দ্বিতীয় পর্ব – গোলটেবিল বৈঠক
মা আর বিদিপ্তাদিদি, চা আর তেলেভাজা নিয়ে, দাড়িয়ে দাড়িয়ে, আমাদের দুইজনের দিকে একটা মা-মা হাসি দিলেন। … তেলেভাজা দেখে আমি লাফিয়ে উঠে বললাম – এরমধ্যে তেলেভাজা করা হয়েও গেল?
বাবা – তোদের এসে খিদে পেয়ে যাবে বলে, দিদি (বিদিপ্তাদিদি) তেলেভাজা করে রেখেছিলেন।
আমরা সকলে মিলে চা আর মুড়িতে সামান্য তেল দিয়ে, তেলেভাজা দিয়ে বেশ জমিয়ে জমিয়ে খেলাম। বাবা একদাম চুপ। মা বললেন – কি গো, এমন চুপ করে আছো কেন?
বাবা – মনের ভিতরটা কেমন যেন খচখচ করছে মধু। … এই কেসে নামলে, কতগুলো প্রাণ বলি যাবে, কে জানে? … এখানে তো খুন হয়, ১২ বছরে বাচ্চার। মানে, কতগুলো মায়ের কোল খালি হয়ে যাবে! … মনটা ভারি ভারি লাগছে।
বিদিপ্তাদিদি – কর্ম ছাড়া কি কর্মফল হয়?
বাবা – না দিদি, কর্ম তো আসলে কর্মের অর্ধেক মাত্র; কর্ম তো সম্পূর্ণই হয় কর্মফল নিয়ে।
বিদিপ্তাদিদি – কেউ কি কারুকে মারতে পারে?
বাবা – না দিদি, তাও পারেনা। … না তো কেউ কারুকে জন্ম দিতে পারে, না বিয়ে দিতে পারে আর না মারতে পারে। … জন্ম তো আমরা কেবলই এই শরীরের দিই, তাও ভগবতী যদি নিজের সন্তানকে দেহ নিতে প্রেরণ করেন, তবেই সেই দেহ গঠন সম্ভব হতে পারে। এই দেহ যে চেতনার আধার। আত্মা যে চেতনার রাজপোশাক; মন-বুদ্ধি-প্রাণ-উর্জ্জা-শরীর এই পঞ্চভূত যে চেতনার অর্থাৎ ভগবতীর মন্দিরের পাঁচটি খিলেন।… চেতনা অর্থাৎ ব্রহ্মময়ী চাইলে তবেই এই মন্দির গঠিত হয় অর্থাৎ শিশুর জন্ম হয়; তিনি চাইলে, তবেই এই শরীর নিজের সাথে সর্বক্ষণ অন্য আরেকটা শরীরকে রাখেন; আর তিনি চাইলে তবেই এই মন্দিরের নাশ হয়।
মা – কিন্তু ব্রহ্মময়ী কেন বলছো তুমি? … ব্রহ্ম কেন বলছো না?
বাবা – তিনি অব্যাক্ত মধু। … যতক্ষণ তাঁর ব্যাখ্যা করার স্পর্ধা আমরা দেখাই, ততক্ষণ তিনি ব্রহ্মময়ী, আর যখন সেই স্পর্ধা দেখাবার সাহস করতে পারিনা, তখন তিনিই ব্রহ্ম।
বিদিপ্তাদিদি – তাহলে, যেই প্রাণের উপর তোমার কনো নিয়ন্ত্রণই নেই, এমনকি যিনি আততায়ী, তাঁরও নিয়ন্ত্রণ নেই, তার প্রাণের প্রতি আসক্তি কেন দেখাচ্ছ বিজয়? … সেই মন্দির গঠনও হয়েছে, তাঁর ইচ্ছায়; আর সেই মন্দির থেকে রাজপোশাক অর্থাৎ আত্মায় জরিয়ে চেতনা মুক্তও হবেন, তাঁরই ইচ্ছায়। … তবে তুমি তাতে হস্তক্ষেপ করার স্পর্ধা কোন অধিকারে দেখাচ্ছ?
বাবা – ঠিকই কথা দিদি। … কিন্তু আমাকে একটা কথা বলো। … জানি যে, যিনি খোরা, যিনি বোবা, যিনি অন্ধ, সমস্তই তাঁরই কর্মের ফল। কিন্তু তাবলে কি অন্ধের জন্য মন কাঁদবে না!
দিদি – যার জ্ঞান বলে মন সত্য, তাঁরই মন কাঁদবে। … যদি তোমার জ্ঞান তোমাকে বলে যে চেতনা নয়, চেতনা যেই রাজপোশাক পরে থাকে, সেই আত্মা সত্য, তবে আত্মার রোদনও সত্য। তোমার জ্ঞান যদি বলে, চেতনা নয়, চেতনা আত্মারূপ রাজপোশাক পরে যেই রাজপ্রাসাদে থাকেন, সেই রাজপ্রাসাদের পাঁচ খিলেন, অর্থাৎ পঞ্চভুত সত্য, তবে তাঁদের রোদনও সত্য। … আর যদি তোমার জ্ঞান বলে যে, এক চেতনাই সত্য, এক সেই সনাতন। … রাজপোশাক আত্মাও তাঁরই মধ্যে শেষে বিলীন হয়ে গিয়ে নিজের পৃথক অস্তিত্বের ভ্রম হারায়। যদি তোমার জ্ঞান বলে, এক চেতনাই সেই পরমশূন্য পরব্রহ্ম, বাকি সমস্ত পঞ্চভূত তাঁর ধারনা করার জন্যই অস্তিত্বে এসেছিল, আর ধারনা হয়ে গেলেই, তাঁতে মিশে যায়, তাহলে সমস্ত পঞ্চভূতের ব্যাথা কি সত্য থাকে?
বাবা – না থাকেনা দিদি। … ঠিকই বলেছ। অকারণই দুর্বল হয়ে পড়ছিলাম। আততায়ী খুনের চেষ্টা করতে পারে, কিন্তু মৃত্যু হবে না হবেনা, তা নির্ভর করছে, সেই ভিক্টিমের দেহমন্দির থেকে পরব্রহ্ম পরম চেতনা মুক্ত হবে না হবেনা, তার উপর। তাই যে প্রাণ আমরা কারুকে দিতেও পারিনা, নিতেও পারিনা। দুই ক্ষেত্রেই চেষ্টা করি আমরা, কিন্তু শুধুই চেষ্টা করতে পারি, এর বেশি কিছু নয়। প্রাণ তো বায়ুর কারণে নয়। অক্সিজেন মৃত মানুষের মধ্যে ফুঁকে দিলেও যে প্রাণ আসে না তাঁর। প্রাণ তখনই আসে কারুর মধ্যে, যখন তাঁর মধ্যে স্বয়ং ঈশ্বরী এসে চেতনাবেশে বিরাজ করেন আত্মারূপ রাজপোশাক ধারণ করে। … আমি একটু স্নান করি বুঝলে।
মা – স্নান করি মানে, এত ঠাণ্ডার মধ্যে এই ভর সন্ধ্যাবেলায় স্নান! … সামনেই কেস আছে, বড় কেস আশা করি। প্রচুর অনিয়ম হবে। এখন নয়। শোনো আমার কথাটা।
বাবা – একটু স্নান করতে দাও। … মনের মধ্যে, দেহের মধ্যে অনেক অজ্ঞানতা বাসা বেঁধেছে। ধুয়ে বার করে না দিলে জীবনটাই অহেতুক হয়ে যাবে।
মা কি বলবেন বুঝতে পারলেন না। এটা বলি কি সেটা বলি, এমন করে, শেষে বললেন। একটু গিজারটা চালিয়ে নাও। … গরম জলে স্নান করো।
দিদি একটা কথাও বললেন না। শুধু মা আর বাবার সহজ সম্পর্কটা দেখলেন আর মিটিমিটি হাসলেন। … মা দিদির দিকে তাকিয়ে, বাবাকে বোঝাতে অপারগ হয়েছেন, এমন একটা মুখ করলেন। দিদি হেসে বললেন – যাক স্নান করে নিক। হাল্কা হয়ে যাবে।
আমিও ঘরে চলে গিয়ে সোফায় বসে পরলাম। মনে একটাই কথা চলছিল – আমি কি ভাগ্যবান না! যেই সমস্ত গভীর সত্য মানুষ দেহের পর দেহ ধারণ করেও উপলব্ধি করতে পারেনা, আমার এই মা আর বাবার সন্তান হবার জন্য, নিত্য আমি সেই সমস্ত কথাই শুনি। কাঁধে একটা হাত অনুভব করলাম। দিদির হাত। মুখের দিকে তাকাতে দিদি বললেন – কনো কিছুই এমনি এমনি হয়না। কর্ম করেছ, তাই ফল পাচ্ছ।
দুদিন পরে, দুপুর ৩টের সময়ে ভবানীভবনে টাইম ফিক্স হলো। আমি আর বাবা গেলাম। বাবার পারমিশন নিয়ে, আমি আজ ড্রাইভ করেছি। বাবা বললেন, আমি উনার থেকে বেশি ভালো ড্রাইভ করি। শুনে খুব ভালো লাগলো। পৌঁছলাম ভবানীভবন। শঙ্করকাকু আমাদেরকে নিয়ে একটি ঘরে চলে গেলেন। ঘরের কাঁচের দরজা খুলতে, শুনতে পেলাম বিশাল হৈহৈ হচ্ছে ঘরের মধ্যে। … ঘরটা বোধহয় সাউন্ডপ্রুফ। বাইরে থেকে একটিও শব্দ আসছিল না।
বাবা একটু ইতস্তত করলেন ঘরে ঢুকতে। মুখ্যমন্ত্রী আর চোখে বাবার দিকে দেখে বললেন – আরে এসো বিজয়। তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।
একটি ভদ্রলোক চেঁচাচ্ছিলেন সেই ঘরে। মুখ্যমন্ত্রী উনার দিকে তাকিয়ে বললেন – আপনি এখন আসুন। একটা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে আলোচনা করার আছে আমাদের।
ভদ্রলোক এবার বাবার দিকে তাকিয়ে উঠে বললেন – বিজয়, মানে বিজয় সিংহ! … ওই সে, যে আশ্রম, তারপর সিনেমার স্টারদের, তারপর এই তো এলিয়ানদের কেস শলভ করেছে! …
রথিনকাকা বললেন – স্যার, আপনি একটু অপেক্ষা করুন। বিজয় আপনার কথা শুনবে। … আগে আমাদের একটা আলোচনাটা সেরে নিই।
ভদ্রলোক চেঁচিয়ে উঠে বললেন – আর কতদিন অপেক্ষা করবো আমি! … সাত বছর ধরে অপেক্ষা করেই তো রয়েছি। … আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই। ব্যাস। …
ভদ্রলোক পাগলের মত বাবার দিকে ছুটে এসে, বাবার হাতটা খপ করে ধরে নিয়ে বললেন – বিজয়, বিজয় … আমার মেয়েকে খুঁজে দাও, বিজয়।
মুখ্যমন্ত্রীর বোধহয় এবার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। … উনি চেঁচিয়ে উঠলেন এবার। আমি উনাকে এইভাবে মেজাজ হারাতে আগে কনোদিন দেখিনি। চেঁচিয়ে উনি বললেন – থ্রো ডিস ম্যান আউট ফ্রম হেয়ার।
সেই ভদ্রলোকও এবার চেঁচিয়ে উঠে বললেন – ইউ ক্যান-নট ডু ডিস টু মি। আই এম এন এক্স সিবিয়াই অফিসার। … আর আমার কাছে ইনফরমেশন আছে, আমার মেয়েকে এখানেই ওই হতচ্ছাড়া ডক্টরটা লুকিয়ে রেখেছে, ইয়েস এই বেঙ্গলেই। … আই ওয়িল কল প্রেস। … সবাইকে বলবো। আপনি একজন অপদার্থ চিফমিনিস্টার, আপনি আপনার রেস্পন্সিবিলিটি পালন করতেই জানেন না। … আমার মেয়েকে আপনার পশ্চিমবঙ্গে লূকিয়ে রাখা হয়েছে, আর আপনার পুলিশ, সিয়াইডি কেউ তাকে খোঁজার চেষ্টাই করছে না!
বাবা এবার মুখ খুললেন – স্যার, আপনি সাত বছর ওয়েট করেছেন তো। প্লিজ আর আধ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। … আমি আপনার কথা শুনবো। … স্যার শুধু আমাকে কিছু কথা বলবেন বলে, এখানে ছুটে এসেছেন। স্যারকে একটু ছেড়ে দিই। তারপর আপনার কথা শুনবো। আই প্রমিশ। … আর যা করলে, আপনার মেয়ে ফিরে আসবে, সেই চিন্তাও আমরা করবো। … আই কনফার্ম স্যার। … আপনি প্লিজ আধঘণ্টা একটু বসুন বাইরে। … আমি আপনার কাছে যাচ্ছি। … প্লিজ স্যার।
ভদ্রলোক এবার একটু শান্ত হলেন। বললেন – ঠিক আছে, তুমি বলেছ, তাই বসছি। আই ট্রাস্ট ইউ। আদারঅয়াইজ আই ট্রাস্ট নবডি অফ ডেম।
শঙ্করকাকু ভদ্রলোককে নয়ে গিয়ে বাইরে বসালেন। আমি আর বাবা এবার এসে টেবিলের পাশে দুটো খালি চেয়ারে বসলাম। আমাদের অপরিচিত একটিই লোক ছিলেন সেখানে। উনিই নিশ্চয়ই মিস্টার বিজরিয়া হবেন। … উনি মুখ্যমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন – এটা আবার কি কেস স্যান্যাল। তোমাকে ফলো করতে করতে, এখানে চলে এসেছে!
মুখ্যমন্ত্রী – আর বলো কেন! এ এক বিচিত্র কেস। ইনি একজন সিবিয়াই অফিসার। বছর তিনেক হয়েছে রিটায়ার করেছেন। যখন ক্রাইমটা হয়েছিল, তখন উনি সার্ভিসে। নিজে নিজের মেয়েকে খুঁজে বার করতে পারলো না, একজন সিনিয়ার সিবিয়াই অফিসার হয়ে, আমাদের কাছে এসে, মাথা নষ্ট করছে।
বিজরিয়া – ক্রাইম! … উনি যে বলছিলেন, মেয়ে নিখোঁজ!
মুখ্যমন্ত্রী – নিখোঁজ হবার আগে, অনেক রক্তপাত হয়েছে। … কি একটা বিদেশফেরত ডাক্তার আছে। সেই ডাক্তার নাকি ইনার বড়মেয়েকে আর বড়জামাইকে এসিড খাইয়ে মেরে ফেলেছে। তারপর, উনার ছোটমেয়েকে নিয়ে চম্পট দিয়েছে। … সাত বছর আগে থেকে নিখোঁজ। আজকে নাকি কি ভাবে ও খবর পেয়েছে যে ওর মেয়েকে এই বাংলায় আটকা রাখা হয়েছে। ব্যাস এখানে এসে হুজ্জতি শুরু করে দিয়েছে। … ছাড়ুন অসব ফালতু কেস … আলাপ করিয়ে দিই, এই হলো বিজয় সিংহ, আর ওর এসিস্ট্যান্ট কাম ডটার, মিলি সিংহ। … আর বিজয়, ইনি হলেন মিস্টার বিজরিয়া। … ইনারই ছেলে আজ থেকে এক বছর আগে খুন হয়েছিলেন। … কিন্তু সেই তদন্ত করেও আমরা কনো কুলকিনারা পাইনি।
বিজরিয়া – ওয়েট ওয়েট … ওয়েট ওয়ান মিনিট। … উনি কে? কনো প্রাইভেট ডিটেকটিভ, নাকি স্পেশাল টাস্ক ফোর্স!
বাবা – সরি স্যার, আমি এগুলোর একটিও নই। প্রফেসানালি, আমি একজন ফ্রিল্যান্স রিপোর্টার মাত্র।
বিজরিয়া চেয়ার ছেড়ে উঠে পরে, রেগে মেগে বললেন – আর ইউ অল জোকিং উইথ মি! … ডু আই লুক লাইক আ জোকার!… যেই কাজ পুরো পুলিশ ডিপার্টমেন্ট করতে পারলোনা, সিয়াইডি করতে পারলো না, সেই কাজ একজন রিপোর্টার করবে! … ইউ … ব্লাডি!
মুখ্যমন্ত্রী একটু গলা চড়িয়ে বললেন – মিস্টার বিজারিয়া।
একরকম ধমকই ছিল মুখ্যমন্ত্রীর কথাটা। আবার বললেন উনি – দেখুন মিস্টার বিজরিয়া, গলা চড়াবার চেষ্টা করবেন না। ভুলে যাবেন না আমি একজন পলিটিকাল লিডারও। কনো সঙ্গীত শিল্পী নই। গলা ফাটিয়ে স্লোগান দিয়েই আজ আমি এখানে। … তাই গলার জোর আমার আপনার থেকে অনেক বেশি। … আপনি একজনের সম্বন্ধে না জেনেই, এমন মন্তব্য করে দিলেন! … আপনি জানেন, বিজয় কে? … আপনি কি ভাবলেন! এমনি এমনি একটা রিপোর্টার আর তার মেয়েকে ডেকে নিয়ে এসে আমি এখানে চা খেয়ে ফুর্তি করতে এসছি!
বিজরিয়া এবার একটু থিতিয়ে গিয়ে বসলেন, তারপর মুখ্যমন্ত্রী রথিনকাকার দিকে তাকিয়ে বললেন – রথিন, বিজয়ের সম্বন্ধে উনাকে যা বলার আছে বলো।
রথিনকাকা, এবার মিস্টার বিজরিয়াকে বললেন – স্যার, পারসোনালি, ও আমার খুব কাছের বন্ধু। … তাছাড়া, আমাদের সম্পূর্ণ সিয়াইডি টিমকে ও লিড করে, আশ্রমে একটা ট্র্যাফিকিং কেস হচ্ছিল, সারা দেশ জুরে, সেটা সর্ট আউট করে। … আপনি ব্যস্ত মানুষ হয়তো, খবর রাখেন না এইসবের। … তারপরেও অনেক কেসে, যা পুলিশ আর আমরা সিয়াইডি পারিনি, সেটা কখনো আমাদেরকে লিড করে, আবার কখনো একাহাতে বিজয়ই শলভ করে। … স্যার, দাবি করে বলতে পারি, এই শহরে অন্তত, ওর থেকে বেটার কেউ নেই, যে আনশলভড্ কেস শলভ করতে পারে।
বিজরিয়া – রিসেন্টলি কি ও এলিয়ান কেস শলভ করেছে?
রথিনকাকা – হ্যাঁ স্যার, শুধু এলিয়ান নয়; পার্কসার্কাসের মৌলবি কেসের সমাধান করে রায়ট লাগা থেকে পুরো বাংলাকে বাঁচিয়েছে ও।
বিজরিয়া এবার বাবার দিকে তাকিয়ে বললেন – আই এম সরি সিন। … আসলে, আমার ওই একটাই ছেলে। … হি হ্যাজ বিন কিল্ড সো ব্রুটালি। … সিন্স ডেন, আই এম লস্ট।
বাবা – স্যার, আততায়ী কি আপনাকে কনো কল করে হুমকি বা কিডন্যাপ করার মূল্য, এইসব চেয়েছিল!
বিজরিয়া – না না না… ওইসব চাইলে তো বুঝতাম, আমারই কনো কম্পিটিটার, আমাকে ডাউন করার চেষ্টা করছে। … বাট, নো কলস, নাথিং। … একদিন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরলো না। … রাতে পুলিশে খবর, সকালে ওর (কেঁদে উঠে) ডেড বডি…
বাবা – এই একবছরে কনো কল বা মেইল, যাকে এই ঘটনার সাথে মিলিয়ে দেখা যেতে পারে!
বিজরিয়া – নো … নাথিং।
বাবা – হুম, কেমন ছিলো পড়াশুনায়, আপনার ছেলে!
বিজরিয়া – ব্রিলিয়ান্ট হি অয়াজ। … ক্লাসের ফার্স্ট বয় ছিলো। … ড্যাট অয়াজ ডা ফার্স্ট টাইম, হি স্টুড সেকেন্ড।
বাবা – আর খেলাধুলায়!
বিজরিয়া – নো ওয়ে। … পড়াশুনা করবে ও। খেলাধুলা ও করবে কেন? … কম বয়সে খেললে, ফুটবল, ক্রিকেট, এইসব চিপ গেইমস খেলে বাচ্চারা। … বড় হলে, গলফ, লনটেনিস, এসব খেলতো।
বাবা – সেকেন্ড হয়েছিল বলে, বাড়িতে বকাঝকা করা হয়েছিল নাকি!
বিজরিয়া – সেটা তো পার্ট অফ স্টাডি। তাই না! … যদি বকাই না হয়, ডেন হোয়াট ইয়িল হি লার্ন! … কি শিখবে ও যে সেকেন্ড হওয়াটা কনো ফেলিওর নয়। … ওকে বোঝাতে হবেনা, যে সেকেন্ড আসে, সে ততটাই লুজার, যতটা যে ফেল করেছে। …
বাবা সমস্ত কথা শুনলেন। একটা কথাও বললেন না। … সমস্ত কথা হয়ে গেলে, বাবা বলতে শুরু করলেন – শুনুন মিস্টার বিজরিয়া, যিনি খুন করেছেন আপনার ছেলেকে, তিনি একাকী আপনার ছেলেকেই খুন করেননি। তিনি আপনার ছেলের আগেও আর দুইজনকে খুন করেছেন। … কেন করেছেন, তদন্ত এগোলেই জানা যাবে, বাট হ্যাঁ করেছেন খুন, এটা কনফার্ম। আমি জানি, ইউ মাস্ট নট বি কন্সার্নড এবাউট ড্যাট, বাট আপনাকে এই কথাটা বলার একটা অন্য কারণ আছে। … একটু ভালো করে শুনবেন, আর বোঝার প্লিজ চেষ্টা করবেন। … ব্যাপারটা খুবই সেন্সেটিভ।
বিজরিয়া এবার একটু সিরিয়াস হলে, বাবা নিজের চেয়ারটাকে সামান্য এগিয়ে নিয়ে গিয়ে বললেন – দেখুন স্যার, আপনার ছেলে আততায়ী মানে খুনির তৃতীয় খুন, কিন্তু অন্তিম খুন নয়। … অর্থাৎ, খুনি এখন চুপ করে রয়েছে, কিন্তু সারাজীবন চুপ করে থাকবেনা। … যেই মুহূর্তে আপনার ছেলের তদন্তে হাত দেব আমরা, সেই মুহূর্তে খুনি আবার জেগে উঠবে, আর নতুন খুন করা শুরু করবে। … এটাই সিরিয়াল কিলারদের সাইকোলজি। … ইন ড্যাট কেস, গভার্নমেন্টের উপর এই প্রেশার আসবে যে, রাজ্যে কনো আইন শৃঙ্খলা পালন হচ্ছে না। …
বাবা আবার বললেন – আই ক্যান এসিওর ইউ ড্যাট, আই উইল ক্যাচ হোল্ড অফ ডি ক্রিমিনাল। কিন্তু প্রথম কথা, এমন কিলারকে হুট করে ধরা যায়না। ওর খুন ধরে ধরে এগোতে হয় ওর কাছে। তাই মাস ছয়েক মত সময় লাগবেই, বাট ধরে তাকে ফেলবোই। … দ্বিতীয় কথা, এই সময়ের মধ্যে যেই অরাজগতা বিরোধীরা সরকারের এগেন্সটে ছড়াবে, তার আপনার পার্টিফান্ডে ডনেশনের উপর কি প্রভাব পরবে?
বিজরিয়া – হুম, দেয়ার উইলবি মোর ডেথ, এন্ড মোর … নো প্রব্লেম। … আই এসিওর, আমার বা কনো বিজনেস পারসেনের ডনেশন একটুও কমবে না। … এন্ড মোর দেন ড্যাট, যদি খুনি ধরা পরে, তবে আই উইল ডনেট ডবল। আর আই উইল পে ইউ ওয়ান ক্রোর।
বাবা এটা একদমই আশা করেন নি। বাবা বলে উঠলেন – না স্যার, … আই হ্যাভ নো ডিম্যান্ড।
বিজরিয়া – সেই জন্যই তো দেব। … থাকলে দিতাম না।
মুখ্যমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন বিজরিয়া – মাই প্রমিজ ঈশ প্রমিজ। … এন্ড ইয়া, থ্যাংকস… আমি শিওর আমার ছেলের আত্মা এবার শান্তি পাবেই। … আই ট্রাস্ট ইয়োর ম্যান।
এতো বলে উঠে চলে গেলেন উনি। মুখ্যমন্ত্রী বাবার দিকে তাকিয়ে বললেন – বিজয়, তুমি উনাকে এটা বলতে গেলে কেন? ওটা তো আমি বলতাম!
বাবা – স্যার, উনি বিজনেস ম্যান। আমি না বলে, আপনি বললেও উনি বুঝতেন, কেন আপনি এখানে এসেছেন আজ। আর আমি বললেও উনি বুঝলেন, আপনারই কথা ছিল শেষের কথাটা। … বাট, আমি কথাটা বললাম, উনাকে এটা বোঝাতে যে, আমাদের মধ্যে পুরো জিনিসটাই ট্রান্সপ্যারেন্ট। (একটা মুষ্টি হাসি)
মুখ্যমন্ত্রী – মাঝে মাঝে মনে হয়, তোমায় বাড়িতে ডেকে, তোমার থেকে হিউম্যান সাইকোলজি শিখি। … বাট ইউ নো, আই ক্যাননট এফর্ড ইউ। … হুম, ঠিকই বলছি, তোমাকে গভার্নমেন্ট এফর্ড করতে পারে, আমি পার্সোনালি পারবো না।
এই কথা বলে মুখ্যমন্ত্রী উঠতে যাচ্ছেন, এমন সময়ে সেই সিবিয়াই অফিসার ঘরে ঢুকতে চেষ্টা করলে, শঙ্কর আরো দুইজন উনাকে ধরে রাখতে চেষ্টা করছিলেন। … মুখ্যমন্ত্রী উনাকে পাস কাটিয়ে চলে গেলেন। ভদ্রলোক চেঁচিয়ে উঠলেন – আপনি কথা দিয়ে কথা রাখেন না, আপনি বলেছিলেন মিটিং হয়ে গেলে, আপনি আমার কথা শুনবেন।
বাবা এগিয়ে গিয়ে বললেন – স্যার, আপনার কথা শুনবো, উনি নন, আমি বলেছিলাম। … চলুন আমরা বসি একযায়গায়, আর আপনার কথা শুনি। … চলুন।
রথিনকাকা আমাদেরকে নিয়ে আর সেই ভদ্রলোককে নিয়ে একটা ফাঁকা টেবিলে চারটে চেয়ার যোগ করে বসে, চারটে চা-সিঙ্গারা অর্ডার দিলেন। … বাবা বললেন – আপনার ছোট মেয়ে নিখোঁজ, আর ডাক্তারও নিখোঁজ। … আপনার বড় জামাই, আর বড় মেয়ে খুন হয়েছে। … এই তো? … আচ্ছা স্যার, বাবা হিসাবে নয়, একজন সিবিয়াই অফিসার হয়ে ভাবুন। কি মনে হচ্ছে? মনে হচ্ছেনা, সেই ডাক্তার আপনার বড় মেয়ে আর বড় জামাইকে মেরে, ছোট মেয়েকে নিয়ে ফেরার হয়েছে?
ভদ্রলোক বললেন – সন্দেহ তো হয়, কিন্তু একজন বাবার মন মানতে চায়না। তার এক মেয়ে, অন্যমেয়েকে খুন করে দেবে?
বাবা – আর ভেবে দেখুন, সেই ডাক্তার বাইরে প্র্যাকটিস করতো তাই তো?
ভদ্রলোক – হ্যাঁ, মস্কোতে।
বাবা – তাহলে, আপনার মেয়ে এখানে কি করে থাকবে? ওরা নিশ্চয়ই মস্কোতেই সেটেল হয়ে গেছে। … তাও আপনার কাছে যখন বলছেন খবর আছে যে, এখানেই আপনার মেয়ে আছে, তাহলে একটা ছবি দিয়ে দিন আপনার মেয়ের। … রথিন, এই ছবিটা পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি থানায় পাঠিয়ে দাও, এমনকি বনদপ্তর আর প্রাইভেট নার্সিংহোমগুলোতেও। কখনো না কখনো, কোথাও না কোথাও তারা যাবেই, অফ কোর্স যদি এখানে থাকে ওরা। তাহলেই ধরা পরে যাবে।
ভদ্রলোক মোবাইল হাতড়ে, একটা ছবি দেখিয়ে বললেন – এটা হাই গ্রাফিক্সের ফ্যামিলি ফটো। এটার থেকে এই মেয়েটি, এটি আমার ছোট মেয়ে, এটাকে আলাদা করে নেওয়া যাবে?
রথিনকাকা ডাকলেন একজনকে বরুণ বলে। উনি আসলে, উনাকে ছবিটা দেখানো হলো। … ভদ্রলোক জুমটুম করে দেখে বললেন – হয়ে যাবে?
এই বলে, ছবিটা নিজের একটা ডিভাইসে ট্রান্সফার করে নিয়ে চলে গেলেন। … বাবা বললেন, এটা আপনার ফ্যামিলি!
ভদ্রলোক – আমার স্ত্রী বাদে সবাই আছে, স্ত্রী প্রায় ২০ বছর হয়ে গেছে মারা গেছেন। …
বাবা – বাহ, সুন্দর পরিবার ছিল আপনার। দুটি বাচ্চা কার?
ভদ্রলোক এবার ছবিতে আঙুল দেখিয়ে দেখিয়ে বললেন – এটা আমার ছেলে আর ছেলের বউ, আর এটা ওদের একমাত্র ছেলে। এটা আমার ছোট মেয়ে, আর এটা আমার বড় মেয়ে-জামাই আর ওদের ছেলে, যদিও ছেলেটা আমার ছোটমেয়ের গর্ভেই হয়। অর্থাৎ শি বিকেম ডা সেরোগেটেড মাদার অফ হার সিস্টার।… এই হলো আমাদের পুরো চাড্ডা ফ্যামিলির ফটো।
বাবা – হুম, ছেলেটা অনাথ হয়ে গেল!
মিস্টার চাড্ডা – মেয়েজামাই খুন হবার আগের দিনই বাচ্চাটা এক্সিডেন্টে মারা যায়। হি ওয়াজ আ ব্রিলিয়ান্ট বয়। আমার ছোট মেয়েই একমাত্র আমাদের পরের জেনারেশানে ব্রিলিয়ান্ট ছিলো, আর ওই ছেলে। … অল লস্ট।
ছবি প্রিন্ট হয়ে এসে গেল। বাবাকে এনে দেখানো হলো। বাবার মুখে একটা ভাব – আমি দেখে কি করবো? … তারপর সেই ভাব চেপে নিয়ে বললেন বাবা – দেখুন ঠিক আছে ছবি?
মিস্টার চাড্ডা – হ্যাঁ, একদম ঠিক আছে।
বাবা – কনো চিন্তা করবেন না। যদি আপনার মেয়ে পশ্চিমবঙ্গে থাকেন, তবে আপনি নিশ্চয়ই পেয়ে যাবেন। এখন শান্তিতে বাড়ি ফিরে যান।
ভদ্রলোক যেন তৃপ্ত হলেন আর চলে গেলেন।
রথিনকাকু বাবার উদ্দেশ্যে বললেন – ছবিটা!
বাবা – আহ রথিন! উটকো ঝামেলাকে ঝামেলা বললে, মাথায় চেপে বসে। সর্ট আউট করে বার করে দাও। … ভদ্রলোক কি সব জায়ায় গিয়ে গিয়ে দেখবেন, কোথায় কোথায় তাঁর মেয়ের মিসিং ফটো লাগানো হয়েছে? … উনাকে বলে, উনাকে উনার সামনে, উনার জন্য একটিভ দেখিয়ে, শান্ত করে ঘরে পাঠিয়ে দাও … মিটিয়ে দাও ঝামেলা। … যাই হোক, রথিন, আমাকে এই তিনটি কেসের সম্বন্ধে পুলিশের কাছে, সিয়াইডির কাছে, হাসপাতালের কাছে, ফরেনসিকের কাছে, যেখানে যা রিপোর্ট আছে, সব কবের মধ্যে দিতে পারবে?
রথিনকাকা – দুদিনের মধ্যে দিচ্ছি। প্রায় সমস্তই রেডি করা আছে। একবার চোখ বুলিয়ে দুইদিনের মধ্যে সমস্ত এরেঞ্জ করে, তোমার বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছি।
বাবা – ওকে, আজ তাহলে আসি। দুইদিন একটু ভালো করে ঘুমিয়ে নিই। তারপর তো ঘুম উঠিয়ে দেবে ওই সিরিয়াল কিলার, এঁরা সুপার ইনটেলিজেন্ট হয়, জানোই তো।
আমি আর বাবা বাড়ি ফিরে এলাম। গাড়িতে বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম – মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে চলে গেল একবারে পাগলটা!
বাবা – সরকারি পোস্ট অদ্ভুত জিনিস মিলি। একবার সেই পোস্ট পেয়ে গেলে, নিজেকে প্রাইম মিনিস্টার মনে করতেও ছাড়েনা লোকে। এ তো সিবিয়াই অফিসার। সিবিয়াই অফিসার, তাই এমনিই রাজ্যগুলোর উপর বিশ্বাস নেই। তাই হয়, রাজ্যসরকারের কর্মী মনে করে কেন্দ্রসরকারের কর্মীরা নাকে সরষের তেল দিয়ে ঘুমায়, আর কেন্দ্রসরকারের কর্মী মনে করে রাজ্যসরকারের কর্মী বাঁশবাগানে জীবন কাটায়। … আর তাছাড়া, একই সঙ্গে দুই মেয়ে, জামাই, নাতি হারানো, সামান্য শোক নয়। এখনও হজম করতে পারেন নি ভদ্রলোক। … বড় র্যাঙ্কের সিবিয়াই অফিসার ছিলেন, তাই মনে করেন, সিয়াইডি, পুলিশ অকম্মার ঢেঁকি। একমাত্র মুখ্যমন্ত্রীকে ডিরেক্ট বললেই কাজ হবে; তাই এই পাগলামি।
আমি – না পাত্তা দিলে আবার একশান নিয়ে নেবে, তাই না!
বাবা – হুম, সব থেকে বেশি কোর্টে কেস করে আর পেন্ডিং পরে থাকে সরকারি কর্মীদের করা কেস। সরকারের গুলাম, তাই সরকারের উপর খুব বিশ্বাস। সেই বিশ্বাস থেকে হুট বলতেই কেস ঠুকে দেয় কোর্টে গিয়ে। আর চাকরি থাকা পর্যন্ত উকিল কেস ঝুলিয়ে রেখে দেয়, শেষে রিটায়ার করে গেলে, আর কেস চালাতে পারেনা, বা চালাবার সাহস করেনা, তাই পেন্ডিং কেস হয়ে যায়। … কিন্তু সেই সমস্ত কিছু ছাড়াও, এস আ হিউম্যান, উনাকে সান্ত্বনা দেবার মত দুটো কথা বলাটা আবশ্যক মনে হলো আমার। এতো বড় শোক পেয়েছে। অন্তত কিছু করার চেষ্টা চলছে, এতটুকু বললেই উনারা একটু স্বস্তি পান।
আমি – আচ্ছা একজন তদন্তকারীর কি এই মনুষ্যত্ব ব্যাপারটার উপর এতো কন্সেন্ট্রেট করা ঠিক?
বাবা – অবশ্যই ঠিক। … পেশাগত ভাবে আমরা যাই হই না কেন, তার আগে আমরা একজন মানুষ। তাই যদি মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলি, তবে সেই পেশাদারী হয়েও আমরা নিজের সাথেই নিজেরা দ্বিচারিতা করছি। … মনুষ্যত্ব হারিয়ে ঈশ্বরত্ব ধারণ করা যায়, কিন্তু ঈশ্বরত্ব লাভ করা ছাড়া, অন্য কনো কারণে মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলা আমার মতে শ্রেষ্ঠ ক্রাইম।
আমি – ঈশ্বরত্ব কেন?
বাবা হেসে বললেন – বিদিপ্তাদিদি কি বললেন শুনলি না! … সেই চেতনা, সেই ব্রহ্ম আমাদের এই দেহমন্দিরে আস্তানা নিলে, তবেই আমরা জীবন্ত হয়ে উঠি। … অর্থাৎ কি? … অর্থাৎ আমরা সকলেই সেই ব্রহ্ম, সেই ঈশ্বর। সেই সত্যকে উপলব্ধি করতে না পারার কারণেই আমরা কেউ মনে করে, আমরা মানুষ, কেউ মনে করি আমরা বাঘ, আবার কেউ মনে করি আমরা জীব। … কেউ কেউ এমনও মনে করেন যে তিনি দেহ নন, মন; আবার কেউ কেউ এমনও মনে করেন যে তিনি ব্রহ্ম নন, ব্রহ্মের রাজপোশাক অর্থাৎ আত্মা। … অর্থাৎ কি? অর্থাৎ আমাদের স্বরূপ হলো ঈশ্বর, আর আমাদের গন্তব্য হলো সেই ঈশ্বরত্বকেই উপলব্ধি করা। তাতেই সমাধি, তাতেই মুক্তি। … তাই, মনুষ্যত্ব ত্যাগ তখনই করা যায়, যখন ঈশ্বরত্ব অনুভব হয়ে গেছে। তার আগে, মনুষ্যত্ব ত্যাগ হলো নিজের সাথে দ্বিচারিতা, ঈশ্বরের সাথে ধোঁকাবাজি।
