চতুর্থ পর্ব – ফাইনাল ইন্টারোগেশন
দিদি যেমন বলে রেখেছিলেন, তেমন ভাবেই প্রান্তিকের বাবাকে হোটেলের রুম থেকে নিয়ে এলাম দিদির ফ্ল্যাটে। দিদি ড্রেস পালটে নিয়েছে এর মধ্যেই। একটা জিনসের জামা, হাতাটা ফল্ড করা আর নিচে খাকি প্যান্ট, পুলিশের বেল্ট দেওয়া।
ঘরে আসতে সোফাতে বসালেন প্রান্তিকের বাবাকে, নাম অখিল সিনহা। দিদি কিছু প্রশ্ন করার আগে, ইনিই প্রথম প্রশ্ন করলেন। অখিলবাবু প্রশ্ন করলেন, “থানায় না ডেকে, আমাকে এখানে ডাকলেন কেন?”
দিদি মুচকি হেসে বললেন, “এই কেসের সাথে আপনি ডিরেক্টলি লিঙ্কড্ই নন। আপনাকে ডেকেছি, আমাদের তদন্তকে সঠিক দিশা দেবার জন্য। তাই ব্যাপারটা আনঅফিসিয়াল রাখার কথাই ভাবলাম। কি ঠিক করিনি বলুন!”
অখিলবাবু বিকৃত একটা হাসি দিয়ে বললেন, “আপনারা কখনো ভুল করতে পারেন! … তা বলুন কি জানতে চান আমার থেকে?”
দিদি মুচকি হেসে বললেন, “আপনার চোপারটা বেশ কিছুদিন মিসিং। একটা এমন অস্ত্র যা দিয়ে মানুষও খুন করা যায়, একটা মিসিং ডায়রি করলেন না!”
অখিলবাবু দিদির চোখের দিকে চোখ রেখে বললেন, “এই ইনফরমেশন আমার ছেলেও জানেনা। আপনি কি করে জানলেন?”
দিদি হেসে বললেন, “আমাদের ডিপার্টমেন্টে থাকলে, এসব এমনিই জানা যায়। … তা বললেন না তো! একটা মিসিং ডায়রি করলেন না! … ধরুন ওই অস্ত্র দিয়ে কারুকে খুন করা হয়েছে, মানে ওটা কারুর মার্ডারের মার্ডার অয়েপন। মিসিং ডায়রি না থাকলে তো আপনি ফেঁসে যাবেন। তাই নয় কি!”
অখিলবাবু এবার একটু নড়েচড়ে বসে, একটু টেন্সড হয়ে বললেন, “আপনি বলছেন, বিদিপ্তার খুন আমার ওই অস্ত্র দিয়ে করা হয়েছে! … ও মাই গড! … এতো বিনা দোষে হাজতবাস হয়ে যাবে!… এখন যদি মিসিং ডায়রি করতেও যাই, সে তো আরো বাজে ব্যাপার হয়ে যাবে!”
দিদি মাথা নেড়ে বললেন, “সেটাই তো! … তা কবে আবিষ্কার করলেন যে ওটা মিসিং!”
অখিলবাবু বললেন, “কালকে। আসলে আমার একটা চপার সব সময়ে ধার দিয়ে সরানো থাকে। যদি যেটা ব্যবহার করছি, সেটার ধার কমে যায়, তাহলে কাজের মাঝেই চোপার পালটে নিই। কালকে প্রয়োজন যাই পরলো, দেখলাম নেই ওটা”।
দিদি বললেন, “ঠিক আছে। বাড়ি গিয়ে ফিরে পেয়ে যেতেও পারেন। ফিরে পেলে, আমাকে একটা ফোন করে দেবেন প্লিজ। চিন্তা করবেন না, আমি আমাদের এই কনভারসেশনটা রেকর্ড করছি। যদি এমন পরিস্থিতি আসে যেখানে আপনি অকারণ ফেঁসে যাচ্ছেন, এই রেকর্ডিং দিয়ে আপনাকে বাঁচিয়ে নিতে পারবো। সত্য বলতে, এটার কারণেই আপনাকে ডেকে পাঠিয়েছিলাম। ফোনে ট্যাপিং হতে পারে, সেফ নয়, তাই সশরীরে ডেকে একটু কষ্ট দিলাম বলে ক্ষমাপ্রার্থী”।
অখিলবাবু গদগদ হয়ে বললেন, “না না ক্ষমাপ্রার্থী কেন হবেন। আমার ভালোর জন্যই তো ডেকেছেন আপনি। বলুন আর কি ভাবে সাহায্য করতে পারি আপনাকে”।
দিদি হেসে বললেন, “বিদিপ্তার বাবা কেমন লোক ছিলেন! আলাপ তো ছিল আপনার উনার সাথে”।
অখিলবাবু চোয়ালটা শক্ত করে নিয়ে বললেন, “পাক্কা ব্যবসাদার। ব্যাবসাদার মানুষকে কি আর বাইরে থেকে দেখে চেনা যায়! … বাইরে থেকে পুরো সজ্জন, টিপটপ। সফিস্টিকেটেড। কিন্তু একসাথে কাজ করতে গেলে, বোঝা যায় যে অম্বরিস, মানে বিদিপ্তার বাবা ঠিক কতটা শূয়রের বাচ্চা। … সরি, রেকর্ডিং হচ্ছে”।
দিদি মাথা নেড়ে মুচকি হেসে বললেন, “ওতে কিছু হবেনা। … যাই হোক, এমন বলছেন কেন যে বাজে লোক? আপনাদের মেয়ের প্রাণ নিয়ে নিলেন বলে!”
অখিলবাবু মাথা নেড়ে বললেন, “না না, ওটাতো দাদার ভালোমানুষির জন্য হলো। আমি দাদাকে বলেছিলাম, এই মানুষকে বিশ্বাস করা যায়না। দুদিন পরে, উনি ডিলের এডভান্সটা করে দিন, তারপর খুকির অপরেশনটা করি আমরা। … উনি মানলেন না। অপরেশন হবে বলে সেডেটিভ দেওয়া হলো। অপারেশন হয়নি, তাই সেডেটিভের ঘোর কাটতেই, প্রচণ্ড ব্যাথা সহ্য করতে না পেরে … (জোরে একটা নিশ্বাস ও প্রশ্বাস)”
দিদি বললেন, “তাহলে আপনি বুঝেছিলেন কি ভাবে?”
অখিলবাবু বললেন, “দাদার ছেলের বিয়েতে, মানে সাগ্নিকের বিয়ের সময়ে উনি এসেছিলেন আমাদের ওখানে। উনার ব্যবহার আর মানসিকতা দেখেই বুঝেছিলাম”।
দিদি বললেন, “সেই জন্য প্রান্তিককে বিদিপ্তার থেকে সরে আসতে বলতেন!”
অখিলবাবু বললেন, “আমি বলিনি, দাদা আর সাগ্নিক বলতেন। … বিদিপ্তা ভালো মেয়ে। ভীষণই ভালো মেয়ে। আসলে অম্বরিস বাবুর স্ত্রী একটু বেশিই ভালো মানুষ। বিদিপ্তা মায়ের ধাত পেয়েছে। দাদা আর সাগ্নিক খুকির মৃত্যুর পর ভয়ঙ্কর রেগে যান। তখন থেকেই প্রান্তিককে সরে আসার কথা বলছিলেন”।
দিদি ধীরে মাথা নেড়ে বললেন, “প্রান্তিক কি সেই কারণে বাড়ি ছেড়ে দেবার কথাও চিন্তা করেছিল! জানেন এই বিষয়ে!”
অখিলবাবু মাথা নেড়ে বললেন, “ওসব রাগের মাথায়, উত্তেজনার সময়ে বলে ফেলে। সকলেই বলে, আমি আপনিও বলি। এতো বড় ব্যবসা, আর প্রান্তিক এই ব্যবসাটা খুব ভালো বোঝে। … ছেড়ে চলে যাবে সমস্ত কিছু!”
দিদি বললেন, “পশুবধ হয় বলে তো প্রান্তিকের মধ্যে পরিবর্তন এসেছিল, তাই না! … সেই জন্যই তো ওকে এই দূরে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন”।
অখিলবাবু বললেন, “হ্যাঁ, তাতে কাজও হয়ে গেছিল। … দাদার বুদ্ধি, প্রচুর অভিজ্ঞতা দাদার। … তবে ছেড়ে দেওয়া, এসব কিছু নয়। … বাপ যেমনই হোক, যেই মেয়ে আমার বাড়িতে বউ হয়ে আসবে, সে তো ভালো মেয়ে। তাহলে আমার অসুবিধা কেন থাকবে”।
দিদি মুচকি হেসে বললেন, “কিন্তু আপনার দাদার আর সাগ্নিকের তো ছিল। … আচ্ছা, এই কারণে সাগ্নিক বা আপনার দাদা বিদিপ্তাকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে পারে! … আই মিন, এমন ভাবা কি তাদের পক্ষে সম্ভব!”
অখিলবাবুর প্রতিক্রিয়াটা অবিকল প্রান্তিকের মত। প্রান্তিকও এই কথা শুনে ঠিক একপ্রকার প্রতিক্রিয়া দিয়েছিল। তারপর বললেন, “মানুষ খুন করে দেবে তা বলে! … ঠিক বলতে পারবো না জানেন। … আসলে কি বলুন তো, সন্তান হারানোর পীড়া খুবই ভয়ঙ্কর হয়, কিন্তু ঠিক কতটা হয়, তা আমার বিচার ক্ষমতার অতীত। … আই মিন, সুস্থমস্তিষ্কে আমার দাদা বা সাগ্নিক, এই খুনখারাপি কিছুতেই করতে সক্ষম নয়। তবে সন্তানহারা হবার বেদনা থেকে যদি এমন করে থাকে, তাহলে আমার ধারণার অতীত তা। মানে জোর করে বলতেও পারবো না যে অসম্ভব, আবার দাদার বা সাগ্নিকের মানসিকতার দিকে তাকিয়ে বলতেই হয় অসম্ভব”।
দিদি হেসে বললেন, “অনেক ধন্যবাদ আসার জন্য। চপারটা পেয়ে গেলে, ছোঁবেন না। যেই অবস্থাতেই থাকুক, না ছুঁয়ে আমাকে একটা কল করবেন প্লিজ”।
ভদ্রলোককে নিয়ে আমি আর দিদি বেরলাম। উনাকে হোটেলে ড্রপ করে, স্ট্যান্ডার্ড থেকে তিন প্যাকেট চাউমিন নিয়ে, দিদি আমাকে নিয়ে আমাদের ভাড়াবাড়িতে গেলেন। মায়ের সাথে আলাপ হলো, একসাথে বসে খেলাম, তারপর দিদি ড্রাইভ করে ফিরে গেলেন। মায়ের খুব ভালো লেগেছে দিদিকে। মাকে দিদির দেওয়া সম্বন্ধের কথাও বলেছিলাম। মা সেই বিষয়েও কথা পারলেন। দিদিও অনেক কথা বললেন সুমিত্রা, মানে সেই মেয়েটির ব্যাপারে। মায়ের এমনিই পছন্দ ছিল, আরো পছন্দ হয়ে গেল সুমিত্রাকে। পারলে আজই ময়নাগুড়িতে গিয়ে বিয়ে দিয়ে দেয়।
যাইহোক, দিদি চলে যেতে, মায়ের মশারিটা মুড়ে দিয়ে, একটা সিগারেট জ্বালিয়ে বাইরে গিয়ে একটু বসলাম। রাত্রি হয়ে গেছিল, প্রায় ১২টা। কেস প্রায় সল্ভড। দিদি যখন বলেছে চপার ফিরে পাবে, তখন নিশ্চিতই ফিরে পাবে। কিন্তু ফিরে পেলে তাতে কি থাকবে! তাতে কি কনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট থাকবে! … উমহুম, ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে। তাহলে! … আচ্ছা, দিদি এই চপার হারিয়ে যাওয়াটা কি করে জানলো! কনো মিসিং ডায়রিও হয়নি, তাহলে! …
বেশ খানিকক্ষণ উত্তেজনা চেপে রাখার চেষ্টা করলাম। পারলাম না। ফোন করলাম দিদিকে। দিদি ফোন ধরলেন। বুঝলাম ঘুমের দেশে ছিলেন। বললেন, “হুম বল, কি হয়েছে!”
আমি বললাম, “ঘুমিয়ে পরেছিলে দিদি!”
দিদি উত্তরে ঘুমের কণ্ঠস্বরেই বললেন, “সকালে এসে ব্রেকফাস্ট কর। তখন মন হাল্কা করে নিবি। এখন ঘুমাতে দে”।
আমি বললাম, “ওকে গুডনাইট”। ফোন রেখে, ফোনের ঘড়িতেই দেখলাম, রাত্রি দেড়টা। মনে মনে বললাম, “আরে আগে ঘড়িটা দেখিই নি। … ফালতু দিদির ঘুমে ব্যাঘাত ঘটালাম”।
পরের দিন সকালে মাকে সমস্ত গুছিয়ে দিয়ে, বাইক নিয়ে দিদির ফ্ল্যাটে গেলাম। দিদি চিরের পোলাও করেছিলেন জলখাবারে। আমাকেও দিলেন, আর বললেন, “রাত দেড়টার সময়ে ফোন করেছিস! ঘুমাস না! … আমাদের চাকরিতে রোজ রাতে যে ঘুমাতে পারবি, তার কনো গ্যারান্টি নেই। যেদিন ঘুমতে পারবি, সেদিন মন উঠিয়ে ঘুমিয়ে নিতে হয়। … যাই হোক, বল। কি বলতে ফোন করেছিলি?”
আমি বললাম, “আসলে ঘড়িটা দেখিই নি। … বলছিলাম, তুমি জানলে কি করে যে চপারটা হারিয়ে গেছে!”
দিদি মুচকি হেসে বললেন, “আন্দাজে ঢিল ছুড়েছিলাম, ঠিক জায়গায় লেগে গেছে”।
আমি বললাম, “অদ্ভুত তাক তোমার। … কিন্তু দিদি, আমাকে একটা কথা বলো। তুমি বললে চপার আবার ফিরে পেয়ে যাবে। কিন্তু ফিরে পেলেও কি চপারে আর কনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট থাকবে!”
দিদি মাথা নাড়িয়ে বললেন, “একটাও ফিঙ্গারপ্রিন্ট থাকবেনা। এমনকি যখন জায়গায় রাখবে, তখনও হাতে গ্লাভস পরে রাখবে। তাই কনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট থাকবে না”।
আমি বললাম, “তাহলে লাভ কি হবে চপারটা পাওয়া গেলে?”
দিদি মুচকি হেসে বললাম, “যেমন বললাম, তেমন যদি হয়, মানে একটাও ফিঙ্গারপ্রিন্ট না পাওয়া যায়, তাহলে সরাসরি সাগ্নিককে এরেস্ট করে জেরা। পুলিশের জেরার সামনে, সমস্ত কিছু উগ্রে দিতে বাধ্য হবে সে”।
আমি এবার মুচকি হাসলাম, অদ্ভুত কৌশল দিদির। সত্যিই অনবদ্য। আর অদ্ভুত অনুমানও কারণ সেদিন বিকালেই দিদির ফোন বেজে ওঠে। অখিলবাবু ফোন করে বললেন, চপারটা যেখানে রাখা হয়, সেই পাটাতনের ঠিক পিছনের ঘাজে পরে ছিল। দিদি প্রশ্ন করলেন, “টাচ করেননি তো!” … “হ্যাঁ, একদম টাচ করবেন না”। … “আপনার কাছে একটা পুলিশের ভ্যান যাবে কিছুক্ষণের মধ্যে, তাদেরকে চপারটা দেখিয়ে দেবেন, ওরা কালেক্ট করে নেবে”।
দিদি বর্ধমান ক্রাইম ব্র্যাঞ্চে ফোন করে বলতে, এক ঘণ্টার মধ্যে ওরা কল ব্যাক করে কনফার্ম করলো যে ওরা অস্ত্রটা কালেক্ট করেছে আর ফরেনসিকে পাঠিয়ে দিয়েছে। আমিও মনে মনে প্রস্তুত হয়ে গেলাম। দিদির সাথে কথা বলে, সিভিল ড্রেসে সাগ্নিকের পিছনে চর লাগিয়ে দিলাম, যাতে চোখের আড়াল না হতে পারে। যেই মুহূর্তে দিদির সিগনাল পাবো, এরেস্ট করে নিয়ে চলে আসবো।
দুদিন লাগলো ফরেনসিক রিপোর্ট পেতে। দুদিন পরে দিদিকে মেল করে বর্ধমান ক্রাইম ব্রাঞ্চ থেকে ফোন করে বলে দিলো যে রিপোর্ট মেল করা হয়েছে। দিদিও তৎপরতার সাথে মেলটা খুলে দেখলেন। বেশ অনেকক্ষণ ধরে মেলটা পড়লেন। তারপর হতাশ হয়ে চেয়ারে ঠেস দিয়ে বসে পরলেন। …
এবার আমি উঠে গিয়ে মেলটা পড়লাম। … আমিও হতাশ হয়ে গেলাম। রিপোর্ট বলছে যে, অনেক ফিঙ্গারপ্রিন্ট রয়েছে চপারে, আর অধিকাংশ ফিঙ্গারপ্রিন্টই প্রায় ৬-৭ দিন পুরানো। তবে রক্তের কনো ট্রেস নেই। শেষ ব্যবহার এই অস্ত্রের ধার দেওয়ার সময়ে করা হয়েছে। … এর মানে, এটা মার্ডার অয়েপন নয়। দিদির দিকে তাকিয়ে বললাম, “তাহলে!”
দিদি মাথা নাড়িয়ে বললেন, “বাড়ি যাবো। খুব প্রয়োজন না হলে ফোন করবিনা। নতুন করে সমস্ত কিছু সাজাতে হবে আবার”।
বাড়ি চলে গেলেন দিদি। রিপোর্টের কপি আপডেট করে, আমিও সময়ে বাড়ি ফিরে এলাম। রাত্রি এই নটা নাগাদ, দিদি নিজেই আমাকে ফোন করলেন। ফোনে বললেন, “হ্যাকারকে দিয়ে অর্ণবের ফোন ক্র্যাক করা। আর অর্ণবের মেলবক্সটা আমার ফোনে এক্সেস দিতে বল। আজ রাত্রের মধ্যেই কর। অর্ণবের নম্বর ফাইলে আছে। দেখে আমি তোকে টেক্সট করছি এখনি”।
বুঝলাম না, আবার কি হলো। যাই হোক, দিদি যা বললেন তাই করলাম। রাত্রের মধ্যে হ্যাক হয়ে গেছিল। মায়ের মশারি গুজে, বিছানায় শুয়ে কি হচ্ছে কেসটাতে ভাবার চেষ্টা করে, ব্যর্থ হয়ে ঘুমিয়ে পরলাম। সকালে উঠে ফোন চেক করতে দেখি, দিদি ভোর চারটের সময়ে হোয়াটস্অ্যাপ করেছেন, “কেশ সল্ভড্। জাস্ট নিড টু কালেক্ট ক্লুজ”।
ভাবলাম ফোন করবো, নাকি করবো না। ৪টের সময়ে মেসেজ করেছেন। নিশ্চয়ই এখন ঘুমাচ্ছেন। এই ভেবে ফোন করলাম না। কিন্তু দিদিই ফোন করলেন মিনিট ৫একএর মধ্যে। ফোনে বললেন, “মেসেজ দেখেও ফোন করলিনা!”
আমি বললাম, “ভাবলাম, এতো দেরি করে মেসেজ করেছ। নিশ্চয়ই ঘুমাচ্ছ”।
দিদি হেসে বললেন, “ঘুমাই নি। আজ ঘুমাবো একবারে। … কেস ক্লোজ করে। … যাই হোক শোন। হামিদকে চোখে চোখে রাখার অর্ডার দিয়ে দিয়েছি। আমি এখন ড্রাইভ করছি। ডীয়াইজির কাছে যাচ্ছি, কাস্টডিতে নেওয়ার অর্ডার নিয়ে আসছি। … অর্ডার পেয়ে গেলে, জানাচ্ছি। হামিদের সাথে কথা বলে, অর্ণবকে কাস্টডিতে তুলে নিয়ে আসবি”।
আমি বললাম, “অর্ণব!”
দিদি মুচকি হেসে বললেন, “জেরার সময়ে সব বুঝতে পেরে যাবি”।
যেমন দিদি বললেন, তেমনই করলাম। এই ১০টা নাগাদ অর্ণব কলেজ যাচ্ছিল, রাস্তা থেকেই তুলে নিয়ে আসা হলো, আর ইন্টারোগেশন রুমে, হাতে হাতকরা পরিয়ে বসানো হলো।
