দেশপ্রেম | রহস্য গল্প

কেন জানিনা, মনে একটা দারুণ আনন্দ হলো, আর একটু লজ্জাও লাগলো, মায়ের এই কথাটা শুনে। আবার একটু বারন্দায় গিয়ে দেখলাম, বাবা আর দিদি কাছে এসে গেছেন। ঘরের দরজা খুলে দাঁড়িয়ে রইলাম আমি। আসলে কি হলো ওখানে জানার প্রচণ্ড আগ্রহ আমার।

বাবা ঘরে এসে একটু লম্বা সোফাতে গা এলিয়ে দিলেন। আমি বললাম – কারুর সাথে কথা হলো?

বাবা বললেন – হুম, সকলের সাথেই।

আমি – কিছু দিশা পেলে!

বাবা – হুম, পেলাম। ২০ জন ছেলের মধ্যে, দুইজন ছেলে কাশ্মীরের। একটু খবর নিতে হবে; ছেলেগুলোর চোখের ভাষা ভালো নয়। যেন হিংসাভাবকে ঢেকে রেখে দিয়েছে। দুইজনেরই পরীক্ষা করতে পারিনি। তবে এঁদের একজনের নিশানা খুবই ভালো। খেলাধুলা করেনা, এমনই বলল। তাহলে নিশানা কেন ভালো? একটু খবর নিতে হবে। দেখি, অতনু যদি কিছু সাহায্য করতে পারে।

আমি – বাকিরা?

বাবা – না, তেমন কিছু আর কারুর মধ্যেই দেখতে পেলাম না।

বাবা এবার অতনু আঙ্কেলকে ফোন লাগালেন। অতনু আঙ্কেলকে এই দুই ছেলের ব্যাপারে খবর নিতে বলা হলো। ফোন রেখে, বাবা বললেন – আততায়ী নিজের কাজে সফল হয়নি।  তাই সে কি করবে এবার?

আমি – কিছু করবে না। ব্রিগেডিয়ারদের জায়গা। একবার বেঁচে গেছে, বারবার তো আর বাঁচবেনা।

বাবা – হুম, ঠিক কথা, কিন্তু …

আমি – আবার কিন্তু কি এখানে?

বাবা – ব্রিগেডিয়ার দুইজনের বডি ল্যাঙ্গুয়েজে যেন তৎপরতা বলে কিছু দেখতে পেলাম না। যদিও দূর থেকে দেখেছি। কিন্তু আর্মির লোক … উম, আর্মির লোক কি আর চা খেতে খেতে পরামর্শ করবে! … আর্মির লোক ভাবে কম, সরাসরি এক্সান করাই অদের চারিত্রিক গুণাবলি।

আমি – মানে, উনারা চা খাচ্ছিলেন!

বাবা – হুম, উনাদের তিন তোলার ছাদে বসে, দুইজনে চা খাচ্ছিলেন।… হতে পারে যে দুইজনে কি করা যায়, সেই বিষয়ে চা খেতে খেতে, জল্পনাও করছিলেন। কিন্তু এই জল্পনা ব্যাপারটা আর্মির মানুষের কাছে আশাপ্রদ নয়। …

আমি – সেরকম হলে তো আততায়ী আবার একবার সুযোগ নেবে।

বাবা – হুম, তেমনই মনে হচ্ছে আমার। দেখা যাক কি হয়।

দুপুরে লাঞ্চ করে আসার পর, একটু গাটা বিছনায় রেখে, জানলা দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখছিলাম, অতনু আঙ্কেলের ফোন এলো। বাবা ফোন ধরে কেবলই শুনলেন। বাবার মুখের ভাষা ফোনের কথা শুনতে শুনতে পাল্টে যাচ্ছিল, বেশ অনুভব করলাম। প্রায় ১০-১২ মিনিট ফোনে কথা শোনার পর, বাবা বললেন – পরবর্তীতে কি করা উচিত, আমি তোমায় জানাচ্ছি। … অতনু একটা কাজ করো, এর মধ্যে। তুমি একটা টিম আর এই মিশনে টিমের একশনের ওয়ার‍্যান্ট তৈরি করে নাও। … সময় হলে, তোমাকে লাগবে, ডাকবো তোমাকে।

বাবা ফোন রেখে দিলেন, আর ঘরে খানিক পায়চারি করলেন। আমি বললাম – কি বললেন কাকু?

বাবা – কাশ্মীরি মোর্চার দুই সদস্যের ছেলে, এই দুই ছোকরা। মজার কথা এই যে, এই মোর্চারই মাথাকে ধরতে গিয়ে, ব্রিগেডিয়ার সান্যাল আর সেই মোর্চার প্রধান নিহত হন।

আমি – উড়ি বাবা … এতো একটা অঙ্ক সামনে এসে গেল। তাই না!

বাবা – হুম। … সেরকমই একটা। ব্রিগেডিয়ার সান্যালকে যদি ধরে নেওয়া যায় যে সেই মোর্চা সংগঠনকে নষ্ট করে দেওয়ার কাণ্ডারি, তবে উনাকে হত্যা করে মোর্চা সংগঠন শান্তি পায়নি। আর তাই উনার স্ত্রী … তারমানে তো… মিলি মিসেস সান্যাল ঘরেই আছেন না! … চল তো আমার সাথে।

আমি – কিন্তু হঠাৎ হলোটা কি, সেটা বলবে তো! …

বাবা – তুইও তো যাচ্ছিস, আমার সাথে। সাখ্যাতেই সমস্ত শুনতে পাবি। এখন চল।

আমি আর বাবা তড়িঘড়ি মিসেস সান্যালের ঘরের সামনে গিয়ে দরজায় নক করতে, ভিতর থেকে আওয়াজ এলো – কে?

বাবা – আমি বিজয় সিংহ আর আমার মেয়ে মিলি।

এক মিনিট মত অপেক্ষা করতে হল; মিসেস সান্যাল দরজা খুললেন। আমরা ভিতরে যেতে, উনিই বললেন – আসলে ব্রিগেডিয়ার সিং আর গতি আমাকে বলে দিয়েছিলেন যে, কে দরজার অপারে, না জেনে দরজা না খুলতে। তাই একটু …

বাবা – খুবই ঠিক করেছেন আপনি। … আসলে এই ভরদুপুরে আপনাকে বিরক্ত করতে হলো। … কিছু জরুরি কথা বলার আছে মিসেস সান্যাল। … আচ্ছা, আপনার ছেলে এখন কোথায়, এখানে নিশ্চয়ই নেই। কারণ এখানে থাকলে তো আমার সাথে আলাপ হতো।

মিসেস সান্যাল – হ্যাঁ, ও ব্যবসার কাজে জব্বলপুর গেছে। আমার এই অনুষ্ঠানের শেষের আগে ফিরে আসবে বলেছে ও।

বাবা – ইমিডিয়েটলি ওর সাথে যোগাযোগ করুন, আর ওকে বলুন যেন, এখনি এখানে না ফেরে। আততায়ী আপনার উপর আক্রমণ করেছে, এমনও হতে পারে যে ওর উপরেও আক্রমণ করবে। … আমার ধারনা, আততায়ীর টার্গেট, আপনার পরিবার। আর যেহেতু আততায়ী এই মুহূর্তে এখানে রয়েছে, তাই এখান থেকে দূরে থেকেই আপনার ছেলে সেফ আছে। ওকে এখানে এই অনুষ্ঠান চলাকালীন আসতে বারণ করে দিন।

মিসেস সান্যাল একটু নার্ভাস হয়ে গেলেন, কথাটা শুনে। তাই বাবা বললেন, নার্ভাস হবার কিচ্ছু নেই, মিসেস সান্যাল। আপনার ছেলে এখান থেকে দূরে থাকার জন্য সেফ। আসলে, আততায়ীর কাছে খবর ছিলনা যে সে বাইরে যাবে। খুব তাড়াতাড়ি করেই ঠিক হয়েছে না, এই বাইরে যাবার প্ল্যান!

মিসেস সান্যাল – হ্যাঁ, যাবার দুইদিন আগেই ঠিক হয়েছে।

বাবা – হুম, ওই জন্যই আততায়ীর কাছে খবর নেই। … চিন্তা একদম করবেন না। আপনার ছেলে সেফ আছে। আর ফোনে ওকে দূরে থাকতে বলে দিন, ও সেফই থাকবে। আর অনুষ্ঠান চলা পর্যন্ত আমরা যদি আততায়ীকে ধরে নিতে পারি, তবে তো সকলেই সেফ হয়ে যাবে। … নিশ্চিন্তে থাকুন আপনি। আর শুধু একবার, ছেলেকে ফোন করে বলে দিন যে … না, দাঁড়ান। আপনার ফোন থেকে ফোন করবেন না। আততায়ী কেমন জাল বিছিয়েছে, আমরা কেউ জানিনা। হতেও পারে যে ওরা আপনার ফোনকে ট্র্যাপ করে রেখে দিয়েছে, আপনার ছেলের সন্ধান পাওয়ার জন্য। … আপনি আমার ফোন থেকে ফোন করুন।

মিসেস সান্যাল বাবার ফোন নিয়ে, নিজের ফোন থেকে দেখে দেখে নম্বর টিপে, ছেলেকে ফোন করলেন। আর বললেন – বাবু, তুই দিন পাঁচেক পরে আয়। একটা বিশেষ ব্যাপার আছে। তুই আসলে বলবো। … এখানে আমরা সকলে ভালো আছি। কিন্তু তুই এখনই এখানে এসে গেলে, সমস্যা হতে পারে। তাই দিন পাঁচেক পরে আয়।

ছেলে অদিক থেকে কিছু প্রশ্ন করছিল হয়তো। তার উত্তরে মিসেস সান্যাল বললেন – তুই আসলে, সবটাই বলবো। এখন অতো প্রশ্ন করিস না। শুধু যেটা বললাম, সেটা কর।

ফোন রেখে দিলে, বাবা আর আমি উনাকে বিদায় জানিয়ে, ঘরে ফিরলাম। … রোদটা একটু পরতে, বাবা উইন্ডচিটারতা চাপিয়ে নিয়ে বাইরের দিকে যেতে গেলে, আমি বললাম – কোথায় যাচ্ছ!

বাবা – দেখি একটু চা খেয়ে আসি; আর একটু আবহাওয়াটাও বুঝে আসি।

আমি – আমিও যাবো।

বাবা – যা গায়ে চাপাবার, চাপিয়ে নে তাড়াতাড়ি।

আমি গায়ে ফারের জ্যাকেটতা চাপিয়ে, চলে গেলাম। ফিরতে দেরি হলে চিন্তা নেই; এই জ্যাকেটটার হুডি আছে; ওতেই দুটো ঢেকে নেওয়া যাবে। দুইজনে দুটো চা নিয়ে খাচ্ছি, হঠাৎ দেখি, বাবার কপালে লাল একটা আলো ফিক্স হবার চেষ্টা করছে। প্রথমে মাথায় আসেনি। তারপর মাথায় আস্তেই, বুক ধড়পড় করে উঠলো। এতো স্নিপার রাইফেলের নিশানা লাগানো হচ্ছে বাবার উপর! বাবার মুখের সামনে নিজের মুখ নিয়ে গিয়ে বাবাকে আসতে করে বললাম – তোমার কপালে স্নিপার রাইফেল দিয়ে নিশানা করা হচ্ছে।

বাবা কি অদ্ভুত ভাবে কুল। উনি সেই মুহূর্তেই আমাকে বললেন, চায়ের দাম দেওয়া আছে।… এখান থেকে সরে পর, আর চল একবার ব্রিগেডিয়ারদের তিন তোলার দিকটা দেখে আসি।

আমরা সেখান থেকে চলে গেলাম। যেদিক থেকে আলোটা আসছিল, সেদিকটায় আমি রইলাম। আর বাবাকে দেখলাম অদ্ভুত একটা বিক্ষিপ্ত গতিতে চলছেন। এই খুব জোরে, তারপরেই একটু আসতে। আবার একটু জোরে, তারপর খুব আসতে।

আমি একটু বিরক্ত হয়েই বললাম – কি করছ বলোতো তুমি?

বাবা – যারা স্নিপার চালায়, তারা আমার চলার গতি ধরে, ১০ সেকেন্ড পরে, আমি কোন জায়গায় থাকবো, সেটা ধরে নিয়ে, ফায়ার করার সামর্থ্য রাখে, অনেকটা শিকারি পাখিদের মত। তাই এই বিক্ষিপ্ত গতিতে চলছি, যাতে ও নিশানা লাগাতে না পারে। … গায়ে হাতে, কোথাও কি আর লেজার আলোটা পরছে?

আমি একবার ভালো করে চোখ বুলিয়ে নিয়ে বললাম – না, আর নেই। বুঝে গেছে বোধহয় যে আমরা বুঝে গেছি।

বাবা – হুম, হতে পারে।

আমি আর বাবা প্রায় তিন তোলার গেটের কাছে এসে গেছিলাম, সেই সময়ে বাবা দাঁড়িয়ে পরে একটি লালটুকটুকে ছেলের উদ্দেশ্যে বললেন – এদিকে, কি ব্যাপার!

ছেলেটি যেন বাবার কণ্ঠস্বরে চমকে গেল। তারপর বাবার দিকে তাকিয়ে হিন্দিতে বলল – আখরোট এর গাছের চারা চেয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার সাহেব। সেটাই দিতে এসেছিলাম। …

ছেলেটার পিঠে একটা বর ব্যাগ। আর যেন সেই ব্যাগে কি রয়েছে, বেশ বড়সর কিছু। বাবা সেটার দিকে তাকিয়ে বললেন – ব্যাডমিন্টন খেলো?

ছেলেটি নিচের দিকে নেমে যেতে যেতে বলল – খেলতে দিলেন না, ব্রিগেডিয়ার সাহেব।

উত্তরে বাবা একটু মৃদু হাসলেন। আমি উপরের দিকে উঠছিলাম, বাবা আমাকে থামিয়ে দিলেন। আমি জিজ্ঞাসু চোখে তাকালে, বাবা বললেন – মনে হয়, আমাদের এইদিকের যাবার উদ্দেশ্য পুড়ন হয়ে গেছে।

আমি – আমরা ওকে সার্চ করলেই তো! ব্যাগে আশা করি ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেট ছিলনা, কি বলো?

বাবা – উমহুম, শত্রুকে জানতেও দিতে নেই যে সে সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। চল ফিরে যাই।

আমরা ফিরে এলাম। বাবা বলে দিয়েছেন, এই নিশানার কথা যেন মাকে না বলি। অহেতুক চিন্তা করবেন উনি। কিন্তু সত্যিই কি অহেতুক চিন্তা! … স্নিপার রাইফেল। একটা গুলিই যথেষ্ট প্রাণ নিয়ে নেবার জন্য। কিন্তু বাবার আদেশ। তাই চুপ থাকলাম। বাগান দিয়ে হেটে যাচ্ছি, বাবা থমকে দাঁড়িয়ে পরলেন। বললেন, তুই ভিতরে যা। আমার একটা কাজ আছে, সেরে আসছি।

আমি – না, তোমায় একা একা কি করে …

বাবা – আমি দেখে ফেলেছি, সতর্ক হয়ে গেছি। আর আমার কিচ্ছু করতে পারবে না। তুই যা। আমার একটা জরুরি কাজ আছে।

বাবা ফিরলেন প্রায় ৮টা। এতক্ষণ কি করছিলেন কে জানে! যতক্ষণ না ফিরছিলেন, ততক্ষণ আমি খালি ঘরবার করে যাচ্ছিলাম। মা বেশ কয়েকবার প্রশ্ন করলেন, বাবা কোথায় গেছে! … বললাম, কি একটা জরুরি কাজে গেছে। বলতেও পারছিনা যে বাবার প্রাণের সঙ্কট আছে, তাই দুশ্চিন্তা হচ্ছে। সে এক অদ্ভুত বিপাকে পরে গেছিলাম আমি। মাঝে অবশ্য আমার ত্রিকালদর্শী দিদি এসে আমাকে বলে গেছিলেন – তোর বাবার কেস শলভ করা হয়ে গেছে। ফাঁদ পাততে ব্যস্ত।

কি করে জানে এইসব জানিনা। তবে উনি ঠিক ছিলেন, আর তা জানতে পারলাম দুইদিন পর। বাবা ফিরে এসে ডিনারের টেবিলে বসে বললেন – মিসেস সান্যাল, আমাকে কাল একটা কাজে গ্যাংটক যেতে হবে। আপনাদের অনুষ্ঠান তো আবার ৩ তারিখ থেকে শুরু হবে। আমি তার মধ্যে ফিরে আসবো। কারুকে তেমন কিছু বলার প্রয়োজন নেই। যদি প্রশ্ন করে কেউ, বলবেন আমি একটা কাজে গ্যাংটক গেছি। তাহলেই হবে।

রাত্রের খাবার খেয়ে ঘরে এসেও আমার দুশ্চিন্তার শেষ নেই। সত্যি বলতে, আমি বাদে বাবাকে যেন সবাই চেনে। মাও আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন – কি হয়েছে তোর! এতো অশান্তি কিসের? বাবা ফাঁদ পাতছে আততায়ীকে ধরার জন্য। এখনো বুঝতে পারছিস না!

না সত্যি আমি বুঝতে পারিনি। বাবা পরেরদিন সকালে জিপ ধরে গ্যাংটক চলে গেলেন। আমি চুপচাপ হয়ে গেছি। মাথা কিচ্ছু কাজ করছে না। একটাই কথা চলছে খালি মাথায়; বাবা একা একা চলে গেলেন, যদি উনার কনো বিপদ হয়! … বাবা যে সত্যিই ফাঁদ পাতা শুরু করে দিয়েছেন, দিদি আর মা যে সঠিকই বলেছিলেন, তা বুঝলাম ১ তারিখ বেলায়। সেইদিন প্রায় জনা ১২জন যুবক এলেন এখানে। মিসেস সান্যালের কাছে এসে প্রথমে দেখা করলেন, তারপর মিসেস সান্যালের সাথেই ব্রিগেডিয়ারদের কাছে গেলেন। ইনারা মিসেস সান্যালের এই প্রোগ্রামের কথা সিক্কিমের খবরের চ্যানেলে দেখে এখানে এসেছেন।

উনারা বাকি অনুষ্ঠানে উনার ভাষণ শুনতে চান। ব্রিগেডিয়াররা বলে দিলেন, এখন আর উনাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা যাবেনা। উত্তরে উনারা বললেন যে, উনারা পেলিং-এর কনো একটা হোটেলে থেকে যাবেন। আর নিজেদের খরচেই থাকা খাওয়া করে নেবেন। সেই কথাতে সকলে সম্মত হয়ে গেলেন। না এই সমস্ত কথা থেকে আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন না যে, আমি কি করে নিশ্চিন্ত হলাম। কিন্তু ব্যাপারটা এই যে, এই ১২ জনের ট্রুপের তিনজনকে আমি চিনি, আর এঁদের মধ্যে একজন হলেন অতনু আঙ্কেল। সেটা দেখেই বুঝে যাই যে, বাবার ফাঁদের একটা অংশ এটা।

পৃষ্ঠা: 1 2 3 4 5