চতুর্থ পর্ব – ছবিতে ছায়া
পরের দিন সকাল সকাল আমাকে ঘুম থেকে উঠিয়ে দিয়ে বললেন, চল একটু বালিগঞ্জ সার্কুলারে যাবো। … বাড়িতে বসে থাকলে হবেনা।
আমি বললাম – কেন কিছু হয়েছে আবার?
বাবা – না, কিন্তু কিছুতো হয়েছিল। সেটা একটু ভিসুয়ালাইজ করতে হবে। সেটা কি এখানে বসে বসে সম্ভব! … চল ব্রেকফাস্ট করেই বেড়িয়ে পরবো।
আমিও রেডি হয়ে নিলাম। আমরা একটা উবার ধরে বালিগঞ্জ সার্কুলারে পৌঁছলাম। কিন্তু আমরা মহিমাদেবীর বাড়িতে গেলাম না। বাবাকে দেখলাম ইতস্তত রাস্তায় ঘোরাঘুরি করছেন। খানিক পরে, তিনি আমাকে নিয়ে এগিয়ে গেলেন। আমরা পিছনের দিক থেকে মহিমা মিত্রের বাড়ির দিকে যাচ্ছিলাম। … উনার বাড়ির পিছনেই একটা ছোট্ট পার্ক।
সেখান দিয়েই বাবা আস্তে আস্তে হাটছিলেন, আর যেন কিছু খুঁজছিলেন। খুবই সকাল। পার্কে কেউই নেই। … আমি আর বাবা একাকী হাটছিলাম। সেখানে দিয়ে একটা ছোট্ট ছেলে হেঁটে ফিরছিল। … আমাদের পাস দিয়েই সে চলে যাচ্ছিল। হঠাৎ কি মনে হলো কে জানে, বাচ্চাটা বাবার উদ্দেশ্যে বলল – আচ্ছা কাকু, এখানে যেই সার্কাস এসেছিল, সেটা কি চলে গেছে?
বাবাকে দেখলাম একটু নিচু হয়ে বসে বাচ্চাটার কাঁধে হাত রেখে বললেন – এখানে সার্কাস এসেছিল বুঝি?
বাচ্চাটা বলল – হ্যাঁ এসেছিল তো। … ওই সার্কাসে যেমন অনেক আলো ছড়ায় রাত্রে, রোজ সেরকম অনেক রঙের, লাল নীল সবুজ আলো পরতো। … অনেকক্ষণ খেলা চলার শেষে, বন্ধ হতো। … আমি রাত্রে দেখতাম। আর এখন দেখতে পাইনা।
বাবা – তো তুমি থাকো কোথায়? অতো রাত্রে বাবামা বাড়ি থেকে বেরোতে দেন?
বাচ্চাটা – আমি তো এই ফুটপাতেই থাকি। … আমার তো কনো বাবা মা নেই। … একজন ওস্তাদ আছে, আমাকে পকেট কাটা শেখাচ্ছে। এই তো তার কাছেই যাচ্ছি এখন। ওই আলোর খেলা ওই বাড়িতে এসে পরতো, তাই সেটা দেখতে রোজ আসতাম এখানে। … কিন্তু দুদিন ধরে আর হচ্ছে না।
বাবা একটু চুপ করে গেলেন, কারণ বাচ্চাটা যেই বাড়িটি দেখালেন, সেটা মহিমা মিত্রের বাড়ি। … আর সেই বাড়িতে দুইতিন আগেই মহিমা মিত্রের মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই সেই আলোর খেলা হয়না। … তারমানে, সেই আলোর খেলা কি উনার মৃত্যুর সাথে কনো ভাবে কানেক্টেড?
বাবা আবার হেসে বাচ্চাটার উদ্দেশ্যে বললেন – আচ্ছা আলোটা কি ওই বাড়ি থেকে আস্তো?
বাচ্চাটা – না না, আলো তো, ওই ছয়তোলা বাড়ির উপরের তোলা থেকে আস্তো। … আলো এসে পরতো এখানে। এই সুন্দর দেখতে বাড়িতে।
বাবা এবার বললেন – সার্কাসটা এখান থেকে চলে গেছে এখন। অন্য কোথাও পাবে এখন। দ্যাখো খোঁজ লাগাও, নিশ্চয়ই অন্য কোথাও হচ্ছে এখন।
বাচ্চাটা মাথা নাড়িয়ে চলে গেলে, বাবা আমার হাত ধরে সোজা সেই ছয়তোলা বাড়ির দিকে গেলেন। মাঝে বাদলস্যারকে ফোন করে ডেকে নিলেন। আমরা সেই ছয়তোলা বাড়ির সামনে আস্তেই, বাদলদা আরো একজন আমাদের চেনা, মানে ইরার কেসে ছিলেন, অসিত সাধু, তাঁকে নিয়ে এসেছেন।
বাবা বাদলদার দিকে তাকিয়ে বললেন – ভালো করেছ, অসিতকে নিয়ে এসেছ। অসিত, আমরা তিনজন উপরে ছয় তোলায় যাবো। যতক্ষণ না আমরা ফিরছি, ততক্ষণ তুমি এই হোটেলের মালিককে একটুও নড়তে দেবেনা। নো ফোনকলস্, নো টেক্সট মেসেজ, নো মুভমেন্ট। বুঝতে পেরেছ। … সবাই মিলে আছে, … ফাঁক পেলেই সতর্ক করে দেবেন উনি, ফোন বা মেসেজ করে।
অসিত সাধু বুঝে গেলেন। হোটেলে ঢুকেই বাদল স্যার নিজের আইডি দেখিয়ে, উপরে চলে গেলেন আমাকে আর বাবাকে নিয়ে। আর অসিত সাধু সেখানে বাঘের দৃষ্টি নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন।
আর আমরা উপরে গিয়ে যা দেখলাম, তা দেখে আমাদের চোখ ছানাবড়া। … তালা ভেঙে যখন ঘরে ঢুকলাম, তখন দেখলাম, একটা টেবিল আর একটা চেয়ার রাখা। আর সেই টেবিলে, তিনটে লেসার টর্চ রাখা। কিছু মিনারেল ওয়াটারের বোতল রাখা, আর কয়েকটা মদের বোতল। আর কিচ্ছু নেই ঘরে। …
বাবা লেসার টর্চটা জালিয়ে দেওয়ালে ফেললেন। আর দেখে, নিজের চোখটা বন্ধ করে নিলেন। রাগে বন্ধ করলেন চোখটা। বাবা এরপর একটা জোরে নিশ্বাস ফেলে বললেন – মার্ডার অয়েপন।
বাদল স্যার অবাক হয়ে বললেন – মানে?
বাবা – মানে বোঝানোর সময় এটা নয়। ইমিডিয়েটলি, হোটেলের মালিককে ধরে নিয়ে কাস্টডিতে রাখো, আর ওকে কনোরকমে কারুর সাথে যোগাযোগ করতে দেবেনা। … লয়েরারের সাথেও নয়। … আর আমি মিলিকে নিয়ে তোমার দিদির বাড়ি যাচ্ছি। … তুমি ওর কাস্টডির ব্যাপারটা ঠিক করে, চলে আসো তোমার দিদির বাড়ি। প্রচুর কাজ আছে।
বাবা যেমন বললেন, ঠিক তেমন তেমনই হলো। … আমাকে নিয়ে বাবা মহিমামিত্রের বাড়িতে ঢুকেই, সরাসরি উনার ট্রফির রুমে গেলেন, আর সেখান থেকে এল্ব্যাম হাটকে একটা ছবি বার করলেন। … ছবিটা দেখেই আমি আঁতকে উঠলাম; লেসার টর্চ-এর থেকে আলো বেড়িয়ে আস্তে, দেওয়ালে যেই ট্যাটু দেখতে পাচ্ছিলাম, সেটাই এই ছবিতে রয়েছে। … বাবা ইমিডিয়েটলি কল করলেন কাবেরিদেবীকে। … কাবেরিদেবী আর বাদলদা, একসঙ্গেই এলেন প্রায়। …
বাবা প্রশ্ন করলেন কাবেরিদেবীকে। কিছু ছবি প্রিন্ট করে, মহিমাদেবীকে কে দিতে এসেছিলেন মধ্যপ্রদেশের ট্রিপের পর?
কাবেরিদেবী – সুরস্যারই তো এসেছিলেন। আর তো কেউ আসেন নি। তবে ছবি ! … একটা খাম দিয়েছিলেন, তবে তাতে ছবি ছিল কিনা জানি না আমি। …
বাবা – খামটা কোথায়?
কাবেরিদেবী বললেন – দিদি মনে হয় ফেলে দিয়েছেন।
মিষ্টি বলে উঠলো – না না, দিদি ফেলে দেন নি। ওটা মাঝে মাঝেই খুলে দেখতেন দিদি। ভয়ে ভয়ে খামের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে কি যেন বার করে দেখতেন, আবার সঙ্গে সঙ্গেই ঢুকিয়ে রেখেদিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতেন।
বাবা – সেই খামটা কোথায়?
মিষ্টি একটু খুঁজে এনে বাবাকে খামটা দিলে, বাবা খামের ভিতরে হাত ঢুকিয়ে একটা ছবি বার করতেই দেখলাম, সেই ট্যাটুটাই বড় করে প্রিন্ট করা। … এবার বাবা খামটা ভালো করে দেখতেই দেখলেন লেখা, আলোছায়া স্টুডিও। বাবা বাদলদাকে বললেন – এই এড্রেসে যাও আর মালিককে ইমিডিয়েটলি কাস্টডি তে নিয়ে, জেরা করে বার করো কথা বাদল, এই ছবি করতে উনাকে কে দিয়েছিলেন, এটা জানো ইমিডিয়েটলি।
আর হ্যাঁ, কথা বার করতে পারলে আমাকে একটা ফোন করে জানাবে। আজ রাত্রে একটা এক্সান আছে। … একটু ফোর্স লাগবে। কারণ যেখানে যাবো, সেখানে একজন সশস্ত্র পুলিশও থাকবেন। … আগে আলোছায়ার মালিকের থেকে কথা বার করে নাও। রেস্ট বলে দিচ্ছি আমি তোমাকে পরে।
আমার দিকে তাকিয়ে বাবা বললেন – চল, কাজ শেষ। এবার জবানিকা পতনের সময়। … তোর সুমনাপিসিকে একটা ফোন করতো। … আচ্ছা আমিই করছি দাঁড়া।
বাবা ফোন করলেন একটা ওলার গাড়িতে উঠে। বাবা বললেন – সুমনা, আজ রাত্রে এই দেড়টা নাগাদ, আমাদের বাড়িতে এসে আমাকে আর মিলিকে পিকাপ করে, সোজাসুজি ট্রায়েঙ্গুলার পার্ক, মানে সিন্দিয়ার বাড়িতে হামলা। … ওখানে বাদল ওর টিম নিয়ে রেডি থাকবে। আমরা যেতেই একশন শুরু। ওকে, রেডি থেকো, আর ডিলে যেন না হয়।
পিসি – না দাদা, আমি একটার মধ্যেই পৌঁছে যাবো। … কি ব্যাপারটা হয়েছে, সেটাও তো জানতে হবে।
বাবা – ব্যাপার আমার মুখ থেকেই জানবে, কিন্তু সেটা আমার বাড়িতে নয়। আমরা যখন সিন্দিয়ার বাড়ি যাবো, তখন সকলের সামনেই স্ক্রিপ্ট পাঠ করে শোনাব। সেখানেই সবাই জানবে কি হয়েছিল।
পিসি – কিন্তু এতো রাত্রে কেন রাখলে টাইমটা?
বাবা – পুরো জিনিসটা যেটার জন্য অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেটার প্রমাণ সহ তাঁদেরকে ধরতে হবে না! … চাপ নিস না। … রাত্রে চল, সব দেখতে, শুনতে পাবি। … নো রেডিও, নো এফএম, অনলি মুভি। … শব্দসহ চলমান চিত্র দেখতে পাবি পুরো। রেডি হয়ে চলে আসিস। … ডিলে করলে, আমি আর মিলি কিন্তু বেড়িয়ে পরবো।
ফোন রেখে দিলেন বাবা। … আমি বললাম – তুমি ঠিকই বলেছিলে। ঈশ্বর সত্যিই সাহায্য করলেন ওই বাচ্চাটাকে পাঠিয়ে। নাহলে আমরা এই সত্য কিছুতেই জানতে পারতাম না। … আচ্ছা বাবা, প্রথম দিনই তুমি সন্দেহ করেছিলে তাইনা! তুমি সুরকে প্রশ্ন করেছিলে, মধ্যপ্রদেশে নতুন কনো হন্টেড হাউজ করেছে কিনা। তখন এই ছবির কথাই তুমি প্রশ্ন করেছিলে, তাইনা!
বাবা একটা মুচকি হেসে বললেন – কারেক্ট।
আমি – তারমানে এই ছবি দিয়ে মহিমা মিত্রকে ভয় দেখান হয়। আর সেই ভয়কে কায়েম করার জন্য উনার ঘরে লেজার টর্চ দিয়ে সেই একই মুখ দেখানো হতো। আর সেই ছবি দেখেই মহিমা মিত্র ভয়ে এবং আতঙ্কে চেঁচাতেন, যেই চ্যাঁচানোতেই মিষ্টির ঘুম ভেঙে যেত। কিন্তু শেষ দিন, এই ছায়াছবি দেখে, উনি চেঁচিয়ে তো ওঠেন, কিন্তু শেষ নিশ্বাসই ত্যাগ করে দেন। তাই মিষ্টি ভাবে, টিকটিকি দেখে ভয় পেয়েছিলেন। চেঁচানোর চোটে টিকটিকি পালিয়ে যায়, তাই চেঁচানো থেমে যায়। … কিন্তু আসলে, সেই ছায়াছবি দেখে, মহিমা মিত্রের হার্ট অ্যাটাক হয়, আর তিনি মারা যান। … তারমানে তো এটা ভয়ানক একটা খুন বাবা!
বাবা – হুম। একদমই তাই। … কিন্তু এই সবের কারণ কি?
আমি – সেটা তো বুঝতে পারলাম না!
বাবা – সেটাই আজ রাত্রে সাফ হয়ে যাবে। চল এখন বাড়ি গিয়ে একটা ভালো করে ভাতঘুম দিয়ে নিবি। রাত্রে অনেক ঘটনা আছে। ঘুম যেন না আসে।
আমরা বাড়ি গেলাম। বাবার কথা মত ঘুমিয়ে নিলাম। সন্ধ্যার সময়ে, কিছুতেই আমার সময় কাটছিলনা। মনের মধ্যে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। কেন এমন করলো? মোটিভটা কি? … কিন্তু কনো উত্তর খুঁজে পাচ্ছিলাম না! … শুধু একটাই জিনিস আমার মনে আস্তে বাবাকে বললাম – খুনি কি সুর!
বাবা হেসে বললেন – কেন?
আমি – সুরই তো এসে বাড়ির দেওয়াল থেকে যেই ছবিটা ছিল, সেটা সরিয়ে নিতে বলেছিল, বাস্তুর কথা বলে। … ওই ছবি থাকলে তো, লেসারের ট্যাটুটা স্পষ্ট ভাবে দেওয়ালে পরতোই না!
বাবা – হুম, মেয়ের বুদ্ধি থেকে বিকারের পর্দা সরছে। তাই তো একটু একটু আলোর ঝলক দেখা যাচ্ছে।
আমি এই কথা শুনে মনে মনে বুঝে যাই যে মোটিভ এখনো বুঝিনি ঠিকই। কিন্তু খুনিকে ধরে ফেলেছি। এবার খালি ধরপাকড়ের খেলা, আর মোটিভটা সামনে আসার অপেক্ষা।
রাত্রি একটা পনেরোতেই সুমনাপিসি নিজেই ড্রাইভ করে গাড়ি নিয়ে হাজির। … আমরা গাড়িতে উঠে পরলাম। … গরিয়াহাটের মুখে দুটো স্করপিও ভর্তি সিয়াইডি অফিসার। এঁদের অনেককেই আমি চিনি। সকলে ইরার কেসে ছিলেন। … তাছাড়াও আরো ৫-৬ জন ছিলেন।
গাড়িতে উঠে, বাবা বললেন – সুর, ববি আর সুদেশ্না, সুরের গাড়িতেই আসে। … তাই সুরের ড্রাইভার, আর অন্যদিকে সুনন্দার ড্রাইভার, এঁদের দুজনকে অতর্কিতে ধরে, গাড়ির মধ্যে বেঁধে দুটো গাড়িতে দুজনদুজন করে পাহারায় বসিয়ে দেবে। … নাহলে ওরা খবর দিয়ে দেবে, আর সকলে ফেরার হয়ে যাবে।
বাবা যেন মুভি হবার আগেই চোখের সামনে মুভি দেখে নেন। … যেমনটা বলেছিলেন, ঠিক তেমনটাই হলো। কিন্তু সুনন্দাও এঁদের সঙ্গে যুক্ত! যাইহোক, দুজোন ড্রাইভারকে আর সিন্দিয়ার গেটকিপারকে আগে ধরে, মুখে রুমাল গুঁজে, হাতপা বেঁধে, গাড়িতে তুলে, চারজন গাড়ির মধ্যেই রইলেন, পাহারা দেবার জন্য। বাকি ১৪ জন, আমি, বাবা, বাদলস্যার, আর সুমনাপিসি, হাজির হলাম এবার সিন্দিয়ার বাড়িতে। … পিছনের দরজায় চারজন। ব্যাল্কনি দিয়ে উঠে গিয়ে, ব্যল্কনির দরজায় চারজন। আর বাকি আমরা সকলে সামনের দরজায়।
বাদলস্যার আজ ভয়ঙ্কর উত্তেজিত। দরজায় এক কষিয়ে লাথি মারতে, দরজা খুলে গেল। … এলার্ম বেজে উঠলো সর্বত্র। … আর সাথে সাথেই প্রায় বেড়িয়ে এলেন, পুলিশ অফিসার সাঁতরা। …
বাদল স্যার সহ সকলের হাতেই বন্দুক। তাই সাঁতরাকে বন্দুক মাটিতে রেখে হ্যান্ডস-আপ করতে হলো। … এবার উনার মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে, উনাকে নিয়ে যাওয়া হলো ভিতরের ঘরে। আর সেখানে গিয়ে দেখা গেল, সুর, সুদেশ্না, ববি, সুনন্দা, আর সিন্দিয়া একত্রে। সম্পূর্ণ ভাবে মদ্যপ সকলেই। একটা ঝাঁঝালো গন্ধ ঘরে ঘোরাফেরা করছিল। … মাথা ধরে যাচ্ছিল।
এরই মধ্যে ব্যাল্কনি থেকে, আর পিছনের দিক থেকে সকলে দরজা ভেঙে ঢুকে পরে সব দিক থেকে এঁদেরকে ঘিরে ফেলেছে। … বাবা সমস্ত জানলা খুলে দিলেন। … একটু গন্ধ আর ঝাঁঝ কমে গেল।
সেই নেশাগ্রস্ত আর খোলামেলা পোশাকে আবৃত অবস্থাতেই সুনন্দা টলতে টলতে বলল – কি চাই এখানে! … এতো লোক কেন? এতো মাল নেই এখানে। … আজ যাও, কাল দেব।
সিয়াইডির সকলে সাঁতরা সহ সকল ছয়জনের মুখে ক্লোরফর্ম লাগিয়ে অজ্ঞান করে দিলেন। … এঁদের হুঁশ যখন এলো, তখন সবে সূর্য উঠছে। … নেশা এঁদের কেটে গেছে। আর আমাদের হাতে এতক্ষণ সার্চ করে, প্রচুর হেরয়িন আর কোকেইন উঠে এসেছে।
জ্ঞান ফিরতেই, হম্বিতম্বি করে উঠে সুনন্দা আর সিন্দিয়া বলে উঠলেন – হোয়াট ইজ হ্যাপিনিং হেয়ার! … এতো বন্দুক কেন? কারা এরা?
বাবা – সিয়াইডি, আর ইউ অল আর আন্ডার এরেস্ট। সমস্ত প্রমাণ পাওয়া হয়ে গেছে। তাই এরেস্ট ওয়ারেন্টও সিয়াইডি কোর্ট থেকে রাতের মধ্যেই সিয়াইডি চিফ ইস্যু করিয়ে এনেছেন।
সুনন্দা – কিন্তু হওয়াই? আমরা কি করেছি!
বাবা হেসে বললেন – সেই ফিরিস্তি দেবো বলেই তো, সকালের অপেক্ষা করলাম ম্যাডাম। … আর এই দেখুন সমস্ত মিডিয়াও এসে গেছেন। … লাইভ কভারেজ করবেন না আপনাদের। সেলিব্রিটি বলে কথা আপনারা সকলে। … আপনাদের লাইভ কভারেজ না হলে চলে?
এবার সমস্ত রিপোর্টারদের উদ্দেশ্যে – আপনারা রেডি তো। তাহলে শুটিং শুরু করা যাক! সকলে বাবাকে থাম্ব দেখালে, বাবা বললেন – ওকে লেটস স্টার্ট ফরম ডি বিগিনিং। ওকে!
