মুখোশ | রহস্য গল্প

অকস্মাৎ একটা ভালো কেস সামনে এসে গেলে, বেশ মন্দ লাগেনা। তবে এবারে যেই কেসটি অকস্মাৎ এসে গেছিল, সেটি একটি প্রচণ্ড জট পাকানো কেস। এই ক্ষেত্রে এমন নয় যে প্রথমে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালানো হয়; কেসটা খুনেরই, কিন্তু কেসের জটগুলি এতো বেশী যে, তা খুলতে খুলতে বেশ সময় লেগে যায়।

কেসের সাথে আমাদের আলাপ রিপোর্টারের বেশেই। মানে বাবাকে একটি অনামা, সান্ধ্য সংবাদপত্র, নাম বিকাল বিকাল এসে যোগাযোগ করে, কেসটার কভারেজ করতে বলে। আমি আর বাবা সেখানেই যাই, খুনের কেসের কভারেজ করতে, কিন্তু প্রতিবার যা হয়, বাবা রিপোর্টার হয়ে যান, আর আলটিমেটলি, বাবাকেই কেসের তদন্ত করতে হয়, এবারেও তেমনটাই হলো।

খুন হয়েছেন, বিশিষ্ট ব্যবসাদার, সমরেশ হালদার। প্রথমজীবনে উনি প্রমটার ছিলেন, কিন্তু পরের দিকে, তিনি এক এক করে অনেক কিছুর ম্যানুফ্যাকচারিং শুরু করে দেন। ইলেকট্রিকের তার, সুইচ, প্লাগ, হোল্ডার, আর যাবতীয় ইলেকট্রিকাল গুডস্‌ ম্যানুফ্যাকচারিং করার জন্য, সারা পশ্চিমবঙ্গে উনার ৬টি ফ্যাক্টরি ছিল। আর সাথে সাথে কলের কাজেরও সমস্ত কিছুর ম্যানুফ্যাকচারিং শুরু করে দিয়েছিলেন। মুখ ধোবার বেসিন থেকে, বিভিন্ন ধরনের কল, বাথটাব, স্যানিটারি, কলের পাইপ, ওয়েস্ট পাইপ সমস্ত কিছু।

সব মিলিয়ে উনার এখন ৯টি ফ্যাক্টরি ছিল, যাতে সর্বসাকুল্যে ২৪০০ কর্মী দুই শিফটে কাজ করতেন। আর তা ছাড়াও উনার নিজের ডিস্ট্রিবিউশন লাইন ছিল, যেখানে মার্কেটিং-এ কাজ করতেন প্রায় ৪০০ জন পশ্চিমবঙ্গে আর ৬০০ জন বাকি ভারতে। আর তিনটি অফিস ছিল, যাদের একটি হলো হেড কোয়ার্টার। ইদানীংকালে ইনি নাকি খুব গোয়ালিয়র যাতায়াত করছিলেন, সেখানের রাজবাড়ির কাজ করার জন্য। উনি নাকি সেখানের রাজবাড়িতে অসাধারণ কাজ করেছেন, যেখানে উনি কলের কাজে, বেশ কিছু হিরে-জহরতেরও ব্যবহার করেছেন। আর তারই সাথে, সেখানে যেই ঝাড়বাতি দিয়েছেন, তাতেও নাকি বেশ মূল্যবান পাথর ব্যবহার করে সকলকে চমক দিয়ে দিয়েছিলেন।

সেই নিয়ে পেপারে বেশ লেখালেখিও হয়েছে। আসলে বাঙালীর দাপট আগের মত আর নেই। হ্যাঁ বাঙালীরা বিভিন দিকেই কাজ করছেন; বড় বড় কোম্পানির মালিক হয়ে বসে রয়েছেন তাঁরা, কিন্তু তাঁরা বাংলায় ফেরেন না, তাই বাঙালীর নাম অব্যহত থাকলেও, বাংলার নাম কমে এসেছে। সেই কারণেই বাংলার গুণগান করার সুযোগ পেলে, সংবাদমাধ্যমরা সেটা আর ছারেনা।

বিকাল বিকাল সংবাদপত্রের মালিক বাবার কাছে আগেই এসেছিলেন, এই সমরেশ হালদারের একটা ইন্টার্ভিউ নেবার জন্য। অ্যাপয়েন্টমেন্টও হয়ে গেছিল, পরের সাপ্তহের সোমবার ছিল সেই ডেট। কিন্তু তার আগেই, শনিবারেই উনার হত্যা করা হয়। তাই আমরা উনার কাছে গেলাম, কিন্তু ইন্টার্ভিউ নিতে নয়, বরং উনার মৃত্যুর কভারেজ করতে।

সেখানে যেতে দেখলাম বেশ ভিড়। এতবড় ব্যাবসাদার বলে কথা। তাই ভিড় তো হবেই। কিন্তু একটা জায়গার পর দেখলাম আর কারুকে যেতেই দিচ্ছে না। বাবা আমাকে নিয়ে একটু ঠেলেঠুলে সেই জায়গায় যেতে দেখলাম, এই যেতে না দেবার কারণ হলেন মুখ্যমন্ত্রী, স্যান্নাল মহাশয়।

সমরেশ বাবু নাকি উনার নিজের শালা। তাই উনি নিজের পত্নীকে নিয়ে এসেছেন, যিনি সমরেশ বাবুর মৃতদেহের থেকে সামান্য দূরে বসে, বসে কাপড়ের আঁচল দিয়ে চোখের জল মুছছিলেন। বাবাকে দেখে মুখ্যমন্ত্রী, মানে স্যান্নাল মহাশয় বললেন – কি ব্যাপার বিজয়! তুমি এখানে?

বাবা একমুখ হাসি নিয়ে বললেন – বিকাল বিকালের হয়ে কভারেজ করতে স্যার।

মুখ্যমন্ত্রী – হুম, আমার শালা হন, নিজের শালা। পত্নীকে নিয়ে এসেছিলাম। খুনিও ধরা হয়ে যাবে শীঘ্রই; বাড়ির সবজি কাটার ছুরি দিয়ে গলার নলি ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে। সম্ভবত বাড়ির কাজের লোকের কাজ।

বাবা – আর মটিভটা?

মুখ্যমন্ত্রী – উনার একটা অষ্টধাতুর গোপাল ছিল, তাতে অনেক মণিমাণিক্যও ছিল। এই দেরাজে থাকতো (একটি খোলা আলমারির দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে)। এটাও হাওয়া। অর্থাৎ খুনি এই মূর্তিকেই হাতাতে গিয়ে, ব্যাঘাত পেয়ে, এই খুন করে। পুলিশ অফিসার তো এমনই বলছেন। … কই বাড়ুই!

অফিসার বাড়ুই – হ্যাঁ স্যার। সিম্পিল কেস ওফ ডেকয়ীটি।

বাবা – হুম, সে তো বুঝলাম স্যার, কিন্তু খুনের অয়েপন এই ছুরি নয়।

অফিসার বাড়ুই – হোয়াট ডু ইউ মিন! … অ্যান্ড হু আর ইউ, একজন রিপোর্টার এবার আমাকে …

মুখ্যমন্ত্রী বলে উঠলেন – উমম্‌ বাড়ুই, তুমি জানো ইনি কে? ইনি ইরার কেসের ইনভেস্টিগেটিং অফিসার। … না জেনে শুনেই কথা বলতে শুরু করে দাও, এই তোমাদের প্রবলেম। … (বাবার দিকে তাকিয়ে) ক্যান ইউ জাস্টিফাই, বিজয়!

বাবা – একটু নজর দেবেন স্যার। একটা সবজি কাটার ছুরিতে এতটাও ধার থাকতে পারেনা, যার দ্বারা একবার চালানোতেই গলার নলি ছিঁড়ে যাবে। … খেয়াল করে দেখুন, গলায় কিন্তু ছুরি একবারই চালানো হয়েছে, একাধিক দাগের নিশানা নেই। অর্থাৎ ধারালো কনো অস্ত্র দিয়ে গলার নলি ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। এবং যিনি সেটা চালিয়েছেন, তিনি একজন প্রফেসানাল, কারণ তা নাহলে, একবারে গলার নলির আন্দাজ পাওয়াও অসম্ভব। … অর্থাৎ, এই ছুরিটি মার্ডার অয়েপন তো নয় স্যার। আর দ্বিতীয় কথা, যদি বাড়ির কেউও এই খুন করে থাকে, তবে সেই ব্যক্তি একজন প্রফেসানাল কিলার।

অফিসার বাড়ুই এবার একটু থিতিয়ে গিয়ে, একটু খতিয়ে ব্যাপারটা দেখার চেষ্টা করে, মুখ্যমন্ত্রীর দিকে একটু আমতা আমতা করে তাকালে, মুখ্যমন্ত্রী তাঁর উদ্দেশ্যে বললেন – কি বাড়ুই! ও ঠিক বলছে?

বাড়ুই – হ্যাঁ স্যার, এবসোলিউটলি কারেক্ট হি ঈজ। … আসলে … এতটা …

মুখ্যমন্ত্রী এবার বাবার দিকে তাকিয়ে বললেন – ইনভেস্টিগেট করবে নাকি বিজয় কেসটা! … স্পন্সরার আমিই হবো। আমার কাছের আত্মীয়। তাই আমার এখানে স্পন্সারার হতে রাজনৈতিক ভাবেও কনো অসুবিধা হবে না।

বাবা এবার বাড়ুইএর দিকে তাকালে, বাড়ুই বললেন – আই হ্যাভ নো অব্জেকশন। স্যার বললে, আমি আপনাকে সম্পূর্ণ ভাবে এসিস্ট করবো। রিসেন্টলি, আপনিই ওই অভিনেত্রী, মহিমার কেসে সাঁতরাকে ধরেছিলেন, তাই না!

বাবা – হ্যাঁ, সেই জন্য আপনি আবার ভয় পাচ্ছেন নাকি!

বাড়ুই এবার হাসিমুখে বললেন – না না, জাস্ট টু আইডেন্টিফাই। আমি পুরো সাফ স্যার। … আপনার সাথে কাজ করতে খুব ভালো লাগবে স্যার। অনেক শুনেছি, আপনার ব্যাপারে। সাখ্যাতে আপনার এসিস্ট করবো, কখনো ভাবিনি।

মুখ্যমন্ত্রী – অগ্রিম!

বাবা – স্যার, কাজটা করি। তারপর না হয়, আপনার যা মনে হয়, তাই দেবেন। … একজন বাঙালী মাথা উঠিয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন; সেই বাঙালীর শত্রুকে খুঁজে বার করাটাই, আমার মনে হয় সব থেকে বড় কাজ।

মুখ্যমন্ত্রী – ওকে, তবে তাই হোক। বাট, বিনা পারিশ্রমিকে নয় বিজয়।

বাবা – স্যার, আগে পরিশ্রম করি, তারপর নয় পারিশ্রমিকের কথা ভাবা যাবে। কিন্তু আপাতত, আমাকে একটি সাহায্য করে দিতে হবে। আমাকে আর আমার এই কন্যাকে এই বাড়িতে, দিন সাতেকের জন্য থাকার পারমিশন করে দিতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রী – ওকে , নো প্রবলেম। তুমি আজই চলে আসো। এখানেই থাকবে। এই রেবা (মুখ্যমন্ত্রীর শালার কন্যার নাম) … উনাদের জন্য একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দাও।

বাবা – এই ফ্লোরে, মানে গ্রাউন্ড ফ্লোরে হলেই ভালো হয়।

মিসেস রেবা – কিন্তু এই ফ্লোরে তো খালি কাজের লোক আর অতিথিরাই থাকেন।

বাবা – আমরাও তো অতিথি হয়েই থাকতে চাইছি ম্যাম।

মিসেস রেবা – আসলে, তিনটে অতিথির ঘর, আর তিন ঘরেই একজন একজন করে আছেন। … (এবার সম্ভবত অতিথিদের দিকে তাকিয়ে) আপনারা কিছুদিনের জন্য একটু এডজাস্ট করে নিতে পারবেন!

একজন অতিথি এঁদের মধ্যে সাধুগোচের। পরনে তাঁর গেরুয়া ঠিক নয়, একটু হলদেটে পোশাক, আর মুখে বড়দাড়ি, সঙ্গে বড় চুল। উনি একটু তামিল টোনে বললেন – কহি তক্লিব নেহি, কহি তক্লিব নেহি।

দ্বিতীয় একজন ন্যাড়া মাথা আর কানে দুল পরা। পরে জেনেছিলাম, উনি ইঞ্জিনিয়ার। উনি এবার বললেন – আপ মেরে রুমমে শিফট হো যাইয়ে। মেরা কোই প্রবলেম নেহি হে। ঘরের ব্যবস্থা হয়ে গেল। আমি আর বাবা বাড়ি ফিরে এলাম। বাড়ি ফিরে গোছগাছ করে, ফিরে গেলাম ওই ডাইমন্ড হারবার রোডের উপর আলিশান বাড়িতে।

পথে গাড়িতে যাতায়াত করার সময়েই বাবা খুনের মামলার রিপোর্ট করে, বিকাল বিকালের মালিককে এমেইল করে দিলেন। অগ্রিম ৫ হাজার দিয়েছিলেন, আরো ৫ দিয়ে দিলেন উনি অনলাইনে। আমিও বেশ বুঝতে পারলাম, বাবা এই কেসের তদন্তকে সঠিক দিশায় নিয়ে যাবার জন্যই ওখানে থাকতে চেষ্টা করলেন। তাও একবার প্রশ্ন করলাম – আচ্ছা বাবা, বাড়িতে থেকেও তো কেসটা হ্যান্ডেল করা যেত; যেত না!

বাবা – খুনটা কখন হয়েছে?

আমি – ডাক্তারের রিপোর্ট অনুসারে ভোর বেলায়।

বাবা – সিকিউরিটি আর সিসিটিভি ক্যামেরা রিপোর্ট কি বলছে, প্রথম লোক কে আর কটায় বেরিয়েছে মেনগেট দিয়ে?

আমি – ঘর থেকে কেউ তো বারই হয়নি। প্রথম তো পুলিশের গাড়ি এসে ঢোকে, তারপর সমস্ত রিপোর্টারদের গাড়ি।

বাবা – হুম এর মানে কি? এর মানে এই যে, গোপালের মূর্তি যেই চুরি করে থাকুক না কেন, বাড়ির বাইরে এখনো নিয়ে যেতে পারে নি। … বাড়ুই-এর কথা অনুসারে, উনি খুন দেখেই বুঝতে পারেন যে, বাড়ির কেউই খুন আর ডাকাতি করেছে। তাই উনি সমস্ত গেট সিল করে দেন। অর্থাৎ কেউ বাড়ির বাইরে বেড়িয়ে যেতে পারেনি। মানে? …

আমি – মানে বাড়ির গোপাল স্থানচ্যুত হয়েছে, কিন্তু বাড়িতেই আছে। আর যেই চুরি করে থাকুক, সে সেটাকে কনো না কনো ভাবে বাড়ির বাইরে চালান করার চেষ্টা করবেই। … সেটা ধরে ফেলতে পারলেই, কেস শলভড্‌।

বাবা – এই তো মেয়ের মাথা কাজ করছে।

আমি – সেই জন্যই তুমি, গ্রাউন্ড ফ্লোরে ঘর নিলে! … আচ্ছা বাবা, ওই অতিথি তিনজনকে দেখে তোমার কি মনে হয়!

বাবা – হুম, সন্দেহের ঊর্ধ্বে কেউই নয়। তবে কাকে কতটা সন্দেহ করতে হবে, ওই বাড়িতে উঠে, সকলের সম্বন্ধে জেনে, তবেই করাটা ঠিক হবে। … হ্যাঁ, অতিথি মানে বাইরের লোক, সেটা ঠিক। কিন্তু সমরেশ হালদারের মত বিচক্ষণ মানুষ কি যাকে তাকে অতিথি করে রাখবেন! … শুনেছি, উনি নাকি সখের ডিটেকটিভও ছিলেন। … ছোটখাটো অনেক কেসও শলভ করেছেন উনি। … বাড়ুই বলছিল, উনি নাকি প্রথম পুলিশে জয়েন করার পর, সমরেশ বাবুর থেকে অনেকবার কেস শলভ করা নিয়ে সাহায্যও পেয়েছেন। বাড়ুই-এর কথা অনুসারে, দুইচারটে গোয়েন্দা গল্পও নাকি উনি লিখেছিলেন। তবে, তার পরপর ব্যবসা বেড়ে ওঠার জন্য, সেই নিয়ে আর এগোনো সম্ভব হয়নি। … সেই ব্যক্তি যদি কিছু ভুল করেন, তবে সেটা আবেগের ক্ষেত্রে হতে পারে, কিন্তু অতিথির ক্ষেত্রে কি আবেগ চলে!

আমি – আবেগ মানে, ঘরের লোকদের কথাই তুমি বলছো! …

বাবা – হুম, তা না হলে, গোপাল কোথায় থাকে, আর সেই আলমারির চাবিই বা কোথায় থাকে, সেটা কেই বা জানতে পারে!

আমি – তারমানে, ঘরের মধ্যেই কেউ খুনি লুকিয়ে আছেন, আর তিনি প্রফেসানাল কিলারও। … মার্ডার অয়েপনও তো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার মানে, মার্ডার অয়েপনও লুকিয়ে রেখেছেন তিনি। … আচ্ছা বাবা, এর মানে তো এটাই হয় যে বাড়ির কাজের লোকদের মধ্যে কেউ হবে। … বাড়ির কাজের লোকই সময়ে সময়ে পরিবর্তন হয়, আর সেখানেই নতুন লোক ঢোকে। … সেই নতুন লোক যদি প্রফেসানাল কিলার হয়, তবে সেই খবর গোপন করা যেতেই পারে!

বাবা – হুম, রাইট, কিন্তু কথা হচ্ছে যে নতুন কাজের লোককে কি আর গোপন সিন্দুকের খবর দেওয়া হবে?

আমি – তারমানে, কেউ তাকে কাজে লাগিয়েছে বলছো? … মানে বাড়ির কেউ তাকে বাড়িতে কাজের লোক করে ঢুকিয়েছে, আর ঢুকিয়ে এই সমস্ত কীর্তি করিয়েছে?

বাবা – এক্সিলেন্ট মিলি! … এক্সিলেন্ট। … কিছু কেসে সঙ্গে থাকতে থাকতেই মাথা কেমন খুলে গেছে দেখেছিস। … হুম, একদমই ঠিক জায়গায় ধরেছিস। … এই ভাবেই, প্র্যাক্টিকাল গ্রাউন্ডে দাঁড়িয়ে, একটা ঘটনাকে অনুভব করতে থাকলে, দেখবি কি কি সম্ভব, আর কি কি সম্ভব নয়, আর সঙ্গে সঙ্গে কি ভাবে তা সম্ভব, সমস্তই চোখের সামনে ভেসে উঠবে। … ব্যাস, খালি যাচনা, যোজনা বা কল্পনাকে মন আর বুদ্ধিতে স্থান দিতে নেই। … এক্কেবারে খালি মাথা। নিউট্রাল মাইন্ড, উইথ নো প্রি-এজম্পশন।

আমি আর বাবা এবার এসে গেলাম সেই বাড়ির দ্বারে। সিকিউরিটির খাতাতে সমস্ত নাম, আধারকার্ড ইত্যাদি এন্ট্রি করিয়ে ভিতরে যেতেই, মিসেস রেবা আমাদের ঘর দেখিয়ে দিলেন। বাবার রিকোয়েস্টে সন্ধ্যার সময়ে সান্ধ্যভোজনটা একই সঙ্গে করার আয়োজন করা হলো। বুঝে গেলাম, সেখানেই বাবা সমস্ত জেরা সেরে ফেলবেন। আমিও আমার মাথাকে পরিষ্কার করে নিলাম। বাবা প্রশ্ন করবেন, আর আমাকে সেই প্রশ্ন, কাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে, আর কি উত্তর পাওয়া হচ্ছে, সেই কথাকে মাথাতেই টুকে নিয়ে আস্তে হবে। ঘরে এসে নোটবইতে তুলে ফেলতে হবে।

বাবার সাফ কথা, জেরা করার সময়ে, জেরা যে করা হচ্ছে, সেটাই বুঝতে দেওয়া যাবেনা। এমন বোঝানো হবে যেন সকলের সাথে আলাপ করা হচ্ছে। … তাই নোটবই নিয়ে যাওয়া নিষেধ। মাথায় টুকে এনে, পরে নোটবইয়ে চালান করতে হত সমস্ত কিছু।

পৃষ্ঠা: 1 2 3 4 5 6