পঞ্চম পর্ব – গার্লফ্রেন্ড
বাবা – সকিং ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন। … উমম… তথ্যটায় ও চমকে গেছে, এটা নিশ্চিত। … মানে অনেক কিছু হতে পারে, তবে একটা জিনিস আমি তনুশ্রীর ওই এক্সপ্রেশন থেকে বুঝতে পারলাম যে, যার সাথে শেষ মুহূর্তে যৌনসঙ্গম হয়েছিল অনিকের, সে-ই অনিকের খুনি, মানে সে-ই অনিককে ওই প্যারাকুয়েট দিয়েছিল।
আমি – হুম, কিন্তু সেই মহিলাটি কে?
বাবা – অনিকের সেই আমেরিকার গার্লফ্রেন্ড। …
আমি – হাউ ক্যান ইউ বি সো শিয়র?
বাবা – অনিক দুশ্চরিত্র ছিলনা; না আমেরিকাতে, না এখানে। … এর অর্থ, অন্য কনো দ্বিতীয়স্ত্রীর সাথে অনিকের সম্পর্ক ছিল না। … তারমানে, যৌনসঙ্গমও সেই মহিলার সাথেই হয়েছিল। আর সেই মহিলা অনিককে বিষ দেয়, তাও সেই বিষ, যা এই দেশের বড় বড় উকিলরা জানেও না, এবং ছুঁচ ফুটিয়ে দেয় কানের পিছনে! … উম সেটাই কি? নাকি অনিকের কানে ছুঁচটা ফোটানো আগেই হয়েছিল?
একটু থেমে থেকে, বাবা বললেন – একবার রিপোর্টটা দেতো পোস্ট মর্টেমের।
আমি রিপোর্টটা দিতে, চোখ বুলিয়ে বললেন বাবা – মৃত্যুর ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা আগে। … ঈশ, এটা যদি আগে দেখতাম, তাহলে তনুশ্রীকে আরেকটা প্রশ্ন করার ছিল, সে এই ছুঁচ ফোটার পর অনিকের চ্যাঁচানো শুনেছে কিনা। … ঈশ খুব ভুল হয়ে গেল বুঝলি।
আমি – আর তো তনুশ্রীর সাথে দেখাও করা যাবেনা। এবার …
আচমকা একটা বুদ্ধি এসে গেল মাথায়, তাই একটু উত্তেজিত হয়ে বললাম – আরেকটা উপায় আছে!
বাবা – কি?
আমি – মলয় ভদ্র।
বাবা – রাইট। চল, একবার উনার সাথে দেখা করে আসি।
আমরা অ্যাপয়েন্টমেন্ট না নিয়েই চলে গেছিলাম। কিন্তু দেখা হলো না। উনি নাকি স্ত্রীকে নিয়ে বেড়াতে গেছেন বারবিল, উড়িষ্যায়। আজ রাতেই নাকি ফিরবেন। …
দেখা হলো না, তবে কিছু কাজ হয়ে গেল। বাড়িতে একটা কাজের মহিলা ছিলেন। সবসময়ের কাজের লোক। প্রশ্ন করাতে তাঁর থেকে জানা গেল যে, মলয় ভদ্র, যেমন মুকুল বলেছিল, একজন বড় ইঞ্জিনিয়ার। আর উনার স্ত্রীর কোম্পানিতেই উনি কাজ করেন, যেখানে উনার স্ত্রী সফটওয়্যার বিক্রি করেন, বড় বড় কোম্পানিগুলোতে। … প্রশ্ন করা হলো, কতদিন ধরে দাদাবাবু চেনেন ম্যাডামকে?
তার উত্তরে এল এই কথা যে, তিনি এই দুই বছর কিছুমাস হয়েছে কাজ করছেন, আর মলয়ের বিয়ে তার আগে হয়ে গেছে। প্রশ্ন করাতে এও জানা গেল, উনার আগে কনো কাজের লোক উনি যতটা জানেন, ছিলনা।
বাবা সমস্ত কিছু তথ্য নিয়ে, সোফার উপর পা ছড়িয়ে বসে একটা সিগারেটের টান মারতে মারতে বললেন – তনুশ্রী অনিকের গার্লফ্রেন্ডকে চেনে। আমেরিকাতেও তাকে দেখেছে, আর এখানেও। … অনিক আর সেই গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গমকে মৃত্যুর আগে হতেও দেখেছে তনুশ্রী। কিন্তু তনুশ্রী যেটা ভাবতে পারছে না, সেটা হলো এই যে, সেই গার্লফ্রেন্ডই অনিককে খুন করেছে।
আমি বললাম – আর সেই জন্যই যৌনসঙ্গমের পরেই মৃত্যু হয়েছে, এই তথ্যটা শুনে চমকে যায় তনুশ্রী!
বাবা – হুম, আর শুধু তাই নয়, যখন তনুশ্রীর উকিল এই যৌননির্যাতনের কথা বলে তনুশ্রীর সাজার সময় কমান, তখন সৌরভ পণ্ডিত কিন্তু তার প্রতিবাদ করেন না, কারণ তিনি পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট দেখেছেন আর পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে স্পষ্ট ভাবে এই কথাটা লেখাও দেখেছেন। আর শুধু সৌরভ পণ্ডিতই বা কেন, জজসাহেবও সেই একি জিনিস রিপোর্টে দেখেছেন, তাই একটি নারীর চরিত্র নিয়ে টানাটানি না করার জন্য, সকলেই ধরে নেন, তনুশ্রীর উকিলের কথাকে ধরে যে পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে যেই স্ত্রীর যৌনাঙ্গের অবশেষ পাওয়া গেছে বলে রিপোর্ট দাবি করেছে, সেটা তনুশ্রীরই।
আমি বললাম – কিন্তু তনুশ্রী সেই রিপোর্ট দেখেনি, তাই ও ভেবে গেছে যে উকিল সাহেব শুধু ওকে বাঁচানোর জন্য ওঁর অপ্রিয় এই মিথ্যা বলে গেল। … কিন্তু আসল কথাটা আজ তোমার মুখ থেকে শুনে, ও ঘাবড়ে গেল। অর্থাৎ ও খুনিকে চেনে, আর যাকে খুনি বলে চেনে, তাকে খুনি ভাবতেই কি ও…!
বাবা বললেন – হ্যাঁ, ঠিক তাই। তনুশ্রী নিজে খুনি নয় জানলেও, এমন ধরে নেয় যে, উকিল সাহেব চেষ্টা করেও ওকে বাঁচাতে পারেনি, যেটা সত্যিও। কিন্তু খুনিকে ও চেনে, আর সে যে খুন করেছে, সেটা ও ভাবতেও পারছে না। আর অনিক দুশ্চরিত্র নয়, এখানেও নয়, আমেরিকাতেও নয়, মানে অনিকের সাথে যৌনমিলন কেবলই তার গার্লফ্রেন্ডের হয়েছে। … আর সেই গার্লফ্রেন্ডই নিজে অনিককে খুন করে, চুপ করে তনুশ্রীকে খুনি প্রমাণিত হতে দেখে, মজা নিয়েছে।
আমি – হ্যাঁ, কেস তো শলভ হয়েই গেল। কালকে সকালে মলয় বাবুর সাথে দেখা করলেই তো অনিকের গার্লফ্রেন্ডের হদিস পেয়ে যাবো। … ব্যাস কেস শেষ।
পরেরদিন সকালের অপেক্ষা আমি আর বাবা দুইজনেই করছিলাম যেন। সকাল হতেই। ব্রেকফাস্ট করে, সরাসরি মলয়বাবুর বাড়ি চলে গেলাম।
