মুখোশ | রহস্য গল্প

বাবাই শুরু করলেন – কি বুঝলি!

আমি – পরিবারের মধ্যে বেশ ভালোই সদ্ভাব আছে। প্রতিটি সদস্য অন্য সদস্যের অবদানকে মাথায় রাখে। পারিবারিক মামলা তো মনে হচ্ছেনা তাই। অফিস সংক্রান্ত ব্যাপার হতে পারে, কারণ অফিসের ব্যাপারে আমরা কিচ্ছুই জানিনা প্রায়।

বাবা – আর গোপাল চুরি!

আমি – সেইটাই তো বুঝতে পারছিনা! … টাকার অভাব কারুরই নেই।

বাবা – আছে, … আছে … ছোটছেলের, বউয়ের কাছ থেকে হাত পেতেও খুব একটা লাভ হয়না। আরেকটা হতে পারে, যদি আন্টিক কালেকশনের সাধ থাকে। ঘরে গিয়ে গিয়ে একবার চোখ বোলাতে হবে।

আমি – চাকররা?

বাবা – আমার ইন্টিউশন কি বলছে জানিস! মনে হচ্ছে যেন, চুরির জন্য খুন হয়নি; যেন মনে হচ্ছে খুনের জন্য চুরি হয়েছে।

আমি – সে আবার কিরকম কথা! চুরির জন্য খুন!

বাবা – হুম, মানে খুনটা করা হয়েছে, অথচ এটা প্রমাণের চেষ্টা হচ্ছে যে চুরির জন্যই খুন হয়েছে। অর্থাৎ বাড়ির কেউই সেটা হাতাতে চেয়ে খুন করেছে। একটু মার্ডার এনাটমিটাও ভাব। ঘুমন্ত অবস্থায় খুন করা হয়েছে, কারণ কনো মার্ডার স্ট্রাগেল নেই। না যে মেরেছে, সে স্ট্রাগেল করেছে, আর না যাকে মেরেছে, সে স্ট্রাগেল করেছে। মরদেহের মাথার দিক থেকে ক্লরোফর্মের গন্ধ আসছিল, মানে হত্যার আগে অজ্ঞান করা হয়েছে, তারপর গলায় ধারালো ছুরি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আবার তার উপর একটি সবজি কাটার ছুরি রাখা হয়েছে। মানে একটা প্ল্যান্‌ড মার্ডার। একটা গোপাল হাতানোর জন্য এতকিছুর কি প্রয়োজন ছিল! … শুধু অজ্ঞান করলেই তো কাজ হয়ে যেত! খুনের আবশ্যকতা কি ছিল!

বাবা খানিক চুপ করে থেকে, আবার বললেন, ওই তিন অতিথির মধ্যেই কেউ একজন হবে। সবজির ছুরি রেখে দিয়ে, খুনি বাড়ির কারুর উপর দোষ চাপাতে চেষ্টা করছে। … কিন্তু কে করলো খুন, আর কেনই বা খুন করলো। যদি গোপাল চুরি ইন্টেনশন নাই থাকে, তবে, সেই গোপালই বা গেল কোথায়?

আমি – বাড়িতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো আছে। ওর ফুটেজ দেখলেই তো বোঝা যাবে, তাই না!

বাবা – ফলস্‌, চেক করে দেখে নিতে পারিস, মেন সার্ভারের তার ছেরা আছে। অর্থাৎ শুধুই বেটারি পুরছে ক্যমেরাগুলো তো।

আমি – কি করে জানলে?

বাবা – গ্যারেজের কোলে যেই ঘরটা, সেখানে সিসিটিভির ক্যামেরার ডিভিআরটা লাগানো আছে। চার জায়গার চারটে স্টিল পিকচার দেখাছে। মানে কানেকশন কাটা আছে।

আমি – বাড়ির একজনেরও সেই ব্যাপারে কনো হুঁশ নেই! একবার ক্যামেরা চেক করতেও চাইলো না কেউ? সন্দেহজনক নয় ব্যাপারটা!

বাবা একটা হতাশার নিশ্বাস ফেলে বললেন – না, বাড়ুই চেক করবে কাল এসে। তবে বাড়ির লোকরা এই বিষয়ে মাথা ঘামান না। একটা জিনিস বুঝতে পারছিস না। এঁরা কেউ ইনসিকিওর্ড নন। একে অপরের সাহায্যে আসেন, সাহায্য করতে তৎপর। তাই সিসিটিভি ক্যমেরাটা খালি সমরেশ বাবু, নিজের কোম্পানির মালের প্রদর্শন করার জন্যই রেখেছেন হয়তো।

বাবা ঠিকই বলেছিলেন। সন্ধ্যায় বাড়ুই এসে সিসিটিভি চেক করতে চাইলে, অম্বরিস বাবু বললেন – বাবা ওর ব্যাটারি খুলে রেখে দিয়েছিলেন, বলতেন কনো কাজের নয়। বাড়ুই কথাটা শুনে বেশ বিরক্তই হলেন। তবে উনার দৌলতে আমরা সমস্ত ঘর ঘুরে ঘুরে দেখে এলাম। বাবার মুখভঙ্গি দেখে বুঝলাম, আন্টিক বস্তুর কালেকশনের কথা যা বাবা বলছিলেন, তার কনো ইঙ্গিত ঘরের মধ্যে পাওয়া গেল না।

সমস্ত কিছুর শেষে, বাড়ুই বাবার সামনে বসে বললেন – কি করি বলুন তো এবার! মুখ্যমন্ত্রীর শালা। তাই প্রেশার বুঝতে পারছেন তো। কিন্তু কিচ্ছু মুভ নিতে পারছিনা। … আবার মুখ্যমন্ত্রীর নিজের লোক সব, কারুকে ধরে জেলে পুরে দিয়েও মুভ করছি, দেখাতে পাচ্ছিনা। মহা ফ্যাসাদে পরেছি মশাই। … আপনি কি কিছু এগলেন?

বাবা – অনুমান করেছি। সেটাকে এগোনো বলা চলে না। মার্ডার অয়েপন, খুনির কাছেই রয়েছে, এবং খুনি সেটা অত্যন্ত গোপন করে রেখেছেন। তাই সার্চ করেও পাওয়া যাবেনা। আপনি তো সার্চ করে দেখলেন। … তাই একটাই উপায় আছে, সেটা হলো সিকিউরিটি হাল্কা দেওয়া, যাতে খুনি মার্ডার অয়েপনকে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করতে পারে। তবেই হাতে না হাতে খুনিকে ধরা সম্ভব হবে।

বাড়ুই – তবে কি বলছেন সিকিউরিটি হাল্কা করবো!

বাবা – না এখনই নয়। বাড়ির অন্য সদস্যদের বাড়িতে ঢুকতে দিন। আর সেই সুবাদে, খুনির উপর চাপ সৃষ্টি হোক। এখন খুনি সিকিউরিটি হাল্কা হবার অপেক্ষা করে বসে রয়েছে। সিকিউরিটি হাল্কা হলেই, সে মার্ডার অয়েপনকে নিজের থেকে বিদায় দেবে। একটু চাপ বাড়লে, সে তখনও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করবে, কিন্তু তখন একটু ঘাবড়ে গিয়ে সেটা করবে, তাই কিছু ভুল করে ফেলবেই। … আর তাছাড়া, এখনও আমার ধারণা যা, তা নেহাতই অনুমান। শিওর না হয়ে, এমন ঝুঁকি নিতে গেলে, আসল খুনি নিজের মার্ডার অয়েপন সরিয়ে ফেলবে, আমরা জানতেও পারবো না।

বাড়ুই – তারমানে মশাই, আপনি একটা মাইন্ড গেম খেলেন আসামির সাথে, এমনই আমার মনে হচ্ছে। আসামির মাইন্ড রিড করে নিয়ে, ওর থেকে এক ধাপ এগিয়ে থাকেন, আর সেই এগিয়ে থাকা থেকে, আপনি আসামিকে সহজে ধরে নেন, যেটা আমরা করতে পারিনা।

বাবা – করতেও আপনারাও পারেন তা, কিন্তু কেসে কি মুভমেন্ট হলো, সেই কথার উত্তর দেবার জন্য, আপনাদেরকে সবসময়ে তাড়াহুড়ো করতে হয়। আর এই তাড়াহুড়োর চক্করে, আসল আসামি গাঢাকা দেবার সুযোগ পেয়ে যায়।

বাড়ুই চলে গেলেন। আমি বললাম – খুনি কি তবে, এই তিন অতিথির মধ্যেই কেউ!

বাবা – মনে তো হচ্ছে, কিন্তু হিসেব মিলছে না বুঝলি। … মার্ডার অয়েপন মোস্ট প্রবাবলি সার্জারির ছুরি, সমরেশবাবুর খুন দেখে তাই তো মনে হয়েছিল। সেই অনুসারে দুটো জিনিস আবশ্যক। প্রথম হলো ডাক্তার বা সেই জাতীয় কেউ, যার কাছে সেই সারজিকাল ইন্সট্রুমেন্ট থাকবে আর সে সেটা চালাতে জানবে। কারণ হলো যিনি খুন করেছেন, তিনি এনোটমিতে এক্সপার্ট, নাহলে এমন সূক্ষ্ম ভাবে কাজ করতে পারেনা। একবার সেই ছুরি চালানো হয়েছে, আর একদম পারফেক্ট জায়গায় ছুরিটা বসানো হয়েছে, এটা এনোটমি জানা লোক না হলে সম্ভব নয়।

আবার একটু চুপ করে বললেন – ইঞ্জিনিয়ার, সাধু বা জ্যোতিষ, এঁদের একজনেরও কি এনোটমির ছাত্র হওয়া সম্ভব! … উম্‌, ইঞ্জিনিয়ারের পক্ষে তো সম্ভব নয়। সাধুর যদি একটা সেই গোত্রের ইতিহাস থাকে, তবে তা সম্ভব। আর জ্যোতিষীর পক্ষেও সেটা অসম্ভব। কিন্তু কেউ যদি নিজের ইতিহাস গোপন করে, তবে জানবো কি করে?

আমি – বাড়ির সকল সদস্যের জন্য অপেক্ষা করতে বললে কেন?

বাবা – ভুলে যাচ্ছিস, এই বাড়ির একজন ডাক্তার এবং গাইনো। অর্থাৎ সার্জারির বিষয়ে তিনি অভিজ্ঞ।

আমি – তারমানে তুমি বলছো যে, এই বড়ছেলে বিদেশে নেই। এখানেই গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে আর সেই …!

বাবা – আকাশ পাতাল ভাবিস না। হলে অনেক কিছুই হতে পারে। কিন্তু কি হতে পারে, সেটা নিয়ে ভেবে লাভ নেই। কি হচ্ছে, আর কি হয়েছে, সেটা অনুভব করার চেষ্টা কর।

আমি – কিন্তু মোটিভ!

বাবা – সেখানেই তো সমস্যা। বাড়ির সমস্যা কিনা, বড়ছেলে আর মেজছেলে বাড়ি ফিরে এলে, ওদের ফেসিয়াল এক্সপ্রেশনই সমস্ত বলে দেবে। যদি তেমন কিছু না হয়, তবে পারিবারিক কারণে খুন নয়। তাহলে কি? ব্যবসার কারণে! নাকি অন্য কিছু!

কথা বলতে বলতে বাবার ফোন বেজে উঠলো। ফোনের দিকে তাকিয়ে বাবা ফোন ধরলেন। শুধুই আচ্ছা আচ্ছা বললেন, আর ফোন রেখে দিলেন।

আমি বললাম – এই কেসের কিছু!

বাবা – হুম, সস্ত্রীক সমরেন্দু হালদারের ফ্লাইট কায়রো থেকে বুক হয়েছে। কাল সকাল ১০টা ৩০ এ ল্যান্ডিং। আর সায়ন্তন বাবুর ফ্লাইট আজ সন্ধ্যা ৮.৪০এ ল্যান্ডিং।

আমি বুঝলাম, আমি যেই কথা বলেছিলাম, অর্থাৎ বড় ছেলে দেশের বাইরে থাকার নাতক করে এখানেই ছিল, সেটা বাবা আগে ভেবে নিয়েছিলেন, আর তাই খবর নিতে বলে দিয়েছিলেন। তাই আমি বললাম এবার – এবার কি? সকলেই তো নিজের নিজের বাড়ি আসছেন!

বাবা – পৌঁছাতে দে। সময় কখন কি ভাবে খেলে, কিচ্ছু বোঝা যায়না। শুধু চোখকান খোলা রেখে দে, আর দেখতে শুনতে থাক, কি হচ্ছে, কি ভাবে হচ্ছে।

সত্যই বলেছিলেন বাবা। বাবা কি এমনটা আগে থেকে ধারণা করে নিয়েছিলেন, নাকি অনুমান! কিসের ভিত্তিতে এমন ওয়াইল্ড এজম্পশন করতে পারেন মানুষটা। … সন্ধ্যায় মেজছেলে এলো, আর বাবা কেন গোপালকে লকারে রাখেন না, সেই নিয়ে খানিকক্ষণ মাথা খারাপ করলেন। পরেরদিন সকালে বড়ছেলে এলেন। মেজভাই সেই একই প্রসঙ্গ তুললে, সমরেন্দু বললেন – মাথা খারাপ করিস না। এখানে শুধু চুরি হয়নি। বাবাকে খুন করা হয়েছে। আর অম্বরের (অম্বরিস) থেকে যা শুনেছি, সেই অনুসারে বাবা মৃত্যুর সময়ে কনো স্ট্রাগেলও করেন নি। … বুঝতে পারছিস কিছু!

সায়ন্তন চুপ করে সন্দিহান চোখে তাকিয়ে রইলে, সমরেন্দু বললেন – ইটস আ মার্ডার, নট এনি থেফট। … আমি দেখলাম, বাবা চুপ করে সমস্ত কথা শুনছেন, আর সকলের ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন পরছেন।

সায়ন্তন এবার বললেন – অম্বর, পুলিশ কি বলছে? নাকি বরাবরের মতই অপদার্থ ওরা!

সমরেন্দু বললেন – তুই যে বললি, একজন এই কেসের ইন্সপেকশন করছেন, আর তাঁকে মেসমসাই নিজে এপয়েন্ট করেছেন। সে কিছু বলছে না!

বাবা এগিয়ে গিয়ে এবার হাতটা বারিয়ে দিয়ে বললেন – আমি বিজয় সিংহ, আপনার বাবার কেসের দেখভাল করার ব্যাপারে সিএম স্যার আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

সমরেন্দু একটু নিরুৎসাহ দেখিয়ে বললেন – টিকটিকি!

বাবা – না রিপোর্টার। তবে স্যার ভরসা করেন। তাই।

ডাক্তার হালদার এবার একটু গলা নামিয়ে বললেন – খুব জটিল কেস?

বাবা – হুম, বলতে পারেন। একজন খুন করে, মার্ডার অয়েপন সরিয়ে রেখে অন্য একটা অয়েপনকে মার্ডার অয়েপন হিসাবে প্রতিস্থাপন করতে চাইলেন। তা কেস তো জটিল বটেই। তবে চিন্তা করবেন না, খুব শীঘ্রই খুনি ধরা পরে যাবে। বিশ্বাস রাখতে হবে আপনাদেরকে।

ডাক্তার বাবু এবার একটা চেয়ারে বসে পরে বললেন – কিছুদিন আগেও বাবার সাথে ফোনে কথা হয়েছিল জানেন। বাবাকে আশ্বাস দিয়েছিলাম এবারের পুজোতে আসবই। বাবা বলেছিলেন, সমস্ত পরিবার মিলে গোয়ালিয়রের রাজবাড়ির অতিথি হবো আমরা। সেখানে ঘুরতে যাবো। … (জোরে নিশ্বাস ফেলে) কিছু ভাবতে পারছিনা। ভাবতে ইচ্ছাই করছে না। অকারণেই নিজেকে বড় অপরাধী মনে হচ্ছে।

বাবা আর কথা বাড়ালেন না। শুধু বললেন – বিশ্রাম নিয়ে নিন। পরে কথা হবে।

আমি আর বাবা রুমে চলে আসছিলাম। সেই সময়ে বাবা দাঁড়িয়ে পরলেন। ঘুরে দাঁড়িয়ে পরলেন। আর কি বুঝলেন জানিনা, উনার চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। ঘরে চলে এলাম, বাবা একটা সিগারেট জ্বালিয়ে, বিছনায় টানটান শুয়ে পরলেন। আমি বুঝতে পেরেছি, বাবা কিছু ভাবছেন।

আমি পাশে বসে বললাম – কনো গড়মিল পেলে নাকি!

বাবা – বাড়ুইকে বলে সিকিউরিটি কাল সকাল থেকেই হালকা করতে হবে। আসামিকে সনাক্ত করা গেছে। এবার প্রমাণ পেতে হবে। শুধু একটাই ব্যাপার। সারজিকাল ইন্সট্রুমেন্ট না লুকিয়ে রাখা যায়, কিন্তু একটা ৬ ইঞ্চির গোপালকে কি লুকিয়ে রাখা যেতে পারে! কি করে? কোথায়!

সেইদিন রাতে আর তেমন কিছু হলো না। বাবা নিজের সময় মত ঘুমিয়ে পরলেন। আমি অনেক রাত পর্যন্ত সিডনি সেল্ডন পড়ছিলাম। সকালে যখন ঘুম ভাঙলো, তখন বিছনা ছেরে, আড়মোড়া ভাঙার কালে দেখলাম, বাবা ইন্সপেক্টর বাড়ুইএর সাথে কথা বলছেন। খানিক পরে, ঘরে এসে বললেন – আমাদের গোয়ালিয়র যেতে হবে। প্যাক করে নে। তোর মাকে বলে দিয়েছি। আমি আর তুই গোয়ালিয়র রাজবাড়িতে ওয়েস্ট বেঙ্গল চিফ মিনিস্টারের সুপারিশে অতিথি হয়ে থাকবো কিছুদিন।

আমি – কিছু কি পেলে?

বাবা – পেলাম! হুম, কিছু পেলাম। আর কিছু ১০টার পরে পেয়ে যাবো। আজ ১০টার পর, সিকিউরিটি হাল্কা করা হবে। আমি তখন একটু ঘুরে আসবো। ফিরে এসে এখানে লাঞ্চ করেই বেড়িয়ে পরবো। অম্বরিস আর ওর ভাইদের যা বলার বলে দিয়েছি। আর সকলকেও বলা হয়ে যাবে সঠিক সময়ে যে আজ সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সিকিউরিটি হাল্কা করা হবে। যার যা বাজার আসবাব নিয়ে আসার যেন এর মধ্যেই করে ফেলে, কারণ বিকাল ৫টার পর থেকে ৭ দিন পর্যন্ত সিকিউরিটি টাইট থাকবে।

আমি – কিন্তু গোয়ালিয়র কেন?

বাবা – এখানের কাজ মোটামুটি শেষ। একটা প্রমাণ পাওয়া গেছে, আরেকটা প্রমাণ পাওয়া বাকি আছে। সেটাও আশা করছি সকালের মধ্যেই পেয়ে যাবো। তবে, এখানে যা পাওয়া গেছে, তার ভিত্তিতে আসামিকে সনাক্ত করা গেছে, কিন্তু আসামির মটিভ এখনও ধরা যায়নি।

আমি – তাতে কি হয়েছে? আসামিকে ধরা নিয়ে তো কথা!

বাবা – বি প্র্যাক্টিকাল মিলি। একজন খুনি এমনি এমনি খুন করে না। তাই যদি খুনিকে ধরা হয়, অথচ তার খুনের পিছনে থাকা মটিভ জানা না যায়, তার মানে বুঝিস! তার মানে এই যে কেস তখনও চলমান, মানে আরো খুন হতে পারে, এবং তা চলতে পারে। … যতক্ষণ না খুনির মটিভ জানা যাচ্ছে, ততক্ষণ একটা ক্রাইমকে তার শেকড় থেকে উপরে ফেলা যায়না। এনি অয়েজ, খুনির মটিভ জানতে হলে, আমাদের গোয়ালিয়র যেতেই হবে, কারণ আমার বিশ্বাস সমরেশ বাবুকে হত্যার চক্রান্ত শুরু হয় গোয়ালিয়র থেকেই।

আমি – আর খুনি ততক্ষণ কি মুক্ত থাকবে?

বাবা – হুম, সিকিউরিটি টাইট থাকবে, তাই কিছু করতে পারবে না। আমার ধারণা, আসামির দুটি কাজ ছিল। একটি তার ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আর দ্বিতীয়টি আজকের মধ্যে সম্পন্ন করে ফেলবে সে। তবে সে এখান থেকে ছাড়া পাবেনা। তবে কাজ শেষ হয়ে গেছে, তাই রিল্যাক্স হয়ে যাবে। আমরা যে গোয়ালিয়র যাচ্ছি, সেই ব্যাপারে বাড়ুই আর মুখ্যমন্ত্রী ছাড়া কেউ জানবে না। তাই আসামি ভাববেও না যে, তাকে নিয়ে ভাবা চলছে এখনো। ওদিকের সমস্ত কাজ গুছিয়ে এসে, আসামির হাটে হাড়ি ভাঙতে হবে।

আমি – মানে, তুমি বলছো, এখানে আসল আসামি নেই! এখানে খালি আসামির সেই লোক আছে, যাকে কনো এজেন্ডায় পাঠানো হয়েছিল। সে তার এজেন্ডা পুরো করে এখানে রিল্যাক্স থাকবে, আর আমরা অন্যদিকে গিয়ে, আসল আসামিকে ধরে নিয়ে আসবো!

বাবা – হুম, এতক্ষণে মাথায় ঢুকল তাহলে। … চল ফ্রেস আর রেডি হয়ে নে। … বাড়ুই আবার আসলো বলে। ওর সাথে আমার কিছু কাজ আছে। তারপর সকলকে বলতে হবে, ১০টা থেকে ৫টার রিল্যাক্সেসানের ব্যাপারে। তারপরে একটু বেড়িয়ে আরো একটা কাজ সেরে নিতে নিতে, প্লেনের টিকিট এসে যাবে। বেড়িয়ে পরবো তারপর গোয়ালিয়র। রেডি হয়ে নে।  

পৃষ্ঠা: 1 2 3 4 5 6