অপরাধী | রহস্য গল্প

পরের দিন সকালে, আমি উঠলাম এই ৯টা হবে। ১০টার সময়ে আমরা বেরবো। আলিপুর জেল যাবো, তনুশ্রীকে আনতে। … উঠে দেখলাম বাবা গাড়ির চাবিটা রাখলেন টেবিলের উপর। বাবার চোখে মুখে একটা নিশ্চিন্তার ছাপ প্রত্যক্ষ।

আমাকে নিয়ে বাবা চলে গেলেন আলিপুর জেলে। সেখান থেকে তনুশ্রী বেরোতেই বাবা উনার কাছে গেলেন, আর বললেন – আসুন তনুশ্রী দেবী, গাড়িতে উঠে পরুন।

তনুশ্রী বললেন – আমার এক জায়গায় যাবার আছে। আপনার এড্রেস দিন। আমার একটা জরুরি কাজ আছে, কাজটা সেরেই আপনার কাছে আমি আসছি।

বাবা – যেই কাজের কথা আপনি বলছেন, সেই কাজ সারা হয়ে গেছে। আপনি গাড়িতে বসুন, গন্তব্যস্থলে যেতে যেতে আমি সেই সমস্ত কথা বলছি।

তনুশ্রী ভ্রুকুঁচকে বললেন – আমি কি কাজের কথা বলছি বলুন তো?

বাবা – বললাম তো, যেই কাজের কথা আপনি বলছেন, সেই কাজ সারা হয়ে গেছে। আপনি গাড়িতে বসুন।

তনুশ্রীর মেজাজ আজ তুঙ্গে। গাড়িতে উঠতে, আমাকে গাড়ি চালাতে দিয়ে, বাবা তনুশ্রীর পাশে উঠে বসলেন, আর বললেন – খুন না করে আপনি সাজা খেটেছেন, এবার খুন করতে যাচ্ছিলেন, তাই তো? কাকে? অনিকের গার্লফ্রেন্ডকে? মানে সুনাকে?

তনুশ্রী – ওই আসলে আমার ভাইকে খুন করেছে।

বাবা – হ্যাঁ, সঙ্গমে লিপ্ত হয়ে, অনিকের শেষ ইচ্ছাকে পুড়ন করে, প্যারাকুয়েট খাইয়ে।

তনুশ্রী – হ্যাঁ

বাবা – আপনি যে বললেন, প্যারাকুয়েট কি আপনি জানেন না!

তনুশ্রী – মনে পরে গেছে।

বাবা – কি মনে পরেছে? আমেরিকায় আপনাদের ফ্ল্যাটে যখন সুনা আসতো, আর আপনার সাথে তার আলাপ হয়, তখন ও যেই কোম্পানিতে কাজ করতো, সেই কোম্পানিই ওটা প্রডাকশন করতো, তাই তো, আর তার থেকেই আপনি জানেন যে প্যারাকুয়েট এমন একটি বিষ যা মানুষ মুখে দেবার ৫ মিনিটের মধ্যে মারা যায়। কি ঠিক বলছি!

তনুশ্রী – ঠিক ভুল করে আপনি কি করবেন! … আপনি সুনা সুনা করে যাচ্ছেন খালি? জানেন কি সুনার পুরো নাম কি?

বাবা – সুনয়না।

বাবার এই কথাটা শুনে, আমি গাড়ির ব্রেক মেরে দিলাম। হ্যাঁচকা খেয়ে, বাবা বললেন – সামনে লর্ডসের মাঠ আছে, সেখানে গিয়ে গাড়ি পার্ক কর। সবটা বলছি।

এবার আমি তেমন করতে, বাবা বললেন – কি তনুশ্রীদেবী ঠিক বলছি তো?… যেদিন অনিকের মৃত্যু হয়, সেদিন সুনয়না আপনাদের বাড়িতে এসেছিল। আর যখন এসেছিল, তখন আপনাকে দেখেই সে চমকে যায়, কি তাই তো?

তনুশ্রী এবার আগ্রহের সাথে বলল – হ্যাঁ, কিন্তু আপনি কি করে জানলেন?

বাবা – কারণ সুনয়না তো আপনার সাথে বা অনিকের সাথে দেখা করতে আসেনই নি সেদিন আপনাদের বাড়ি। ..

তনুশ্রী – ধুত, আপনি কিচ্ছু জানেন না। ওই আমার ভাইয়ের গার্লফ্রেন্ড ছিল, আর ওঁর সাথে ভাইয়ের একাধিকবার সঙ্গম হয়েছে।

বাবা – কিন্তু সেদিন আপনার ভাইয়ের কাছে উনি আসেন নি। উনি এসেছিলেন, উনার ফিয়ন্সে, মলয় ভদ্রের সাথে দেখা করতে। আর সেখানে এসে, তাঁর অজ্ঞাত ভাবে সে দেখে যে মলয় ভদ্রের ভাই অনিক ভদ্র এবং বোন তনুশ্রী ভদ্র। … আর সেটা দেখার পরই, সে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় যে সে কি করতে চলেছে। …

বাবা বলতে থাকলেন – অনিকের সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হয়, আর তাকে বুঝতেও দেয়না, আর আপনাকেও। কি উদ্দেশ্যে সেখানে এসেছে, আপনারা জানতেও পারেন না। আর অনিকের শেষ ইচ্ছা পুড়ন করানোর পরে, প্যারাকুয়েট দিয়ে ওঁর হত্যা করে, কারণ ও খুব ভালো করে জানতো প্যারাকুয়েট যে একটি বিষ, সেটা আর যেই জানুক ভারতের উকিলরা তেমন জানেনা। আর এর কারণে উকিলরা এই প্যারাকুয়েটের কথা তোলেই না, যতই পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে সেটা লেখা থাকুক।

বাবা বলে চললেন – তনুশ্রী কানের পিছনে ছুঁচ ফুটলে ব্যাথা হয় ঠিকই, কিন্তু মানুষ মারা যায়না। … আর রইল কথা আপনার উকিল! সুনয়নাই তাকে এপয়েন্ট করে, আর আপনাকে আর নিজের ফিয়ন্সে, যে তাঁর কোম্পানিকে কোটি কোটি টাকা প্রতি মাসে এনে দেয়, তার কাছে দেখায় যে আপনার পরিবারকে কত কেয়ার করে সে। … শেষে যখন উকিল আপনাকে বাঁচাতে পারছিলেন না, তখন অনিককে দুশ্চরিত্র আখ্যা দিতেও কুণ্ঠা করেন না, আর আপনার সাজা কম করে দেন। … আর আপনারা সকলে ওঁর চালে বোকা বনে যান, আপনারাও, ভাইবোনও আর দুই উকিলও।

তনুশ্রী – আর সুনয়না এমন করলো কেন?

বাবা – আপনার ভাইয়ের শয্যাসঙ্গিনী, এটা জানার পরেও কি আপনার বড়দা তাকে বিবাহ করতো? … আর তা যদি না করতো, তবে সুনয়নার কোম্পানিও চলতো? … তাই পথের কাঁটা, আপনার ভাই অনিক, আর তাকে সরিয়ে দিল সুনয়না। আপনারা কেউ জানতে পারলেন না, আর সুনয়না আরাম-সে আপনার বড়দার সহগামিনী হয়ে, কোটি টাকার ব্যবসা চালাতে থাকলেন। আর আপনার বড়দা তো আপনাকে গ্রহণ করতেও অনিচ্ছুক এখন, কারণ তিনি তো বিশ্বাস করেন যে আপনি ইচ্ছা করে অনিককে মৃত্যু দিয়েছেন।

তনুশ্রী রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বললেন – আমাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিন। এবার আমি সত্যি করে খুন করে জেলে যাবো।

বাবা হেসে বললেন – মৃতকে কি করে মারবে তনুশ্রী! … সুনয়না নিজের কাজের সাজা আজ সকালেই পেয়ে গেছে। … আইনের চোখে তো ওকে দোষী সাব্যস্ত করা যেত না, কারণ একটি ক্রাইমে একজনেরই সাজা হয়, আর সেই ক্রাইমে আপনার সাজা হয়ে গেছে। কিন্তু ঈশ্বরের সাজার থেকে কে বাঁচাতো উনাকে? তাই ঈশ্বর আপনার মুক্তির দিনই ওকে মৃত্যু দিয়ে দেন।

এবার তনুশ্রীর সাথে সাথে আমিও একটু হকচকিয়ে গেলে, বাবা বললেন – রিম্পিকে চেনেন?

তনুশ্রী – আমার ভাইয়ের খুব ভালো বন্ধু আর আমারও। উনার সাথে মহিমাও থাকতেন।

বাবা – রিম্পির থেকে আর মহিমার থেকে সুনা নামটা শুনি আর একটা ছবিও দেখি, যেখানে সুনার হাত দেখা যাচ্ছিল আর বাহুতে একটা ট্যাটু আঁকা ছিল। … সেই ট্যাটুটা আজও সুনয়না দেবীর হাতে ছিল। … সুনা নামটা নিয়ে আমার সন্দেহ ছিল, কারণ সুনা আদরের নাম ঠিকই, তবে আলাদা নাম নয়, কনো নামের শর্টফর্ম। আর কাল আমার মেয়ে যখনই আমাকে ওই ট্যাটুর কথা বলল, তখনই সুনয়নার হাতে যেই ট্যাটুটা দেখেছিলাম, তার স্মৃতি ভেসে আসে। … আর সুনয়না নামের সাথে, সুনা নাম একবারে মিলে যায়।

বাবা আবার বললেন – সন্দেহ করার আরো জিনিস ছিল, আগে নজর করিনি, তবে সুনয়না নাম সামনে আসতেই, সব মিলে যেতে থাকলো। … সুনয়নার বিবাহ হয়েছে অনিকের মৃত্যুর পর, কিন্তু রিম্পা বা মহিমা নামগুলো সে জানলো কি করে? অনিকের মৃত্যুর পর তারা তো একবারও যায়নি সেখানে, খালি রিম্পা এসেছিল তনুশ্রীদেবী, আপনার সাথে দেখা করতে, আর তার খবরও সুনয়না জানেনা। … তাহলে?

অর্থাৎ, আমার মাথার সমস্ত জট ছেড়ে যায়, আর আমি স্পষ্ট বুঝতে পারি যে, আপনার দাদার সন্ধান করতে গিয়ে, সুনয়না জানতে পারে যে, উনি যাকে বিবাহ করে, কোটিপতি হয়ে থাকতে চান, সেই পথের বাঁধা হলো আপনার ভাই আর আপনি। আর তাই আপনার ভাইকে সকলের সামনে, অথচ সকলের নজরের পিছনে প্যারাকুয়েট খাইয়ে মেরে ফেললেন, আর আপনাকে সেই খুনের খুনি করে, জেলে ঠেলে দিলেন।

তনুশ্রী – এবার তো আমাকে ছাড়ুন। আইনের চোখে সুনয়না কনোদিনও সাজা পাবেনা আর। কিন্তু তার নিকৃষ্ট কর্মের দণ্ড কি সে পাবে না!

বাবা রিল্যাক্স হয়ে বলতে থাকলেন – ওই যে বললাম, যাকে আইন দণ্ড দিতে পারেনা, তাকে ঈশ্বর দণ্ড দেন। … আজ সকালে উনার কাছে গেছিলাম আমি। বোধহয় বাড়ির কাজের মেয়ে আজকে আসেনি। তাই উনিই দরজা খুললেন। আর উনাকে আমি হাসিমুখে, সুনা নামে আবাহন করতেই, উনি পরি কি মরি করে বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে পালালেন।… আমি কেবলই আপনাদের বাড়ির পিছনের দিকের দরজায় গাড়ি নিয়ে এসে দাঁড়াই। উনাকে দেখলাম ঘাড় ঘুরিয়ে আমাকে দেখতে গেলেন, আর একটি গাড়ি উনাকে সপা-টে ধাক্কা মারলো। … আমি গাড়ি নিয়ে সেখান থেকে পাস করার সময়ে, গাড়ির কাঁচ নামিয়ে শুনলাম, “এক্কেবারে স্পট ডেড”।

তনুশ্রী কান্নায় ভেঙে পরলো এবার। কাঁদতে কাঁদতে বললেন – আমাদের পরিবারটাকে শেষ করে দিলো পুরোপুরি, ওই ডাইনিটা।

বাবা – হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন। আপনার ছোটভাইকে মেরে ফেললেন, আপনাকে জেলে পাঠিয়ে দিলেন, আর আপনার বড়ভাই যতদূর … (পকেট থেকে ফোন বার করে, একটা কি করে আমাদের দেখিয়ে বললেন) স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদ পাবার পরে, সমস্ত স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছেন।

একটু থেমে বাবা আবার বললেন – এবার যাবেন কোথায়?

তনুশ্রী নিশ্বাস ছেড়ে – একটা জেল ফেরত কয়েদি আর কোথায় যাবে! জাহান্নমে।

বাবা – একজন অপেক্ষা করছেন পপের প্রায়শ্চিত্ত করতে। যাবেন তাঁর কাছে?

তনুশ্রী – কে সুনয়না! … মরে যেতে বলছেন?

বাবা হেসে – না, ব্যারিস্টার সৌরভ পণ্ডিত।

তনুশ্রী – আমার বিরোধী সরকারি উকিল ছিলেন। খুবই ভালো ভদ্রলোক। আমি জেলে থাকতেও একবার এসেছিলেন। আমার হাত ধরে কেঁদে বলেছিলেন, “আমাকে ক্ষমা করে দে মা!”

বাবা – হয়তো আপনি ক্ষমা করে দিয়েছিলেনও উনাকে, কিন্তু উনার বিবেক উনাকে ক্ষমা করেননি। … উনি মৌন হয়ে গেছেন, আত্মগ্লানিতে। হয়তো আপনার জেলের পর প্যারাকুয়েটের ব্যাপারে জেনেছিলেন। … যাবেন উনার কাছে? … একটি বার। হয়তো আপনি নিজে মুখে যদি বলেন, আপনি উনাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, উনি হয়তো কথা বলবেন আবার।

তনুশ্রী – চলুন, যদি কারুর ভালো করতে পারি। … এমনি এমনি তো আর জেল খাটিনি; এই জন্মে না করলেও, আগের কনো না কনো জন্মে তো সুনয়নার মতই কিছু করেছিলাম; সেই জন্য নিজের প্রাণের প্রিয় ভাইয়ের থেকে যৌনহেনস্থার কথাও শুনতে হলো, আর জেলও খাটতে হলো। … যদি কিছু ভালো করতে পারি এবার। … চলুন।

বাবা হাসি মুখে এবার পণ্ডিতবাড়িতে গাড়ি নিয়ে যেতে বললেন আমাকে। আমাদের সাথে তনুশ্রীও বাড়ির ভিতরে গেলেন, আর সৌরভ পণ্ডিতের পা ছুঁয়ে প্রণাম করলেন। সৌরভবাবুর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরলো। … উনি কাঁপা কাঁপা স্বরে বলে উঠলেন – ক্ষমা করে দে মা আমায়। … আমি একজন নির্দোষের নামে কলঙ্ক জুরে দিলাম।

তনুশ্রী হেসে বললেন – না মেশমেশাই, এমন বলবেন না। … যে সৎ, তাঁকে দিয়ে ঈশ্বর কনো অন্যায় করাতে পারেন না। ঈশ্বরের উপর থেকে আমার বিশ্বাস এখনো ওঠেনি মেশমেশাই। … আমি জানি, আমি এমন কনো কাজ করেছিলাম কনো জন্মে, যা করেও আমি আইনের চোখে ধুলো দিয়েছিলাম; আর তাই এবারে আমি দোষ না করেও জেল খাটলাম। … আপনি ঈশ্বরের দেওয়া সেই দণ্ডের মাধ্যম ছিলেন।

সৌরভ বাবু বললেন – আমাকে আমার কলঙ্ক মুছতে দিবি!

তনুশ্রী – আমি কিই বা করতে পারি মেশমশাই!

সৌরভবাবু – জেল খাটা কয়েদি যদি কাজের খোঁজ করে, শুধুই লাঞ্ছিত হবে। … তাই সেসব ছেড়ে, আমার পুত্রবধূ হয়ে থাকবি!  … তোর যাবার তো কনো জায়গা নেই। সম্মানের সাথে আমার ছেলের বউ হয়ে থাকবি? … তুই খুব পবিত্ররে মা। … থাকবি আমার ছেলের বউ হয়ে?

তনুশ্রী – আপনার ছেলের উপর এটা চাপিয়ে দেওয়া হয়ে যাবে না!

সোহম – না তনুশ্রী, একদমই নয়। … ছেলে হয়ে যদি বাবার কলঙ্ক মুছতে পারি, সেটার থেকে বড় পাওনা আর কিছুই হয়না। … আমি রাজি।

বাবা এবার বললেন – আমি আসি এবার।

সোহম বাবার সামনে এসে বললেন – তা বললে কি করে চলবে মিস্টার বিজয় সিংহ!… আপনি তো এখনও কনো পারিশ্রমিকই নেন নি। …

সৌরভবাবু বললেন – বলছিলাম না, সব শুনছিলাম কিন্তু। … আমার হাত থেকে পারিশ্রমিক নেবার কথা বলেছিলে। … বিজয়, তোমার কথা আমি অনেক পড়েছি পেপারে, চাক্ষুষ দেখলাম। … তুমি একজন অদ্ভুত মানুষ। কাজটা তুমি খুব মন দিয়ে করো, তাই জন্যই তুমি বিশেষ। … মানুষকে ভালোবেসে কাজটা করো, নির্দোষদের খুব ভালোবাস তুমি। … আর তাদেরকে সুরক্ষিত রাখবে বলে, নিজের সমস্ত কিছু দিয়ে দাও।

বাবা হেসে বললেন – ওই যে কথায় আছে না, হাজার দোষী মুক্ত থাকুক, কিন্তু একজন নির্দোষ যেন সাজা না পায়। আমি সেই মতেই বিশ্বাসী উকিলবাবু। … নির্দোষ সাজা পেলে, তাঁর আইনের উপর নয়, ভগবানের উপর থেকে বিশ্বাস উঠে যায়। … কাজ আমরা মানুষ করবো, আর দোষের ভাগি ভগবান হবেন, না উকিলবাবু, আমি এর ঘোরবিরোধী। আমার ভগবানকে আমি খুব ভালোবাসি, তাঁর উপর যেন কনো কলঙ্ক না লাগে, সেই চেষ্টাই করতে থাকি আমি সর্বক্ষণ, এই আর কি?

সৌরভবাবু একটি এক লাখ টাকার চেক লিখে দিলেন বাবার নামে। বাবা হাতে চেকটা নিয়ে বললেন, “পরিমাণটার সাথে জাস্টিস করলেন না উকিলবাবু। এমন কিছুও করিনি, যার জন্য এত টাকা দেওয়া যায়”।

সৌরভবাবু হেসে বললেন – আমি তো উকিল, জজ নই, তাই জাস্টিস আমি করবো কি করে… যাইহোক, বাড়ির সকলকে নিয়ে বিয়েতে আসা চাই। … সোহম আপনাদের বাড়ি গিয়ে আপনাদের নিমন্ত্রণ করে আসবে। … বেশি লোক ডাকবো না, অধিক লোক হলেই, কানাকানি হয়ে যাবে, জেলের কয়েদি, মেয়েটার মান সম্মান সব চলে যাবে।

বাবা আর আমি প্রস্থান করলাম সেখান থেকে। কেসের হ্যাপি এন্ডিং।

পৃষ্ঠা: 1 2 3 4 5 6 7 8