আদি কৃতান্ত – প্রকৃত ঈশ্বরকথা

কৃতান্ত যুগ যখন স্থাপিত হয়ে গেছে, তখন মীনাক্ষীকে একপ্রকার দেবী রূপে পূজিত করেই সকলে তাঁকে স্থাপিত রাখলেন। তো এমন সময়ে অরিত্রা ও ভূমিও তাঁদের সন্ধান করতে করতে উপস্থিত হলে, জয়াবিজয়ার সাথে পরামর্শ করে তাঁরা মীনাক্ষীর সামনে উপস্থিত হয়ে প্রশ্ন বললেন, “দিদি, আমাদের মনে বহুকাল ধরে একটি প্রশ্ন উপস্থিত ছিল। জয়া বিজয়ার সাথে কথা বলে জানি যে, তাঁদের মধ্যেও একই প্রশ্ন উপস্থিত। তাই আমরা সকলে মিলে একটি প্রশ্ন করতে চাই, যদি তুমি অনুমতি দাও”।

মীনাক্ষী হাস্যমুখে অনুমতি প্রদান করলে, অরিত্রা বলল, “দিদি, আমরা কৃতান্ত কথা শুনেছি, যেখানে প্রভু নিজের অন্তরে মাতাকে প্রত্যক্ষ করেন। এবং মাতা তাঁর অন্তরের আত্ম ও কর্তা বোধের নাশ করে কৃতান্ত যুগ তথা কৃতান্তিক ধর্মের স্থাপনা করেন। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন এই যে, প্রভুর মধ্যে এই চেতনা এলো কি করে যে নিজের অন্তরে মাতাকে জাগ্রত করা উচিত বা তাঁর কর্তব্য! … আর মাতা তাঁর অন্তরে জাগ্রত হবার পর কি হলো?”

ভূমি বলল, “আসলে দিদি আমরা এটা জানতে চাই যে, এই কথার কি কনো অতীত বা ভবিষ্যৎও আছে? নাকি এঁর অস্তিত্ব কেবলই বর্তমানে? … আসলে, তোমার থেকেই শিখেছি আমরা যে অতীত বিনা বর্তমান উপস্থিত হতে পারেনা আর বর্তমানে যদি অস্তিত্বের কিছুও অবশিষ্ট থাকে, তাহলে তার একটি ভবিষ্যৎ অবশ্যই থাকে। সেই কারণে এই দ্বন্ধ উৎপন্ন হয়েছে আমাদের মধ্যে”।

মীনাক্ষী হেসে বললেন, “সঠিক বলেছ তোমরা, এর এক বিস্তারিত অতীত আছে। সত্য বলতে এই কৃতান্তিক ধর্ম স্থাপনের প্রয়াস স্বয়ং জগন্মাতারই। যখন তাঁর নামকরণও করেননি প্রভু, তখন থেকে এই কথার বিস্তার। আর হ্যাঁ, এর ভবিষ্যৎ… আগামী কিছু বৎসরের মধ্যেই এই ভবিষ্যৎ উপস্থিত হতে চলেছে। সার কথা বলতে হলে, পরমাত্ম, যিনি ব্রহ্মের মমতা প্রকাশের মধ্যে অবস্থান করে স্বয়ম্ভু রূপে নিজেকে প্রকাশ করে সমস্ত কিছুকে নিজের অধিকারে রাখতে ব্যকুল ছিলেন, এই কথা তখন থেকেই শুরু হয়েছে। তবে তোমাদের সেই আদি কথা মাতা সর্বাম্বা স্বয়ং বলেছেন”।

“সেই কথা পর্যন্ত মাতা তোমাদের শুনিয়েছিলেন যেখানে ধরিত্রী নিজের অন্তরে সমস্ত যোনীদের ধারণ করা শুরু করেন। তবে মাতা তোমাদের এই স্থানের ঘটনা সম্বন্ধে বিস্তারে বলেন নি। আর সেই স্থান থেকেই শুরু হয় এক নতুন সংগ্রাম। প্রভুর সংগ্রাম শুরু হয় এখান থেকে। আর সত্য বলতে মাতার সংগ্রামও শুরু হয় সেখান থেকেই। সেই সংগ্রাম লক্ষ কোটি বৎসর চলেছে। আর সেই সংগ্রাম চরম আকার ধারণ করে তখন থেকে যখন থেকে মানব জাতির বিস্তার শুরু হয়। আর প্রভু যখন নিজের অন্তরে মাতাকে পূর্ণতো ভাবে প্রকাশিত করতে সক্ষম হন, তখনই প্রভুর সংগ্রাম নির্ণায়ক হয়ে ওঠে। তবে মাতার অন্তিম সংগ্রাম এখনো বাকি রয়েছে, আর সেটিই এখন ভবিষ্যৎ”।

জয়া বিজয়া বললেন, “মীনাক্ষী আমাদের বিস্তারে বলো সেই কথা। আমরা মাতার ও প্রভুর সেই সংগ্রাম জানতে চাই। আমাদের বিশ্বাস যে, সম্যক কৃতান্তিক ধর্মের অনুগামী সকল মানুষের কাছে সেই সংগ্রাম কথা হবে প্রেরণা, হবে উত্তেজনা, হবে বিশ্বাসের আধার আর হবে নিজকে সমর্পণ করার ভিত্তি। তাই যদি অনুমতি দাও তবে, সকলকে একত্রিত করি আমরা! … সকলকে সেই কথা বলবে?”

মীনাক্ষী হেসে বললেন, “মায়ের আর প্রভুর কথা যে বলতে পারাও এক মহাভাগ্য। তাই নিশ্চয়ই বলবো। আমি নিশ্চিত ভাবে সেই কথা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলবো, কেবল প্রভুর এই অন্তিম সংগ্রামের কথা বাদ রেখে বলবো, কারণ কৃতান্তই প্রভুর সেই অন্তিম সংগ্রামকথা। তবে আমার বয়স হয়েছে। তাই পূর্বের মত উচ্চৈঃস্বরে আর কথা বলতে পারিনা। তাই অরিত্রা, ভূমি, জয়া, বিজয়া ও তন্ত্রসন্তানরা, তোমরাই কেবল এই কথা শোনো আমার থেকে। পরে না হয় সেই কথা তোমরা বাকিদের শুনিয়ে দিও। তোমরা সকলকে সেই ব্যাপারে সূচনাও দিয়ে আসতে পারো”।

পৃষ্ঠা: 1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22