তৃতীয় পর্ব – বাবার জেরা
বাবার জেরা করার স্টাইল তো আপনারা জানেন। উনি আলাদা আলাদা করে নয়, সকলকে একত্রে বসিয়ে একসঙ্গে কথা বলেন। তেমনই সকলকে একসঙ্গে বসালে, বাবা একবার চোখ বলালেন, আর দেখলেন বাড়ির সমস্ত সদস্যই আছেন। বাইরের লোকের মধ্যে, আব্রাম নেই, কিন্তু সুহানা আছে।
বাবা প্রথম কথা পারলেন – আচ্ছা নাজির সাহেব, আপনি তো গোয়েন্দা সুমন্তকে যোগাযোগ করেছিলেন, তাই না?
নাজির – হ্যাঁ স্যার।
বাবা – উনার হদিশ আপনাকে কে দিলো, বা কি সুত্রে পেয়েছিলেন?
নাজির – স্যার, আব্বার যেদিন মৃত্যু হয়, সেদিন আমার দোকানের এক পুরানো কাস্টমারের বাড়িতে অন্নপূর্ণা পুজো হয়, সেখানে নেমন্তন্ন ছিলো। সেখানেই এই গোয়েন্দা নিজে থেকে এসে আলাপ করেছিলেন আমার সাথে, আর আমাকে উনার একটা কার্ড দিয়েছিলেন। … আর স্যার, এই চত্বরে পুলিশ কি ভাবে কাজ করে, আমরা সবাই জানি। তাই কার্ডের কথা মনে পরতেই, আমি উনাকে কল করে, উনাকে এই কাজে এপয়েন্ট করি।
বাবা – হুম, আর আপনি যে অন্নপূর্ণা পুজোতে যাবেন, সেটা কারা কারা জানতেন?
নাজির – বাড়ির সকলে, দোকানের সকলে আর আমার দুইজন কাছের বন্ধু, সুলেমান আর ইমরান।
বাবা – সুলেমান মানে সেই না, যার সাথে জাকির বাবুর প্রাক্তন স্ত্রীর বিয়ে হয়েছে?
নাজির – হ্যাঁ স্যার। ও আমাদের খুব কাছের বন্ধু। শুধু আমার নয়, ও জাকিরেরও খুব কাছের বন্ধু। মাঝে জাকিরের সাথে ওর একটু মনমালিন্য হয়েছিলো, যখন সুলতানা বেগমের সাথে সুলেমান নিকা করে। তবে শেষে সুলেমানই জাকিরের সাথে আলাদা করে কথা বলে যে, আব্বা নিজে এই বিয়ে দেন, আর সুলতানার বাচ্চা হবেনা জেনে ও এই বিয়ে করেছে। … তারপর আবার ঠিকঠাক হয়ে যায় সব।
বাবা – হুম। … আচ্ছা আম্মি, আমাকে একটা কথা বলুন, আব্বার খাবার কি খালি বাড়িতেই হতো, না বাইরের কেউও কিছু দিতেন?
আম্মি – না, বাইরের কেউ না কেউ কিছু রোজই দেয়। কিন্তু উনি খান না। … তবে রোজার সময়ে, ইফতারের ক্ষেত্রে, উনাকে যে যা দেন, একটু একটু করে চেখে নিতেন। বলতেন, আল্লাহর দান।
বাবা – হুম, তা সেদিন কে কে বাইরের লোক খাবার দিয়েছিল, মনে আছে?
আম্মি – আমার হাতে এসে দেয় না তো বাবা। এই সুহানার কাছে এসে দেয়।
বাবা সুহানার দিকে তাকাতে, সুহানা বেগম বললেন – সেদিন… বাইরে থেকে চারজন খাবার দিয়েছিল। একজন সাবনাম। আব্বুযানকে খুব ভালোবাসে ও। কম বয়সই মেয়ে, এই ১৫-১৬ বছর হবে। কিন্তু সব সময়ে আব্বুর কথা শুনে চলে। আর ও যখনই কিছু খাবার করে দেয়, তা রোজা হোক বা না হোক, আব্বু অবশ্যই সেই খাবার খান। … এ ছাড়া খাবার দিয়েছিল, জাকারিয়া স্ট্রিটের মৌলবিসাহেব। … উনি তো আম্মির হাতেই কোফতা দিয়ে গেছিলেন। … আর দিয়েছিল, ইমরান আর সুলেমান।
বাবা – জাকারিয়া স্ট্রিটের মৌলবি সাহেব দিয়েছিলেন কোফতা। বাকিরা কি দিয়েছিলেন?
সুহানা একটু মনে করে – সাবনাম দিয়েছিল কিমার ঝাল। আর ইমরান দিয়েছিল ফিরনি। … আর সুলেমান দিয়েছিল চাটনি।
এবার আবার নাজিরকে প্রশ্ন করলেন বাবা – আচ্ছা, আপনার তো সিসিটিভির ব্যবসা। তা বাড়িতে লাগান নি সিসিটিভি?
নাজির – জি, ঘরে তো লাগাই নি, আব্বার মত ছিল না, কিন্তু হা, আব্বাকে আমি রাজি করিয়েছিলাম যাতে উনি উনার বাইরের ঘরে সিসিটিভি লাগান। … সেখানে আসলে অনেক মানুষ আসে আব্বার সাথে দেখা করতে। কার কি মতলাব … বোলা যায় … আপনি বলেন না।
বাবা – হুম, সে তো বটেই। … চলুন না আমাকে একবার সেই ক্যামেরাটা দেখান।
আমাকে আর বাবাকে নিয়ে নাজির উঠে গেলে, বাবা সকলের উদ্দেশ্যে বললেন – আপনারা নিজের নিজের কাজে যেতে পারেন। আমার যা জানার ছিল, আপনাদের থেকে জেনে নিয়েছি। আমরা বসার ঘরে গেলাম। কি বিশাল ঘর! খিলান দেওয়া। প্রায় ৫-৬টা খিলান। একদম প্রথম খিলানে, একটা স্কুলের ডেস্কের মত ডেস্ক, তবে পা দেওয়া নেই, মাটিতে বসানো।
নাজির – এই টেবিল, মানে খাজাঞ্চি টেবিলের উপরের একটা ঘাজে গোপন ক্যামেরা ফিট করে দিয়েছিলাম। …
কিন্তু যেখানে নাজিরসাহেব বললেন, সেখানে ক্যেমেরা নেই। … নাজির একটু থতমত খেয়ে গেল।
বাবা – এর মেমরিটা কোথায়?
নাজির – টেবিলের ভিতরে। দাঁড়ান দেখছি।
সেখানে দেখলেন নাজির যে মেমরিটা রয়েছে। বাবা প্রশ্ন করলেন – আমাকে এই মেমরিটা দিতে পারবেন। আজকে রাতের মধ্যে চেক করে নিয়ে, আপনাকে কালকে আপনার দোকানে গিয়ে দিয়ে আসবো। … চাঁদনীতে তো আপনার দোকান?
নাজির – জি, সেহেনাজ স্টোরস।
বাবা – আচ্ছা, এটা তো গোপন ক্যামেরা। আপনি আর মৌলবি সাহেব ছাড়া, আর কেউ কি জানতেন এর ব্যাপারে?
নাজির – জি নেহি। … হা ইন্সটল করার শেষের দিকে, মানে যখন ক্যামেরাটা ফিট করছি, তখন আব্রাম ঘরে এসেছিল। ও হয়তো জানলেও জানতে পারে, তবে এই সব ব্যাপার ও বোঝে কম।
বাবা – ঠিক আছে। … আর শুনুন, অন্য ভাবে নেবেন না। আপনার গোয়েন্দার থেকে একটু সামলে থাকবেন। আমার কেন যেন মনে হচ্ছে, এই খুনের কথা উনি জানতেন, আর জানতেন বলেই, আপনার সাথে যেচে পরে আলাপ করেন, যাতে আপনি ডাকেন উনাকে। … এবার এই যেচে পরে আলাপ করার উদ্দেশ্য শুধুই নিজের ব্যবসা নাকি আরো অন্যকিছু, সেটা এখনই বলতে পারবো না। … তবে মোটকথা এই যে, একটু সাবধানে থাকবেন উনার থেকে। শুধু ব্যবসার জন্য এলে, ঠিক আছে, নাহলে আপনাদের ক্ষতিও করে দিতে পারে।
বাবা ঘর থেকে বেড়িয়ে আসার সময়ে বললেন – আচ্ছা, আমাকে একটু সুলেমানের এড্রেসতা দিতে পারবেন? … আর যেখানে অন্নপূর্ণা পুজো হয়েছিল, সেই এড্রেসটাও।
নাজির বাবাকে চেতলার সেই বাড়ির এড্রেস দিয়ে দিলেন, আর সুলেমানের বাড়ি আঙ্গুল দিয়েই দেখিয়ে দিলেন। তপসিয়া মোড়ের খুব কাছে। বাবা আমাকে নিয়ে প্রথম সুলেমানের বাড়ি গেলেন। সুলেমান তখন বাড়িতে নেই। উনার স্ত্রী সুলতানা বেগম ছিলেন। … বাবা নিজের পরিচয় দিলেন, আর বললেন মৌলবি সাহেবের কেসের তদন্ত করছেন উনি। সুলতানা বেগম ভিতরে আসতে বললে, বাবা বললেন – আজ না, আপনি যেদিন চাটনি করে খাওয়াবেন, সেদিন আসবো।
ভদ্রমহিলা খুব রেগে গেলেন বাবার কথায়। বাবা বললেন – রেগে গেলেন না কি?
সুলতানা বেগম – আপনি কি আমাকে রান্নার খোঁচা দিতে এসেছেন এখানে। শুনুন, আব্বা আমার হাতের খানা খেতে খুব ভালো বাসতেন। চাটনি বানাতে পারিনা বলে, আপনি আমাকে চাটনির খোঁচা দিচ্ছেন!
বাবা হেসে বললেন – তা আপনার হাতের খানা মৌলবি সাহেব এত পছন্দ করেন, তো শেষ বেলায় আপনার হাতের খাবার খেয়ে গেলেন না কেন উনি?
একটু মুছরে পরে – আসলে, আমি একবার মনে মনে ওদের খুব ক্ষতি চেয়েছিলাম। আমি জাহির সাহাবের প্রথম সন্তানকে মেরে ফেলতে গেছিলাম। … নিজের সন্তান না হওয়া, আর সেই কারণে তালাক হওয়ার জন্য, আমার মাথা খারাপ হয়ে গেছিল। সেই গুনহার জন্য হয়তো, আল্লা আমাকে সাজা দিলেন। … তাই শেষ বেলায়, আমার হাতের তৈরি ফিরনি না খেয়েই আব্বু চলে গেলেন।
বাবা – ঠিক আছে, আজ তবে আসি। অন্য একদিন আসবো।
বাবা যে কি চাইছে, আমার মাথায় কিছু ঢুকছে না। … আর ফিরনি তো ইমরান দিয়েছিল না! … সেটা সুলতানা বেগম বানালো কেন?… যাইহোক, ভাবার অবকাশ নেই। আমাকে নিয়ে বাবা চলে গেলেন চেতলা। সেই বাড়িও বড়। বাবা নিজের পরিচয় বিজয় সিংহ দিতেই, ভদ্রলোক বাবার সাথে দেখা করতে রাজি হয়ে গেলেন। বাবাকে অনেক প্রশ্ন করলেন, উনি কি ভাবে কাজ করেন, ইত্যাদি ইত্যাদি। আর শেষে বললেন, আপনি কি এখানেও কনো কেসের ব্যাপারেই, নাকি?
বাবা – হ্যাঁ, একটা ছোট্ট জিনিস জানার ছিল। … আচ্ছা, আপনাদের বাড়িতে অন্নপূর্ণা পুজোতো প্রতিবছর হয়। নিশ্চয়ই একটা নিমন্ত্রিতদের তালিকা থাকে।
ভদ্রলোক – হ্যাঁ, কেন বলুন তো?
বাবা – একবার একটু দেখে বলবেন, এই নামের কারুকে নিমন্ত্রণ করা হয়েছিল কিনা? … এই বলে, গোয়েন্দা সুমন্তের একটা কার্ড এগিয়ে দিলেন বাবা। …
ভদ্রলোক বললেন – দাঁড়ান আমাকে একটু মিলিয়ে দেখতে হবে। কার্ডটা আমি নিয়ে যেতে পারি কি?
বাবা – হ্যাঁ অফ কোর্স।
খানিকক্ষণ আমরা বসে রইলাম ঘরে। আমি বসে উনাদেরই দেওয়া কোল্ড ড্রিঙ্কস খাচ্ছিলাম আর মাঝে বাবাকে প্রশ্ন করলাম, এই কার্ড উনি কি ভাবে পেলেন! বাবা বললেন – উঠতি গোয়েন্দা, পশার জমাতে চাইছে; কার্ড চাইতেই ধরিয়ে দিল হাতে। ভদ্রলোক বেড়িয়ে এসে বললেন – না মিস্টার, ইনি তো আমাদের এখানে নিমন্ত্রিত ছিলেন না।
বাবা – আর মিস্টার নাজির। …
ভদ্রলোক – সিসিটিভি!
বাবা – হ্যাঁ, হ্যাঁ। …
ভদ্রলোক – আরে উনি তো আমাদের কতদিনের পুরনো বন্ধু। উনি নিমন্ত্রিত ছিলেন তো। এসেও ছিলেন উনি। কিন্তু উনাকে না খেয়েই চলে যেতে হয়; আসলে উনি খেতেই যাচ্ছিলেন, সেই সময়ে উনার আব্বার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে উনি তাড়াতাড়ি চলে গেলেন।
বাবা – ওকে মেনি মেনি থ্যাংকস। আজ তাহলে উঠি।
রাস্তায় আসতে আসতে বাবাকে দেখলাম গভীর চিন্তনে মগ্ন। তাই কিছু বললাম না। আসলে আমার মাথায় প্রচুর চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল। আসলে আমি বাবার মত চিন্তন করতে পারিনা, তাই চিন্তাতেই আবদ্ধ থাকি। বাড়ি এসে স্নান খাওয়া করে, বাবার ঘরে আমি ঘুরপাক খাচ্ছিলাম। বাবা সিগারেট জ্বালিয়ে ঘরে ঢুকলে, আমি বাবার দিকে ফ্যালফ্যালে দৃষ্টি নিয়ে তাকালাম। বাবার থেকে বেশি আমার মনের কথা আমিও জানিনা, তার প্রমাণ আমি অনেকবারই পেয়েছি। এবারেও তার ব্যতিক্রম নয়।
বাবা বললেন – কি ভাবছিস? বাড়ির লোকের খুন করার যথেষ্ট মোটিভ আর সুযোগ থাকলেও, আমি সেই দিকে কেন তাকাচ্ছি না, এই তো?
আমি – হ্যাঁ, আমি এটাই বুঝতে পারছি না। … মৌলবি সাহেবের ছোট ছেলেকে না ছেরে দিলাম। খুনটা ঠাণ্ডা মাথার, আর জাহিরের মাথা গরম। তাই সে বাদ। কিন্তু বড় ছেলে আর জামাই! … না খাবারে বিষ তারা মেশাবে কি করে! কিন্তু তাঁদের স্ত্রীরা তো তাঁদের কাজ করে দিতেই পারে। … আর আম্মি! খুন করার সব থেকে বড় মোটিভ তো উনারই। মানে … আমি একটা ফেলুদার গল্পে, এই আমির মটিভে খুন করেছে, তাঁর ভাই, মানে আততায়ী হলেন নিহতের শালা, আর তাও নিহতের স্ত্রীর নির্দেশে, এমন পড়েছি। … তবে সেগুলোকে তুমি উড়িয়ে দিচ্ছ কেন?
বাবা একটা জবরদস্ত ভাবে সিগারেটে টান দিয়ে, নিজের ছোট্ট বিছনায় গা এলিয়ে বসে বললেন – পারিবারিক ক্ষেত্রে খুন হয়না, তেমন নয়। সম্পত্তির জন্যও খুন হয়, সেটাও উড়িয়ে দেবার বিষয় নয়। তবে সেই সম্পত্তির পরিমাণ হয় কয়েকশো কোটি টাকা। মৌলবি সাহেবের সম্পত্তির কাগজ তো দেখলি। জমিজমা, ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স, ঘরের মধ্যে ক্যাশ ব্যালেন্স, সবই তো দেখলি। … সব মিলিয়ে কত হবে?
আমি – এই তিন চার কোটি হবে।
বাবা – চার ভাগে ভাগ হলে, এক কোটি টাকা করে।… এবার কথা হলো এক কোটি টাকা অনেক। … হ্যাঁ, আমার তোর, সুমন্ত, শিকদারের কাছে অনেক। কিন্তু যারা জন্ম থেকে, বিয়ের পর থেকে এতো বৈভব দেখে এসেছে, তাদের কাছে নয়। … যদি অঙ্কটা ১০০ কোটি হত, তবে নিশ্চয়ই পরিবারের লোককে সন্দেহ না করা মুর্খামি হতো। কিন্তু যখন অঙ্কটা ১ কোটি, তখন চোখকান বন্ধ করে যারা পরিবারের লোককেই সন্দেহ করছে, এবং দোষী সাব্যস্থ করার চেষ্টা করছে, তারাও আমার সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়।
আমি – মানে বলছো শিকদার আর সুমন্ত?
বাবা – হুম। … তবে খুন তো তারা করেনি। … কিন্তু সম্ভাবনা, যদি সত্যি থেকে থাকে, সেটা হলো খুনিকে মদত দেওয়া, আর যারা খুনি নয়, তাদেরকে ফাঁসিয়ে দেওয়া। … প্রশ্ন হলো কেন?
আমি – সুমন্ত যেচে পরে নাজিরের সাথে আলাপ জমিয়েছিল। কিন্তু এর উদ্দেশ্য তো নিজের গোয়েন্দার ব্যবসাটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াও হতে পারে!
বাবা – প্রশ্ন এটা নয় যে, কি উদ্দেশ্যে আলাপ করলো নাজিরের সাথে সুমন্ত। প্রশ্ন এই যে, নাজিরের কাছে যে সেই রাত্রেই কেস আসবে, সেটা সুমন্ত জানলো কি করে? …
আমি – মানে তুমি বলছো যে আততায়ী অত্যন্ত গোপনে কাজ করছে, আর তার অনেকগুলো হাতপা আছে। সুমন্ত তাদের মধ্যে একটা।
বাবা – হুম, কাজে তো লাগানো হচ্ছে, তবে কাজে লাগানোর অনেক ধারা হয় বুঝলি। কেউ সরাসরি টাকা দিয়ে কারুকে কিনে নিয়ে কাজে লাগায়। আবার কেউ অন্যের স্বার্থ কিছুতে জরিয়ে আছে দেখিয়ে, তাকে দিয়ে নিজের প্রয়োজনের কাজটা করিয়ে নেয়। দ্বিতীয়ক্ষেত্রে, যেই ব্যক্তিকে কাজে লাগানো হয়, সেই ব্যক্তি নিজেও বুঝতে পারেন না যে তাঁকে কাজে লাগানো হয়েছে। … সুমন্তের ক্ষেত্রে কোনটা, সেটা একটু ক্ষতিয়ে দেখতে হবে। … তবে তার আগে, আমাকে একবার পার্কসার্কাস যেতে হবে, কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে, মসজিদে ঢুকে। কিছু জিনিস জানার আছে। … মসজিদে মহিলাদের সাধারণ ভাবে প্রবেশ নিষিদ্ধ, তাই তোকে ঢুকতে দেবেনা। তাই, আমিই ঘুরে আসছি।
আমি – কিন্তু বাড়ির লোক কি কনোভাবেই ইনভল্ভড্ নেই?
বাবা – থাকলেও অজ্ঞাত ভাবে। … মানে ধর, খাবারে বিষ দেওয়া আছে, বাড়ির লোক জানেও না যে তাতে বিষ আছে, কিন্তু সেই খাবার খেয়েই বিষক্রিয়াতে খুন হলেন ভদ্রলোক, এই রকম ভাবে ইনভল্ভড্।
আমি – তুমি এতো শিওর কি করে হচ্ছ, আমি বুঝতে পারছি না। গোয়েন্দা না ছেরেদিলাম, ওর ইন্টারেস্ট কিসে, বোঝা যাচ্ছেনা। ইন্সপেক্টরও তো বাড়ির লোকেরই কারুকে সন্দেহ করছে, তাই না।
বাবা পার্কসার্কাস যাবেন বলে ড্রেস পরছিলেন। গায়ে জামাটা চাপিয়ে বোতাম লাগাতে লাগাতে বললেন – বিষটা পটাশিয়াম সায়েনাইড। ওষুধের দোকান কেন, ওষুধের ম্যানুফ্যাকচারার কাছেও থাকেনা। … হাই লেভেলের ইনফ্লুয়েন্সিয়াল না হলে, এই বিষ আনানো অসম্ভব। … অর্থাৎ?
আমি – অর্থাৎ এই সমস্ত কিছুর পিছনে কনো কেউ প্রচণ্ড পাওয়ারফুল ব্যক্তি রয়েছেন!
বাবা আর কিছু বললেন না। মুচকি হেসে চলে গেলেন। আমিও কেমন যেন একটু বোকা বনে গেলাম, যেরাকম সবসময়েই হই। … সহজ সহজ জিনিসগুলো ছেড়ে, আমরা বড় বড় জিনিসগুলোতে বড্ড হাতরাই, আর সেখানেই আমরা নিজেও ঘেঁটে যাই, আর অন্যকেও ঘেঁটে দিই। …
