আক্রোশ | রহস্য গল্প

আমরা স্পটে গেলাম। স্পটটা হলো টালার ভাগার। প্রতিবারই লাশ এমন কনো ভাগারেই পাওয়া যায়, আগেই সেটা জেনেছি। … এবারে যে খুন হয়েছে, সে হলো রানাঘাটের বিডিওর মেয়ে, বীণা সাহা। … এও কৃতি ছাত্রী। ফার্স্ট হয়, এবারে সেকেন্ড হয়েছিল। বাকিটা একই, চারটে আঙুল কাটা। একিভাবে ঘুম পারিয়ে, গলার নলি কেটে খুন। … স্কুলের নাম বালিগঞ্জ শিক্ষাসদন।

স্কুলে কালকে নার্সারি সো ছিল। পাঁচটা সংস্থা এসেছিল সো করতে। … একজন মালিকের গাড়ি মালিকের কাছে পৌছায়নি। সেই গাড়ি এই ভাগারের পাসেই পার্ক করা ছিল। আর স্কুলের বাথরুম থেকে কিচ্ছু পাওয়া যায়নি এবারে। খবর নিয়ে জানা গেল যে, যিনি সো দেখাতে এসেছিলেন, তিনি বহুদিনের কর্মী, পাঞ্জাবী মহিলা। গায়ের রঙ ফরসা, চেহারা ভারি, আর উচ্চতা ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি। … আর খবর নিতে জানা গেল যে, আসল কর্মী পরশু রাত্রে হসপিটালে এডমিট হয়েছে। মাথায় কিছু ভারি জিনিস দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। এখনো সেন্স ফেরেনি। … অর্থাৎ যিনি সো দেখাতে গেছিলেন, তিনিই আততায়ী।

রথিনকাকা আজ সন্ধ্যায় বাবার কাছে এসেছেন। খুব চিন্তিত। বলছেন – কি করে যে সমাধান সুত্রে পৌঁছান যায়, কিচ্ছু মাথায় ঢুকছে না বিজয়! … আমাদের চোখের সামনে, নাকের ডগা দিয়ে খুনি পালিয়ে যাচ্ছে, আর আমরা কিচ্ছু করতে পারছিনা। … কোথা থেকে আসছে! … কি ভাবে খবর পাচ্ছে!… কনো কিচ্ছু বুঝতে পারছিনা! … শুধু কি ভাবে খুন করছে, সেটা জানছি, আর কিচ্ছু করার নেই, তাই বসে থাকছি!

বাবা – ভারতীয় বিদ্যাভবন, স্কুলে সায়েন্স সো, পুরো প্ল্যান করে প্রস্থেটিক্স করা একজন এলেন, বাথরুমে ঘুম পারালেন বাচ্চাকে, কিট ব্যাগে ভরে নিয়ে চলে গেলেন, মেরে ফেললেন। … পাঠভবন, স্কুলে ফুড ফেস্ট, আবারও পুরো প্ল্যান করা, প্রথেটিক্সের সাহায্য নিয়ে বাথরুম থেকে ঘুম পারিয়ে চাউমিনের ব্যাগে করে নিয়ে চলে গেলেন। … বিজরিয়ার ছেলে, সেন্ট থমাস, ম্যাজিক সো, … ম্যাজিকের সরঞ্জাম বাথরুমে খালি করে, তাতে করে… আর এখানে, বালিগঞ্জ শিক্ষাসদন নার্সারি সো। … গাড়ি আছে, তাই কিচ্ছু খালি করতে হয়নি বাথরুমে!

 রথিনকাকা – এবার কি শহরের সমস্ত ৫ফুট ৯ ইঞ্চির ভারিসাস্থের সমস্ত মানুষকে কাস্টডিতে নেব! … সম্ভব এটা! … নাকি, সমস্ত স্কুলে, সমস্ত প্রগাম ক্যান্সেল করা বন্ধ করার অর্ডার দেওয়া হবে! … কি করবো, আমার মাথায় কিচ্ছু ঢুকছে না!… একটা স্কুলও নয় যে হ্যাঁ স্কুলের ম্যানেজমেন্টকে …

বাবা – স্কুল এক না হতেই পারে, কিন্তু স্কুলে প্রভাইড করা হাউজকিপিং স্টাফ, বা … বা … হ্যাঁ, রথিন একটা জিনিস খেয়াল করেছ! … সমস্ত বাচ্চা, যারা খুন হয়েছে, তারা স্কুল বাসে যাতায়াত করতো! … মে বি… মে বি, এটাই সেই যোগসূত্র। … রথিন, চারটে বাসের ডিটেলস বার করো। … দেখো তো, এই চারটে বাসের মধ্যে কনো কানেকশন আছে কিনা। … সমস্ত কানেকশন দেখবে। … এমন কি বাস কার নামে রেজিস্টার্ড, সেটাও দেখবে। … ফাস্ট রথিন। … আমার মন বলছে, সমাধান সূত্র পেয়ে গেছি। মুভ।

রথিনকাকা তাড়াতাড়ি বেড়িয়ে গেলেন। … সন্ধ্যার মধ্যে খবর দিলেন – বিজয়, ইউ অয়ের কারেক্ট। … চারটে বাসের মালিকই সম্রাট গিল।

বাবা – হুম, পাঞ্জাবী। … এড্রেস পেয়েছ? …

রথিন – না, এখনো পাইনি। বাসের ড্রাইভারদের তুলে আনতে বলেছি। … আজই জেরা করে এড্রেস পেয়ে যাবো।

বাবা – আমি আসছি অফিসে।

আমি আর বাবা বেড়িয়ে গেলাম। রাত্রি তখন ৯টা। … ড্রাইভারদের সবাইকে তুলে আনা হলো প্রায় ১২টায়। … জিজ্ঞাসাবাদ করতে জানা গেল এড্রেস। নিউটাউন ন্যাকা ২। … চেহারার হদিশও পাওয়া গেছে, ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি, ভারি চেহারা, ফরসা। … কিন্তু মুখে চাপ দাড়ি আর মাথায় পাগড়ী।

রথিনকাকা বিশাল ফোর্স নিয়ে, আমাদেরকে নিয়ে ছুটলেন নিউটাউন। ঘর খুঁজতে খুব দেরি হয়নি। নিউটাউন প্ল্যান সিটি বলেই হয়তো। … আমাদের সমস্ত গাড়ি বাড়িটার থেকে একজিটের সমস্ত রাস্তা ব্লক করে দিল। আমরা চলে গেলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে। সামনে গিয়ে দেখি দরজা খোলা। আমরা তাড়াতাড়ি দরজা দিয়ে ভিতরে ঢুকে একটা গোঙানির আওয়াজ পেলাম।

গোঙানির আওয়াজ ফলো করে, আমরা যেখানে পৌঁছলাম, সেখানে দেখলাম একটা লোক কাতরাচ্ছেন। মাথাকপাল রক্তময়। আমরা তাড়াতাড়ি কাছে গিয়ে দেখলাম, মিস্টার চাড্ডা। … কেউ ভারি কিছু দিয়ে উনার মাথায় আঘাত করেছে। উনাকে তড়িঘড়ি বসানো হলো। ইনিশিয়াল ট্রিটমেন্টের জন্য ডাক্তার এসে, ট্রিটমেন্ট করলেন। ঘরের তল্লাসি নিয়ে, একটা বাচ্চা পাওয়া গেছে। ট্র্যাঙ্কুইলাজার দেওয়া হয়েছে বাচ্চাটাকে। এখনো ঘুম ভাঙেনি বাচ্চার।

মিস্টার চাড্ডার হুঁশ এসেছে। … বাবা প্রশ্ন করলেন – মিস্টার চাড্ডা, আপনি এখানে কি কারণে?

মিস্টার চাড্ডা – আমার পোতা কাহা হে!

বাবা – ট্যাঙ্কুলাজার দিয়েছে কেউ। ঘুমাচ্ছে। হি ঈশ সেফ। … আপনি কি …

মিস্টার চাড্ডা – আমার পোতা, আজ স্কুল থেকে বাড়ি ফেরেনি। … স্কুলে ফোন করে জানলাম, বাসে উঠেছে। বাসের ড্রাইভারকে ফোন করে জানলাম, বাসের মালিক ওকে হুমকি দিয়ে, ওর কাছে বাচ্চাকে দিয়ে যেতে বলেছে। সে তাকে দিয়ে ফিরছে। … বাড়ির মালিকের এড্রেস জেনে, আমি এখানে চলে আসি। বাড়িতে একটা গাড়ি পারকিং করা ছিল। নাম্বারটা ডাবলু বি ০৪ডি ৫৪৬২ … ঘরে ঢুকতে দেখলাম আমার পোতা আসতে আসতে ঘুমের দেশে চলে যাচ্ছে। … আমি ওকে জাগানোর চেষ্টা করলাম, আর সেই সময়ে আমার মাথায় প্রচণ্ড ভারি জিনিস দিয়ে কেউ আঘাত করলো। … পিছন ঘুরে একজন পাগড়ী পরা, দাড়ি দেওয়া লোককে দেখতে পেলাম, কিন্তু তারপর আপনাদের দেখলাম।

বাবা – হুম, আচ্ছা আপনার নাতি তো ইস্কুলে ফার্স্ট হতো না, তাই না!

মিস্টার চাড্ডা – না, ক্লাস ফাইভের মামুলি স্টুডেন্ট। পড়াশুনায় মন নেই একদম। … বাট, তাতে কি!

বাবা – হুম… না না … কিছু নয়। … (ফিসফিস করে) সিরিয়াল ব্রেক! কিন্তু কেন?

বাড়ির বিভিন্ন ঘরের তল্লাসি নিতে থাকলেন রথিনকাকু ও আরো কিছু সিনিয়ার সিয়াইডি অফিসার, আর বাবাও। খানিক পরে বাবা একটা ঘর থেকে, হাতে একটা কিছু নিয়ে এসে দেখিয়ে বললেন – মিস্টার চাড্ডা! আপনি এই লোকটাকে দেখেছিলেন!

মিস্টার চাড্ডা একটু চোখ এদিক সেদিক করে, দেখে বললেন – এই রকমই কিছু। পাগড়ীটা এই রঙেরই ছিল।

রথিন কাকা – তারমানে, সম্রাট গিলও ভুয়ো!

বাবা – হুম তাই তো দেখা যাচ্ছে।

এই বলে বাবা বসে পরলেন, খানিকক্ষণ। … তারপর হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে পরলেন। আবার মিস্টার চাড্ডার কাছে এসে প্রশ্ন করলেন – আচ্ছা, আপনার নাতি, মানে বড়মেয়ের ছেলে যেন শিলিগুড়ির কোন স্কুলে পড়তো! …

মিস্টার চাড্ডা – শিলিগুড়ি সেন্ট জেভিয়ারস।

বাবা আবার বসে পরলেন সোফাতে। তবে এবার বাবার মুখের ভাব পালটে গেল। একটা মুচকি হেসে বললেন উনি – মিস্টার চাড্ডা, আপনাকে এখানে পেয়ে যাবো ভাবিনি। আসলে, আপনাকে খুব শীঘ্রই আমি কন্ট্যাক্ট করতাম। … আপনার জন্য একটা ভালো খবর আছে। … আপনার ছোট মেয়ে, কি যেন নাম … ডক্টর সুনেইনা চাড্ডা, তাই না। … হ্যাঁ, গাইনোকলজিস্ট। … উনাকে পাওয়া গেছে। আপনার শিলিগুড়ির বাংলোতেই আছেন উনি। … আপনি নিজের এড্রেসে না দেখে, এদিক সেদিক কোথায় কোথায় খুঁজছিলেন উনাকে। …

মিস্টার চাড্ডা (আনন্দের সাথে) – আর ইউ শিওর!

বাবা – হ্যাঁ একদম। পাক্কা খবর। আচ্ছা, রথিন, শঙ্করের সাথে মিস্টার চাড্ডাকে শিলিগুড়ি পাঠিয়ে দাও। সঙ্গে তিনটি ড্রাইভারও পাঠিও। … এক্কেবারে মিস্টার চাড্ডা নিজের মেয়েকে নিয়েই এখানে ফিরবেন। …

রথিনকাকা একটু বিরক্ত হয়ে – হ্যাঁ দিচ্ছি। কিন্তু তিনটে ড্রাইভার কি হবে?

বাবা – বা রে, এতটা পথ, একজন চালিয়ে যাবে, একজন চালিয়ে আসবে। … আর উনার মেয়েও তো এখান থেকে ফিরবেন না কি! … তাই উনার গাড়িটাও তো কেউ চালিয়ে নিয়ে আসবে। … বাবার সাথে এতদিন পরে দেখা। বাবার সাথে থাকবে না গাড়ি চালাবে। … রথিন তোমারও না, এইসব কাজ করতে করতে, ফ্যামিলি সেন্সটা পুরো চলে গেছে। … যাও যাও, তাড়াতাড়ি করো… শঙ্করকে পাঠিয়ে দাও। … অনেকদিন ওখানে আছেন। আবার ওখান থেকে চলে গেলে, আবার খুঁজে পাওয়া যাবেনা। …

রথিনকাকা বাবা যেমন বললেন, সেটা খুব বিরক্তির সাথে করলেন। তারপর বাবার সামনে এসে বললেন – এবার কি! আততায়ী আমাদের হাতে এসেও …

বাবা – হুম, … আবার কি … অপেক্ষা। আবার কবে একটা ক্রাইম করবে, তারপর মুভ করা যাবে। …

রথিনকাকা চেঁচিয়ে উঠলেন – কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীকে আমি কি জবাব দেব! …

বাবা – হুম, আজ, কাল … এই শঙ্কর, কালকের বিকেলের মধ্যে তুমি ফিরে যাবে, তাই না!

শঙ্কর – হ্যাঁ স্যার। একদম।

বাবা – ভবানীভবনে একবারে হ্যাঁ। ডক্টর চাড্ডা একজন গাইনো। এই কেসে একজন গাইনোর খুব দরকার। … নাহলে একটা ছেলে আর মেয়ের গণ্ডগোল থেকেই যাচ্ছে। … বি ফাস্ট, ঠিক হে!

শঙ্কর – ওকে স্যার।

রথিনকাকাকে এতটা বাজে ভাবে বাবার সাথে কথা বলতে কনোদিন শুনিনি। উনি চেঁচিয়ে উঠে বললেন – ওই শালা চাড্ডাকে ছাড়ো বিজয়। কন্সেন্ট্রেট অণ ডা মেন কেস!

বাবা – আরে দাঁড়াও দাঁড়াও। … সিরিয়াল কিলিঙের কেস কি অত সহজে শলভ হয় নাকি! … তুমি এক কাজ করো, কাল রাত্রি ৮টায়, একবার মিসেস মাহাতো, মিস্টার মহাপাত্র, মিস্টার বিজরিয়া, মিস্টার সাহা, আর মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে একটা মিটিং ডাকো। … তোমাকে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কিচ্ছু বলে মেনেজ করতে হবে না। … আমি কথা বলে নেব। ঠিক আছে। … আমার আর একটু সময় লাগবে। … খুব শীঘ্রই আততায়ী আরো একটা খুন করার চেষ্টা করবে। আর আমরা ওকে ধরে ফেলবো।

রথিনকাকা – কিন্তু কি করে? যেই মুখোস পরে ও কাজগুলো করছিলো, সেটা ও ছেড়ে দিয়েছে। … এবার ও নতুন মুখোস ধরবে। … বিজয়, এটা ছেলেখেলা হচ্ছেনা। … এখানে একটা একটা করে প্রাণ চলে যাচ্ছে। … আর ইউ আন্ডারস্ট্যান্ডিং ড্যাট!

বাবা – রথিন, ট্রাস্ট মি। আমরা শেষের দিকে এসে গেছি এই কেসের।

রথিনকাকা – না বিজয়, আমারই এখানে তোমাকে ইনক্লুড করা ঠিক হয়নি। ট্রাফিকিং একরকম, চুরি বা একটা খুন একরকম। সিরিয়াল কিলিং আমরা কেউ ধরতে পারিনি, তুমি ধরে দিয়েছ; তারজন্য থ্যাঙ্ক ইউ। … বাট, আমারই ভুল হয়েছে; সিরিয়াল কিলিং মানে মৃত্যুর তাণ্ডব। … সেখানে আমার তোমাকে ইনক্লুড করা ঠিক হয়নি।

বাবা রথিনকাকার কাঁধে হাত রেখে বললেন – তুমি এখন বাড়ি যাও রথিন। কাল আর্লি মর্নিং আমি তোমাকে ফোনে কিছু কথা বলছি। … এখন তুমি অত্যন্ত ডিস্টার্বড আছো। … কালকে সকালে যা বলবো, সেটা শুনলে, তুমিও বুঝে যাবে আমরা কেসের শেষের দিকে আছি। … খুব বেশি হলে আর একটা লাশ পরবে, বা সেটাকেও আমরা আটকে দিতে পারবো। … বিলিভ মি। … নাউ প্লিজ গো হোম।

আমি আর বাবাও চলে এলাম। বাবাকে বেশ রিল্যাক্সড দেখাচ্ছে। কেন, বুঝলাম না। … বাড়ি এলাম তখন রাত্রি তিনটে। খুব ঘুম পেয়েছিল, শুয়ে পরলাম। আর মনে মনে বললাম, ঠাকুর কাল সকাল সকাল তুলে দিও। বাবা রথিনকাকাকে কি বলে আমার শুনতে হবে।

সকালে আমি যেমন উঠি, তার থেকে আগেই উঠলাম। বাবার সন্ধান করলাম। বাবা ব্যালকনিতে। কাছে যেতেই বাবা ফোন কেটে দিলো। শেষ কথাটা শুনতে পেলাম খালি। বাই আর হ্যাঁ, সন্ধ্যায় এসো কিন্তু, উইথ ডিটেলস। … আর হ্যাঁ, থ্যাঙ্ক ইউ অতনু।

অতনু আঙ্কেল! … বাবার তো রথিনকাকাকে ফোন করার ছিল!

বাবাকে কিছু প্রশ্নও করতে পারলাম না, কারণ লুকিয়ে লুকিয়ে শুনতে এসেছিলাম। তাই সন্ধ্যার অপেক্ষা করলাম। বাবা এই প্রথম একটা মিটিং করতে চলেছেন, যেই মিটিংএর উদ্দেশ্য হলো আততায়ীকে ধরার ছক করার জন্য। … বুঝলাম, অত্যন্তই জটিল কেস।

পৃষ্ঠা: 1 2 3 4 5