বিষাক্ত চাটনি | রহস্য উন্মোচন

বাবা চলে গেলে, আমি অনেক কিছু ভাবার চেষ্টা করতে করতে ঘুমিয়ে পরি। ঘুম ভাংলো বাবারই কণ্ঠস্বরে। চোখ মেলে দেখি, প্রায় দুইঘণ্টা ভাতঘুম দিয়ে ফেলেছি।

চোখ মেলে দেখি, বাবা ফোনে কথা বলছেন – ইন্সপেক্টর বালা, আপনার নম্বরটা আমি সিয়াইডি চিফ, রথিনের থেকে পেয়েছি। আমি বিজয় সিংহ।

অন্যদিকের কথা কিছু হয়, তার উত্তরে বাবা – হ্যাঁ, আমি সেই বিজয়ীয় সিংহই।

আবার অন্যদিকের কিছু কথা। তারপর বাবার কথা – হ্যাঁ আমার একটা জিনিস দরকার, সেটা হলো আপনার এলাকায় একটা প্রাইভেট ডিটেকটিভ আছে, নাম সুমন্ত… এজেন্সির নাম সুপার ইনটেলিজেন্ট। … সাধারণত প্রেমিক প্রেমিকার তদন্ত করে থাকে।

অন্যদিকের কথার উত্তরে বাবা – হ্যাঁ, ওকে। … আমার জন্য একটি কাজ করে দিন যে, যেকোনো উপায়ে, আমার নাম না করে, উনার থেকে লাস্ট একটি মাসে উনার চেম্বারে যা সিসিটিভিতে রেকর্ড হয়েছে, সেটার একটা কপি লাগবে।

আবার অন্যদিকের কথার উত্তরে বাবা – অনেক ধন্যবাদ।… এই নম্বরটা শেভ করে রাখুন। কপি পেয়েগেলে, আমাকে একটু ফোন করে দেবেন, আমি আপনার থানায় গিয়ে আপনার থেকে ওটা কালেক্ট করে নেব। … আর হ্যাঁ, একটু তাড়াতাড়ি করবেন। একটা বড় ধরনের ক্রাইম আটকানোর জন্য ওটা খুব প্রয়োজন।

আমার মাথায় কিচ্ছু ঢুকছে না আর। আসলে বাবা যখন বড় বড় যায়গায় চলে যান, তখন আর আমার ফেলুদা ব্যোমকেশ সার্লকহোমস কাজ করেনা। … তবে ইচ্ছা হলো বাবাকে একটা প্রশ্ন করি। বাবা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে বললেন – ঘুম থেকে উঠে পরেছিস? … হুম, তোর কাজ আছে। সময় হলে বলছি। সন্ধ্যায় আমি একজায়গায় যাবো, সেখানে তোকে নিয়ে যাবো না। … কারণটা এই যে, তোকে সেখানে আবার যেতে হবে। তাই তোর মুখটা অপরিচিতই থাকতে হবে।

আমি বললাম – ক্রাইম আটকানোর জন্য, এমন কেন বললে? ক্রাইম তো অলরেডি হয়ে গেছে!

বাবা – যেটা হয়েছে, সেটা আসল ক্রাইমের তথ্য ফাঁস হওয়া রোধ করার জন্য করা হয়েছে মাত্র। আসল ক্রাইমটা অনেক বড়। একটু তাড়াতাড়ি করতে হবে আমাদেরকে। নাহলে ওই জঘন্য ক্রাইমটা আটকানো যাবেনা।

আমি – তোমার কি কেস শলভ করা হয়ে গেছে?

বাবা – প্রমাণ হাতে যা লেগেছে, তাতে ডালপালাকে ধরা যাবে, আসল মাথা অচ্যুতই থেকে যাবে। আর তা যদি হয়, তবে ক্রাইমটাকে আটকানো যাবেনা। তাই যা করতে হবে, খুব ফাস্ট। …

মা ঘরে ঢুকে বললেন – হ্যাঁ গো রাত্রে আজ কি রান্না করি বলো তো?

বাবা – যা করবে, তোমাদের জন্য করো। আমার আজকে রাত্রে ফিরতে দেরি হবে। বাইরে খেয়ে নেব।

মা – চা চাপিয়ে দিই তাহলে?

বাবা – চা… হুম … হলে মন্দ হয়না। … বিস্তর কাজ। … একটু এনার্জিও দরকার। … চাপিয়ে দাও।

বাবা রেডি হয়ে নিলেন। একটা ব্যাগ নিলেন পিঠের। তাতে একটা পোশাক ঢুকিয়ে নিলেন। বাবার সাথে এই কয়দিন থেকে এটুকু বুঝে গেছি যে পোশাক পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে। আমি বললাম – ছদ্মবেশ ধরতে হবে না কি?

বাবা – হুম… আচ্ছা একটা কথা বল তো, ছদ্মবেশ কখন ধরতে হয়ে?

আমি – যখন গোপন খবর সংগ্রহ করতে হয়, বা গোপন কাজ করতে হয়।

বাবা – কার থেকে গোপন?

আমি – যেকোনো কারুর থেকে।

বাবা – আজ্ঞে না। যদি যার থেকে গোপন করতে হবে, সে নিজে বা সে যার ইনফরমার, এঁদের কেউ অত্যন্ত ইনফ্লুএন্সিয়াল হয়, তখনই ছদ্মবেশের প্রয়োজন। … কেন?

আমি এবার একটু ভেবে বললাম – গোপনীয়তা যাতে সময়ের আগে না ভাঙে, সেই জন্য?

বাবা – হুম, রাইট।

বাবা আর কিছু বললেন না। চা খেয়ে বেড়িয়ে পরলেন। তবে এটুকু আমাকে বলে দিয়ে গেলেন যে এই কেসে সতর্কতা অবলম্বন খুব আবশ্যক কারণ প্রতিপক্ষ ইনফ্লুয়েন্সিয়াল।

বাবা যতক্ষণ না ফিরলেন, ততক্ষণ আমরা কেউই ঘুমাই নি। বাবা ফিরলেন, তখন প্রায় রাত্রি একটা। বাবা ঘরে এসে মুখ হাতপা ধুয়ে একটু বসলেন। মা বললেন – শুয়ে পরো, অনেক ধকল গেছে। যা কথা কাল সকালে উঠে হবে।

বাবা – হুম, মিলিকে একটা কাজ বুঝিয়ে দেবার আছে। সেটা করেই শুয়ে পরছি।

আমি জানি, বাবা জানেন আমার মনে কি চলছে; যতক্ষণ না সেই তুফান শান্ত হচ্ছে, ততক্ষণ আমার ঠিক করে ঘুমও আসবে না। তাই মাকে কাটিয়ে দিলেন। … আমি বললাম – কি হলো? কি করলে?

বাবা – কি করলাম! … (একটু হেসে) আশা করা যায়, কাল খবরের কাগজ দেখলেই আন্দাজ পেয়ে যাবি। শিকদারকে একটু চাপ দেওয়া হলো, আর আততায়ীকে একটু ভিম্রি খাইয়ে দেওয়া হলো। … শোন, তোর জন্য একটা কাজ আছে। … একটা এড্রেস দিচ্ছি, সেখানে কালকে বেলার দিকে গিয়ে তোকে বলতে হবে যে, রথিন বাবুর একটা কাজের জন্য শিবু পেমেন্ট পায়। তাই শিবুর একাউন্ট নম্বরটা লাগবে। … শিবুর মা সেখানে থাকবে। উনি তোকে দিয়ে দেবেন। … রথিনের সারনেমটা নেবার দরকার নেই, আর নিবিও না। শুধু একাউন্ট নম্বরটা নিয়ে চলে আসবি।

বুঝতে কিছুই পারলাম না, তবে এটুকু বুঝে গেছি যে বাবার কেস শলভ করা হয়ে গেছে, শুধু প্রমাণ সংগ্রহ করছেন, আততায়ীকে ধরার জন্য। … আমি বললাম – ওই সিসিটিভিটা, যেটা নাজির দিয়েছিল, তার থেকে কিছু পেলে?

বাবা – সমস্তই পেয়ে গেছি। … তুই দেখলে দেখাতেও পারি, আমি কপি করে রেখে দিয়েছি। তবে যদি চাস নিজের থেকে বোঝার চেষ্টা করতে, তাহলে দেখিস না ভিডিওটা।… সাসপেন্সটা পুরো চলে যাবে।

আমি – আর সুমন্তের ভিডিও?

বাবা – হ্যাঁ, কি করে আগে থেকে জানতো ও এই খুনের ব্যাপারে, সেটা পরিষ্কার। … দুইজনকে এখনও ম্যাপ করা যায়নি। কাল তুই একাউন্ট নম্বরটা নিয়ে এলে, আশা করা যায় খানিকটা এগিয়ে যাবে এই দিকটাও।… নে এখন শুয়ে পর, নাহলে মা এসে মুখ ঝামটা দেবে।

শুয়ে পরলাম। পরের দিন ঘুম ভাঙলো মায়ের কথাতে। টিভির আওয়াজ, মায়ের কথা, আর বাড়িতে সকালে যেই কাজের পিসি আসে, তার কণ্ঠস্বরে ঘুম ভাঙলো। ঘুম ভাঙতেই মনে পরলো, শিবুর বাড়ি যেতে হবে। তড়িঘড়ি উঠে বাবার সন্ধান করতে, জানলাম বাবা কোথাও একটা বেড়িয়ে গেছেন। পুরপরি ভাবে কেসের মধ্যে বাবা ঢুকে গেছেন। একটু সিরিয়াসও বাবা। …

মা বললেন – হ্যাঁরে, তোরা পার্কসার্কাসের মৌলবি খুনের মামলার তদন্ত করছিস না!

আমি – হুম, কেন?

মা – আরে উনি তো খুন হননি। কালকে উনার অপহরণ হয়েছে। কনো মুসলিম লোক, উনাকে গাড়িতে করে নিয়ে চলে গেছেন দেখা গেছে। …

আমি ভ্রু কুঁচকে তাকালে, মা আবার বললেন। ধাপার মাঠের কাছে সেই ওলা গাড়িকে ছেড়ে দেওয়া হয়, ড্রাইভারকে প্রশ্ন করে জানা গেছে। … তারপর আততায়ী মৌলবিকে নিয়ে কোথায় চলে গেছেন, কনো হদিশ পাওয়া যাচ্ছেনা।

আমি কিছু বললাম না। কিন্তু সত্যি বলছি, আমার মাথা পুরোপুরি ঘেঁটে যাচ্ছে। কি হচ্ছে এসব! বাবাও কাছে নেই যে উনাকে প্রশ্ন করবো? … কি মনে হলো, বাবা কাল রাত্রে যেই ব্যাগ নিয়ে গেছিলেন, সেই ব্যাগ সার্চ করলাম। কিচ্ছু নেই ব্যাগে। … কি হচ্ছে এইসব। কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকে, জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে, শিবুর বাড়ির উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে গেলাম। কিচ্ছু বলতে কিচ্ছু ভাবছিলাম না। ভাবতে গেলেই কেমন সমস্ত গণ্ডগোল হয়ে যাচ্ছিল।

শিবুর বাড়ি গেলাম, যেমন বাবা বলে দিয়েছিলেন, তেমনই বললাম। বেশি কথা হয়নি। সহজ কথাতেই, একটা এসবিআই এর একাউন্টনম্বর ধরিয়ে দিলেন, শিবুর মা। বাবা বলে দিয়েছিলেন প্রশ্ন করতে। তাই প্রশ্ন করলাম, কোন ব্রাঞ্চ।

উত্তর এলো – এই তো কালীঘাট ব্রাঞ্চ।

আমি চলে এলাম বাড়িতে। বাবাকে দেখলাম আমার অপেক্ষা করছেন, আর ঘরে পায়চারি করছেন। আমি ঘরে এসেই ঘাম মুছতে মুছতে বললাম – মৌলবির অপহরণ হয়েছে, দেখেছ?

বাবা – হুম শুনলাম।

আমি – এর মানে কি?

বাবা – একাউন্ট নম্বরের পরীক্ষা করে বোঝা যাবে, কি হচ্ছে ব্যাপারটা।

আমি এমনিই ঘেঁটে ছিলাম, বাবা যেন আরো ঘেঁটে দিচ্ছেন। একাউন্ট নম্বরের সাথে একটা মরা মানুষের অপহরণের কি সম্পর্ক? কথা না বাড়িয়ে, একাউন্ট নম্বর আর ব্রাঞ্চ বলে দিয়ে, স্নানে গেলাম। স্নান থেকে এসে দেখলাম, বাবা আবার বেড়িয়ে গেছেন। একটু হতাশ লাগছিল। মা বোধহয় ব্যাপারটা বুঝেছেন। তাই সান্ত্বনা দিতে এলেন। বললেন – বাবা একাএকা চলে যাচ্ছেন, তোকে না নিয়ে?

আমি – বড় কেস ছাড়া বাবা হাত দেন না, আর বড় কেস হয়ে গেলে, আমি নিতে পারিনা। মাথায় সমস্ত চরিত্রই ধরাতে পারিনা। … চিন্তার রেঞ্জেই আসে না, কোন দিকটা কে নিয়ে ভাববো, আর কোনটাকে নিয়ে নয়।

মা – হয়ে যাবে আসতে আসতে। … বাবা তো কেসের নিষ্পত্তি বলেন সকলকেই আশা করি!

আমি – হ্যাঁ, তখন সমস্ত ক্লিয়ার হয়, তিনি কখন কোথায় কোথায় গেছিলেন, কি কি করেছিলেন, সব কিছু। তার আগে সবটাই ধুয়াশা।

মা – হুম, সেটার কারণেই তো উনি এতো সকলের কাছে রিলায়েবেল। ভেবে দ্যাখ, যদি কাছের মানুষটাই কিছু বুঝতে না পারে, তবে আসামি বা আততায়ী তো ভিম্রি খাবেই। আর সেই জন্যই তোর বাবার জালে আসামি ধরা পরে যায়। …

আমি – কিন্তু আমি যে …!

মা – বাবা যেই ভাবে নিষ্পত্তি করেন কেসের, সেটাকে ভালো করে ফলো কর। বাবা কি ভাবে হিসাব করেছিলেন কেস শলভ করার জন্য, সেটা মেলা; কি ভাবে কেসকে ছোট যায়গা থেকে বড় যায়গায় ছড়ালেন, আর কি ভাবে সেটা গোটালেন, সেটার অঙ্ক কশ। … তুই তো কেস শেষ হয়ে গেলেই, গায়ে এলা দিয়ে পরে পরে ঘুমোস। একটা কেসের পর অন্য কেস আসার সময়টা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে না নষ্ট করে, সেই সময়ে বাবার কেস শলভ করার মেকানিজিমটা ফলো কর। … যেই কেস নিষ্পত্তি হয়ে গেছে, সেই কেস নিয়ে তোর বাবাকে প্রশ্ন করলে, সব সময়ে উনি উত্তর দেন। প্রশ্ন কর, যেখানে আটকে যাচ্ছিস। আর কেসটাকে বাবার মত করে, নিজে নিজে শলভ করার প্র্যাকটিস কর। … দেখবি অনেকটা এগিয়ে যাবি।

আমি – হুম, তপসে আর জটায়ুকেও বেড়ে উঠতে হয়, নাহলে ভাবো কাঠমুন্ডুর কেস তো ফেলুদা শলভই করতে পারতো না!

মা – হুম, দরকার তো। বড় বড় কেসে হাত দেন। শত্রুও বড় বড়, বেশ ইনফ্লুয়েন্সিয়াল। কখন ফেঁসে যাবেন, কেউ বলতে পারে! … তুই তৈরি না হলে, একটা রিস্ক থেকেই যায়।

মা চলে গেলেন রান্নার ঘরের দিকে। চুপ করে ভাবলাম। মা ঠিকই বলেছেন। কেস শলভ হয়ে গেলেই কেমন যেন গা এলিয়ে দিই। সেই সময়টাই আমার কাছে বেড়ে ওঠার প্রাইম টাইম। আর আমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে সময়টা নষ্ট করি। যদি না করতাম, এটা আমার বাবার সাথে সাতনম্বর কেস। বাবা তো না বললেও, বাবা কোন দিকে এগচ্ছেন, আমার একটা আন্দাজ থাকা উচিত ছিল। কিন্তু না, কনো আইডিয়াই নেই।

বাবা ফিরলেন বিকেল বিকেল। একটাও কথা বললেন না। চুপ করে, টানটান হয়ে নিজের বিছনায় শুইয়ে পরলেন। চোখ বন্ধ, কিন্তু ঘুমাচ্ছেন না। একবার খালি কিছু প্রশ্ন করতে গেলাম, মায়ের হাত আমার কাঁধে। ঘুরে তাকালাম, মা পাশের ঘরে আমাকে নিয়ে গিয়ে বললেন – কেস শলভ হয়ে গেছে। পুরো ঘটনাকে চোখের সামনে ভাসাচ্ছেন। কালই হয়তো সবাইকে ডেকে, কেসের নিষ্পত্তি করবেন। এখন উনাকে একা থাকতে দে।

কিছু বললাম না, কিন্তু মনে মনে একটাই কথা চলল। বাবার কেসে আমি সঙ্গে থাকি, তবুও আমি বাবার গতিবিধি কিচ্ছু বুঝিনা, কিন্তু মা কি করে বোঝেন?

সন্ধ্যায় চা খেতে খেতে বাবা বললেন – আমি একটু বাইরে যাবো। বেশি দেরি হবে না ফিরতে। ফিরতি পথে খাবার কিনে আনবো। রাত্রে রান্না করতে হবে না কারুর। …

মা – কনো মিটিং?

বাবা – হুম মুখ্যমন্ত্রীর সাথে, আর সিয়াইডি টিমের সাথে। … রথিনই এরেঞ্জ করেছে সবটা। …

মা – কেসের নিষ্পত্তি কবে?

বাবা – মুখ্যমন্ত্রী রেডি থাকলে, কালই। … সিয়াইডি টিমের সহযোগও লাগবে। তাই এই মিটিংটা।

মা হেসে বললেন – ঠিক আছে। … মিলিকে নিয়ে যাবে না!

বাবা – না, একটু গোপনীয়তা প্রয়োজন। এই কেসের জটটা একটু বেশিই গভীর, আর জটের মধ্যে যারা রয়েছে, তারা পশুরও অধম। আমি একা মুভ করছি বলে, আর ছন্নছাড়া ভাবে মুভ করছি বলে ওরা বুঝতে পারছেনা যে আমি কেসের জন্যই ছোটাছুটি করছি কিনা। … কিন্তু মিলি সঙ্গে থাকলে, ওরা বুঝেও যাবে, আর মিলিকে আমার দুর্বলতা করে আমার উপর আক্রমণও করবে।

মা – হুম, আসলে ওরা কনফিডেন্ট যে ওদের কেউ ধরতে পারবে না; যদি তা না হতো, তবে তোমার উপর সন্দেহ আসতোই ওদের।

বাবা – একদম ঠিক, আর ওদের এই কনফিডেন্সটাই আমার জন্য সুরক্ষা কবচ। কিন্তু মিলি থাকলে, ওরা সতর্ক হয়ে যাবে। আর এরা এমনই পশু যে, একবার এরা সতর্ক হয়ে গেলে, আমি বা মিলি, আমাদের সকলকেই আত্মসাৎ করে নিতে, এদের দুই দণ্ডও দেরি হবেনা।

বাবা আর কথা বাড়ালেন না। আর মা কেন বাবাকে আমার ব্যাপারে প্রশ্নটা করলেন, আমি বুঝে গেছি। আমার মধ্যে, আমাকে যে বাবা নিয়ে যাচ্ছেন না, সেই নিয়ে যেই ক্ষোভ জন্মাচ্ছিল, মা বাবার নিজমুখের কথা দিয়েই আমাকে সেটা শুনিয়ে শান্ত করে দিলেন।

বাবা ফিরলেন রাত্রি প্রায় ৯টা হবে। সঙ্গে আরসেলানের থেকে বিরিয়ানি নিয়ে এসেছেন। জমিয়ে খেলাম সকলে মিলে। খেতে খেতেই বাবা বললেন, কাল সকাল ৮টায় মৌলবি সাহেবের বাড়ি হলো আমাদের গন্তব্যস্থল। মিলি… ল্যাপটপটা নিয়ে যাবি। একটাই ভিডিও ডেস্কটপে আছে, ওটা চালাতে হবে। চালাতে বললে চালাবি, পজ করতে বললে, পজ করবি। ঠিক আছে?

আমি বাধ্য মেয়ের মত কথা শুনলাম। রাত্রে শুয়ে, সকাল সকাল উঠে স্নান করে রেডি। বাবা আমার থেকে আগেই রেডি। আমাকে নিয়ে আমাদের স্করপিও গাড়ি করে চলে গেলেন উনি। বাইপাস ধাবার সাইড দিয়ে ইএম বাইপাসে উঠে, মা ফ্লাইওভার না ধরে, সায়েন্সসিটির ধার দিয়ে, তপসিয়া হয়ে, মৌলবি সাহেবের বাড়ি। সামনে অনেক গুলো গাড়ি। বাবা গাড়ি পার্ক করতে, রথিন কাকু এগিয়ে এসে বললেন – সকলে হাজির। …

বাবা – প্রজেক্টর?

রথিনকাকা – অল সেট। ল্যাপটপ কানেক্ট করলেই হবে।

বাবা আমার দিকে তাকিয়ে – ল্যাপটপটা প্রোজেক্টরের সাথে কানেক্ট করে, ভিডিওটা খুলে রেডি রাখবি। চালাতে বললেই চালাবি।

আমি, বাবা আর রথিনকাকা ভিতরে চলে গেলাম। ভিতরে ঢুকতে ঢুকতে, বাবা প্রশ্ন করলেন – রথিন উনি দেখছেন?

রথিন কাকা – হ্যাঁ সেট করা আছে। আমাদের কাজ শুরু হবার আগে একটা কল করে বলে দিতে হবে। উনি লাইভ দেখবেন সমস্ত কিছু।

বাবা – ওকে, ভেরি গুড।

আমরা ভিতরে চলে গেলাম।

পৃষ্ঠা: 1 2 3 4 5