জটিল রাজনীতি | রহস্য গল্প

প্লেনে বাবাকে খুব রিলেক্সড্‌ লাগছিল। কানে হেডফোন দিয়ে গান শুনছিলেন। আমার সাথেও অনেক গল্প করলেন। আমি খালি বাবাকেই দেখছিলাম। … মানুষটার প্রশংসা শুনেছিলাম সকল প্রযোজকদের কাছে। কিন্তু বাবার সাথে এই প্রথম মিশনে এসে সত্যি সত্যি জানলাম, বাবা ঠিক কতটা ব্রিলিয়ান্ট। … অদ্ভুত ভাবে প্র্যাক্টিকাল উনি, আর অদ্ভুত ভাবে বিচার করতে পারেন। সমস্ত সময়ে নির্ণায়ক বিচার, সব সময়ে, বাস্তবকে মাথায় রেখে বিচার। … আরো অনেক কিছু খোঁজার চেষ্টা করছিলাম, যার থেকে আমি শিখতে পারি। …

কিন্তু শিখতে কতটা পারবো জানিনা, কারণ বাবার কথা ভাবলেই, মনের মধ্যে অত্যন্ত গর্ববোধ হচ্ছিল, আর নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে হচ্ছিল। … এই ভাবতে ভাবতে এই ২০ মিনিটের জন্য বোধহয়, বাবার কাঁধে মাথা রেখেই ঘুমিয়ে পরলাম। … ঘুমোতে যাবার আগে, একটাই কথা ভাবছিলাম, শুনেছি মা বাবার প্রেমে পরেছিলেন। তা তিনি কি বাবার এমন অদ্ভুত কীর্তি দেখেই প্রেমে পরেছিলেন? মা-কে প্রশ্ন করতেই হবে সেটা।

আমাদের প্লেন সঠিক সময়ের ১০ মিনিট আগে ল্যান্ড করেছিল। চেকআউট করে লাউঞ্জে গিয়ে দেখলাম, অতনু আঙ্কেল রেডি। উনি বললেন, উনার প্লেন ৩০ মিনিট লেটে এসেছে। যাই হোক, তাও আমাদের ২০ মিনিট আগে এসেছেন উনি। তাই ফ্রেস হয়ে নিয়েছেন। বাবাকে দেখে একটা আলিঙ্গন করলেন, আর আমাকে একটা টু-মিনিটস্‌ হেয়ার ড্রায়ার উপহার দিয়ে বললেন, “ওয়েলকাম টু সিন ইন্সপেক্সান টিম”। …

বাবা আর আমি আর ফ্রেশ হইনি। ওয়েট টিস্যু দিয়ে, গাড়িতে যেতে যেতেই মুখচোখ পরিষ্কার করে নিলাম। বাবার ওইসব দিকে কোন হুস নেই। … ৫ ফুট ৯ ইঞ্চির সুপুরুষ চেহারা, সাদাটে হলুদ গায়ের রঙ, মুখে সুন্দর একটা হাল্কা দাড়ি, বাবাকে এভ্রি টাইম হ্যান্ডসামই লাগে। … মোস্ট কেয়ারলেশ এবাওউট হিস লুক্স, বাট আমার চোখে পৃথিবীর সেরা হ্যান্ডসাম ব্যক্তি।

আমাদের গাড়ি, উনিওয়ার্ল্ড সিটি, রাজারহাটে ঠিক ৯.১০এ প্রবেশ করলো। রোসডেলে গেটপাস নিয়ে, টাওয়ার ৩, পাঁচ তোলা। লিফটে উঠে, দেখলাম ঘরের দ্বার খোলা, আর একটা ব্ল্যাকক্যাট দাঁড়িয়ে। অতনু আঙ্কেল কথা বলতে, ভিতর থেকে কনফার্ম করে, আমাদের নিয়ে গেল সে প্রনবেশ লাহিড়ীর ঘরে। … একটা বার্নিশ করা জার্মান কাঠের টেবিলের পিছনে একটা বেঁটেখাটো গোলগাল ব্যাক্তি বসে। সামনে দুটি সোফা চেয়ার, আর বা-পাশেও তেমনই একটা চেয়ার। … ঘরের মধ্যে, উনার সুন্দরি সেক্রেটারি ছিলেন। উনি চোখের ঈসারা করতে, তিনি বেড়িয়ে গেলেন, দরজাটা বন্ধ করে। …

অতনু আঙ্কেল দরজাটা ভিতর থেকে লোক করে দিলেন আর বললেন – স্যার, যদি কোন রেকর্ডার বা সিসিটিভি থাকে, বন্ধ করে দিন। এতে আপনিই সেফ থাকবেন।

লাহিড়ী মশাই রিসিভার তুলে বললেন – সিসিটিভি ৩, অডিও ভিজুয়াল অফ। … রিসিভার রেখে, সোজা বাবার দিকে তাকিয়ে, আমাকে ঈসারা করে বললেন – কন্যা?

বাবা বললেন – হ্যাঁ, মিলি, যার উপস্থিতি কোচিতে ছিল, সেটা আপনি জানতেন না।

লাহিড়ী মশাই হেসে বললেন – সি ঈশ মোর বিউটিফুল, ডেন ইয়োর ওয়াইফ।

বাবা হেসে বললেন – ইয়েস সি ঈশ।

লাহিড়ী মশাই আবার বললেন – বিজয়, তুমি আমার পিছন আর ছাড়লে না হ্যাঁ! … ইউ নো ওয়ানথিং… তোমার নাম শুনলেই না আমার ভয় লাগে। … এই সিবিয়াইদেরও অতো কেয়ার করিনা আমি। কিন্তু তোমার নাম শুনলেই না, আমি একটু নড়েচড়ে বসি।

বাবা আবার মুচকি হেসে বললেন – আর সেই কারণেই তো আমাকে চেপে দিতে চেষ্টা করতে শিবপ্রসাদকে কাজে লাগালেন। আর ওখানেই আপনি ফাঁসলেন। …

লাহিড়ী মশাই একটু চমকে উঠে বললেন – ইউ ক্র্যাকড্‌ ডেট টু! … ওহ গড! … ভাই, বলো আর কি জেনেছ তুমি। … তুমি শালা আমার কাছে অন্তর্যামী ভগবান হয়ে গেছ। … যা করি, সব জানতে পেরে যাও। … নাও টেল মি। … আর ডিলে করো না। … এমনিই হার্ট পেসেন্ট। … হাইপার টেন্সানে ভুগি। … আর হার্টে প্রেশার পরলে, বন্ধঘরে তোমরা থাকতে, খুনের দায় লেগে যাবে তোমাদের।

বাবা হাল্কা হেসে বললেন – কোথা থেকে শুরু করবো, সেটা বলুন। প্রথম থেকে না শেষ থেকে।

লাহিড়ী মশাই বললেন – ডেট মিন্স, ইউ নো এভরি থিং! … ওকে টেল ফ্রম ডা বিগিনিং।

বাবা বলতে শুরু করলেন – নিউ ইয়র্ক ফিশিং ডক প্রথমে সরকারকে রিচ করেন, কিন্তু সরকার তেমন গুরুত্ব দেয়না। … তারিখটা ৪ঠা জানুয়ারি, এই বছর। রেকর্ড পাওয়া গেছে, পার্লামেন্ট অথরিটির কল রেকর্ড থেকে। … আমি উদ্ধার করি সেটা ১৭ই মার্চ, থ্রু আ কল ফ্রম কোচি। … এরপর, প্রধান মন্ত্রী অর্থাৎ মরাজি মশাই ভেবে নেন যে এই ডিলটা উনি নিজে করবেন, সরকারকে বলে নয়, পার্টির তরফ থেকে, তাহলে কমিশনটা পার্টি আর উনি পাবেন। … কিন্তু পাশাপাশি এও ভেবে নেন যে, এই কেসটা এতটাই বড় যে, অপনেন্ট অর্থাৎ আপনাকে সঙ্গে না নিলে, উনি ফেঁসে যাবেন, কারণ আপনি ছেড়ে দেবেন না।

তাই আপনাকে কল করে, এই কমিশনের কথা বলেন। আপনি আপনার ও পার্টির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল, তাই কেসটা একসেপ্ট করে নেন। … ভেবেছিলেন, সহজেই হয়ে যাবে ব্যাপারটা। কিন্তু এরই মধ্যে বেজিং থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফোন এসে যায়, একরডিং টু পার্লামেন্ট কল রেকর্ডস অফ ১৫থ জানুয়ারি, ডিস ইয়ার। … সেই দিনেই আপনার কাছে কল আসে মরাজি মশাইএর, আর আপনি উনাকে প্ল্যান বলে দেন, যা উনাকে করতে হবে, আর যা আপনি করবেন।

সেই প্ল্যান অনুসারে, যেই তিনটি কোম্পানিকে বেজিং ঠিক করে দিয়েছিল, সেই তিন কোম্পানির নামে পার্লামেন্টে বিল পাশ করানো হবে। … তারপর, ওয়েস্ট করিডর থেকে একটা স্ট্রাইক এরেঞ্জ করা হবে। আর সেই স্ট্রাইকে সরকারের লোক হয়ে যাবে তিনজন দুধে রাজনীতিবিদ, যারা ভোটে হেরে যাবার কারণে নট আ ন্যাসানাল ফিগার, আর ওঁদেরকে ট্রেনিং দিয়ে পাঠাবেন আপনি। তাই ওরা পার্টির ব্যানার বা উত্তরীয় গায়ে চাপাবেনা, যাতে কোন পার্টি থেকে যাচ্ছে, সেটা ঠিক না করা যায়।

এরপরের প্যানও আপনারা দুইজনে রেডি করে নেন। ওরা ওখানে যাবে, কিন্তু ওখান থেকে ফিরবেনা। হ্যাক করা হবে, তিন বিদেশী কোম্পানির ইন্ডিয়ান রিপ্রেসেন্টেটিভ-এর ফোন, আর সেখান থেকে হোয়াটসঅ্যাপ করে, অপহরণের নাটক করা হবে। … স্ট্রাইকের অজুহাতে ডিলকে ১০০ পারসেন্ট শেয়ার থেকে ৩০ পারসেন্টএ নিয়ে যাওয়া হবে। তাতে ওরা রাজি হবেনা, আর ফলে ওরা ওই তিন রাজনীতিবিদকে অপহরণ করেছে, এমন কেস সাজানো হয়, আর সেই অপহরণের মামলার ফলে সরকার বিল প্রত্যাহার করে নেবে, যার ফলে, ডিল উইথ বেজিং উইল বি ক্যান্সেলড্‌, আর ডিল উইথ নিউ ইয়র্ক ফিশিং ডক ওয়িল বি ফাইনালাইজড্‌।

সমস্ত কিছু সেই রকমই হলো, যা আপনাদের প্ল্যান ছিল। কিন্তু মাঝে ঢুকে গেছিলাম আমি, এই বিজয় সিংহ। … মরাজি মশাই আমাকে চেনেন না, কিন্তু আপনি আমাকে খুব ভালো করে জানেন। … ইউ নো, আই ক্যান বি ডা অনলি গেমচেঞ্জার হেয়ার। … আর তাই, আপনি আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করলেন। আর তাই শিবপ্রসাদকে দিয়ে সিবিয়াইএর সামনে বলালেন যে, আমি ওখানে উপস্থিত একজন সাস্পিসাস ব্যক্তি ছিলাম।

আমার নাম ও আমার হোটেলের নাম আমিই আপনাকে বলেছিলাম যখন ওই তিন রাজনীতিবিদের বিশয়ে আপনার থেকে জানি। তাই আপনি শিবপ্রসাদকে দিয়ে এই দুই তথ্যই সিবিয়াইকে বলতে পারেন। সিবিয়াই তদন্ত করে, হোটেলের ম্যানেজারের থেকে আমার গাড়ির নম্বর জেনে সিবরমন, অর্থাৎ আমার ড্রাইভারকে ধরে। … কিন্তু লাহিড়ী মশাই, আমি যে অতো কাঁচা কাজ করিনা! … আমি তো মিলি, মানে আমার কন্যার উপস্থিতির কথা বলিনি আপনাকে। আর তাই আপনিও শিবপ্রসাদকে সেই কথা বলতে পারেন নি।

অতনু বাগচি যখন সিবিয়াই অফিসার হলেন কেশটাতে, তখনই আমি বুঝেছিলাম, নিশ্চিত রূপে কোন বাঙালি এই কেসের তদারকি করছেন। … তার সুপারিসেই বাঙালি সিবিয়াই অফিসারকে ইন-চার্জ করা হয়। … আর এতো বড় কেশে, আমি বিরোধী দলের হস্তক্ষেপ খুঁজছিলাম, তাই আপনার হস্তক্ষেপকে সহজেই ধরে ফেলি। … কিন্তু আপনি ভাবতে পারেন নি যে অতনু আমার নিকট বন্ধু হবে। … কিন্তু আপনার দুর্ভাগ্য যে, অতনু আমার খুব কাছের বন্ধু, তাই আমি সমস্ত কথাই জানতে পেরে যাই। আর যখন ওর থ্রুদিয়ে শিবপ্রসাদ যে আমার উপস্থিতি জানে, আমার হোটেল জানে, আর কিচ্ছু জানে না দেখলাম, তখন আপনার নাম তো আমার কাছে জ্বলজ্বল করে সামনে চলে এলো।

লাহিড়ী মশাই – হ্যাঁ শিবপ্রসাদকে আমিই কাজে লাগিয়ে ছিলাম, বাট, ইয়োর আদার ওয়ার্ডস আর বেশলেশ। … ফোন হ্যাক, কোম্পানির মালিকদের ফাঁসানো। অপহরণের নামে নাটক – হোয়াট ঈশ ডিস! … যত সব ননসেন্স। … তোমার মত এমন এফিসিয়েন্টের থেকে এমন মুর্খামি আমি আশা করিনি।

বাবা হেসে বললেন – অতনু।

অতনু আঙ্কেল তিন রাজনীতিবিদের জবানবন্দির রেকর্ড চালিয়ে দিলেন। লাহিড়ী মশাই-এর মুখ ছোট হয়ে গেল। …

বাবা হাসতে হাসতে বললেন, – এটা যে একটা মেনিপুলেশান, সেটা আমি একা নয়, সিবিয়াই অফিসাররাও বুঝেছে লাহিড়ী মশাই। … তবে ওরা ভাবছিল যে, কি করে ওই তিন রাজনীতিবিদের সন্ধান পাবেন। … আমি ওঁদেরকে বলি যে যখন তিনজন কোচি ছাড়েন নি, তখন কোচিরই কোন সেরা হোটেলে রাজার হালে আছেন তাঁরা। … সিবিয়াই ওঁদেরকে গোপনে উদ্ধার করে, ওঁদের জবানবন্দি নিয়ে নিয়েছে লাহিড়ী মশাই। … এবার আপনি কি বলবেন। … এম আই আ ফুল!

লাহিড়ী মশাই এবার কম্পিত স্বরে বলে উঠলেন – আই আম নট এলোন ইন ডিস কেশ। … বিলিভ মি।

বাবা হেসে বললেন – আরে আপনি এতো ঘাবড়াচ্ছেন কেন? … আমরা জানি, বুঝি, … সবটাই বুঝি। … আপনি ও প্রধানমন্ত্রী মিলে যে বেজিং-এর সাথে এমন ষড়যন্ত্র করলেন, সেটা বেজিং জানলে, আমাদের এক্সপোর্ট ইম্পরটে বিশাল ঘাটতি হবে। … তাই এই কেস আমরা ডিসক্লোজ করার কথা ভাবিনি। যদি সেটাই ভাবতাম, তাহলে তো সিবিয়াই তিন রাজনীতিবিদকে উদ্ধার করেছে, এটা একটা বড় নিয়ুজ এতক্ষণে হয়েই যেত।

লাহিড়ী মশাইয়ের মুখ লাল। উনি বললেন – তবে?

বাবা – আমার কাছে একটা প্রস্তাব আছে। … প্রধানমন্ত্রী তো এতক্ষণ সমস্তই শুনছেন, আপনি যে সিসিটিভি আগেই বন্ধ রেখেছিলেন, আর কল করে যে উনাকেই কোড ওয়ার্ড বলে, ফোনটা না রেখেই, হাল্কা করে রেখেছেন, তখনই বুঝেছি। … তাই উনার থেকে পারমিশন নিয়ে, ওই তিন কোম্পানির ম্যানেজারকে অপহরণের চেষ্টা করার জন্য হুমকি দিয়ে ছেড়ে দিন। আর যাতে তারা মুখ বন্ধ রাখে, তার জন্য আপনাদের হিউজ প্রফিট থেকে একটু ভাগ দিয়ে মুখ বন্ধ করে দিন। … নিউজ আসবে, অপহরণের চেষ্টা। এতে বেজিংও মুখ লুকাবে। আপনাদের ডিল উইথ নিউ ইয়র্কও হয়ে যাবে। আর সিবিয়াই অপহৃত রাজনীতিবিদদের উদ্ধার করেছে, তাই গোল্ড মেডালও পাবে। … কি, সব ওকে হয়ে যাবে না? … ফোনটা তুলে কথা বলে নিন, স্যার মরাজির সাথে।

লাহিড়ী মশাই-এর কান লাল। প্রেশার খুব বেড়ে গেছে। … কথা বলে নিলেন রিসিভার তুলে। … সমস্ত কিছু বলে, আমাদের বললেন। পাঁচ মিনিট ওয়েট করতে হবে তোমাদের। এই বলে আরেকটা ফোন করলেন, বোধহয় সেক্রেটারিকে। কারণ দুই মিনিটের মধ্যে সেক্রেটারি কিছু পাঁচশোর বান্ডেল দিয়ে গেল লাহিড়ী মশাই-এর টেবিলে। তারপরে পরেই ফোন এলো, বোধহয় মরাজি মশাই-এর।

ফোন রেখে লাহিড়ী মশাই বললেন – শাসানির কাজটা সিবিয়াই-ই করবে। ক্যাশ ১০ কটি করে তিনটি ম্যানেজারকে দেওয়া হবে। আপনাদের ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে। … কনফার্মেশনএর জন্য। … টাকাটা নিউ ইয়র্ক ফিশিং ডকই দিচ্ছে।

বাবা হেসে বললেন – তাহলে আপনাকে এই পঞ্চমবার বাঁচালাম, কি বলেন লাহিড়ী মশাই?

লাহিড়ী মশাই হেসে বললেন – টু মি, ইউ আর আ গড, ইউ নো। … তবে এবারে আমি খালি হাতে তোমাদের ছাড়বো না। … মিস্টার বাগচি, এটা আনঅফিসিয়ালি আমার তরফ থেকে। … এই বলে, তিনটি পাঁচশোর বান্ডেল এগিয়ে দিলেন অতনু আঙ্কেলের দিকে।

অতনু আঙ্কেল বললেন – স্যার, আই আম আ স্লেভ অফ গভার্নমেন্ট। … তাই আমি এই টাকা নিতে পারবো না।

লাহিড়ী মশাই বললেন – ওকে, কত নিতে পারবে। … কিছু তো তোমাকে নিতেই হবে। … এই ভাবে, আমাদের কেশটাকে ঠিক করলে।

অতনু আঙ্কেল বললেন – ঠিক আছে, স্যার একটা বান্ডিল করে দিন। … তবে একটা কথা আমাকে বলতেই হবে। … বিজয় সিংহ না থাকলে, আমি কিচ্ছু করতে পারতাম না।

এবার লাহিড়ী মশাই বাবার দিকে তাকিয়ে বললেন – বিজয়, ইউ সুড নট সে নো টু মাই প্রপোজাল। … এই বলে অতনু আঙ্কেলকে একটা পাঁচশোর বান্ডিল দিয়ে, বাবাকে চারটে ওরকম বান্ডিল দিলেন। … আমার চোখ তো ছানাবড়া। একবারে দুই লক্ষ টাকা!

বাবা বললেন – স্যার, আমি সুখহাটের তরফ থেকে কেসটা হ্যান্ডেল করছিলাম, আর ডে আর পেয়িং মি ফর ডেট।

লাহিড়ী মশাই মুচকি হেসে বললেন – সঠিক খবর তো তুমি দেবেনা। তাই ফুল পেমেন্টও সে দেবে না। … কত দিয়েছিল? ২৫ হাজার তো? তাহলে খুব বেশী হলে, ও এই খবরের জন্য ১৫-২০ দেবে। … আর বিজয়, তুমি আমাকে এই নিয়ে ফিফথ্‌ টাইম শেভ করলে। … তাই জন্য এই এক লাখ তো তোমাকে নিতেই হবে। … আর বাকি এক লাখ, আমার একটা কেস হ্যান্ডেল করার জন্য, আমার এডভান্স।

বাবা ভ্রু কুঁচকে বললেন – কেশ!

লাহিড়ী মশাই একটু গভীর মুখ করে বললেন – হ্যাঁ, আমার একটা রিলেটিভের মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। … সি অয়াজ আ সেন্ট টাইপ। ইন্টারন্যাসানাল রাধে এসোসিয়েশন, মানে আইআরএতে সে গেছিল। … কিন্তু তারপর আর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। … একটু গোপনীয়তা রাখতে হবে। তাই এই কেসটা আমি সিবিয়াইকে দিতে পারছিনা। … আর কোন প্রাইভেট ডিটেকটিভকে আমি তেমন বিশ্বাস করিনা। … বিজয়, যদি কেউ সেই মেয়েটির সন্ধান দিতে পারে, তবে সেটা তুমিই। … সো একসেপ্ট ডিস কেশ।

বাবা বললেন – কিন্তু স্যার, আমি কোন কেসের জন্য আডভান্স ম্যাক্সিমাম ২৫ হাজার নিই। … যদি অতে হয়ে যায়, তো ফাইন, নাহলে আরো ম্যাক্সিমাম ১০ হাজারের বেশী আমি আজ পর্যন্ত নিই নি।

লাহিড়ী মশাই বললেন – ইউ নো, ইউ আর আ ফুল, ইন টার্মস্‌ অফ ডিলিং উইথ মানি। … তুমি যেই কাজ করো, সেগুলো এক লাখের কমে হবারই কথা নয়। … এনি অয়েজ, ওটা তোমার আর নিউজ এজেন্সিদের ব্যাপার। … বাট, আমি তোমাকে এক লাখ টাকা এডভ্যান্স দিলাম। … যদি মেয়েটিকে ফিরিয়ে আনতে পারো, আমি তোমাকে আরো চার লাখ দেব। … এটা আমার কেশ। সো, এর রেটও আমিই ঠিক করবো।

বাবা রাজি হলেন। আমার খুব আনন্দ হলো। … একটা কেস শেষ হতে না হতেই, আরো একটা কেস পেয়ে গেলাম। … আর সঙ্গে সঙ্গে, দু লাখ টাকা। … আর কেস শেষ হলে, আরো চার লাখ টাকা। … হ্যাঁ আমারও মনে হলো এবারের কেশটাতেই, বাবা বড্ডই কম টাকা নেন। … আর বাবা কখনোই ফেল করেন না। তাই ৪ লাখ টাকাও বাবারই হবে। … তবে টপ সিক্রেট। মাকেও বলা যাবেনা।

এক ঘণ্টা হয়ে গেলে, মরাজি মশাইএর ফোন এসে গেল। … তিনটে কোম্পানির মালিককে কাল সকালে ১০ কটি করে টাকা দিয়ে, ছাড়া হবে। … বেজিং থেকে তিনটে কোম্পানিকে কড়কানো হয়েছে। তাই তিনটি মালিককেই কোম্পানি থেকে তারিয়ে দেওয়া হয়েছে। … কিন্তু তাঁদের আপত্তি নেই তাতে, কারণ তাঁদের কাছে ক্যাশ ১০ কটি টাকা রয়েছে।

আমারা সেখান থেকে বেরলাম রাত্রি ১২টা। গাড়ি চলে গেল তপসিয়া, ঘটককাকুর বাড়ি। … গাড়িতে আমি আর অতনু আঙ্কেল রইলাম। বাবা ভিতরে ঢুকে, প্রায় ৫৫ মিনিট পরে বেরুল। … পরেরদিন সকালে, এই খবর একমাত্র সুখহাটে বেরুল। হেডলাইন – বিদেশী কোম্পানির কেলেঙ্কারি, তিন রাজনীতিবিদের মুক্তি।

খবরের ভিতরে বলা, তিনটি কোম্পানির মালিক কথোপকথনের জন্য, এই তিন রাজনীতিবিদকে নিজেদের কাছে রেখেছিলেন। … এখন তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে। … এই কাজ কোম্পানির পারমিশন ছাড়া করার জন্য, তিনটি মালিককে কোম্পানির চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলো। … মৎস্য বিল ক্যান্সেল। আর সমস্ত ঘরের লোক, নিজের নিজের ঘরে ফিরে গেছে। কেসের নিষ্পত্তি। …

বাবাকে কিছু বলতে হলো না। মিস্টার ঘটকের খবরের কাগজই প্রথম এই খবর ছাপে। আর উনার থেকেই অন্য কাগজেরা কেনে এই খবর। তাই উনি বিশাল লাভ করেছেন। আর সেই কারণে বাবাকে ২৫ থেকে কিছু ফেরাতে হলো না। বরং আরো ১৫ হাজার টাকা নিজে থেকে দিয়ে গেলেন ঘটক কাকু।

বিকেলে অতনু আঙ্কেল এসেছিলেন। আমাকে বললেন, প্রথম কেসে বাবাকে সামনে থেকে দেখে কি বুঝলে?

আমি বললাম – অসাম! … কি করে যে, এক স্থানে বসে বসে, সমস্তটা বাবা দেখতে পায়, আমার কাছে এটাই সব থেকে বড় রহস্য।

অতনু আঙ্কেল হেসে বললেন – তুমি এখনও জানোই না, তোমার বাবা একটা রেয়ার এলিমেন্ট। … সারা ভারত খুঁজলেও, এমন রিপোর্টার খুঁজে পাবেনা। … ইউ সুড বি প্রাউড ফর হিম। আমি হেসে বললাম – প্রাউড নয়, আমি তো উনার ফ্যান হয়ে গেলাম। … অতনু আঙ্কেল আর মায়ের হাসি। … বাবা বেড়িয়ে আসছিল, নিজের বারির জামা কাপর পরে। … বেল বেজে উঠলো। … পরের কেস নাকি!

পৃষ্ঠা: 1 2 3 4 5