজের ইচ্ছাকে যুক্ত করবে, আর তবেই তাঁর দুশ্চিন্তা লাঘব হবে, আর কল্পনা পুড়ন হবে। আর তাই, সে নিজের আশেপাশের প্রতিটি জীবের ইচ্ছা, চিন্তা ও কল্পনাকে জানতে থাকবে, আর তাকে নিজের ইচ্ছা, চিন্তা ও কল্পনার দ্বারা সমীকরণে বাঁধবে”।

“হ্যাঁ অবশ্যই পুত্রী এই সমস্ত কিছু সে করবে আত্মের প্রভাবে। কিন্তু আত্ম এমন করাতে চাইবে কেন? কারণ আত্মের প্রয়াস এই হবে যে, সকল প্রাণী যাতে নিজের নিজের ইচ্ছা, চিন্তা ও কল্পনাকেই নিজের জীবিত থাকার মূল উপকরণ জ্ঞান করে। কারণ একমাত্র তেমন করলেই, সমস্ত জীব নিজের আমিত্বকে গুরুত্ব প্রদান করবে, এবং সর্বক্ষণ “আমি ও আমার” নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। আর একমাত্র যখন জীব নিজের আমিত্বকে গুরুত্ব প্রদান করে, তখনই সত্য কি তা জানার প্রতি উদাসীন থাকে। অর্থাৎ আমার অস্তিত্ব, আমার মাতৃত্ব, আর সকল জীব যে আদপে আমার সন্তান এবং স্বয়ং আমার প্রকাশ, তা ভুলে থাকবে। আর যতক্ষণ তা ভুলে থাকবে, ততক্ষণই আত্ম তাঁদের উপর নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম থাকবে”।

ধরিত্রী ভ্রুকুঞ্চিত করে বললেন, “কিন্তু মা, তুমি স্বয়ং নিয়তি, কাল নিয়ন্তা কালী। চেতনা তুমি স্বয়ং। যদি তুমি এর বিপরীত চেতনার বিস্তার করো, তাহলে আত্ম এই কাজে যে সম্পূর্ণ ভাবে ব্যর্থ হবে। তবে তুমি তা করোনা কেন?”

মাতা হেসে বললেন, “পুত্রী, শিষ্য যাতে অন্ধত্বের অন্ধকারে তলিয়ে না যায়, তার জন্য এক আচার্য তাঁর সেই শিষ্যকে তাঁর সাথেই যুক্তি তর্কে অবতীর্ণ করেন। কিন্তু তাঁর উদ্দেশ্য কি শিষ্যকে নিজের বিপরীতে স্থাপিত করা হয়? না পুত্রী। তাঁর উদ্দেশ্য হয় শিষ্যকে এই শিক্ষা দেওয়া যে, যুক্তিদ্বারা বিচার না করা পর্যন্ত কনো কিচ্ছু স্বীকার না করা। … তেমনই এক যোদ্ধাকে প্রথমে তাঁর গুরুভ্রাতাদের সাথে যুদ্ধে রত করা হয়। পরে সে বৃহত্তর যোদ্ধা হয়ে উঠলে, আচার্য স্বয়ং তাঁর সাথে যুদ্ধে রত হন। কিন্তু এই সকল কিছুর উদ্দেশ্য কি? উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধনীতির শিক্ষা দেওয়া, যুদ্ধকৌশলে পারদর্শী করে তোলা, আর যুদ্ধে উপস্থিত হওয়া সম্ভব সকল প্রকার বাঁধার সাথে পরিচয় করানো”।

“তেমনই পুত্রী, আত্ম জীবের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ স্থাপনের জন্য যেই যুদ্ধবৃত্তি জীবদের মধ্যে স্থাপন করে, তা মেধাদের প্রকৃত যুদ্ধ নয়। কিন্তু আমি তাদেরকে সেই যুদ্ধে বাঁধা দিইনা, কারণ বাঁধা দিলে যে, তারা যুদ্ধ করতেই ভীত থাকবে। আর এই যুদ্ধে ভয়ের কারণে, তারা প্রকৃত যুদ্ধে অংশগ্রহণই করবেনা। … পুত্রী, সৃষ্টির ধারা যখন চলতে থাকবে, তখন দেখবে যে, এমন বহু জীব থাকবেন যারা, আত্মের প্ররোচিত এই যুদ্ধে প্রথমত অংশগ্রহণ করতেই চাইবেনা। আত্ম তাঁদেরকে প্রভাবিত করবে যাতে তারা এই যুদ্ধে অংশ নেয়, কারণ তা না হলে সে নিজের কর্তৃত্ব স্থাপন করতেই অক্ষম থাকবে”।

“আর তখন স্পষ্ট ভাবে বুঝে যাবে যে, আমি কেন সকল জীবদের এই মিথ্যা যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখিনা। তারা যে এই যুদ্ধ করার কালে, নিজেদেরকে যোদ্ধা রূপে স্থাপন করে নেয়। অর্থাৎ, আমাকে আর তাদেরকে আলাদা করে যোদ্ধা করতে হবেনা। আমার কাজ হবে কেবল তাঁদেরকে সঠিক যুদ্ধের মুখোমুখি করে দেওয়া। যোদ্ধা তারা ইতিমধ্যেই হয়ে থাকবে, আত্মের প্ররোচিত এই মিথ্যা যুদ্ধের কারণে। একবার তাঁদেরকে সঠিক যুদ্ধের সাথে আলাপ করিয়ে দিতে পারলেই, তারা যথার্থ ভাবে নিজেদেরকে আত্মের থেকে মুক্ত করে আমার কাছে পৌঁছে দিতে পারবে”।

“এই হলো একটি কারণ, যেই জন্য আমি এই যুদ্ধে বাঁধা দিইনা। আরো একটি কারণ আছে পুত্রী, এই যুদ্ধে বাঁধা না দেবার। পুত্রী, যার সাথে নির্ণায়ক যুদ্ধ করতে হয়, তার সাথে সেই নির্ণায়ক যুদ্ধে স্থিত হলেও পরাজিত হয়ে যেতে হয়। কেন জানো? কারণ আমরা তাঁর শক্তি, তাঁর সামর্থ্য, তাঁর কৌশল, কিছুই জানিনা। কিন্তু আমার সন্তানদের ক্ষেত্রে দেখো। আত্মের প্ররোচনাতেই যুদ্ধ করে তারা সমস্ত জন্ম জন্মান্তর ব্যাপী। তাই আত্মের বল, কৌশল, সামর্থ্য সমস্ত কিছুই জানে তারা। তাই যখন অন্তে তারা নির্ণায়ক যুদ্ধে রত হবে, তখন শত্রুকে সে নিজের থেকেও অধিক জানবে, কারণ সমস্ত দেহ দেহান্তরে সে যে সেই আত্মের কৌশলেই যুদ্ধ করে এসেছে, সেই আত্মের সামর্থ্যেই যুদ্ধ করে এসেছে”।

“অর্থাৎ, একবার যখন সে নির্ণায়ক যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে যায়, তখন জয় তার নিশ্চিত হয়ে যায়, কারণ আত্মের আর কনো সামর্থ্য বা কৌশলই তার কাছে গুপ্ত থাকেনা। … আর ঠিক এই কারণে, আমি আমার সন্তানদের এই মিথ্যা যুদ্ধ করতে দেখেও, একটিবারও সেই যুদ্ধ করা থেকে তাদেরকে বিরত করবো না”।

ধরিত্রী বিচলিত ভাবে মাতার দিকে কেবল তাকিয়ে থাকলেন। সেই দেখে মাতা হেসে বললেন, “পুত্রী, আমি ছাড়া আর একজনের মধ্যেই এই ভাব তুমি দেখতে পাবে। আর যখন দেখতে পাবে, নিশ্চিত ভাবে জেনে রেখো যে, আমার পুত্র মৃষু সে, আর যখন দেখতে পাবে তাঁর মধ্যে এই ভাব, তখন নিশ্চিত থেকো যে, আমার পুত্র পূর্ণতা পরিণত যোদ্ধা হয়ে গেছে, যাকে আত্ম আর স্পর্শও করতে পারবেনা। … হ্যাঁ পুত্রী, এই একই ভাব, যা তুমি এক্ষণে আমার মধ্যে দেখছো, আর দেখে বিচলিত হচ্ছ, সেই ভাব। অর্থাৎ, যুদ্ধে জয়ী হবার জন্যই যুদ্ধ করা, যুদ্ধে ভাগ নেবার জন্য যুদ্ধ করা নয়”।

“এটিই আমার বৈশিষ্ট্য, আর আমার পুত্রেরও। আমার পুত্র এই শিক্ষার বিস্তার করবে যে, প্রয়াস বন্ধ করে কর্ম করো, কারণ কর্মের থেকে লব্ধ কর্মফলকেই আমরা গ্রহণ করি, প্রয়াস থেকে লব্ধ ফলকে আমরা গায়েও মাখিনা। সে এই শিক্ষারই বিস্তার করবে যে, আন্দোলন করা বন্ধ করো, বিদ্রোহ করা বন্ধ করো। আন্দোলন আর বিদ্রোহ তাঁর কাছে করতে হয়, যার থেকে ন্যায় লাভের আশা জীবিত থাকে। যার আপাদমস্তকই অন্যায়, তার থেকে ন্যায়ের অপেক্ষা করাও মুর্খামি”।

“আর যদি সে ন্যায় করেও, তাও এক বৃহত্তর অন্যায়তে তোমাকে অংশীদার করার জন্যই তোমার সাথে ন্যায় করবে। তাই আন্দোলনও নয়, বিদ্রোহও নয়। এই দুইই যে জয়লাভ করার যুদ্ধ নয়, বরং নিজেকে যোদ্ধারূপে প্রমাণ করার একটি প্রয়াস মাত্র। এই দুইই যে নিজের নামকে যোদ্ধা রূপে স্থাপন করে, ইতিহাসের পাতায় নিজের ‘আমি’কে স্থাপিত করে রাখার প্রয়াস মাত্র। তাই সেই যুদ্ধ করো, সেই যুদ্ধ কৌশল রাখো, যা জয় এনে দেবে তোমাকে। পুত্রী, যখন কারুর মধ্যে এই ভাব স্পষ্ট দেখতে পাবে, জেনে রেখো সে আমার পুত্র, আর সে পূর্ণ ভাবে আত্মের বিনাশের জন্য সজ্জ হয়ে যাওয়া যোদ্ধা”।

“যাই হোক, এই এতো কথা কেন বলা হলো তোমাকে, সেই বিষয়ে এবার ফিরে যাবো পুত্রী। বলছিলাম তোমাকে, প্রতিটি জীবের নিজের নিজের যুদ্ধের কথা। সকলে অন্যের চিন্তা, ইচ্ছা ও কল্পনাকে নিজের বশ্যতায় আনতে যেমন ব্যস্ত, তেমনই সকলে অন্যের ইচ্ছা, চিন্তা ও কল্পনাকে নিজের ইচ্ছা, চিন্তা ও কল্পনার সাথে মিলিয়ে দেখে নিতে ব্যস্ত। আর এই সকল পক্ষের ব্যস্ততার কারণে, যখনই একাধিক জীব একত্রিত হয় কনো স্থানে, সেখানেই থাকে মানিয়ে নেবার প্রয়াস, বিরোধ করার প্রয়াস, বশ করার প্রয়াস, বশ্যতা মুক্ত হবার প্রয়াস, আর থাকে অন্যের বশে থেকে নিজের ইচ্ছা, চিন্তা ও কল্পনাকে তৃপ্ত করার প্রয়াস”।

“আর এই সকল প্রয়াস সকলকে দিয়ে কিছু না কিছু কর্ম করিয়ে চলে সর্বক্ষণ। আর এই সমূহ কর্মকে কনো এক মেধা প্রত্যক্ষ করে, এবং প্রত্যক্ষ করার শেষে তা নিয়ে বিচার করে, সকলের সংগ্রামকে পৃথক পৃথক ভাবে এবং যৌথভাবে অনুধাবন করে, সেটিই হলো প্রকৃতির থেকে গ্রহণ করা শিক্ষা। সেই কর্ম তাঁকে বলতে থাকবে যে, কার মানসিকতা কিরূপ, কে কিরূপে জগতকে দেখে, কে কি রূপে নিজের আত্মকে দেখে, আর কে কে কি কি ভাবে নিজের আত্মকে প্রতিষ্ঠা করতে ক্রিয়ারত”।

“পুত্রী, এই হলো ধর্মের প্রথম চরণ যা সকলকে এই কথা বলবে যে, সকলে কি কি ভাবে নিজের নিজের আত্মকে ধারণ করে রয়েছে এবং ধারণ করে কি ভাবে আত্মের দাস হয়ে রয়েছে সকলে। … এর সাথে যুক্ত থাকে, আরো একটি শিক্ষা। আর তা হলো কালের শিক্ষা। কাল অর্থাৎ সময়। সময় কি? সময় হলো, কর্ম করা থেকে সেই কর্মের ফল গ্রহণের অন্তরায়”।

“দর্শক মেধা এতক্ষণ সকল জীবদের নিজের আত্মের প্রতিষ্ঠা করার জন্য ক্রিয়াকে প্রত্যক্ষ করছিলো, আর তার থেকে আত্মের প্রভাবকে, আর আত্মকে ধারণ করে রাখার প্রবণতাকে দেখছিলো সকলের মধ্যে। এবার সে প্রত্যক্ষ করবে যা কিছু, তা আত্মের নিয়ন্ত্রণের অতীতে স্থিত। এবার সে দেখবে যে, এই প্রতিটি কর্মের থেকে কর্মফল লব্ধ হয়। আর তা জীবকে তারা করে ফেরে, যতক্ষণ না সে সেই কর্মফলকে সাগ্রহে গ্রহণ করে”।

“এই ক্ষেত্রেও সে আত্মকে ধারণ করে থাকার প্রবণতা দেখতে পাবে সকল জীবের মধ্যে। সে দেখবে যে, কেমন ভাবে আত্মকে ধারণ করে থাকার কারণে, সকল জীব এই কর্মের ফল থেকে পলায়ন করে ফিরছে সর্বক্ষণ। আর সাথে সাথে এও দেখবে যে, সে কিছুতেই এই কর্মফল থেকে পলায়ন করে কর্মের ফল থেকে মুক্ত হতে পারছেনা। সাথে সাথে সে এও দেখবে যে, কেমন করে কর্মফলের থেকে মুক্ত হবার প্রয়াস করে করে জীব, আরো হাজারো কর্ম করছে, আর সেই হাজারো কর্মের কারণে সে আরো হাজারো কর্মফলের উত্তরাধিকারী হয়ে উঠছে, আর যত অধিক সেই কর্মফলের ভাণ্ডার হচ্ছে, ততই তাঁর কর্মফলের থেকে পলায়ন অধিক কষ্টকর হয়ে উঠছে”।

“এত কিছুর দেখার শেষেও সে দেখবে, কি ভাবে অবশেষে গিয়ে, বাধ্য হয়েই জীব কর্মফল গ্রহণ করছে, আর তাতে তার পরিণাম কি হচ্ছে। এরই মধ্যে কিছু কিছু জীবকে দেখবে সে, যারা বাধ্য হয়ে নয়, আগ্রহের সাথেই কর্মফলকে গ্রহণ করছে। আর দেখবে যে, যখন তারা আগ্রহের সাথে সেই কর্মফলকে গ্রহণ করছে, তখন তারা সেই কর্মফলের থেকে প্রয়োজনীয় শিক্ষাও গ্রহণ করে নিচ্ছে, আর তার ফলে তারা শক্তিশালী যোদ্ধা হয়ে যাচ্ছে”।

“আর এমন দেখে দেখে, সে কালের রহস্য ভেদ করবে, আর উপলব্ধি করবে সে যে, আত্ম ভগবান নয়। আত্ম যদি ভগবান হতো তাহলে, তাকে কেউ কর্মফল গ্রহণে বাধ্য করতে পারতো না। আর সাথে সাথে এই উপলব্ধিও করবে যে, আসলে যে ভগবান, সে আত্ম ভাবের কারণে যেই সঙ্কীর্ণতার উদয় হয়েছে অন্তরে, তার থেকে মুক্ত করতেই কর্মফল প্রদান করিয়ে, বার বার বলছে যে, আকাঙ্ক্ষিত কর্মফলের আশায় ইচ্ছা, চিন্তা ও কল্পনা না করে, অন্য কিছুর বিচার করা আবশ্যক। কিন্তু সেই অন্য কিছুটা কি?”

“তার মধ্যে এবার প্রশ্ন জাগে যে, কর্মের বিচার কে করছে? কে তার বিচার করে কর্মফল নির্ধারণ করছে? যে এই সমস্ত কিছু করছে, সে ইচ্ছা, চিন্তা ও কল্পনার দাসত্ব থেকে মুক্ত হতে বলছে, কিন্তু তাহলে কার বিচার করতে সে বলছে? এই সমস্ত প্রশ্ন তাঁর অন্তরে জট পাকিয়ে গেলে, সেই জট খুলতে, সে এবার নিজের জীবনকে দিয়ে সমস্ত কিছুকে প্রত্যক্ষ করতে চায়, কারণ এক নিজের জীবনকে দিয়ে প্রত্যক্ষ করতে গেলে, তবেই তা কেবল প্রত্যক্ষ করা থেকে উন্নীত হয়ে উপলব্ধি হয়ে উঠবে”।

“এমন বিচার করে সে, এবার নিজের জীবনে ইচ্ছাদেরকে, চিন্তাদেরকে এবং কল্পনাদেরকে প্রত্যক্ষ করে। আর তা প্রত্যক্ষ করে উপলব্ধি করে যে আত্মকে ধারণ করে থাকার কারণেই, এই ব্রহ্মমলদের এতো গুরুত্ব প্রদান করা। আরো গহন দৃষ্টি স্থাপন করলে, সে এবার দেখে যে, এই আত্মই কর্মফল থেকে পলায়নের উপায় করছে, আর যতই এমন করছে সে, ততই অধিক কর্ম করছে সে, নিজের ইচ্ছা, চিন্তা ও কল্পনার স্থাপনার উদ্দেশ্যে, আর ততই অধিক হয়ে উঠছে কর্মফলের স্তূপ, আর তা একসময়ে পাহাড়ে পরিণত হয়ে গেলে, তাকে গ্রহণ করতেই হচ্ছে”।

“বাধ্য হয়ে সেই কর্মফলকে গ্রহণ করার কালে, সেই কর্মফলকে দণ্ড মনে করছে আত্ম, আর তার কারণে জীবন যেন দুরারোগ্য ব্যাধি, এমন বোধ জন্মাচ্ছে, আর সেই বোধ থেকে আসছে জীবনের প্রতি উদাসীনতা। আসছে যুদ্ধ থেকে পলায়নের প্রবণতা। আসছে আসক্তির বিপরীত বিরক্তি ভাব। এতো পর্যন্ত উপলব্ধি করে, এবার সে এক সময়ে সিদ্ধান্ত নেয় যে, এবার সে কর্মের ফলের থেকে পলায়ন করবেনা। সহর্ষ স্বীকার করবে সে কর্মফলকে। দেখা যাবে যা হবে”।

“আর তেমন করার কালে সে এবার নিরীক্ষণ করে যে, আদপে কর্মফল তাঁকে দণ্ডিতই করছে না। তাঁকে তো কর্মফল দেখাচ্ছে যে, আত্মকে ধারণ করে থাকার কারণে কেমন ভাবে সে ইচ্ছা, চিন্তা ও কল্পনার দাস হয়ে উপস্থাপন করছে, আর দেখাচ্ছে যে এই উপস্থাপনার কারণে জীবন ক্রমশ এক দুর্বিষহ ব্যাধির ন্যায় হয়ে উঠছে। … প্রথমবার তার সন্দেহ জাগে যে, সে আত্মকে ধারণ করে ভুল করছে নাতো? … প্রথমবার আত্মকে ধারণ করতে তার মধ্যে বিড়ম্বনার সঞ্চার হয়”।

“আর এই বিড়ম্বনা আরো এক বিড়ম্বনার বিস্তার করে তার মধ্যে। আর তাই এই যে, যদি আত্মকে ধারণ না করি, তাহলে কাকে ধারণ করবো? এই বিড়ম্বনা তার হৃদয়কে ব্যকুল করে তোলে, আর এই ব্যকুলতা জন্ম দেয় বিবেককে। এই বিবেক হলো চেতনার অর্থাৎ আমার নিকট পৌঁছাবার দ্বিতীয় দ্বার, যার অবস্থান ঠিক বিচারের পরে। বিবেক মেধার নৈকট্য পছন্দ করে, আর বিবেক ও মেধা একত্রে এক বিশেষ দর্শকের জন্ম দেয়, যা না তো কনো কিছুতে আসক্ত, আর না কনো কিছুতে বিরক্ত। অর্থাৎ এক সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ দর্শকের জন্ম হয়”।

“এই নিরপেক্ষ দর্শক এবার নিখুঁত ভাবে আত্মকে, ত্রিব্রহ্মমলকে এবং তাঁদের আচরণকে প্রত্যক্ষ করলে, আবিষ্কার করে যে, আমিত্ব আসলে একটি ভ্রম। একটি আপেক্ষিক ভাব যে ‘আমি ও আমার’ পৃথক কনো অস্তিত্ব আছে ও তা সম্ভব। আর এই অস্তিত্বকে মান্যতা প্রদান করতে এবং সকলের থেকে মান্যতা গ্রহণ করতেই, সমস্ত ব্রহ্মমলদের সক্রিয় রাখা হয়। এমন উপলব্ধির পর মেধা এবার ইচ্ছা, চিন্তা ও কল্পনার থেকে মুক্তির যুদ্ধ করে”।

“আত্ম তাঁকে আসক্তি আর বিরক্তি দিয়ে বারংবার আক্রমণ করার প্রয়াস করে। হতাশা কেন্দ্রিক সমস্ত আবেগ দ্বারা তাঁর অন্তরে ক্রোধ, দ্বেষ ও আলস্য আনার প্রয়াস করে। সংগ্রাম হয় বিপুল, আর অবশেষে মেধা আসক্তি বিরক্তির অতীতের ভাব অর্থাৎ বৈরাগ্য, বিবেক এবং বিচার দ্বারা সমস্ত ব্রহ্মমলকে সীমাবদ্ধ করে দিলে, জন্ম নেয় মমতার ভাব। আর এই মমতার ভাব তাঁকে সমস্ত কিছু স্মরণ করিয়ে দেবে”।

“আমার মমতার জাগরণ। সেই মমতার কারণে মেধার জন্ম। সেই মেধার উপর আত্মের আঘাত। আর এই আঘাতের প্রতিবাদে সংঘাতের থেকে বাকি চার ভূতের জন্ম, ধরিত্রী অর্থাৎ তোমার জন্ম, আর তোমার সাথে একাত্ম হয়ে উঠে মেধা পঞ্চভূতের একটি ভূত হয়ে গিয়ে যোনি বিস্তার, দেহ দেহান্তর, জন্ম জন্মান্তরের যাত্রা। সমস্ত কিছু স্মরণ এসে যাবে তার। আর তাই এবার সে আমাকে চিহ্নিত করে নেবে”।

“আমাকে চিহ্নিত করেও শান্তি নেই। এতকাল আমি তাঁর থেকে দূরে থেকেছি, তাই প্রথমেই আমাকে সে কাঠগড়ায় তুলবে। আমাকে হাজারো প্রশ্ন করবে। ক্রমশ আমার থেকে সমস্ত উত্তর গ্রহণ করবে। কি কি কাজে আমি সমর্থন করেছি, আর কেনই বা তা করেছি, একের পর এক জেনে জেনে, সে আমার প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস অর্পণ করবে। অতঃপরে সে আমার সাথে অঙ্গাঙ্গী হয়ে যেতে ব্যকুল হয়ে উঠবে, এবং আমার থেকে পৃথক হয়ে বিরাজ করার বেদনায় প্রেম অনুভব করে, আমাকেই ধারণ করা শুরু করবে”।

“এই হলো পূর্ণ ভাবে ধর্ম পুত্রী, অর্থাৎ প্রথমত আত্মকেই ধারণ করে থাকবে সকলে, আর তারই সাথে ব্রহ্মমলদের ধারণ করে থাকবে। আর সেই কালে তারা এই আত্মকে ধারণ করে থাকাকেই ধর্ম মানবে। আর ধর্মপ্রজ্ঞা তাঁদের সকলের জীবনকে এক নির্দিষ্ট পথে চালিত করে, তাদেরকে আত্মের ধারণ থেকে মুক্ত করে, সত্যের ধারণে স্থিত করে মুক্ত করে তুলবে। আর পুত্রী, এই ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে, যা সর্বোত্তম বাঁধা হতে পারে, তা হলো শাসকের নীতি, কারণ শাসককে যেমন সত্য ধারণের পরোয়া করতে হয়, তেমনই আত্ম ধারণেরও পরোয়া করতে হয়, কারণ তাঁর অধিকাংশ প্রজাই আত্মকে ধারণ করে অবস্থান করছেন। আর তাই ধর্মপ্রজ্ঞার সাথে সাথে শাসক স্মৃতিও প্রদান করবে আমার পুত্র মৃষু”।

ধরিত্রী এবার গদগদ হয়ে বললেন, “মা, এর অর্থ এই যে, মেধাদের ভ্রূণ থেকে পরিণত অর্থাৎ চেতনা করতে হলে, যা প্রয়োজন তা হলো, তাদের এই পরিণতিতে যে আটকে রেখেছে, সেই আত্মকে চেনা, জানা ও তাকে পরাস্ত করা। আর সেই কারণেই, আত্মকে ধারণ করা আবশ্যক, কারণ আত্মকে ধারণ না করলে, আত্মকে জানাও সম্ভব হবেনা, চেনাও সম্ভব হবেনা, আর আত্মকে যুদ্ধে পরাস্ত করাও সম্ভব হবেনা। তাই তুমি কনো মেধাকে আত্মকে ধারণ করার ক্ষেত্রে কনো প্রকার বাঁধা দাওনি। আর ধর্মপ্রজ্ঞা হলো, সেই আত্ম ধারণ থেকে সত্য ধারণে পরিণত করে তোলার প্রয়াস। যেই যেই মেধা আত্মধারণ করা থেকে প্রতিহত হয়ে, সত্যকে ধারণ করবে, সে স্বতঃই সেই নির্ণায়ক যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে, যেই যুদ্ধে অবতীর্ণ ব্যক্তিকে সাধু বলা হতো এককালে, আর আত্ম এই সাধু শব্দকে প্রদুসিত করলে, মৃষু সেই শব্দকেই কৃতান্তিক রূপে স্থাপন করবে। আর তখন থেকে আরম্ভ হবে মুক্তি যুদ্ধ। আত্মের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে সত্যে স্থিত হওয়ার যুদ্ধ”।

“আর এই সমস্ত কিছুর জন্য যেমন শত্রুকে চেনার ও জানার জন্য আত্ম ধারণ করতে হয়েছে। তেমন আত্মের ধারণ থেকে মুক্ত হয়ে সত্য ধারণও করতে হবে। আর এই ধারণের পরিবর্তনকে সর্বস্তরে স্থাপন করার জন্য, ব্যক্তি বিশেষের জন্য ধর্ম প্রজ্ঞা, আর জাতির জন্য শাসক স্মৃতি। এই কি এই দুই গ্রন্থের উদ্দেশ্য?”

মাতা হেসে বললেন, “হ্যাঁ পুত্রী, এই হলো উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্য জানার পরে যা অবশিষ্ট থাকে তা হলো, কোন যোনি আত্মকে কি ভাবে ধারণ করে বিরাজমান থাকবে, তা জানা। আর পরে থাকে, সেই সমস্ত কিছুর দর্শক যোনি কি ভাবে আত্মকে ধারণ করে পরে থাকে, তা জানা। পুত্রী, সেই কথা আমি এখন তোমাকে বললে, তুমি তার অর্থ কিচ্ছু উপলব্ধি করতে পারবেনা, কারণ সেই যোনিবিস্তার এখনও অনুষ্ঠিতই হয়নি”।

“তাই সেই কথা তুমি জানবে আমার পুত্র মৃষুর থেকে। তবে মৃষু সেই কথা তোমাকে বলবে না। সেই কথা সে বলবে আমাকে, যখন আমি পরমাত্মের সাথে সংগ্রামের দিশা পরিবর্তন করতে অবতরণ করবো তখন। সে-ই বলবে, কিভাবে সমস্ত যোনি আত্মকে ধারণ করে বিরাজমান। সে-ই বলবে, কি ভাবে ধর্মকে ধারণা করতে উদ্যত যোনি আত্মকে ধারণ করে উপস্থিত। আর সে-ই বলবে কি কি পালন করে, সেই উদ্যত যোনি নিজেদেরকে আত্ম ধারণ থেকে মুক্ত করে সত্য ধারণ করতে সক্ষম”।

“ধরিত্রী, মৃষু সেই কথা বলার পর, তোমাকে একাধিক মুক্তপ্রাণদের তনু প্রদান করতে হবে, যারা জগতে স্থাপিত হয়ে এই ধর্মপ্রজ্ঞাকে স্থাপিত করে, আত্ম ধারণ থেকে উদ্যত যোনিকে সত্য ধারণে প্রেরিত করবে। তাই যেমন মৃষুর থেকে তুমি নিম্ন কটি জীবের আত্ম ধারণ জানবে, উচ্চ কটির আত্ম ধারণ জানবে, আর ধর্ম পালন অর্থাৎ আত্ম ধারণ থেকে সত্য ধারণের মার্গ জানবে, তেমন তোমার কর্তব্য হবে আমার বাছাই করে দেওয়া মেধাদের দেহপ্রদান করে, আমার গ্রহণ করা অবতারের সাথে তাদেরকে যুক্ত করা। আর যেহেতু তোমার কাঁধে এই গুরু দায়িত্ব আছে, সেই কারণেই আমি তোমাকে এই সমস্ত কথা এখনে বললাম, কারণ এই সমস্ত কথা তোমাকে তোমার কর্ম করতে সহায়তা করবে”।

পৃষ্ঠা: 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13