তৃতীয় পর্ব – গোপন ডায়রি
আজকে বাবা তিনদিন পর, এই প্রথম ফেসবুক থেকে মুখ তুললেন। কাছে বসে প্রশ্ন করলাম – কি বুঝলে বাবা? কিছু কি রহস্য আছে কেসটায়?
বাবা – হুম আছে। … একটা ডায়রি আছে, ডক্টর ভুঁইয়ার। সেই ডায়রির মধ্যে কি আছে, তা তো জানিনা; তবে হ্যাঁ সেই ডায়রির উপর স্যামুয়েলের নজর ছিল, আরো অনেকেরই নজর ছিল; কিন্তু স্যামুয়েল যেন ডেস্পারেট ছিল ওই ডায়রিটা নেবার ব্যাপারে। প্রায় ৫টা বড় বড় বার্তালাপ রয়েছে স্যামুয়েলের সাথে ডক্টর ভুঁইয়ার, আর সমস্ত কনভারসেশনের বিষয়বস্তু হলো সেই ডায়রি। … শুধু তাই নয়, যখন স্যামুয়েল দেখলো ডক্টর ভুঁইয়া সেই ডায়রি কিছুতেই দিতে রাজি নন, তখন উনার ছেলে মানে প্রিয়মের সাথেও যোগাযোগ করেন। আর কনভারসেশন পড়ে আমার যা মনে হলো, সেটা যদি সত্যি হয়, তবে স্যামুয়েল ইন্ডিয়াতে এসেইছিলো প্রিয়মের সাথে দেখা করতে, আর সেটা যদি সত্য হয়, তবে আমার অনুমান যে প্রিয়ম ওই ডায়রিটা হাতিয়ে স্যামুয়েলকে দেয়, আর হতে পারে যে সেই যে আমেরিকা যাবার টাকা যোগার হয় প্রিয়মের, সেই টাকা স্যামুয়েলই ওকে দেয়, ডায়রি পাচারের পারিশ্রমিক হিসাবে।
আমি – তাহলে আমাদের এবার করনিয় কি?
বাবা – মিসেস ভুঁইয়ার কাছে আরেকবার যেতে হবে, সেই ডায়রির সন্ধানে। মাইট বি, ডায়রিটা উনি খুঁজবেন কিন্তু পাবেন না। যদি না পান, তবে আমাদের তদন্তের দিশাটা পরিষ্কার হয়ে উঠবে; আর যদি পেয়েও যান, তবে তো তদন্ত অনেকটাই এগিয়ে যাবে।
আমি – আর সেলডিভ?
বাবা – হুম, সেটা যে জঙ্গল থেকে আসেনি, এমনটাই মনে হচ্ছে। … এখান থেকে সেটা দেওয়া হলে, একটাই জায়গা পরে রয়েছে, আর তা হলো মিসেস ভুঁইয়ার কালেকশন। কিন্তু সেটা ব্যবহার করলো কে? মিসেস ভুঁইয়া নিজেই? … হতে পারে। স্যামুয়েল যে উনাকে কনো না কনো ভাবে ব্যবহার করেছে, সেটা স্পষ্ট উনার কথা থেকে। আর ভারতে তিনি এসেছেন, সেটাও উনি জানতেন। আর নিজের কাছেই সেই বিষ রয়েছে। উনি জানেন স্যামুয়েল সেই জঙ্গলে গেছিলেন কিছুদিন আগেই, আর তাই সেই মারণঅস্ত্র স্যামুয়েলের উপর প্রয়োগ করে, তাঁর হত্যা করে, প্রতিশোধ নিলেন। … হুম, এটা হবার সম্ভাবনা তো খুবই প্রবল। আর যদি এটা না হয়, তবে ব্যাপারটা আরো অনেক জটিল হয়ে যায়। কে হাতালো তবে বিষটা, এই প্রশ্ন এসে যায়। … উনার ছেলে, প্রিয়ম! … টাকা হাতিয়ে নেবার জন্য এই বিষপ্রয়োগ, আর বিষপ্রয়োগ করে বিষের এফেক্টে মৃত্যু হবার আগেই, দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া! … নাকি ডক্টর ভুঁইয়া, স্যামুয়েল উনার স্ত্রীকে ব্যবহার করেছিলেন; সেটা উনি হয়তো জানতেন। আর একবার হাতের নাগালে পেয়ে, তিনি এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি। …
আমি – তাহলে উনার মৃত্যু!
বাবা – অনুশোচনায় আত্মঘাতী! নাকি খুন! … সেরেনা বলল, ডক্টর ভুঁইয়ার মৃত্যুর দিন, উনার বাড়িতে বিরিয়ানি হয়েছিল। … সকলে সেখানেই ছিল, উনি মারা গেলেন। ডাকতে গিয়ে জানা গেল … উমম, তারমানে নিশ্চয়ই বিরিয়ানিটা খাওয়া হয়নি, ফেলে দেওয়া হয়েছে! … ওই এলাকায় বাড়িতে বাড়িতে আবর্জনা তো কালেক্ট করাই হয়। … একবার ওদের সাথে কথা বলতে হবে। … চল একটু বেরোই; প্রথমে হিডকো অফিসে যাবো, দেখি বিরিয়ানি কপালে জোটে কিনা। … তারপর সেখান থেকে মিসেস ভুঁইয়ার কাছে যাবো।
আমরা গেলাম হিডকো অফিস, নিউটাউন। সময় বিস্তর লাগলো। আমাদের ধারনাও তেমনই ছিল। তাই একটু ভাতেপুতভাত খেয়ে বেরিয়েছিলাম। প্রথম তো সেই লোকগুলোকে খুঁজে বার করা, যারা ডক্টর ভুঁইয়ার এলাকায় নোংরা তোলেন, তারপর তাদের খুঁজে বার করা, যারা সেইদিন আর তারপরের দিন ওখান থেকে নোংরা তুলেছিল; আর অবশেষে তাদের মনে করার অপেক্ষা। যাই হোক, তাদের মনে পরলো অবশেষে। তাদের একজন বলে উঠলো, হ্যাঁ, উনাদের বাড়ি, যেখানে মৃতদেহ ছিল, আর পুলিশ ছিল, সেই বাড়ির ডাস্টবিনে প্রচুর বিরিয়ানি ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
অর্থাৎ, সেরেনা সত্যিকথা বলেছিল। জানিনা আমার মাথায় কি খেললো সেই সময়ে, আমি বাবাকে বললাম। আচ্ছা বাবা, একবার নভোটেলে গিয়ে, ডক্টর স্যামুয়েল ফ্লেমিং যেই কয়দিন ওখানে ছিল, উনার সাথে কে কে দেখা করতে এসেছিল, তাদের তালিকা বার করলে কেমন হয়!
বাবা – উমম, মন্দ হয়না। চল তাহলে একবার ওখান হয়ে, এক্সিস মল থেকে কিছু খেয়ে, তারপর না হয় মিসেস ভুঁইয়ার কাছে যাওয়া যাক।
আমরা এবার গেলাম নভোটেল। তালিকাও পেলাম। তালিকায় তিনবার এসেছিলেন প্রিয়ম ভুঁইয়া; আর একবার একবার করে এসেছিলেন ডক্টর পবিত্র গোমস, আর ডক্টর মনিন্দ্র ঝাঁ। বাবা একটু খবর লাগালেন জিএসআইতে। উনার অনুমানই ঠিক। এঁরা দুইজনেই জিএসাইএর লোক। আর এঁদের একজনের ফ্ল্যাট, নিউটাউনেই; অন্যজন থাকেন টালিগঞ্জ। বাবা দুইজনের নম্বর যোগার করলেন ট্রুকলার থেকে, আর ফোন লাগালেন দুইজনকেই। দুজনেরই এক কথা। ডক্টর স্যামুয়েল উনাদের বলেছিলেন, উনি ইন্ডিয়াতে এসে একটা এক্সপিডিশনের প্ল্যান বানাবেন, আর সেটার খবরাখবর নিতেই, উনারা ডক্টর স্যাম্যেল ফ্লেমিংএর সাথে দেখা করেন, কিন্তু প্ল্যান ডিলে হয়। শেষ উনাদের সাথে ফোনে কথা হয়, আর স্যামুয়েল বলে যে দুইদিনের মধ্যে উনি রুটম্যাপ তৈরি করে, উনাদের ডাকবেন। কিন্তু তার কাগেই উনার মৃত্যু হয়ে যায়।
বাবা প্রশ্ন করলেন – ডক্টর স্যামুয়েলের সাথে উনারা যখন দেখা করেছিলেন, তখন উনাকে কি অসুস্থ দেখাচ্ছিল!
উনাদের উত্তর – না, একদমই নয়। বরাবরের মতই ফিট, ফাইন আর এনারজেটিক।
বাবা উনাদের অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে ফোন রেখে দিলেন। এবার আমরা গেলাম মিসেস ভুঁইয়ার কাছে। ঘরের বেল বাজাতে, ড্রাইভার বেরিয়ে এলেন। আমাদেরকে উনি চেনেন; গতকালই আমাদেরকে দেখেছেন। তাই কথা না বারিয়ে মিসেস ভুঁইয়াকে ডেকেদিলেন।
মিসেস ভুঁইয়া আগের দিন চশমা পরে ছিলেননা। আজকে চশমা পরে এলেন। বাবা বললেন – অসময়ে আপনাকে বিরক্ত করলাম, তাই না! … কিছু পড়াশুনা করছিলেন নিশ্চয়ই!
মিসেস ভুঁইয়া – ও কিছু না। আমার পুরনো এক্সপিডিশনের ডায়রিগুলো ঘাঁটছিলাম। সময় কাটেনা এখন একদমই। তাই ভাবছিলাম, অগুলোর উপর একটা করে এডভেঞ্চার স্টোরি লিখবো। নিজের নাম না করে, নিজেকে নিয়েই না হয় লেখা যাবে। প্রচুর অভিজ্ঞতা। প্রকৃতিকে চেনার অদ্ভুত কৌশল আবিষ্কার; যদি কনো প্রকৃতিপ্রেমীর কাজে লাগে এইসব, সেই জন্য আর কি। … তা বলো বিজয়, আমার থেকে কি কনো সাহায্য লাগবে!
বাবা – হ্যাঁ, সাহায্য লাগবে। আসলে আমার একটা ডক্টর ভুঁইয়ার ডায়রি লাগতো। … মানে একটা পার্টিকুলার ট্রিপের ডায়রি। … কিন্তু কথা হচ্ছে যে, কোন পার্টিকুলার ট্রিপের ডায়রি, সেটা আমার জানা নেই।
মিসেস ভুঁইয়া – উনি ডায়রি লিখতেন না। একটাই ট্রিপের ডায়রি লিখেছিলেন। … সেটাই হবে নিশ্চয়।
বাবা – আচ্ছা, উনি লিখতেন না ডায়রি! … ওই একটাই!
মিসেস ভুঁইয়া – হ্যাঁ, ওই একটাই। … ডায়রিটা জাকার্তার ফরেস্ট অভিযান নিয়ে। কি আছে ভিতরে আমি জানিনা; তবে হ্যাঁ, মৃত্যুর আগের দিন থেকে উনি ওটা নিয়ে বারবার উল্টেপাল্টে দেখতে থাকছিলেন। আর সব থেকে বড় কথা, উনার দেহ যখন সিলিং থেকে ঝুলন্ত পাই আমরা, তখন ওই ডায়রির বিভিন্ন পাতাকে দেখি ঘরের মধ্যে এলোপাথাড়ি ভাবে ছিঁড়ে ছড়ানো হয়েছে। … আমি পুলিশকেও সেই কথা বলেছিলাম। পুলিশ খুব একটা গা করেনি ব্যাপারটায়।
বাবা – আচ্ছা ওই ডায়রিটাকি আমাকে একটু দেওয়া যাবে!
মিসেস ভুঁইয়া – হ্যাঁ নিশ্চয়ই দেওয়া যাবে, তবে বিজয় তোমাকে ডায়রির পাতাগুলো নিজেকে এরেঞ্জ করে নিতে হবে। সব পাতাই আশা করি ওতে আছে, যদি উনি কনোপাতাকে ড্যামেজ না করে ফেলেন তো, কিন্তু এদিক সেদিক ছিঁড়ে ছড়িয়ে রাখার জন্য, আমি সমস্ত পাতাকে একসঙ্গে তো রেখেছি, কিন্তু সেটা পাতা অনুযায়ী সাজানোর কথা আমার আর মনে ছিলনা।
বাবা – ঠিক আছে, সে আমি করে নেব। আপনি আমাকে ডায়রিটা একটু দিন।
আমাদের বসিয়ে রেখে মিসেস ভুঁইয়া ভিতরে গেলেন; আর মিনিট দুইয়ের মধ্যেই চলে এলেন। এসে বাবার হাতে একটা ডায়রির কভার, আর ভিতরে প্রচুর পাতা যা ডায়রির থেকে ছেরা হয়েছে, সেটা দিলেন। বেশ কিছু পাতার মাঝখান থেকেও ছেঁড়া হয়েছে, আবার এলোমেলো ভাবেও। আর পাতাগুলোর অবস্থা যেরকম দেখলাম, তার থেকে এটা স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম, ডায়রির উপর বেশ বল প্রয়োগ করেই ছেঁড়াছেরিটা হয়েছে, মানে শান্ত মনে ছেঁড়া নয়, বিরক্তি বা হিংস্রতার সাথে ছেঁড়া হয়েছে পাতাগুলো।
বাবা কথা বাড়ালেন না। মিসেস ভুঁইয়া বললেন – আজ অন্তত একটু চা খেয়ে যাও বিজয়।
বাবা হেসে বললেন – আজ নয়, তবে শীঘ্রই কেসের সমাধান করে নিয়ে, খাবো। আজ আসি!
আমরা আমাদের গাড়ি করে এবার বাড়ির পথে রওনা দিলাম। বাড়িতে এসে, আমাদের প্রথম কাজ হলো ডায়রির পাতাগুলোকে ঠিক ভাবে এরেঞ্জ করা। প্রায় একটা গোটা দিন লেগে গেল, সেই কাজে। পরের দিন বেলা ১১টায় গিয়ে সমস্ত গোছান শেষ হলো। আমি এরই মধ্যে বাবাকে বললাম – কেউ এই ডায়রির উপর প্রচণ্ড আক্রোশ খাটিয়েছে, দেখে বুঝতে পারছো!
বাবা – হুম, আর শুধু, তাই নয়; সম্প্রতি এই ডায়রির জেরক্সও করা হয়েছে।
আমি – সেটা কি করে বুঝলে?
বাবা – ডায়রির বেশ কিছু পাতা ভাঁজ করা ছিল; সেটা ভাঁজ করাও হতে পারে, আবার ভাঁজ পরেও যেতে পারে। কিন্তু মোট কথা, ভাঁজ ছিল, আর অনেকদিন ধরে ছিল। … এই দ্যাখ (আমাকে একটি পাতা দেখালেন) … আর দ্যাখ, সেই পাতাগুলোর ভাঁজ খোলা হয়েছে, যাতে যেই লেখাগুলো ভাঁজের জন্য চেপে যাচ্ছিল, সেটা দেখা যায়। … আর সেই ভাঁজ খোলার পর, সেই ভাঁজের জায়গায় কিছুদিয়ে চাপও দেওয়া হয়েছে। যেটা জেরক্স মেশিনের গ্লাস ক্লোজারটা ছাড়া অন্য কিছু নয়। … অর্থাৎ সম্প্রতি, এই ডায়রির জেরক্স করা হয়েছে।
আমি – কিন্তু কে?
বাবা – প্রিয়ম বা সাবিত্রীদেবী হতে পারে; আবার যদি এই ডায়রিটা একদিনের জন্য স্যামুয়েলকে দেওয়া হয়, সেও এর একটা কপি করে রাখার জন্য, এমনটা করতে পারে।
আমি – সাবিত্রীদেবী!
বাবা – হুম, যদি ডক্টর ভুঁইয়া সাবিত্রীদেবীর কথাকে কপি করেন, তবে এটার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে; কিন্তু যদি মিসেস ভুঁইয়া এই মিথ্যে কথাটা বলেন, ডক্টর ভুঁইয়া অনুপস্থিত বলে, তবে তো হতেই পারে! …
আমি – হুম, অর্থাৎ ডায়রিটা পড়তে হবে, নাহলে বোঝা যাবেনা।
বাবা – একজ্যাক্টলি। তা শুরু করি এবার পড়া!
বাবার পড়া শুরু মানে, আমাকে বাবার ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। আমি চলে গেলাম। বাবা একটা রাত্রি নিলেন ডায়রি পড়া শেষ করতে। পরের দিন সকালে বাবার মুখের ভাবে শুধুই স্তব্ধতা। আমি কাছে গিয়ে বললাম – সিরিয়াস কিছু বাবা!
মা হাঁক দিলেন – উমম, বিরক্ত করছিস কেন? উনি কেসটা মাথায় সাজাচ্ছেন তো!
আমি এটা কিছুতেই বুঝিনা। বুঝিনা বললেও ভুল হবে, মানতে পারিনা যে, বাবা কিছু না বললেও, মা সমস্ত কিছু বুঝে যান। কি করে? আমাকে তো বাবা মুখে বললেও বুঝিনা, মা … বিদিপ্তাদি আগে আমাকে পেলিংএ যেই কথা গুলো বলেছিলেন, সেটা মনে পরে গেল। তাই চুপ করে গেলাম।
বাবা প্রায় আধাঘণ্টা জিন্দা লাশের মত পরে রইলেন। তারপর একবার মিসেস ভুঁইয়াকে বাবা ফোন দিলেন – হ্যালো, সাবিত্রীদি! … হ্যাঁ, একটা ইনফরমেশন লাগতো। … হ্যাঁ বলছি, যেদিন ডক্টর ভুঁইয়া আত্মহত্যা করলেন, তার আগের দিন কি আপনি কোথাও বেরিয়েছিলেন?
উত্তর বোধহয় হ্যাঁ এসেছিল, তাই বাবা বললেন – আচ্ছা আপনি বাড়ি ফিরে কি দেখেন যে সেরেনা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে! …
এবারো মনে হয় উত্তর হ্যাঁ-ই আসে। তাই বাবা উত্তরে বললেন – লাস্ট। … আচ্ছা আপনি ফিরে আসার পর থেকে আপনার স্বামীর সাথে বসে কথা বলেছেন?
উত্তর কি আসে এবার জানতে পারিনা। বাবা বললেন – ঠিক আছে, একবার সেরেনাকে আপনি এখনই আপনার বাড়িতে ডেকে নিন প্লিজ। আমি আপনার কাছেই যাচ্ছি। ধরে নিন, এই এক ঘণ্টার মধ্যে। … সেরেনা কি তারমধ্যে আসতে পারবে? … ওকে থ্যাংকস। আমরা যাচ্ছি।
বাবা ফোন রেখে দিলেন। আমি বললাম – সেরেনা চলে আসছে?
বাবা – হ্যাঁ, সাবিত্রীদি বললেন, উনি ডাকলে ১৫ মিনিটের মধ্যে চলে আসবে। হাতে কনো কাজ থাকলে, সেটা ফেলে আসবে। … চল রেডি হয়ে নে। … বেরবো।
বাবার এবারের কীর্তি আরো অবাক করলো আমাকে। বিদিপ্তাদির কাছে গিয়ে হাঁটু গেঁড়ে বসে বাবা বললেন – দিদি, পাপীকে শাস্তি দিলে, যে শাস্তি দিলো, সে কি দোষী হয়!
বিদিপ্তাদি – যদি পাপী আমার সাথে পাপাচার করে, তবে তাকে যদি আমিই শাস্তি দিই, তা দোষ ও অপরাধও। কিন্তু যদি সেই পাপী এমন কারুর সাথে পাপাচার করে, যিনি সাখ্যাতে শাস্তি দেবেন না, বা সমাজ তাঁর কর্মকে পাপাচার মানবে না, তখন তাকে শাস্তি দেওয়া আমাদের পরমকর্তব্য ও ধর্মও।
বাবা হেসে বললেন – আমার উত্তর আমি পেয়ে গেছি। আসছি দিদি। মধু আসছি।
মায়ের কাছে আমি গিয়ে বললাম – কিছু বুঝলে?
মা হেসে বললেন – একজন যিনি সমাজের চোখে অপরাধী, তাঁকে বাঁচাতে যাচ্ছেন তোর বাবা। যা, উনার সঙ্গে যা।
