অপরাধী | রহস্য গল্প

বেশ কিছুদিন আমরা একটু অন্য কাজেই ব্যস্ত ছিলাম, কারণ মায়ের জন্মদিন ছিল, আর সেই নিয়ে এবারে প্রথম একটা সেলিব্রেশন হলো। সেই সবের মধ্যে অনেকদিন সময় যাবার পরে, বাবা চিন্তিত হয়ে সোফায় বসেছিলেন। আমি বাবার কাছে চিন্তিত হয়ে বসলে, বাবা বললেন – কাল তনুশ্রীর ছাড়া পাওয়ার দিন, আর আজ এখনো আমরা কিচ্ছু খুঁজে পেলাম না! কি বুঝছিস!

আমি – সমস্ত কিছু সাজালে, এটা দাঁড়ায় যে কানে সেফটিপিন ফোঁটা একটা এক্সিডেন্ট, আর ওঁর জন্য অনিক মারাও যায়নি। … অনিক মারা গেছে ওঁর গার্লফ্রেন্ডের জন্য, কারণ ওঁর গার্লফ্রেন্ড আমেরিকায় থাকতো, আর একটা পেস্টিসাইড কোম্পানিতে কাজ করতো, তাই প্যারাকুয়েট পাওয়াও অসম্ভব ছিল না!… আর সেই প্যারাকুয়েট দিয়েই অনিকের হত্যা করা হয়।

বাবা – হুম, আর?

আমি – যেইদিন খুন হয় অনিক, সেইদিনেও অনিকের কাছে সেই মেয়েটি আসে, আর অনিকের সাথে সঙ্গম করে, অনিককে প্যারাকুয়েট দিয়ে চলে যায়। তনুশ্রী মেয়েটিকে চিনতো, তাই সে এতে কনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। পরে দেখা যায় যে অনিক আর উঠছে না। … তখন ডাকাডাকি, পুলিশ ইত্যাদির আগমন। … আর সব শেষে, তনুশ্রী গ্রেফতার, আর তনুশ্রী নিজেও ভাবতে থাকলো যে তাঁর সেফটিপিনের জন্যই অনিক খুন হয়। …

বাবা – বেশ, আর ?

আমি – তনুশ্রী জানতোও না, আর ভাবতেও পারেনি যে সেই মেয়েটি অনিকের খুন করেছে। … আর তাই যখন আমাদের থেকে জানলো যে যার সাথে অনিকের সঙ্গম হয়েছে, তার কারণেই ওঁর মৃত্যু হয়েছে, তখন যেন সে নিজের কানকেই নিজে বিশ্বাস করতে পারলো না।

বাবা – হুম! … এর কারণ কি? … মানে এই অবাক হওয়ার কারণ কি?

আমি – উমম, তনুশ্রীর কি সে খুব ঘনিষ্ঠ, আর তাই সে এমন কাজ করতে পারে, ভাবতেই পারছিল না তনুশ্রী! … দাঁড়াও দাঁড়াও, তনুশ্রীর খুব ঘনিষ্ঠ তো মহিমা আর রিম্পি। আর রিম্পি সেই কথা আমাদের বললেও, মহিমা কিন্তু সেই ব্যাপারটা আমাদের থেকে দিব্যি চেপে গেল। তাই না!

বাবা – হুম, গুড এনাফ। … তবে কিছু একটা এখনো মিস করছি আমরা। … একটা জিনিস ভাব, যে মহিমাকে সুনা বলবে, সে মহিমাকে সব সময়েই তো সুনা বলে ফেলবে না! … মানুষের স্বভাব। … কিন্তু রিম্পির সামনে একবারও সুনা বলে ডাকলো না! … এটা কি একটা অবাক করা কথা নয়! … আর ভেবে দেখ, সোনা বলতো, হুম অনেক প্রেমিকই তাঁর প্রেমিকাকে এই নামে ডাকে বা উল্টোটাও হয়। … কিন্তু সুনা!

আমি – ভারতীয় ছিল মেয়েটা! …

বাবা – হুম, নাহলে এই দেশে এলো কেন? শুধুই অনিককে মারার জন্য পাসপোর্ট ভিসা নিয়ে, লাখ টাকা খরচ করে এলো! অনিক এমনও বড় কনো সেলিব্রিটি নয়। …

আমি – তাহলে?

বাবা – হুম সেটাই তো ভাবাচ্ছে! … আচ্ছা আমাদের কাছে সুনা নামটা আছে, আর কি জানি ওঁর গার্লফ্রেন্ডের সম্বন্ধে! …

আমি – হাতে ট্যাটু রয়েছে, মানে ওই ছবি থেকে দেখলাম না!

বাবা – হ্যাঁ হ্যাঁ, ভেরি ভেরি গুড। … আচ্ছা, তুই একটা কাজ করতো, একটু যা তো, মায়ের হাতে হাতে একটু রান্না কর। … আর শোন, যাবার সময়ে ঘরের লাইটটা বন্ধ করে ডিম লাইটটা জ্বালিয়ে, দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে যাস!

বাবা যেমনটা বললেন, তেমনটাই করলাম। বাবা এবার কিছু গভীর চিন্তা করবেন, কিন্তু এমন আকস্মিক কেন? ট্যাটুর কথা বলতে, বাবা এমন ভাবে রিয়েক্ট করেলেন কেন?

পৃষ্ঠা: 1 2 3 4 5 6 7 8