দ্বিতীয় পর্ব – জেরার ধুম
শুরু হলো জেরা, আম্মিকে দিয়েই। প্রথম প্রশ্ন ইন্সপেক্টর শিকদারের – আপনার তো বিয়ে হয়েছে ১০ বছর, তাই না!
আম্মি – হা সাহেব।
শিকদার – আপনি তো বয়সে মৌলবিসাহেবের থেকে অনেকটাই ছোটো। মানে আমার কথা এই যে, আপনাকে কি এই নিকা করার জন্য জোরজবরদস্তি করা হয়, নাকি আপনি স্বেচ্ছায় এই নিকাতে মত দেন।
আম্মি – আমার বাপমা আমার নিকার প্রায় ৪ বছর আগে মারা যান। আমার এই নিকার কথা বলে আমার ভাই, রহমন।
শিকদার – আর আপনি রাজি হয়ে যান। মানে এটা জেনেও যে মৌলবি সাহেবের বয়স হয়েছে, উনার বড় বড় তিনটি সন্তান আছে। … সব জেনেও আপনি রাজি হয়ে যান কেন? … মানে … রাজি হওয়ার তো কথা নয়, তাই না! … কি বলছি বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই আপনি। সব স্ত্রীই চান, তাঁর স্বামী হবে, তাঁর সন্তান হবে, তাঁর পরিবার হবে। … কিন্তু এক্ষেত্রে তো কিছুই আপনি পাবেন না, আপনি জানতেন। আপনার স্বামীও অন্য কারুর স্বামী ছিলেন। সন্তানরাও অন্য কারুর। মৌলবি সাহেবের বয়স হয়েছে, তাই আর নতুন করে সন্তানও পাবেন না, সেটাও জানতেন। তবে কেন?
আম্মি – আমার বাবা মা যখন মারা গেছিলেন, তখন আমি আর আমার ভাই বেঁচে থাকতে পেরেছিলামই, মৌলবি সাহেবের জন্য। আর যখন সেই সাহায্যের প্রতিদান দেবার সময় এসেছে, তখন নিজের চিন্তা করবো? … এমন করলে, আল্লাহর কাছে গিয়ে কি জবাব দেব সাহেব?
শিকদার – হুম, এই প্রশ্ন যে আপনার কাছে আসবে, এই দুইদিনে আপনি বেশ বুঝেই গেছিলেন, আর তাই উত্তরও তৈরি রেখে দিয়েছেন দেখছি! … আসলে আপনার ভাই আর আপনি মিলে তো এই প্ল্যানটাই করেছিলেন, যাতে মৌলবি সাহেবের টাকার সাহায্যে, আপনার ভাইয়ের একটা হিল্লে হয়ে যায়। … কি ভুল বলছি? … আপনার ভাইয়ের সারজিকাল ইন্সট্রুমেন্টের ব্যবসাটা তো মৌলবিসাহেবেরই তৈরি করে দেওয়া, তাই না! … আর সেই ব্যবসা এখন বাড়ানোরও খুব প্রয়োজন। সেই নিয়ে, আপনার ভাই আর মৌলবি সাহেবের তো প্রচুরবার কথা হয়েছে। কি ভুল বলছি? … আর যখন আপনি আর আপনার ভাই দেখলেন যে, মৌলবি সাহেব আর কিছুতেই আপনার ভাইকে টাকা দিচ্ছেন না, তখনই উনাকে খুনের চিন্তা করলেন! উনার মৃত্যুর পর, উনার সম্পত্তির যেই ভাগ পাবেন, তাই দিয়ে ভাইয়ের ব্যবসা তো দিব্যি বড় হয়ে যাবে। ঠিক বললাম! … তো এবার নিজের মুখে আপনার দোষ কবুল করে নিন। ঝামেলা মিটে যাবে। … কই বলুন!
আম্মি – ইয়ে সব আপনি কি বলছেন সাহেব! … মৌলবি সাহেবকে আমি খুন করে দেব! … বা আমার ভাই খুন করে দেবে? … কি সব বলছেন আপনি!
শিকদার সাহেব – আচ্ছা, তাহলে আপনি আপনার দোষ স্বীকার করবেন না। তাই তো! … ঠিক আছে, আপনার কাছে শেষে ফিরছি। আচ্ছা আপনার বড় ছেলেকে একটু ডেকে দিন দেখি।
আম্মি কাপড়ের আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে ঘর থেকে চলে গেলেন। দরজায় একজন মহিলা দাঁড়িয়েছিলেন। কে তিনি এখনও জানিনা। তিনি আম্মিকে ধরে ঘরের বাইরে নিয়ে গেলেন, আর বললেন – আম্মি, টুট মত যাইয়ে। পুলিশ তো এইসেহি পুছতাছ কারতে হে।
আমার মনে অন্য কথা চলল। এইরকম একটা কেস তো আমি ফেলুদাতে পরেছিলাম। স্ত্রী নিজের ভাইকে দিয়ে স্বামীকে খুন করিয়েছিলেন, ভাইকে সম্পত্তির অংশ দেবেন বলে। সত্যিই কি তবে এই আম্মিই খুন করেছেন? হতেই পারে, খাবার খেয়ে মারা গেছেন। আর খাবার তো স্ত্রীই দেবেন স্বামীকে খেতে। তাহলে উনার কাছেই তো খুন করার সুযোগ সব থেকে বেশি। … বাবার দিকে তাকালাম। বাবাকে দেখলাম, উনি নির্বিকার। তাই আমিও আর উচাটন না হয়ে, বসে রইলাম।
ঘরে এলেন আমাদের চেনা জাকির আব্বাস সাহেব। সঙ্গে সেই স্ত্রীটি যিনি আম্মিকে সহানুভূতি দিচ্ছিলেন। বুঝলাম, ইনি জাকিরের স্ত্রী। … চেয়ারে এসে বসলেন জাকির, আর স্ত্রী পিছনে দাড়িয়ে রইলেন।
ইন্সপেক্টর শিকদার বললেন – হুম, জাকির। আপনার যেন কিসের ব্যবসা?
জাকির সাহেব – জি, ঘড়ি কা। … লালবাজার কে পিছে দুকান হে।
মুখ খুললেন আমাদের ডিটেকটিভ বাবু, মিস্টার সুমন্ত। বললেন – কিন্তু আমার কাছে তো ইনফরমেশন আছে যে আপনার আরো একটা ব্যবসা আছে, ওষুধের।
জাকির সাহেব – জি ড্রাগ লাইসেন্স করিয়েছি। এখনও ব্যবসা শুরু করতে পারিনি।
সুমন্ত – কেন? পয়সা নেই। তাই তো? ছয়মাস হয়ে গেছে ড্রাগ লাইসেন্স হয়ে গেছে। হাতে পয়সা নেই তাই ওষুধের ব্যবসাটা খুলতে পারছেন না। … মৌলবিসাহেব খুন হলে সম্পত্তির ভাগ পেয়ে, আরাম্সে ব্যবসা খোলা হয়ে যাবে। কি তাই তো?
জাকির সাহেব বাবার দিকে তাকালেন একবার ভ্রুকুঁচকে। বাবাকে নিরুত্তাপ দেখে, উনি বললেন – আপ যো সোচ রেহে হে, ও দারাসাল গলত হে। … আমার ঘড়ির ব্যবসা এখনো ভালোই রানিং। ওষুধের ব্যবসা এখনো শুরু করতে পারিনি, কারণ মেনুফ্যাকচারিং কোম্পানিদের সাথে সমস্ত কথা শেষ হয়নি। … উনারা ড্রাগ সাপ্লাই দিতে রাজি না হলে, পাতি ওষুধের দুকান খুলতে হবে। আর আমি চাইছি ডিস্ট্রিবিউটার হতে। তাই দেরি হচ্ছে।
শিকদার সাহেব – পোস্টমরটেম রিপোর্ট বলছে, মৌলবি সাহেবকে পটাশিয়াম সায়েনাইড দেওয়া হয়েছে। আপনার এই ড্রাগ লাইসেন্স তো আপনাকেই সন্দেহ করতে বাধ্য করছে জাকির সাহেব।
জাকির সাহেবের স্ত্রী এবার বললেন – ইয়ে সব আপ কেয়া বল রেহে হে? … আপনে পিতাজিকা হি কাতিল কর দেঙ্গে ও!
সুমন্ত ডিটেকটিভ – আপনি তো জাকির সাহেবের দ্বিতীয়া স্ত্রী, তাই না?
ভদ্রমহিলা – হা।
সুমন্ত – আপনার প্রথম সন্তান হবার সময়ে, আমরা জেনেছি, কারুর আক্রমণ হয়েছিল?
ভদ্রমহিলা – ঠিকই শুনেছেন, কিন্তু যিনি আক্রমণ করেছিলেন, তিনি এখন পালটে গেছেন, আল্লাহর মেহেরবানিতে।
সুমন্ত – তিনি আপনার স্বামীর প্রথমা স্ত্রী ছিলেন, তাই তো? … কেন করেছিলেন উনি এই আক্রমণ?
ভদ্রমহিলা – উনি মা হতে পারছিলেন না, সেই কারণেই ঝমেলা হো কে, ঊন দনো কি তালাক হউই থি। তো মেরে গোদ ভারি থি, উসিলিয়ে …
সুমন্ত – আর তারই সন্তান হবার সমস্ত খরচ করেছিলেন, আপনার শ্বশুরমশাই। তাই রাগে, আপনিই বিষ দিয়েছেন। … তাই তো?
ভদ্রমহিলা – সাহাব, সুলতানা ভাবিকে গোদ ভর যানে সে, কই আগার চেয়েন কি শ্বাস লে পা রেহি হে তো, ও মে হু। মে তো আব্বা কা আভারি হু। … সিধা সোচিয়ে সাহাব। হামেশা টেরা কিউ সোচতে হে আপ?
শিকদার – আপনাকে এখানে প্রশ্নের উত্তর দিতে ডাকা হয়েছে, প্রশ্ন করতে নয়। … আপনারা যান, আর মৌলবি সাহেবের ছোট ছেলেকে ডেকে দিন।
জাকির সাহেব ও তাঁর স্ত্রী চলে গেলেন। ঘরে এসে ঢুকলেন, আমার বয়সই এক ছেলে। ঘরে ঢুকে, তাকে বসতেও দিলেন না শিকদার স্যার। সরাসরি চার্জ করলেন – বাবা বাইক কেনার পয়সা দিলেন না বলে, সরাসরি খুনই করে দিলে?
জাহির, মানে মৌলবি সাহেবের ছোট ছেলের চোখ ছলছল করে উঠলো। একটু রাগ নিয়েই বলে উঠলো সে – দেখুন পুলিশ বলে, যা মুখে আসবে আপনি বলে দিতে পারেন না। … হ্যাঁ, বাইক দেন নি। … বোঝাতেন, বকতেন। আমারও সব বন্ধুদের বাইক আছে বলে হুজ্জতি করতাম। কিন্তু এর জন্য নিজের আব্বাকেই আমি খুন করে দেব? … শিকদার সাব, আপনার স্ত্রীও তো আপনার দ্বিতীয় ছেলে চাননি। আর সেই কারণে আপনি উনাকে খুন করে দিয়েছিলেন। আর নিজে পুলিশ বলে কেস ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছিলেন। তাই না!
শিকদার সাহেব নিজের টেম্পার হারিয়ে ফেললেন এবার। পুলিশ অফিসারের দাপট দেখিয়ে বলে উঠলেন – সেদিনের ছোকরা, শিকদারের উপর চোখ রাঙাবে?
জাহির – আপনার কথা আপনাকেই ফিরিয়ে দিয়ে দেখালাম, এমন কথা বললে কেমন লাগে। আর শুনেন শিকদার। আপনাদের মত দুদিনের পুলিশ অফিসারকে আমরা পরোয়া করিনা। … আব্বা বেঁচে থাকতে, আপনিই তো আসতেন না আব্বার পা চাটতে। … নর্দমার কিড়া শালে।
এই বলে ঘর থেকে চলে গেল জাহির। শিকদার দুদুবার চিৎকার করে উঠলো – আই শেড, স্ট্যান্ড দেয়ার। ইটস মাই অর্ডার। তোমার এই এটিটিউডের জন্য আমাদের সন্দেহ পুরোপুরি তোমার দিকে জাহির। আমি কিন্তু তোমাকে যেকোনো সময়ে এরেস্ট করতে পারি।
জাহির পিছন ফিরে তাকালো, আর কুট ভাবে বলল – আপনার ছেলে কোন স্কুলে পড়ে যেন? … হা, ডনবস্কো না। … চিনি আপনার ছেলে কে, আমাকে ও চেনে না। …
শিকদার এই হুমকিতে তটস্থ হয়ে গেল। জাহির ঘর থেকে বেড়িয়ে গেল। … রাগে গজগজ করতে করতে বললেন শিকদার – একদিন কাস্টডিতে নিয়ে, আচ্ছা করে ধোলাই দিলে, সব তেল বেড়িয়ে যাবে শালাদের।
সুমন্ত ডিটেকটিভ হুঙ্কার ছাড়লেন – মৌলবি সাহেবের মেয়ে জামাইকে পাঠিয়ে দিন।
ঘরে এলেন সেহেনাজ আর উনার স্বামী, নজির। চেয়ারে বসলেন নজির; স্ত্রী রইলেন দাড়িয়ে। শিকদার বললেন – সিসিটিভির ব্যবসা!
নজির – শুধু সিসিটিভি নয় স্যার, সিকিউরিটির সমস্ত কিছু, হাইডেল আর স্প্লিন্টলার সিস্টেমও।
শিকদার – শ্বশুরের পয়সায় নাপুরচুপুর করে, শ্বশুরের খুন করতে লজ্জা করে না!
নজির – কেয়া বোল রাহে হে সাহাব! … আব্বা আমার নিজের আব্বা ছিলেন। … আমার আম্মি জান্নাত চলে যাবার পর, আমার আব্বা দুসরা নিকা করে, তাঁকে নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন। মৌলবি সাহেব আমাকে এই ব্যবসা করে দিয়ে, প্রথমে নিজের ব্যবসা আমাকে দেখভাল করতে বলেন। তারপর যখন পুরোপুরি ভাবে ব্যবসা শিখে গেলাম। তখন উনি আমার নামে এই ব্যবসা লিখে দিলেন। … সাহাব, উনি আমার জন্য রসুল সে কুছ কম নেহি থে। … তারপর উনি নিজে থেকেই আমার সাথে সেহেনাজের সাথে নিকা করালেন। … আর এইটাই আমার পরিবার, আমার সব কিছু।
সুমিন্ত ডিটেকটিভ – কিন্তু সেহেনাজের তো প্রেমিক ছিল। আপনি জানেন?
নাজির – জি হা, পরে জেনেছি। সেহেনাজ নিজেই বলেছিল। ও ভি আজ, যো কুছ হে, সব কুছ আব্বা কেলিয়েই হে। …ইয়েহি তো আব্বা কা সবসে বারা গুন থা। … ও স্রেফ, এই পরিবারের সদস্যদেরই নিজের পরিবার মানতেন না। সবাই উনার পরিবার ছিল। … জাকির সাহাবের প্রথম স্ত্রীও উনার পরিবার। তাই জাকির সাহাবের সাথে উনার তালাক হবার পরে, আব্বা নিজে দায়িত্ব নিয়ে, সুলেমনের সাথে, মানে সেহেনাজের প্রেমিকার সাথে তার বিয়ের ব্যবস্থা করে দেন। … আর শুধু তাই নয়, রুকসানা ভাবির বাচ্চা নষ্ট করতে সুলতানা ভাবি এগিয়ে এলে, সকলে উনাকে ভুল বুঝলেও, আব্বা ভুল বুঝলেন না। … উনি সুলেমনকে বলে, ভালো ডাক্তার দেখিয়ে, আইভিএফের পুরো খরচ দিয়ে, সুলতানা বেগমকে মা হতে দিলেন। … এইসা রসুলকে সাথ হাম মে সে কইভি কুছ গলত নেহি কর সকতে স্যার।
সেহেনাজের দিকে এবার শিকদার তাকিয়ে বললেন – আব্বার উপর তো খুব রাগ হয়েছিল তাই না, যখন সুলেমানের সাথে তোমার নিকা না করিয়ে, নাজিরের সাথে নিকা করালেন।
সেহেনাজ – জি হয়েছিল। … তবে নাজিরকে আমরা আগে থেকেই চিনতাম। … আমাদের বাড়িতে খুবই আসতো সে। সুলেমান তখন আমার ভাইয়ের মতন একটু রগচটা ছিল। তাই আম্মি ওর সাথে আমার নিকা না হতে দেবার জন্য চেষ্টা করতেন। … আমারও বয়স তখন কম ছিল, তাই একটু রাগ হয়েছিল। তবে নাজির যে সেরা ইনসান, সেই ব্যাপারে আমার কনো সন্দেহ ছিল না।
বাড়ির সকল সদস্যদের জেরা করা হয়ে গেলে, এবার বাড়ির বাইরের সদস্যদের জেরা করার জন্য দুইজনকে ডাকা হলো। প্রথম হলেন বাড়িতে যিনি রান্না করেন, তাঁকে; নাম সুহানা বেগম। আর পরে যিনি মৌলবি সাহেবের সেক্রেটারি ছিলেন, তাঁকে; নাম আব্রাম মণ্ডল। এঁদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার মধ্যে কনো তেজ দেখতে পাওয়া গেল না। খালি সুহানা নামক বয়স্ক মহিলাকে একটু চাপ দেওয়ার চেষ্টা হলো, যাতে নিজে মুখে স্বীকার করেন তিনি যে তিনি বিষ দিয়েছেন খাবারে। আর আব্রামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় যে এই কয়দিন যাবত মৌলবি সাহেবকে তিনি কেমন দেখছিলেন।
জেরার পর্ব সমাপ্ত করলে, বাবা বললেন – ব্যাস জেরা শেষ? নাকি আরো কিছু বাকি আছে?
শিকদার – শেষ … আবার কি। … এদের মধ্যেই কেউ একজন খুনটা করেছে।
সুমন্ত – হ্যাঁ স্যার, একদম ১০০% শিওর।
আমারও তাই মনে হচ্ছিল, কারণ এঁদের সকলেরই খুন করার মোটিভ এতটাই ক্লিয়ার যে, আর অন্য কারুকে সন্দেহ করার কিচ্ছু পরেই থাকেনা। বাবা খালি একটা কথা বললেন সকলকে – মৌলবি সাহেব ছিলেন। অনেকের সাথেই জানা পরিচয় ছিল তাঁর। বাইরের লোকও তো এই কাজ করতে পারে!
শিকদার – কি যে বলেন আপনি? আরে সব কেসই কি আপনি যেমন তদন্ত করেন, তেমন বড় ধরনের কেস হয় নাকি? এসব ছোটমোটো কেস। এইরকম কেস আপনি হয়তো রিপোর্টার হিসাবে ফেস করেছেন, কিন্তু এই সমস্ত কেসের তদন্ত আপনি করেন নি। সম্পত্তির জন্য করা খুন। ব্যাস।
বাবা আর কথা বাড়ালেন না। দেখলেন গোয়েন্দা সুমন্তও বললেন – হ্যাঁ স্যার, আমার মনে হয় এই ছোট ছেলেটাই হবে। ওর রক্ত গরম।
শিকদার – হুম ছোটটাকে দুটো ডাণ্ডা দিলেই, ওর গরম চলে যাবে। কিন্তু আমার তো মনে হয় মৌলবি সাহেবের স্ত্রীই আসল কাণ্ডারি। এখনও রূপযৌবন আছে। আর যা আছে, তাতে লুকনো প্রণয় সম্পর্ক থাকা অসম্ভব নয়। সঙ্গে ভাইয়ের ব্যবসস্থা করার ব্যপারটাও রয়েছে।
সুমন্ত – তাহলে স্যার, কাকে এরেস্ট করবেন?
শিকদার – দুদিন চুপ করে বসে থাকবো। মৌলবি সাহেবের খুন বলে কথা। মসজিদের লোকেরা হুজ্জতি করবেই, যদি কারুকে এরেস্ট না করা হয়। আর হুজ্জতির পর যাকে ধরা হবে, তাকেই সকলে দোষী মেনে নেবে। তখন ভাবা যাবে, কাকে আগে তুলবো, আর কাকে পরে।
আরো কিছু যেন বলার ছিল শিকদারের, কিন্তু বাবাকে ইশারায় দেখিয়ে চুপ করিয়ে দিলেন সুমন্তকে। সুমন্ত আর প্রশ্ন করলেন না।
আমি আর বাবা সেদিন সেখান থেকে চলে এলাম। বাড়ি আসার পর জাকিরের ফোন এসেছিল বাবার কাছে – আপনি কিছু বললেন না তো?
বাবা – পুলিশ পুলিশের কাজ করছিল। আমার যা জানার, তা সেই জেরার থেকেই জেনেছি। তবে আমার কিছু প্রশ্ন আছে, যা আমি পুলিশের সামনে করতে চাইছিলাম না। সেই প্রশ্ন করতে, কালকে বাড়িতে গেলে, সকলকে পাবো?
জাকির – হ্যাঁ, একটু সকালে চলে আসলে সবাইকে পেয়ে যাবেন। আমি আর নাজির দোকান খুলতে বাড়ি থেকে ১০টার আগে বার হই না। তবে আমাদের ছোট ভাইয়ের কনো ঠিক নেই।
বাবা – ও না থাকলেও হবে। অসুবিধা নেই।… ঠিক আছে, কাল সকালে দেখা হচ্ছে। আর হ্যাঁ, আমি যে কাল সকালে যাচ্ছি, সেটা পুলিশ বা গোয়েন্দাকে জানানোর প্রয়োজন নেই আগে ভাগে। …
