পঞ্চম পর্ব – তালা চুরি
বাবা ফিরে এলেন প্রায় ২টো। লাঞ্চের ডাক ৫ মিনিট আগেই দিয়ে গেছে রাজপ্রাসাদের বেয়ারা। বাবা আস্তেই, বাবাকে বলছিলাম সেই কথা। সঙ্গে সঙ্গে বেয়ারা আবার এসে হাজির। উনি বললেন – হুজুর খানা তৈয়ার হে। রাজাসাহেব ভি টেবিল পে ইন্তেজার কার রেহে হে।
বাবা হেসে বললেন – বহত দেরসে ওয়ে টেবিল মে আয়ে হে?
বেয়ারা – নেহি হুজুর, আভি বেইঠে হে।
বাবা আমার দিকে তাকিয়ে বললেন – রাজাসাহেবকে বসিয়ে রাখা ঠিক নয়। চল, এখনই চল।
বেয়ারার সাথেই আমরা চলে গেলাম, খাবারের টেবিলে।
হালদার বাড়িতে একরকম দেখেছিলাম। আর এখানে সম্পূর্ণ রাজকীয়তা। বিশাল টেবিল। দুটো ডবল বেড মেলালে বোধহয় টেবিলের সাইজ ঠিক হবে। বার্নিশ করা বার্মা টিকের টেবিল। উপরে শ্বেতপাথর দেওয়া, আর তার উপর হাই-কোয়ালিটি কাঁচ। তার উপর খাবার রাখা আছে। আর বিশাল বিশাল রূপোর থালায় আর বাটিতে, বেয়ারা খাবার সার্ভ করে দিচ্ছে।
খাবারের স্বাদ বাঙালিদের পোষাবে না। মশলা কম খাবারে। তবে পদ প্রচুর। তবে ওত ভেবে লাভ নেই। চামচ দিয়ে কি আর রাজকীয় খানার স্বাদ পাওয়া যায়! … অগত্যা, অল্পই খেতে হলো, কারণ চামচ দিয়ে বেশি পরিমাণ খেতে হলে, দিন কাবার হয়ে যেত। খাবার সময়ে হাল্কা হাল্কা কথা। বাবা বললেন – তালাটা বার করে রেখেছি। কখন দেখাবো আপনাকে বলুন।
রাজপুত্র – খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে নিন। বিকাল সাড়ে চারটে নাগাদ, ব্যাল্কনিতে টি-মিট করবো। সেখানেই দেখাবেন।
আর তেমন বিশেষ কথা হয়নি, শুধু রাজপরিবারের সাথে আলাপ করা ছাড়া। অনেক সদস্য, কেউ সোজাসুজি রাজপরিবারের আবার কেউ রাজপরিবারের একসময়ে কর্মচারী ছিলেন, তাঁদের পরিবারও রয়েছে এখানে।
খাবার খেয়ে সুখ হয়নি। তবে ওই নরম বিছানা আমাকে টানছিল। তাই খাওয়া পর্ব সেরে, ঘরে গিয়ে টানটান বিছানায়। বাবা বললেন – খেয়ে উঠেই শুইয়ে পরলি। একটু হাঁটাহাঁটি করে নিতে পারতিস।
আমি অভিযোগের সুরে বললাম – বেশি খাইনি তো। চামচ দিয়ে কি আর বেশি খাওয়া যায়! … বিছানাতে একবার শুইয়ে দেখো। এমন বিছানায় আমি এর আগে কনোদিনও শুইনি।
বাবা – হুম, মেরিনো তুলোর তৈরি তোষক, আর চাদরটা ইজিপ্সিয়ান কটনের থেকে তৈরি।
আমি – মেরিনো তুলো মানে?
বাবা – অস্ট্রেলিয়াতে তৈরি হয় মেরিনো তুলো। মেরিনো ভেড়ার পশম থেকে পৃথিবীর সব থেকে নরম আর মনোরম তুলো তৈরি হয়। সেই দিয়েই তৈরি এই তোষক। আর ইজিপ্সিয়ান কটনই পৃথিবীর সব থেকে সৌখিন আর চামড়ার জন্য আইডিয়াল। এই বুনন এমনই যে, আমাদের চামড়ার প্রতিটি রোমকূপকে এখানে নির্দিষ্ট স্থান দেওয়া হয় বিশ্রাম করার। সেই কারণে, এটি পৃথিবীর সেরা কটন বলে চিহ্নিত করা হয়।
আমি – তুমি শোবে না একটু?
বাবা – রাত্রে শোবো। … এখন অনেক কাজ আছে। … তোর তালাটা চুরি যাতে হয়, সেটাও তো দেখতে হবে।
আমি – মানে! ওটা আমার সখের তালা! … চুরি হবে মানে! … তুমি কি চোরকে নিমন্ত্রণ দিয়ে চুরি করাবে নাকি!
বাবা – উম, … হুম। একরকম ভাবে সেটাই বলতে পারিস। চোরকে নিমন্ত্রণ তো দেওয়া হয়ে গেছে। তাই চুরি তো হবেই।
আমি – কিন্তু!
বাবা – চিন্তা করিস না, ঠিক সময়ে অক্ষত অবস্থায় ফেরত পেয়ে যাবি।
আর কিছু বললাম না। আসলে মনোরম বিছানায় শুইয়ে যে আরামটা পাচ্ছিলাম, সেটা নষ্ট করতে চাইছিলাম না, কিন্তু হ্যাঁ সখের তালাটা হারিয়ে ফেলবো, সেই নিয়ে একটু খারাপ তো লাগছিল।
বাবাকে দেখলাম, একটা বন্দুক নিয়ে কি করছেন। আমি তাকিয়ে দেখে বললাম – তোমার কি গান লাইসেন্স আছে নাকি? তোমার বন্দুক আছে, জানতাম না তো?
বাবা – আমার নয় বন্দুকটা। পুলিশের বন্দুক, তবে এটা গুলি চালানোর বন্দুক নয়। এটা বনদপ্তর ব্যবহার করে খুব। দূর থেকে প্রাণীদের নিঃশব্দে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পারিয়ে দেবার যন্ত্র এটা।
আমি – কিন্তু কি কাজে লাগবে এটা!
বাবা – চিল বাবাজি কোথায় হার নিয়ে যায়, জানতে হবে তো! তাই সেই ব্যবস্থা করছি।
আমি – চিল ঘুমিয়ে পরলে, কি করে যাবে!
বাবা হেসে উঠে বললেন – ঘুমের ওষুধ দিলে তবে না ঘুমবে। আমি তো আর ঘুমের ওষুধ দিচ্ছিনা। … আমি ওকে একটা অন্য ইনজেকশন দিচ্ছি, যাতে ওর ট্র্যাকিং করা যেতে পারে। … তুই একটু ঘুমিয়ে নে। আমাকে আমার কাজটা করে নিতে দে। … আর হ্যাঁ, আমি গান রাখিনা ঠিকই। তবে বন্দুক চালাতে জানি। ট্রেনিং নিয়েছি। তাই নিশ্চিন্তে থাক, লক্ষ্যচ্যুত হবো না আমি।
আর চাপ নিই নি। বেশ বুঝতে পেরেছি। বাবা এখন ফাঁদ পাতাতে মত্ত। আমি নিশ্চিন্তে, নির্বিঘ্নে একটা ছোট্ট ঘুম দিলাম। জীবনের সেরা ঘুম ছিল সেটা। এমন বিছানায় শোবার পর, বাড়ি গিয়ে দুদিন ভালো করে ঘুমোতেই পারিনি। ওই শক্ত বিছানায় শুইয়ে কেমন যেন ঘুমই আসছিলো না।
ঘুম থেকে নিজের থেকে আমি কনোদিনও উঠতে পারিনা। এখনও পারি না। এখন প্রতিভা, মানে ফরেনসিকের প্রতিভা, আমাকে ফোন করে ঘুম ভাঙায়। তখন বাবা আমাকে ঘুম থেকে তোলেন। মুখধুয়ে এসে বসতে যাবো, বেয়ারা এসে বলল – হুজুর, চা সার্ভ করে দিয়েছি।
বাবা আমাকে আর সঙ্গে আমার সখের তালাটা আর তার তিনটি চাবি নিয়ে চায়ের টেবিলে গেলেন। সেখানে গিয়ে চা খাবার সাথে সাথে সকলে সেই তালাকে দেখলেন, আর প্রচুর তারিফ করলেন, সেই তালার, আকবরের দূরদৃষ্টির আর ভারতের সম্পদের। … বাবা তেমন কিছু বললেন না, শুধু সকলের হ্যাঁতে হ্যাঁ মিলিয়ে গেলেন।
শেষে সকলে চলে গেলে, বাবা আমাকে নিয়ে আবার ফিরে এলেন। তালাটি খোলা ব্যাল্কনির পাঁচিলে রাখতে বললেন আমায়, আর বললেন ব্যাল্কনিতে একটু ঘোরাফেরা করতে। আমিও তেমনই করলাম। খানিককষন এমন করার পর, এই মিনিট পনেরো পরে, কোথা থেকে, একটা চিল উড়ে এলো। আমি ভয় পেয়ে পাঁচিলের নিচেই বসে পরলাম। আর সেই চিল পাজিটা, আমার সখের তালা নিয়ে হাওয়া। চিল চলে যেতে, বাবা ঈসারা করে আমাকে ডেকে নিলেন।
এই তালাটা যোগার করতে, আমাকে অনেক কাঠখড় পোয়াতে হয়েছিল। একটু একটু করে টিফিনের পয়সা জমিয়ে, এই তালাটা কিনেছিলাম, আমার চেনা গড়িয়াহাটের এন্টিক সপ থেকে। ঘরে এসে বাবাকে দেখলাম রিল্যাক্স হয়ে একটু বিছানায় গড়িয়ে নিলেন। শুইয়ে শুইয়ে বললেন, কাল সকালের মধ্যে, তোর তালাচাবি, আর সিন্দিয়াজির এলেকজ্যান্ড্রাইট হার, আর যদি ভুল না করি, তবে হালদারের গোপালের সাথে সাথে আরো বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার হয়ে যাবে। … আজ আরাম করে, এখানে এই বিছানায় শুইয়ে নেওয়া যাক, কি বল!
আমি আর কি বলবো। চুপ করে থেকেই বললাম – তুমি শিওর! …
বাবা কিছু না বলে একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে বললেন – এত বড় চিল দেখেছিস এর আগে? … ঈগলের মত বড়, আর গায়ে কেমন এরোলাইটের গন্ধ, টের পাসনি। আমি তো অতো দূর থেকে গন্ধ পাচ্ছিলাম। … যাই হোক, স্যান্যাল স্যারকে একটা ফোন করতে হবে আর বাড়ুইকেও।
বাবা ফোন করলেন মুখ্যমন্ত্রীকে। প্রথমে উনার অ্যাসিস্ট্যান্ট ধরলেন, তারপর মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী – হ্যাঁ বিজয় বলো।
বাবা – স্যার, কালকের সন্ধ্যার ফ্লাইট করে দিন। কাল সকাল কি বেলার মধ্যে এখানের কাজ শেষ হয়ে যাবে। এখানের আসামি গ্রেপ্তার হয়ে যাবে এখানেই। … তারপর ওখানে গিয়ে, ওখানের আসামিদেরকেও তো গ্রেপ্তার করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী – ওকে, আমি বিকাল বিকাল ভায়া দিল্লির ফ্লাইট বুক করে দিচ্ছি তোমার আর তোমার কন্যার। … হালদার বাড়িতে কবে আসছো?
বাবা – কলকাতা বিমানবন্দরে নেবে, প্রথম সেখানেই যাবো। ওখানের কাজ শেষ করে, তারপর বাড়ি যাবো।
মুখ্যমন্ত্রী – ওকে, বাড়ুইএর সাথে কথা বলে নাও। ওকে যা ইন্সট্রাকশন দেবার আছে, দিয়ে দাও।
বাবা – ওকে স্যার।
বাবা ফোন রেখে, সঙ্গে সঙ্গেই ইন্সপেক্টর বাড়ুইকে ফোন করলেন।
ইন্সপেক্টর বাড়ুই – হ্যাঁ বলুন বিজয় স্যার।
বাবা – কাল দুপুর-বিকাল নাগাদ, হালদার বাড়িতে একটুকরো বাহিনী নিয়ে উপস্থিত থাকবেন, আর সকলকে একত্রিত করবেন। … আমি এয়ারপোর্টে নেবে, ওখানেই যাবো। হয়তো, আমার সাথে সিন্দিয়াজিও যাবেন। যদিও, উনি গেলে, উনার নিজস্ব প্রাইভেট জেটেই যাবেন। সেখানেই সমস্ত কেসের নিষ্পত্তি করে, সমস্ত এরেস্ট করা শেষ করে, বিদায়। … আমি তোমাকে মেইল করে দেবো, এরেস্ট ওয়ারেন্ট কাদের নামে ইস্যু হবে। … আমাকে একটু তোমার অফিসিয়াল মেইল আইডিটা হোয়াটসঅ্যাপ করে দাও।
বাবা ফোন ছেড়ে দিলেন। খানিকক্ষণের মধ্যে বাবার কাছে হোয়াটসঅ্যাপও চলে এলো। বাবা একটা মেইল করে দিলেন।
আমি যেন সত্যিই এই কেসে একজন অতিথি। এর আগের সমস্ত কেসে, আমার একটা রোল ছিল। এটাতে যেন আমি শুধুই দর্শক। … আসলে, এই কেসটা এমনই জটিল, আর ছড়ানো যে, আমার মাথায় কিছু ঢুকছেও না। তাই আরামে থেকে, সিনেমা দেখার মত করে, সমস্ত কিছু দেখে চলেছিলাম।
বাবার কথা অক্ষরে অক্ষরে সঠিক প্রমাণ হলো। বেলা ১১টা নাগাদ, গয়ালিওর থানার ইন-চার্জ, মিস্টার জাকারিয়া একটা ছট বাহিনী নিয়ে উপস্থিত হলেন। বাবারও তলপ পরতে, আমি আর বাবা রাজদরবারে উপস্থিত হলাম। বিশাল হলঘরের মাঝে, ১০-১৫টি পুলিশ, আমরা দুইজন, আর রাজপুত্র সহ, রাজপরিবারের ১০জন সদস্য আর ১১জন বিশেষ অতিথি, যেন সাগরের মাঝে জাহাজ মনে হচ্ছিল।
বাবাই সেখানে প্রথম কথা বললেন। সমস্ত কথা হিন্দিতেই হলো। আমি বাংলায় বললাম।
বাবা – ক্ষমা করবেন রাজকুমার সিন্দিয়া। আমার আসল নাম বিজয় সিংহ, সেই ব্যাপারে আমি কনো গোপন করিনি। তবে, আমি আমার নিজের পরিচয় গোপন করেছিলাম। আমি একজন রিপোর্টার, আর হ্যাঁ মুখ্যমন্ত্রী অনির্বাণ সান্যালের বিশ্বস্ত পাত্র। আমি এখানে এসেছিলাম সমরেশ হালদারের খুনের তদন্তের জন্যই, আর মুখ্যমন্ত্রীর সুপারিশেই এখানে আসি। আর ক্ষমা করবেন, আপনাকে একটি মিথ্যা কথা বলার জন্য।
রাজকুমার এবার নিচের দিকে এগিয়ে এসে – মিথ্যা কথা! কি মিথ্যা কথা!
বাবা – আজ্ঞে, আমি যেই তালাটি দেখিয়েছিলাম, সেটি এন্টিক পিস, সেই ব্যাপারে কনো সন্দেহ নেই। তবে সেটা আকবরের সম্পত্তি নয়, বরং ব্রিটিশরা সেই তালা ব্যবহার করতো, নিজেদের সুবেদারদের থেকে নথি গোপন করার জন্য। তবে সেই মিথ্যা কথা বলেছিলাম আপনাকে, যাতে যিনি আকবরের ধনের সন্ধান করছেন, তিনি সেই ধনকে লুণ্ঠন করতে চান, তার জন্য।
বাবা এবার অফিসার জাকারিয়ার দিকে তাকিয়ে বললেন – চিল উদ্ধার হয়েছে?
উনি সামনে এসে এবার একটা বিশাল চিল নিয়ে আসলে, রাজপুত্র দুহাত দূরে সরে যান ভয়ে। বাবা সামান্য হেসে বললেন – ভয়ের কিছু নেই রাজাসাহেব। এটা সত্যিকারের চিল নয়, একটা রবোটিক ড্রন যার উপর এরোলাইট দিয়ে, কিছু তুলো, আর তার উপর চিলের লোম লাগানো হয়।
বাবা আবার হেসে এবার বৈজ্ঞানিকের উদ্দেশ্যে ইংরাজিতেই বললেন – মিস্টার রবার্টশন, আপনার বোধকরি চিলের ব্যাপারে বিশেষ পড়াশুনা নেই। যদি থাকতো, তবে নিশ্চয়ই জানতেন, চিল পরে থাকা শিকারের দিকে হাত বারায়না। চিল শিকারকে আধমাইল উপর থেকে লক্ষ রাখে। আর সেই লক্ষ রাখার সময়ে, সে শিকার কনো দিকে কতটা গতি আর দিশার ফের নিয়ে চলছে, তা নজর করে, আর তার উপর অঙ্ক কষে। সেই অঙ্ক কোষে, নিচে নামে সে, আর সেই জায়গায় হামলা করে, যেই জায়গায় তার উপরে থাকার সময়ে শিকার ছিল না। অর্থাৎ, সে শিকারের ভাবি অবস্থানকে গণিতের মাধ্যমে হিসাব করে নিয়েই সেখানে আক্রমণ করে। … আপনারাও সেই অঙ্ক কষেন, আর তাকে বলেন প্রজেক্টাইল মোসানের অঙ্ক।
বাবা পায়চারি করতে করতে, আবার বললেন – আর দ্বিতীয় কথা, ভারতের মানুষ চিল সম্বন্ধে ভালোই অয়াকিবহল, তা হয়তো আপনি ভারতীয় হলে জেনে থাকতেন। ভারতীয় নন, তাই আপনার সেই বিষয়ে জানা ছিলনা। আর তাই চিলের গতিবিধিও ঠিক রাখতে পারেন নি, আর চিলের সাইজও। চিল এতো বড়ো হয়না। ডানা না মেলে থাকলে, ভারতীয় চিল এক থেকে দেড় ফিট হয়, আর দানা ছড়ালে তিন থেকে সাড়ে তিন ফুটের বেশি নয়।
আর হ্যাঁ, আপনি হয়তো বলবেন, চিল হাড়ের শিকার না করে, হারের শিকার করবে কেন? বাসা তৈরি করার সময়ে চিলের অন্য দ্রব্য লাগে, আর সেগুলো কে শিকার করেনা, যোগার করে। … সেই সুত্রে বলে দিই আপনার ইনফরমেশনের জন্য, শুধু চিল নয়, কনো পাখিই ধাতু দুয়ে বাসা করেনা। কারণ? কারণ ধাতুতে রোদ্দুরের আলো পরলে, তা চকচক করে, আর তা অন্য পাখিদের নজরে এসে যায়, যারা ওর ডিমকে নষ্ট করে দিতে পারে। … তাই আ টোটাল মিসজাজমেন্ট মিস্টার রবার্টশন।
বাবা এবার রাজপুত্রের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন – স্যার, এই নিন আপনার এলেকজেন্ড্রাইটের আকবরি হার। … আর স্যার, আপনার এই বৈজ্ঞানিককে এরেস্ট করতে হবে। … উনি সম্পূর্ণ ভাবে আসামি নন। তবে হ্যাঁ, আসামির উদ্যোক্তা বলা যেতে পারে। … বাকি কথা জানতে হলে স্যার, আপনাকে কলকাতা আস্তে হবে। হালদার বাবুর বাড়িতে বাকি কেসের নিষ্পত্তি হবে। … যদি আপনি ইন্টারেস্টেড থাকেন, তবে আপনি চলে আস্তে পারেন। আমরা আজ বিকালেই রওনা দেব। কাল ১টার মধ্যে ওখানে মিটিং, আর সেখানেই সমস্ত কেসের সমাপ্তি হবে।
পুলিশ এবার রবার্টশনকে এরেস্ট করলে, রাজপুত্র বললেন – এক্সিলেন্ট সিন, এক্সিলেন্ট। ওকে, আমি অবশ্যই কলকাতা যাবো। আমার প্রাইভেট জেট আছে। তাতে যদি আমি এখান থেকে সকাল সাতটায় রওনা দিই, তবে কলকাতাতে বাই টুয়েলভ পৌঁছে যাবো।
বাবা – ওকে স্যার, আমি তাহলে এয়ারপোর্ট থেকেই আপনাকে রিসিভ করে নিয়ে যাবো। আপনি মুখ্যমন্ত্রীর গেস্ট হয়ে যাবেন। তাই আমার বাড়িতে থাকতে বলবো না। আর আমার বাড়িতে আপনি থাকতেও পারবেন না, কারণ আমি অত্যন্ত মধ্যবিত্ত একজন। … তবে হ্যাঁ, আমার বাড়িতে লাঞ্চ করার নিমন্ত্রণ করতে চাই। … রাজকীয়তা থাকবে না, তবে এমন স্বাদের ঘরোয়া খাবার আপনি হয়তো খুব কমই খেয়েছেন। … আর তার থেকেও বড়ো কথা, আমি একজনের সাথে আপনার দেখা করাতে চাই। … হ্যাঁ, উনার সাথে দেখা করে, আপনি সত্যই আনন্দিত হবেন। তারপর না হয়, আপনার কনভয় আপনাকে মুখ্যমন্ত্রীর ঠিক করা পাঁচতারা হোটেলে পৌঁছে দেবে।
রাজপুত্র নিমন্ত্রণ গ্রহণ করলে, আমি আর বাবা এবার কলকাতায় ফেরার তজ্জরি করলাম। আর বিকালের ফ্লাইটে দিল্লি হয়ে, পরের দিন ১২টা ১৫তে কলকাতা বিমানবন্দরে ল্যান্ড করলাম।
